আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আল-সাদহান

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥﴾ [البقرة: ٢٥٥]

সকালে একবার, বিকালে একবার, রাতে ঘুমের সময় একবার এবং প্রত্যেক ফরয সালাতের পর একবার পড়া।

যীলত:

ক. হিফাযতকারী ফিরিশতা নিয়োগ

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকায়ে ফিতরের দেখাশোনা করার জন্য আমাকে নিযুক্ত করেছিলেন। রাতে এক ব্যক্তি এসে উভয় হাত ভরে শস্য নিতে আরম্ভ করে। আমি তাকে হাতেনাতে ধরে বললাম, অবশ্যই তোমাকে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাবো। সে তখন বলল, আমি একজন গরীব লোক। আমার ওপর পরিবার পরিজনের বোঝা রয়েছে এবং আমি অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, এ কথা শুনে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।

সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা! গত রাতে তোমার কয়েদি কী করেছে?

আমি উত্তরে বললাম ইয়া রাসূলু্ল্লাহ! তার পরিবার পরিজনের বোঝা ও অত্যন্ত অভাবগ্রস্থতার কথা শুনে আমার দয়া হয়েছে। ফলে তাকে আমি ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি তখন বললেন, সাবধানে থেকো। সে তোমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে, আবার আসবে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথার কারণে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, সে নিশ্চয় আবার আসবে। সুতরাং আমি তার অপেক্ষায় রইলাম। ঠিকই সে রাতে আগের মতো দুই হাত ভরে শস্য নিতে লাগলো। আমি তাকে ধরে বললাম, তোমাকে আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাবো।

সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন! আমি অভাবগ্রস্ত, আমার ওপর পরিবার পরিজনের বোঝা রয়েছে। আগামীতে আমি আর আসবো না। তার ওপর আমার দয়া হলো, ফলে এবারও আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা তোমার কয়েদীর কী হলো?

আমি উত্তর দিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে তার কঠিন প্রয়োজন ও তার পরিবার পরিজনের বোঝার অভিযোগ করলো, সে জন্য তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি বললেন, সাবধানে থেকো। সে মিথ্যা বলেছে, আবার আসবে। সুতরাং আমি অপেক্ষায় রইলাম। পর দিনের ঘটনা, পূর্বের মতোই সে রাতে এসে হাত ভরে শস্য নিতে লাগলো। আমি তাকে ধরে বললাম, অবশ্যই আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে যাবো। এ তৃতীয়বার এবং শেষ সুযোগ। তুমি অঙ্গীকার করেছিলে আর আসবে না, কিন্তু আবারো এসেছ। সে তখন বলল আমাকে ছেড়ে দিন, আমি আপনাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিবো, যার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপকার করবেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সেই বাক্যগুলো কী?

সে উত্তর দিলো আপনি রাতে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার সময় ‘আয়াতুল কুরসী’ পড়ে নিবেন। এতে আপনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হিফাযতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার নিকট আসবে না।

সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, গত রাতে তোমার কয়েদীর কী হলো?

আমি উত্তর দিলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সে আমাকে বলল, এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিবে, যার দ্বারা আল্লাহু আমার উপকার করবেন। সে কারণে এবারও আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, সে বাক্যগুলো কী? আমি উত্তরে দিলাম, সে আমাকে বলেছে আপনি রাতে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার সময় ‘আয়াতুল কুরসী’ পড়ে নিবেন। এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন হিফাযতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার নিকট আসবে না।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তখন আমাকে বললেন, মনোযোগ দিয়ে শোন! যদিও সে মিথ্যাবাদী কিন্তু তোমার সাথে সত্য কথা বলেছে। হে আবু হুরায়রা! তুমি জানো, তিন রাত ধরে কার সাথে কথা বলেছিলে? আমি উত্তর দিলাম, না। তিনি বললেন, সে ছিলো শয়তান।[1]

ুই. জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর ‘আয়াতুল কুরসী’ তিলাওয়াত করবে, মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছুই তার জান্নাতে প্রবেশের অন্তরায় হবে না।[2]

িন. ঘর ও স্থান থেকে শয়তান দূরকারী

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণেরর একজনের সাথে জিন্নের সাক্ষাৎ হলে জিন্ন তার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হলো। যুদ্ধে জিন্ন হেরে গেলো। তিনি তখন জিন্নকে বললেন, আমি দেখছি তুমি একেবারেই দুর্বল! তোমাদের জিন্ন সম্প্রদায় সবাই কি তোমার মতো? নাকি তোমাদের মধ্যে তুমিই এরূপ?

জিন্ন বলল: আল্লাহর কসম! না, বরং আমি তাদের মধ্যে শক্তিশালী একজন। কিন্তু যদি তুমি দ্বিতীয় বার আমার সঙ্গে কুস্তি কর, যদি তাতে তুমি আমাকে হারিয়ে দাও তাহলে তোমাকে আমি এমন জিনিস শিখিয়ে দিবো যার দ্বারা তুমি উপকৃত হবে।

তিনি বললেন, হ্যাঁ, ঠিক আছে। দ্বিতীয়বার আমি তার সঙ্গে কুস্তি করলাম এবং তাকে হারিয়ে দিলাম। জিন্ন তখন বললো, ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ  পড়। যে ঘরে তুমি এটা পড়বে, সে ঘর থেকে শয়তান গাধার ন্যায় বায়ু ছাড়তে ছাড়তে বেরিয়ে যাবে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত সেখানে ঢুকবে না।

উপস্থিত সবাই প্রশ্ন করলো, হে আবু আব্দুর রহমান! কে সে ব্যক্তি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমাদের কি উমার ইবনুল খাত্তাব ছাড়া অন্য কারো কথা মনে হয়?[3]

ার. রোগের প্রতিষেধক

ওয়ালীদ ইবন মুসলিম রহ. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি গাছের ভিতর নড়াচড়া শুনতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলো, কে তুমি? কিন্তু কোনো উত্তর পেলো না। তখন সে ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠ করলে শয়তান নেমে আসলো। সে ব্যক্তি শয়তানকে জিজ্ঞেস করলো, আমাদের ঘরে রোগী আছে, বল তো কী দিয়ে চিকিৎসা করবো? শয়তান উত্তর দিলো, যে জিনিসের মাধ্যমে আমাকে গাছ থেকে নামিয়ে এনেছে।[4]

সুতরাং দেখুন, কিভাবে লোকটি বোকার মত শয়তানকে ডেকে রোগের ঔষধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে অথচ তার কাছেই রয়েছে সেটার ঔষধ। সাধারণত মূর্খরাই জিনদের সাথে এ রকম প্রশ্নের মত কাজ করে থাকে।


[1]  সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩১১

[2]  নাসায়ী, ৫/৩৩৯; সহীহুল জামে ৫/৩৩৯

[3] সুনান দারেমী ২/৪৪৭-৪৪৮; উত্তম সনদে। বাইহা্ক্বী তার মুখতাসারুদ দালায়েল (৭/১২৩)।

[4] সুয়ূতী রহ. এর লুকাতুল মারজান, পৃ: ১৫০