মুসলিম

মূল:ইখলাস কেন ও কীভাবে

গবেষণা পরিষদ আল-মুনতাদা আল-ইসলামী

অনুবাদ: আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান || সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রকৃতপক্ষে, ইখলাসই হলো দীন ইসলামের মূল বিষয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥﴾ [البينة: ٥] “তাদেরকে এছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয় নি যে, তারা খাঁটি মনে (ইখলাসের সাথে) একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।” [সূরা আল-বাইয়্যেনাহ, আয়াত: ৫] আল্লাহ আরো বলেন,
﴿قُلۡ إِنِّيٓ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ ١١﴾ [الزمر: ١١] “বলুন, আমি ইখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১১] আল্লাহ আরো বলেন,
﴿فَٱعۡبُدِ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ ٢ أَلَا لِلَّهِ ٱلدِّينُ ٱلۡخَالِصُۚ﴾ [الزمر: ٢، ٣] “আপনি ইখলাসের সাথে ইবাদত করুন। জেনে রাখুন, ইখলাসপূর্ণ ইবাদতই আল্লাহর জন্য।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২-৩] উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা ইখলাসপূর্ণ ইবাদতকেই তার জন্য স্বীকৃতি প্রদান করেছেন-অল্প হোক কিংবা বেশি, বৃহৎ কিংবা ক্ষুদ্র, যে কোনো ধরণের শির্ক হতে যা বিমুক্ত ও পরিশ্রুত। আয়াতগুলো স্পষ্ট ঘোষণা করে যে, দীন ইসলামে ইখলাস এক গুরুত্বপূর্ণ শর্তের নাম, তাবৎ আম্বিয়া এ প্রক্রিয়ারই স্বীকৃতি বহন করেন, দীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, শরী‘আতের প্রতিটি অনুঘটনায় ইখলাসের অনুসন্ধান প্রমাণ করে ইখলাসের মার্যাদা ও গুরুত্ব।
ইখলাস, সন্দেহ নেই, নবী-রাসূলদের দাওয়াতের দাওয়াতের কুঞ্জিকা, যে নীতিমালা নিয়ে তারা আগত, তার মহোত্তম স্থানের অধিকারী।
যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ﴾ [النحل: ٣٦] “আল্লাহর ইবাদত করার ও তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬] ইবন কাসির রহ. বলেন, এ আদেশ নিয়ে রাসূলগণ পৃথিবীতে আগমন করেন। নূহ আলাইহিস সালাম যে জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন, সে জাতির মাঝেই সর্বপ্রথম যখন শির্কের উৎপত্তি হয়, তখন তাকে মানব জাতির জন্য প্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়, যে ধারাবাহিকতার সমাপ্তি ঘটে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে, যার দাওয়াত বিস্তৃত ছিল জিন্ন-ইনসান ও পৃথিবীর তাবৎ জাতিবর্গের জন্য। পৃথিবীতে রাসূলরূপে আগত সকলের দায়িত্ব ছিল আল-কুরআনের ভাষায়-
﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ ٢٥﴾ [الانبياء: ٢٥] “আমরা তোমার পূর্বে এ আদেশ ব্যতীত কোনো রাসূল প্রেরণ করি নি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫] এ তাওহীদ ও ইখলাস হলো কলব বা হৃদয়ের কমের মাঝে সর্বোচ্চ স্তরের। এটাই বান্দার কর্মের উদ্দেশ্য ও পরিমাণে-মর্যাদায় সর্ববৃহৎ।
ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বক্তব্যটির ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহর দাসত্বের প্রাণ হলো অন্তরের কাজ। যদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা দাসত্ব করা হয়; কিন্তু অন্তর ইখলাস ও তাওহীদ থেকে শুন্য থাকে, তবে সে যেন একটি মৃতদেহ, যার কোনো রূহ নেই। নিয়ত হলো অন্তরের আমল।(১)
ইখলাস হলো ইবাদত কবুলের দু’ শর্তের একটি। ইখলাস ব্যতীত কোনো ইবাদত কবুল হবে না।
নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا، وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ»
“আল্লাহ তা‘আলা শুধু সে আমলই গ্রহণ করেন, যা ইখলাসের সাথে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়।”(২)
যারা আল্লাহর ব্যাপারে ইখলাস অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাঁর কালামে প্রশংসার সাথে তাদের কথা আলোচনা করেছেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কালীম মূসা আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গে আল-কুরআনে উল্লেখ করেন-
﴿وَٱذۡكُرۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ مُوسَىٰٓۚ إِنَّهُۥ كَانَ مُخۡلَصٗا وَكَانَ رَسُولٗا نَّبِيّٗا ٥١ ﴾ [مريم: ٥١] “স্মরণ কর, এ কিতাবে মূসার কথা, সে ছিল একনিষ্ঠ এবং সে ছিল রাসূল।” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫১] এমনিভাবে তিনি ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন:
﴿كَذَٰلِكَ لِنَصۡرِفَ عَنۡهُ ٱلسُّوٓءَ وَٱلۡفَحۡشَآءَۚ إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُخۡلَصِينَ﴾ [يوسف: ٢٤] “আমরা তাকে মন্দ কাজ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখার জন্য এভাবে নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। সে ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত (ইখলাস অবলম্বনকারী) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা ইউসূফ, আয়াত: ২৪] এমনিভাবে তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম সম্পর্কে বলেছেন:
