আব্দুর রহিম গ্রিনের নওমুসলিম হবার গল্প-সিক্স

প্রশ্ন : একজন মুসলিম মেয়ে নিয়মিত নামাজ পড়েন, সিয়াম পালন করেন। কিন্তু তিনি হিজাব পরিধান করেন না। তিনি কি খুব খারাপ মুসলিম? হিজাব পালন না করাটা আসলে কত বড় গুনাহ?

আব্দুর রহিম গ্রিন : কখনো কখনো এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়া আসলেই কঠিন। প্রত্যেকের পরিবেশ, পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট আলাদা। আমি জানি না, এই বোন কী ধরনের পরিবেশে আছেন। আমি ব্যাপারটাকে একটু অন্যভাবে ভাবতে বলি। আপনারা এভাবে ভাববেন,হিজাব না পরা কত বড় গুনাহ। বরং এভাবে ভাবুন, আল্লাহর হুকুম পালন করা কত বড় সাওয়াবের কাজ। আমাদের আসলে এভাবেই চিন্তা করা উচিত। আমাদের ভাবা উচিত, আল্লাহর বিধান অমান্য করা আমার জন্য আসলে কতটা কল্যাণকর।।

আল্লাহ আমাদের যা-ই করতে বলেছেন, সবই আমাদের কল্যাণের জন্য। যদিও আমার অনেক সময় সেটি বুঝতে পারি না। আমাদের উচিত আল্লাহ যা করতে বলেছেন, তা বিনাবাক্যে মেনে নেয়া, পালন করার চেষ্টা করা। আল্লাহর বিধান অমান্য করা অনেকটাই আল্লাহকে অবিশ্বাস করার শামিল। এর দ্বারা বোঝা যায়, আল্লাহ যে আমাদের চেয়ে ভালো বোঝেন, তিনি যা বলেছেন তা যে আমাদের কল্যাণের জন্য… আসলে তা মন থেকে আমরা বিশ্বাস করি না। আমি জানি, আমাদের মানবীয় দুর্বলতা থেকে আমরা আল্লাহর বিধান অমান্য করি । অবুও ভালো করে ভেবে দেখুন, আপনি কেন আল্লাহর নির্দেশ মানছেন না? কেন আপনি হিজাব পালন করছেন না, কিংবা সময়মতো নামাজ পড়ছেন না?

অনেকেই আছেন অফিসে নামাজ পড়েন না। অফিস শেষে বাসায় ফিরে একসাথে সারাদিনের নামাজ পড়ে নেন। কেন ভাই, অফিসে নামাজ পড়লে সমস্যা কী? আসলে আপনি নামাজ পড়ছেন না। কারণ, আপনার সেই আন্তরিক ইচ্ছাটাই নেই। আপনার ইচ্ছা থাকলে আপনি আপনার টেবিলের পাশেই জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ে নিতে পারেন।

এটা আমাদের ঈমানের বিষয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর নির্দেশ মানার চেয়ে কে কী ভাববে, সেটা নিয়েই মাথা ঘামাই বেশি।

কোনটা বেশি গুনাহের কাজ, আমি সে ব্যাখ্যায় যেতে চাই না। বরং আমি মনে করি, আপনার পক্ষে যতদূর সম্ভব আল্লাহর বিধি-বিধান মানার চেষ্টা করুন। কারণ, আমরা জানি, আল্লাহকে ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যতই অজুহাত দেখাই না কেন, আল্লাহ তায়ালা আমাদের অন্তরের খবর খুব ভালো করেই জানেন। তিনি জানেন, কোনটা আমাদের আসলে সমস্যা আর কোনটা অজুহাত।।

আরেকটা বিষয়। দয়া করে কেউ অন্যের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। অন্যের আমলের বিচার করতে বসবেন না। এমন মন্তব্য করবেন না, ঐ মেয়ে হিজাব পরে না, তাই তার সব আমল বরবাদ। তার নেক আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আপনি আমি তার পরিবেশ পরিস্থিতি জানি না। হতে পারে, তিনি এমন অবস্থায় আছেন, যার কারণে তার জন্য হিজাব মানা সম্ভব হচ্ছে না। হতে পারে হিজাব পালনের জন্য তার সহায়ক পরিবেশ দরকার।

সুতরাং, আমি মনে করি প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেক যত দূর পারেন আল্লাহর নির্দেশ মানার চেষ্টা করুন। তাঁর নিষেধ করা কাজ থেকে দূরে থাকুন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইর।

পরিচিতি

ব্রিটিশ নাগরিক আব্দুর রহিম গ্রিনের জন্ম ১৯৬২ সালে, তানজানিয়ায়। ইসলাম গ্রহণের আগে তার পুরো নাম ছিল Anthony Vatswaf Galvin Green। ক্যাথলিক স্কুলে পড়তে গিয়ে খ্রিষ্টধর্মের নানা নিয়মকানুন, বিধিবিধান নিয়ে তার মনে প্রশ্ন জাগে। একসময় তৎকালীন হিপি, পাঙ্ক সংস্কৃতিতে প্রভাবিত হয়ে তিনি হিপি হয়ে যান।

গ্রিন ইসলাম গ্রহণ করেন বেশ নাটকিয়ভাবে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি দাওয়ায়ের কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। তিনি ২০০৯ সালে Islamic Education & Research Academy (IERA) নামে একটি দাওয়াহ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে গ্রিন ১০ সন্তানের জনক। ইসলাম গ্রহণের কাহিনি নিয়ে গ্রিন এক লেকচার দেন ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণদের উদ্দেশ্যে। এই কাহিনি সেই লেকচারেরই রূপান্তর।

সমাপ্ত

আগের অংশ টুকু পড়তে[এখানে ক্লিক করুন]

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন