যিকির

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’টি কালেমা এমন আছে যা আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, জবানে খুব হালকা এবং মিযানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। সে কালেমা গুলো এই-[1]

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ.

জুওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে ফজরের সালাতের সময় বেরিয়ে গেলেন, আর তিনি সালাতের স্থানে যিকিরে লিপ্ত রইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের সালাতের সময় ফিরে এলেন। তিনি তখনও পূর্বের অবস্থাতেই বসে আছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ঐ অবস্থায়ই আছ, যে অবস্থায় আমি তোমাকে রেখে গিয়েছিলাম?

তিনি উত্তর দিলেন জী, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন: তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার পড়েছি। সেগুলোকে যদি তোমার সকাল থেকে এ পর্যন্ত কৃত সমস্ত আমলের মোকাবেলায় ওজন করা হয়, তাহলে সে কাব্যগুলোই ভারী হয়ে যাবে। বাক্য গুলো হলো-

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه عَدَدَ خَلْقِه وِرِضَا نَفْسِه وَزِنَةَ عَرْشِه وَمَدَادَ كَلِمَاتِه.

ো‘আর অর্থ: আমি আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, তাঁর সমস্ত মাখলুকের সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ, তাঁর ‘আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর কালেমাসমূহ লেখার কালি পরিমান।[2]

জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ বলে তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়।[3]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধায় একশত বার এ দো‘আ পড়বে سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِه তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার থেকে বেশি হয়।[4]

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি খানা খেয়ে এ দো‘আ পড়ল-

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنِيْ هَذَا الطعَامَ وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلاَ قُوَّةٍ.

ো‘আর অর্থ: “‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এ খানা খাইয়েছেন এবং আমার চেষ্টা ও সামর্থ ছাড়া আমাকে নসীব করছেন।” তার অতীত-ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

আর যে ব্যক্তি কাপড় পরিধান করে এ দো‘আ পড়ল-

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ كَسَانِيْ هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيْه مِنْ غَيْر حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلاَ قُوَّةٍ.

দো‘আর অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এ কাপড় পরিয়েছেন এবং আমার চেষ্টা ও সামর্থ ছাড়া আমার নসীবে জুটিয়েছেন।” তার অতীত-ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।[1]

আয়াত

আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকবে। এক বর্ণনায় সূরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করার কথা উল্লেখ আছে।[1]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআনে কারীমে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তা হলো -সূরা তাবা-রাকাল্লাযী।[2]

জুনদুব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য কোনো রাতে সূরা ইয়াসীন পড়ে তাকে মাফ করে দেওয়া হয়।[3]

 

সালাত ও আযানের ফযীলত

আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন ইখলাসের সাথে জামা‘আতে সালাত আদায় করে, তার জন্য দু’টি পরওয়ানা লেখা হয়।

ক. জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা

ুই. মুনাফেকী থেকে মুক্তির পরওয়ানা[4]

আউস ইবন আউস সাকাফী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন উত্তমরূপে গোসল করে, অতি প্রত্যুষে মসজিদে যায়, সওয়ারিতে আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ সহকারে খুৎবা শোনে, খুৎবার সময় কোনো অহেতুক কথা বলে না, সে প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছর সাওম ও এক বছর রাতের ইবাদতের সাওয়াব লাভ করবে।[5]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেরা যদি আযান ও প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের সাওয়াব জানতো এবং লাটারী ছাড়া আযান ও প্রথম কাতার অর্জন করা সম্ভব না হতো, তবে অবশ্যই তারা লটারী করতো।[6]

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দৈনিক বার রাকাত সালাত পড়ার পাবন্দী করে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে মহল তৈরি করেন। চার রাকাত সালাত জোহরের পূর্বে, দুই রাকাত জোহরের পরে, দুই রাকাত মাগরিবের পর, দুই রাকাত ইশার পর এবং দুই রাকাত ফজরের পূর্বে।[7]

উসমান ইবন আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলার যিকিরে মশগুল থাকে, অতঃপর দুই রাকাত নফল সালাত পড়ে, সে হজ ও উমরার সাওয়াব লাভ করে, আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন: পরিপূর্ণ হজ ও উমরা, পরিপূর্ণ হজ ও উমরার পরিপূর্ণ হজ ও উমরার সাওয়াব লাভ করে।[8]

 

অসুস্থতা ও মৃত্যু

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযায় হাযির হয় এবং জানাযার সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকে, তার এক কীরাত নেকী লাভ হয়। আর যে ব্যক্তি জানাযায় হাযির হয় এবং দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত জানাযার সাথে থাকে, তার দুই কীরাত নেকী লাভ হয়।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, দুই কীরাত কী? তিনি উত্তর দিলেন, দু’টি বড় পাহাড়ের সমান।[9]

অপর বর্ণনায় রয়েছে, তন্মধ্যে ছোট পাহাড়টি উহুদ পাহাড়ের মতো।[10]

মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন হাযম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মুমিন আপন কোনো মুমিন ভাইয়ের মুসীবতে তাকে সবর করার ও শান্ত থাকার জন্য বলে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে ইজ্জতের পোশাক পরাবেন।[1]

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম কোনো অসুস্থ মুসলিমকে সকালে দেখতে যায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা তার জন্য দো‘আ করতে থাকে। আর যে সন্ধ্যায় দেখতে যায়, সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা তার জন্য দো‘আ করতে থাকে এবং জান্নাতে সে একটি বাগান পায়।[2]

দকা

আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের উচিৎ সদকা করা। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, যদি সদকা করার মতো কিছু তার কাছে না থাকে, তাহলে কী করবে?

তিনি উত্তর দিলেন: নিজ হাতে মেহনত মজদুরী করে নিজের উপকার করবে এবং সদকাও করবে।

লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, এটাও যদি না করতে পারে, অথবা (করতে পারে তবুও) করলো না?

তিনি উত্তর দিলেন: কোনো অসহায় মুখাপেক্ষী ব্যক্তিকে সাহায্য করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, যদি তাও না করে? তিনি উত্তর দিলেন: কাউকে ভালো কথা বলে দিবে।

লোকেরা আবার জিজ্ঞেস করলো, যদি এটাও না করে? তিনি উত্তর দিলেন: তাহলে কারো ক্ষতি করা হতে বিরত থাকবে। কেননা, এটাও তার জন্য সদকা।[3]

আবু যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আপন (মুসলিম) ভাইয়ের জন্য মুচকি হাসি সদকা, কাউকে তোমার সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা সদকা, কোনো পথভোলাকে পথ বলে দেওয়া সদকা, দূর্বল দৃষ্টি সম্পন্ন লোককে রাস্তা দেখানো সদকা, রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা, হাড্ডি (ইত্যাদি) সরিয়ে দেওয়া সদকা এবং তোমাদের নিজের বালতি হতে নিজ (মুসলিম) ভাইয়ের বালতিতে পানি ঢেলে দেওয়া সদকা।[4]

হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের পূর্বে কোনো উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যখন মালাকুল মঊদ তার রূহ কবজ করার জন্য আসল (এবং রূহ কবজ হওয়ার পর সে এ দুনিয়া ছেড়ে অন্য জগতে চলে গেল) তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কি দুনিয়াতে কোনো নেক আমল করেছিলে?

সে উত্তর দিল, আমার জানামতে (এরূপ) কোনো আমল আমার নেই। তাকে বলা হলো, (তোমার জীবনের ওপর) দৃষ্টি দাও (এবং চিন্তা করে দেখ।)

সে উত্তর দিল, আমার জানামতে (এরূপ) কোনো আমল আমার নেই, তবে দুনিয়াতে আমি মানুষের সাথে বেচা-কেনা করতাম। সে ক্ষেত্রে আমি ধনীদেরকে সুযোগ দিতাম আর গরীবদেরকে মাফ করে দিতাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।[1]

াওম

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম পালন করবে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ এক দিনের বিনিময়ে জাহান্নাম এবং সে ব্যক্তির মাঝে সত্তর বছরের দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন।[2]

আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, ‘আরাফার দিনের সাওম তার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মুছে দিবে, আর আশুরার দিনের সাওম তার পূর্বেবর্তী এক বছরের গুনাহ মুছে দিবে।[3]

িলহজের প্রথম দিনের আমল

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করে এবং তাতে কোনো অশ্লীল কাজ না করে বা কথা না বলে, তাহলে সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে, যে দিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।[4]

যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ কুরবাণী কী? তিনি উত্তর দিলেন: তোমাদের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সুন্নাত।

তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! এতে আমাদের কী রয়েছে?

তিনি উত্তর দিলেন: কুরবানীর পশুর প্রতিটি লোমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে।[5]

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দিনসমূহের মধ্যে যিলহজের প্রথম দশ দিনে কৃত আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অধিক প্রিয়।

সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয় কী?

তিনি উত্তর দিলেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়; কিন্তু যে ব্যক্তি আপন জানমাল নিয়ে বের হয় এবং তার (জান ও মালের) কিছুই নিয়ে ফেরে না। অর্থাৎ নিজে শহীদ হয়েছে আর তার মালও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় হয়েছে। সুতরাং এমন জিহাদ অবশ্য এ দিনসমূহে কৃত আমল অপেক্ষা উত্তম।[6]

লম ও নিয়ত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত পক্ষে দুনিয়া হলো চার ব্যক্তির জন্য।

ক. এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ ও ইলম উভয় দান করেছেন। তবে সে তা খরচ করতে আপন রবকে ভয় করে (অর্থাৎ হারাম পথে ব্যয় করে না।), আত্মীয় স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মালর হক মোতাবেক আমল করে (অর্থাৎ যথাস্থানে খরচ করে)। ঐ ব্যক্তি হলো সর্বোচ্ছ মর্যাদার অধিকারী।

ুই. এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ ইলম দান করেছেন; কিন্তু সম্পদ দান করেন নি। তবে সে সত্য এবং সঠিক নিয়তে বলে যদি আমার মাল থাকত, তাহলে আমি অমুকের ন্যায় সাওয়াবের পথে খরচ করতাম। এ দু’ব্যক্তির সাওয়াব একই সমান।

িন. এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ মাল দিয়েছেন, কিন্তু ইলম দান করেন নি। ইলম না থাকার দরুন সে নিজের সম্পদের ব্যাপারে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। এতে সে আল্লাহকে ভয় করে না, আত্মীয়-স্বজনের আর্থিক হক আদায় করে না এবং নিজ সম্পদ হক পথে ব্যয় করে না। এ ব্যক্তি হলো সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট পর্যায়ের।

ার. এমন বান্দা- যার কাছে মালও নেই, ইলমও নেই। সে আকাংখা করে বলে, যদি আমার নিকট সম্পদ থাকত, তাহলে আমি অমুক ব্যক্তির মতো (যেখানে সেখানে) ব্যয় করতাম। এ বান্দাও তার নিয়ত অনুযায়ী হবে এবং তাদের গুনাহ হবে বরাবর অর্থাৎ মন্দ নিয়তের কারণে গুনাহের ক্ষেত্রে সে হবে তৃতীয় ব্যক্তির সমান।[7]

আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তুমি হয়ত আলেম হও অথবা তালেবে ইলম (ইলমের তালাশকারী) হও অথবা মনোযোগ সহকারে ইলমের শ্রবণকারী হও অথবা ইলম ও আলেমদের ভালোবাস। (এ চার ছাড়া) পঞ্চম প্রকার হয়ো না, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে। পঞ্চম প্রকার হলো তুমি ইলম ও আলেমদের সাথে শক্রতা পোষণ কর।[8]

বর ও জিহাদ

আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম যখনই কোনো ক্লান্তি, রোগ, চিন্তা কষ্ট ও পেরেশানীতে পতিত হয়; এমনকি একটি কাঁটাও ফুটে তবে এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।[9]

সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার জন্য তার উভয় চোয়াল ও উভয় পায়ের মধ্যবর্তী অঙ্গের দায়িত্ব গ্রহণ করবে (অর্থাৎ মুখ ও গুপ্তাঙ্গকে হারাম পন্তায় ব্যবহার করবে না), আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নিবো।[10]

সাহল ইবন হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি একান্ত নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর কাছে শাহাদাত কামনা করবে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদায় পৌঁছান, যদিও সে বিছানায় (অর্থাৎ জিহাদ না করে ঘরে এমনিতে) মৃত্যু বরণ করে।[11]

সাহল ইবন সা‘দ, রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় (অর্থাৎ জিহাদে যেয়ে) একদিন পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও দুনিয়ার ওপর সমস্ত কিছু থেকে উত্তম।[12]

ত্মীয়তা

উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলার এ অবস্থায় মৃত্যু হয় যে, স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, সে জান্নাতে যাবে।[1]

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ কন্যা সন্তানদের কোনো বিষয়ের ওপর জিম্মাদারী গ্রহণ করল এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করল, তবে এ কন্যাগণ তার জন্য জান্নামের আগুন থেকে রক্ষার অসীলা হবে।[2]

আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এটা কামনা করে যে, তার রিযিক প্রশস্ত হোক ও তার হায়াত দীর্ঘ হোক, তার উচিৎ নিজ আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।[3]

হব্বত ও ইহসান

এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিবেদন করল, হে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ্! কিয়ামত কবে হবে? তিনি উত্তরে বললেন, কিয়ামতের জন্য তুমি কী প্রস্তুত রেখেছো? লোকটি বলল, আমি কোনো আমল করতে পারি নি, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মহব্বত করি।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকে তুমি মহব্বত কর (কিয়ামতের দিন) তার সাথেই তুমি থাকবে।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর আমি মুসলিমদেরকে কখনো এরূপ খুশি হতে দেখি নি, যেরূপ তারা একথা শুনে খুশি হয়েছেন।[4]

উবাদা ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মুমিন নর-নারীর জন্য যে ব্যক্তি মাগফিরাতের দো‘আ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর বিনিময়ে একটি করে নেকী লিখে দিবেন।

আবু মাসউদ বদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সৎকাজের পথ দেখায়, সে সৎ কর্মকারীদের সমান সাওয়াব লাভ করে।

সাহল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি এবং এতীমের লালন-পালনকারী জান্নাতে এরূপ কাছাকাছি হব- একথা বলে তিনি শাহাদাত এবং মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেছেন এবং দুই আঙ্গুলের মাঝখানে সামান্য ফাঁকা রেখেছেন।[5]

সাফওয়ান ইবন সুলাইম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিধবা নারী ও মিসকীনের প্রয়োজনীয় কাজে দৌড় ঝাঁপকারীর সাওয়াব আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর ন্যায় অথবা ঐ ব্যক্তির সাওয়াবের ন্যায়, যে দিনে সাওম পালন করে ও রাতভর ইবাদত করে।[6]

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আপন মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা চালায় আল্লাহ তা‘আলা নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি থেকে জাহান্নামের আগুন হটিয়ে দিবেন।[7]

বারা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন যখন মুমিনের সাথে সাক্ষাৎ করে, তাকে সালাম দেয় এবং তার হাত ধরে মুসাফাহা করে, তখন উভয়ের গুনাহ এমনভাবে ঝরে পড়ে, যেমন বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।[8]

ত্তম চরিত্র

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মুমিন আপন সচ্চরিত্র দ্বারা সাওম পালনকারীর এবং রাতভর ইবাদতকারীর মর্যাদা লাভ করে থাকে।[1]

মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি গোস্বা পূর্ণ করার ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও গোস্বা দমন করে নেয় (অর্থাৎ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যার ওপর গোস্বা তাকে কোনো রকম শাস্তি দেয় না) কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে সমস্ত মাখলুকের সামনে ডাকবেন এবং অধিকার দিবেন যে, জান্নাতের হুরদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা নিজের জন্য পছন্দ করে নাও।[2]

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের কিনারায় একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি, যে হকের ওপর থেকেও ঝগড়া ছেড়ে দেয়। ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের মধ্যখানে একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি, যে ঠাট্রা-বিদ্রেুপের মধ্যেও মিথ্যা কথা বর্জন করে। আর ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি, যে নিজের চরিত্রকে ভালো বানিয়ে নেয়।[3]

ল্লাহর ভালোবাসা

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার চিন্তা শুধুই আখেরাত হয়, আল্লাহ তার অন্তরে অমুখাপেক্ষীতা সৃষ্টি করে দেন। তার জমাকৃত বা গোছানো বিষয়াবলী শামাল দেন। দুনিয়া তার কাছে তুচ্ছ হয়ে আসে। অপরদিকে যার চিন্তা শুধুই দুনিয়া হয়, আল্লাহ তা‘আলা তার সামনে সদা অভাব অনটন রেখে দেন, তার গোছানো বিষয়াবলী ছড়িয়ে দেন, দুনিয়া তার কাছে নির্দিষ্ট ও পূর্ব নির্ধারিত পরিমাণই এসে থাকে (অর্থাৎ যতই সে মেহনত করুক না কেন, যেটুকু তার তকদীরে আছে, সেটুকুই সে প্রাপ্ত হয়)[4]

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যদি আল্লাহ তা‘আলার ওপর পরিপূর্ণভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তাহেল তোমাদের এমনভাবে রুজী দেওয়া হত, যেমনভাবে পাখীদের রুজী দেওয়া হয়ে থাকে। ওরা সকালে খালি পেটে বের হয়ে যায় আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।[5]

সমাপ্ত


[1] মুসনাদে আহমদ ৬/৪৪৯

[2] মাজমায়ে যাওয়ায়েদ ৮/৭৫

[3] আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৯৮

[4] আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৭৭

[5] আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৮০০


[1] তিরমিযী, হাদীস নং ১১৬১

[2] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৯৫

[3] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৮৬

[4] সহীহ বুখারী ২/৯১১

[5] মাজমায়ে যাওয়ায়েদ ১/৩৫২

[6] সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৫১২৯

[7] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৩০৪

[8] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০০৬


[1] তিরমিযী, হাদীস নং ১৯৬৫

[2] সুনান নাসাঈ, হাদীস নং ২২৪৭

[3] সহীহ মুসলিম ১/৩৬৮

[4] সহীহ বুখারী ১/২০৬

[5] ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২২৬

[6] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৭; মেশকাত, হাদীস নং ১২৮

[7] তিরমিযী, হাদীস নং ২২৬৭

[8] মাজমায়ে যাওয়ায়েদ ১/৩২৮

[9] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৪১

[10] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪৭৪

[11] সহীহ মুসলিম ২/১৪১

[12] সহীহ বুখারী ১/৪০৫


[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৯২

[2] ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬০১

[3] তিরমিযী, হাদীস নং ৯৬৯

[4] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০২২


[1]  মুসতাদরাকে হাকেম ১/৫১৮)

[2]  সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮৩

[3] তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৯১

[4]  ইবন হিববান ৬/৩১২

[5]  তিরমিযী, হাদীস নং ২৯১

[6]  সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৪৫

[7] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১৫

[8] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৯১

[9] তিরমিযী, হাদীস নং ৫৮৬

[10] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৮৯


[1]  সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০২৩


[1]  আল জাওয়াবুল কাফী (পৃ: ৮)

[2]  সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৬৮

[3]  সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯১৩

[4]  তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪৬৫