﴿قُلۡ أَتُحَآجُّونَنَا فِي ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمۡ وَلَنَآ أَعۡمَٰلُنَا وَلَكُمۡ أَعۡمَٰلُكُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُخۡلِصُونَ ١٣٩﴾ [البقرة: ١٣٩] “বল, আল্লাহ সম্পর্কে তোমরা কি আমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও? যখন তিনি আমাদের রব ও তোমাদেরও রব। আমাদের কর্ম আমাদের ও তোমাদের কর্ম তোমাদের এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ (ইখলাস অবলম্বনকারী)।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৩৯] এ সকল আয়াত থেকে বুঝে আসে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল ইখলাস বা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা।(৩)
অপরদিকে ইখলাসশূণ্য ব্যক্তির জন্য এসেছে কঠোর হুশিয়ারী ও শাস্তির সংবাদ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,
﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ﴾ [النساء : ٤٨] “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এ শির্ক ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮] যারা শির্ক করে তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা:
﴿وَقَدِمۡنَآ إِلَىٰ مَا عَمِلُواْ مِنۡ عَمَلٖ فَجَعَلۡنَٰهُ هَبَآءٗ مَّنثُورًا ٢٣﴾ [الفرقان: ٢٣] “আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ করব। অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৩] আয়াতটি উল্লেখের পর ইবনুল কাইয়্যেম রহ.-এর মন্তব্য এই যে, এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল ‌আলামীন ব্যর্থ কাজকে বুঝিয়েছেন, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতিতে করা হয় নি অথবা তাঁর পদ্ধতিতে করা হয়েছিল, তবে একনিষ্ঠভাবে (ইখলাসের সাথে) আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হয় নি।(৪)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবন কাসীর রহ. বলেন, মুশরিকরা রক্ষা লাভ ও শুভ পরিণতির আশায় পার্থিবে যে কর্মসম্পাদন করেছে, তা যারপরনাই মূল্যহীন, কিছুই নয়। কারণ, ইখলাস অথবা আল্লাহ প্রণীত বিধানের প্রতি আনুগত্য শরী‘আতের এ দু’টি আবশ্যকীয় শর্তের কোনোটিই তাতে উপস্থিত নেই। যে সকল কাজ খালেস আল্লাহর জন্য করা হয় না কিংবা শরী‘আতের অনুমোদিত পন্থায় পালন করা হয় না তা বাতিল বলে গণ্য, তাতে সন্দেহ নেই। (তাফসীর ইবন কাসীর)
হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي، تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ»
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি শরীকদের শির্ক অর্থাৎ অংশীদারদের অংশ গ্রহণ থেকে অমুখাপেক্ষী। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো আমল করে এবং এতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে তাহলে আমি তাকে ও তার শির্কী কাজকে প্রত্যাখ্যান করি।”(৫)
হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا، لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
“যে জ্ঞান অর্জন করা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তা যদি কেউ পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে করে তাহলে সে কিয়ামতের দিবসে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।”(৬)
হাদীসে আরো এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ طَلَبَ العِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ العُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ»
“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করবে আলিমদের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে অথবা মূর্খদের সাথে অহমিকা প্রদর্শনের জন্যে কিংবা মানুষকে তার দিকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”(৭)
সুতরাং প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য যাবতীয় ইবাদতের ক্ষেত্রেই ইখলাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বান্দার কিছু আমল হবে ইখলাসে পূর্ণ, কিছু হবে শূণ্য, কিছু মুআমালায় ইখলাস হবে তার আদর্শ, অপর কিছু মুআলামা হবে ইখলাস থেকে বিচ্যুত এ খুবই গর্হিত বিষয়, এ কখনো স্বীকৃত নয় শরী‘আহ মোতাবেকে। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. ইখলাসের গুরুত্ব ও অবস্থান বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, ইখলাস ও আনুগত্য শূন্য আমল তুলনীয় এমন মুসাফিরের সাথে, যে অকাজের ধুলোয় পূর্ণ করেছে তার থলে এবং প্রচুর ক্লান্তি ও ঘর্মাক্ত দেহে অতিক্রম করছে মরুভুমির পর মরুভুমি, তার জন্য এ সফর নিশ্চয় নিষ্ফল ও শুভ পরিণতি শূন্য।(৮)

[১] বাদায়ে‘ আল-ফাওয়ায়েদ: ইবনুল কাইয়্যেম।

[২] নাসাঈ, হাদীস নং ৩১৪০।

[৩] আখলাকুন্নবী ফি আল কিতাবে ওয়াস সুন্নাহ: হাদ্দাদ।

[৪] মাদারিজুল সালেকীন।

[৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯৮৫।

[৬] আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬৬৪।

[৭] তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৫৪।

[৮] আল-ফাওয়ায়িদ: ইবনুল কাইয়্যেম।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন