মূল: সূরা আল-ফাতিহা-এর তাফসীর

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব রহ.

অনুবাদ: মুহাম্মাদ রকীবুদ্দীন হুসাইন সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ তা‘আলার কালাম কুরআন মাজীদের প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ হলো এ সূরা আল-ফাতিহা। এ সূরা সমগ্র কুরআন মাজীদের সার-সংক্ষেপ। পূর্ণাঙ্গ সূরা রূপে এটিই প্রথম নাযিল হয় এবং কুরআন মাজীদের প্রথমেই এর স্থান নির্ধারণ করা হয়। এজন্য এর নাম সূরা আল-ফাতিহা (প্রারম্ভিক সূরা) রাখা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (যার হাতে আমার জীবন-মরণ, আমি তাঁর শপথ করে বলছি, সূরা আল-ফাতিহা-এর দৃষ্টান্ত তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল প্রভৃতি কোনো আসমানী কিতাবে তো নেই, এমনকি পবিত্র কুরআনেও এর দ্বিতীয় নেই)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: (সূরা আল-ফাতিহা সব রোগের ঔষধ বিশেষ।) অপর আরেকটি হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি সূরা আল-ফাতিহা পড়ে না তার সালাত হয় না।”[1]

সূরা আল-ফাতিহা মূলত একটি প্রার্থনা বিশেষ, যা আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন। অবশিষ্ট কুরআন হলো তাঁর পক্ষ থেকে এর জবাব, যার মধ্যে মানবকুলের জন্য সহজ-সরল ও সঠিক জীবন-পথের পুর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব রহ. কর্তৃক রচিত সূরা আল-ফাতিহা-এর এ তাফসীরখানা অতি সংক্ষিপ্ত হলেও তিনি এর মধ্যে আল্লাহর সাথে বান্দার মোনাজাত ও ইবাদাতে তাওহীদ -এ দু’টি বিষয় অত্যন্ত চমৎকার ও যুক্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। পরবর্তীকালে রচিত তাফসীরগুলোতে সাধারণত: বিষয় দুটো এমন গুরুত্বসহকারে বর্ণনা করা হয় নি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও বাংলা ভাষী ভাই-বোনদের প্রতি দায়িত্ব পালনের তাগিদে বাংলা ভাষায় সূরা আল-ফাতিহা-এর এ তাফসীরখানা অনুবাদ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। যারা আরবী ভাষায় অজ্ঞ বা অদক্ষ তারা যাতে কমপক্ষে ১৭ বার দৈনিক সালাতে পঠিতব্য এ সূরাটি স্থিরচিত্তে পড়েন এবং কী বিষয়ে আল্লাহর সাথে মোনাজাত করছেন তার মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করেন। আল্লাহ তা‘আলার দরবারে ভুল-ত্রুটির ক্ষমা চাই এবং তাঁর পবিত্র কালাম সম্পর্কিত এ খেদমতটুকু কবুল করার প্রার্থনা জানাই।

উল্লেখ্য, আমি এ অনুবাদের কাজে রিয়াদস্থ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের কুরআন শিক্ষা বিভাগের প্রধান ড. ফাহদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন সুলায়মান আল-রুমী কর্তৃক প্রতিপাদিত ‘তাফসীরে ফাতিহা-এর কপিটি অনুসরণ করেছি।

আল্লাহ তা‘আলাই আমাদের তাওফীক দাতা।

অনুবাদক

[1]  সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন