মূল:চার ইমামের আকীদাহ

মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান

তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বাণী:

হারাভী শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : ইমাম মালেককে কালাম (তর্কশাস্ত্র) ও তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, নবীর প্রতি এ ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তার উম্মতকে এস্তেঞ্জা শিখিয়েছেন অথচ তাদের তাওহীদ শিখাননি। তাওহীদ হলো তাই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যেমন : “আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। যার দ্বারা জান ও মাল নিরাপদ থাকে তাই প্রকৃত তাওহীদ।
দারাকুতনী ওয়ালীদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেক, সাওরী, আওযা‘ঈ ও লাইস ইবন সা‘আদকে সিফাত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা বললেন, এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দাও।
ইবন আবদুল বার বলেন, ইমাম মালেককে জিজ্ঞাসা করা হলো, কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ । আল্লাহ আয্যা অজাল্লা বলেন,সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।আল-কিয়ামাহ : ২২আর তিনি অপর সম্প্রদায়ের জন্য বলেন,কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-মুতাফফিফীন : ১৫আর কাযী আয়ায ইবন নাফে ও আশহাব থেকে ‘তারতীবুল মাদারিক’ নামক গ্রন্থে বলেন, তারা উভয়ে বললো : হে আবূ আব্দুল্লাহ তাদের একদল কি অপর দলের চেয়ে বেশি হবে?সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।তারা আল্লাহর দিকে দৃষ্টি দেবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের এ দু’চোখ দ্বারা। আমি তাকে বললাম, কতক সম্প্রদায় বলে, আল্লাহর দিকে তাকানো যাবে না। এখানে দেখার অর্থ হলো, সাওয়াবের অপেক্ষা করা। তিনি বললেন, তারা মিথ্যা বলেছে, বরং আল্লাহর দিকেই তাকানো হবে। তুমি কি মূসা আলাইহিস সালাম এর কথা শোননি? তিনি বলেছেন, “হে আমার রব! আপনি আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখব”। (আল-আরাফ : ১৪৩) তুমি কি মনো করো মূসা তার রবের নিকট অসম্ভব কিছু চেয়েছেন? আল্লাহ বলেন,তুমি আমাকে কখনো দেখবে না।আল-আরাফ : ১৪৩অর্থাৎ, দুনিয়াতে। কারণ, এটি হলো ক্ষণস্থায়ী ঘর। আর অস্থায়ী বস্তু দ্বারা চিরস্থায়ী বস্তু দেখা যায় না। যখন তারা স্থায়ী ঘরের দিকে যাবে তখন তারা স্থায়ী বস্তু দ্বারা স্থায়ী বস্তু দেখবে। আল্লাহ বলেন,কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-মুতাফফিফীন : ১৫
আবূ নু‘আইম জা‘ফর ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমরা মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় এক লোক তার কাছে এসে বলল, হে আবূ আব্দুল্লাহ! “রহমান আরশের ওপর ওঠেছেন” কিভাবে ওঠেছেন ?
তার এ প্রশ্নের কারণে মালিক যে কষ্ট পেলেন অন্য কোনো কারণে তিনি এরূপ কষ্ট পাননি। তিনি যমীনের দিকে তাকালেন ও তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ঠুকতে লাগলেন, এমনকি তার শরীরে ঘাম বেরিয়ে আসল। অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন ও লাঠিটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, (আরশে ওঠার) ধরণ বোধগম্য নয়, তবে তার ওপরে ওঠা অজানা বিষয় নয়। আর তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তার সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ‘আত। আর আমি তোমাকে একজন বিদ‘আতি মনে করি। আর তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন, ফলে তাকে বের করে দেওয়া হলো।
আবূ নু‘আইম ইয়াহইয়া ইবন রাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মালেক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তার কাছে এক লোক আসল ও বলল, হে আবূ আব্দুল্লাহ! যে বলে কুরআন মাখলুক আপনি তার সম্পর্কে কি বলেন?
মালিক বললেন, সে জিন্দিক—বদ্বীন, তাকে হত্যা করো। সে বলল, হে আবূ আব্দুল্লাহ! আমি একটি শোনা কথা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন, আমি তা কারো হতে শুনিনি কেবল তোমার থেকেই শুনেছি। তিনি এ কথাকে মারাত্মক জানলেন।
ইবন আব্দুল বার আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মালেক ইবন আনাস বলতেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, কুরআন মাখলুক তাকে প্রহার করে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাওবা না করা পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হবে।
আবূ দাউদ আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক বলেছেন, আল্লাহ আসমানে আর তার ইলম সব জায়গায়।


কাদর (তাকদীর) বিষয়ে তার বাণী:


আবূ নু‘আইম ইবন ওহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মালেককে শুনেছি এক লোককে বলতেছেন: তুমি আমাকে গতকাল কাদর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো? লোকটি বলল, হ্যাঁ, তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,আর যদি আমরা ইচ্ছা করতাম, তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম। কিন্তু আমাদের কথাই সত্যে পরিণত হবে যে, নিশ্চয় আমরা জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।আস-সাজদাহ: ১৩
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যা বলেছেন, তা অবশ্যই হবে।
কাজী আয়ায বলেন, ইমাম মালেককে কাদারিয়্যাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো: তারা কারা? তিনি বললেন, যে বলে পাপসমূহ সৃষ্টি করা হয়নি। তাকে কাদারিয়্যাদের সম্পর্কে আরও জিজ্ঞাসা করা হলো? তিনি বললেন, কাদারিয়্যাহ যারা বলে সক্ষমতা বান্দার সাথেই রয়েছে, যদি তারা চায় আনুগত্য করে আর যদি চায় পাপ করে।
ইবন আবী আছেম সা‘ঈদ ইবন আব্দুল জাব্বার থেকে র্বণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালিক ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি, তাদের বিষয়ে আমার মতামত হলো তাদেরকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে ভালো অন্যথায় তাদের—কাদারিয়্যাদের—হত্যা করা হবে।
ইবন আব্দুল বার বলেন, মালেক বলেছেন, আমি কোনো কাদারিকে নির্বোধ, আহমক ও মূর্খ ব্যতীত দেখিনি।
ইবন আবী আছেম মারওয়ান ইবন মুহাম্মাদ আত-তাতারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেক ইবন আনাসকে কাদারীকে বিবাহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি? তখন তিনি তিলাওয়াত করেন:একজন মু’মিন বান্দা একজন মুশরিক অপেক্ষা উত্তম।আল-বাকারাহ : ২২১
কাজী আয়ায বলেন, মালেক বলেছেন, কাদারীর সাক্ষ্য বৈধ নয়, আর না খারেজী ও রাফেযীর।
কাজী আয়ায বলেন, কাদারিয়্যাদের সম্পর্কে মালেককে জিজ্ঞাসা করা হলো, আমরা কি তাদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন সে নিশ্চিতভাবে তার আকীদাহ জানবে। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, তাদের পিছনে সালাত পড়বে না ও তাদের থেকে হাদীস গ্রহণ করবে না। আর যদি তোমরা তাদেরকে কোন ছিদ্রের মধ্যেও পাও তাহলে সেখান থেকে তাদেরকে বের করে দাও।


ঈমান বিষয়ে তার বাণী:


ইবন আব্দুল বারর আব্দুর রায্যাক ইবন হুমাম থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি ইবন জুরাইজ, সুফিয়ান সাওরী, মা‘মার ইবন রাশেদ, সুফীয়ান ইবন উয়াইনাহ ও মালেক ইবন আনাসকে শুনেছি তারা বলেন, ঈমান হলো কথা ও আমল (উভয়ের সমষ্টি এবং) বাড়ে ও কমে।
আবূ নু‘আইম আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক ইবন আনাস বলতেন, ঈমান হলো কথা ও আমল।
ইবন আব্দুর বারর আশহাব ইবন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক বলেছেন, মানুষ যোল মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করেন। তারপর তাদের বাইতুল্লাহর দিকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলো। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, (অর্থ) “আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ঈমানকে বিনষ্টকারী নয়”। অর্থাৎ বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে আদায়কৃত সালাত। মালেক বলেন, এ আয়াত দ্বারা আমি মুরজি’আদের কথা “সালাত ঈমানের অংশ নয়” প্রত্যাখ্যান করি।


সাহাবীদের বিষয়ে তাঁর বাণী:


আবূ নু‘আইম আব্দুল্লাহ আল-আম্বারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক ইবন আনাস বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলের কোনো সাহাবীকে খাট করল অথবা তার অন্তরে তাদের প্রতি কোন বিদ্বেষ থাকল তার জন্য মুসলিমদের গণীমতে কোন অংশ নেই। তারপর তিনি আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করলেন:যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না।আল-হাশর : ১০
অতএব যে ব্যক্তি তাদেরকে খাট করল অথবা তার অন্তরে তাদের প্রতি কোন বিদ্বেষ রাখল তার জন্য গণীমতে কোন অধিকার নেই।
আবূ নু‘আইম যুবাইরের সন্তানদের থেকে কোনো এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমরা একদা মালেকের নিকট ছিলাম। তখন তাঁরা এক ব্যক্তির আলোচনা করলেন যে রাসূলের সাহাবীগণের সমালোচনা করে। তখন মালেক এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর।অবশেষে পৌঁছলেনযা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন।আল-ফাতহ : ২৯
তারপর মালেক বললেন, যে ব্যক্তি নিজের অন্তরে রাসূলের কোনো সাহাবীর প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে ভোর করবে তাকে অবশ্যই এ আয়াত আক্রান্ত করবে।
কাজী আয়ায আশহাব ইবন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমরা মালেকের নিকট ছিলাম এ সময় একজন আলাভী এসে তার নিকট অবস্থান নিল। আর তারা সচরাচর তার মজলিসে আসত। সে হে আবূ আব্দুল্লাহ বলে মালেককে ডাকল, তিনি তার জন্য মাথা তুললেন। আর কেউ তাকে ডাকলে তিনি মাথা তুলার চেয়ে বেশী উত্তর দিতেন না। তারপর লোকটি তাকে বলল, আমি তোমাকে আমার মাঝে ও আল্লাহর মাঝে দলীল হিসেবে দাঁড় করাতে চাই, যখন আমি তাঁর সামনে আসবো এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন আমি তাঁকে বলবো: মালেক আমাকে বলেছেন।তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি বলো।সে (আলাভী) বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সর্বোত্তম মানুষ কে?তিনি বললেন, আবূ বকর, আলাবী বলল, তারপর কে? মালেক বললেন, তারপর উমার। আলাবী বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, নির্যাতিতভাবে নিহত খলীফা উসমান। আলাবী বলল, আল্লাহর কসম আমি আর কখনো তোমার মজলিসে বসবো না।মালেক তাকে বললেন, তোমার ইচ্ছা।


ইলমুল কালাম এবং দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা:


ইবন আব্দুল বারর মুস‘আব ইবন আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক ইবন আনাস বলতেন, দীনের বিষয়ে বিতর্ক করাকে আমি অপছন্দ করি। মদীনাবাসীগণ সর্বদা তা অপছন্দ করতেন এবং তা থেকে নিষেধ করতেন। যেমন জাহামের মতামত নিয়ে কথা বলা, কাদার ও এ ধরনের বিষয়ে কথা বলা। তিনি যে বিষয়ে আমল আছে সে বিষয়েই কথা বলতে পছন্দ করতেন। কিন্তু আল্লাহর দীনের বিষয়ে বা আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলা অপেক্ষা চুপ থাকা আমার কাছে বেশি প্রিয়। কারণ, আমি আমার শহরবাসীকে দেখেছি তারা দীনের যে বিষয়ের অধীন আমল নেই সে বিষয়ে কথা বলতে নিধেধ করতেন।
আবূ নু‘আইম আব্দুল্লাহ ইবন নাফে‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেককে বলতে শুনেছি: যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক করা ব্যতীত সব ধরনের কবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়, অতঃপর সে এসব বিদ‘আত ও প্রবৃত্তি—কালাম শাস্ত্র—থেকে মুক্ত হয় সে জান্নাতে যাবে।
হারোভী ইসহাক ইবন ঈসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মালেক বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলমুল কালামের মাধ্যমে দীন তালাশ করবে সে নাস্তিকে পরিণত হবে, যে ব্যক্তি স্পর্শমণি দ্বারা সম্পদ তালাশ করবে সে সর্বহারা হবে, আর যে ব্যক্তি বিরল হাদীস তালাশ করবে সে মিথ্যা বলবে।
খতীব ইসহাক ইবন ঈসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি মালেক ইবন আনাসকে দীনের বিষয়ে ঝগড়ার নিন্দা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, যখনই এক ব্যক্তি থেকে অধিক ঝগড়াটে অপর ব্যক্তি আমাদের কাছে আসে তখন সে আমাদের কাছে চায় যেন, আমরা জীবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যা নিয়ে এসেছেন তা যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
হারাবী আব্দুর রহমান ইবন মাহদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেকের নিকট প্রবেশ করলাম তখন তার নিকট এক লোক কিছু জিজ্ঞাসা করছিল। তিনি বললেন, সম্ভাবত তুমি আমর ইবন উবাইদের ছাত্র। তার উপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হোক। কারণ সেই ইলমুল কালামের বিদ‘আত আবিষ্কার করেছে। কালাম বা তর্কশাস্ত্র যদি ইলম হতো তাহলে সাহাবী, তাবে‘ঈগণ এ ব্যাপারে কথা বলতেন। যেমনভাবে তারা শরীয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান সম্পর্কে কথা বলেছেন।
হারাভী আশহাব ইবন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি মালেককে বলতে শুনেছি, তোমরা বিদ‘আত থেকে বেঁচে থাকো। তাকে বলা হলো, হে আবূ আব্দুল্লাহ! বিদ‘আত কি? তিনি বললেন, বিদ‘আতী হলো যারা আল্লাহর নাম, তাঁর সিফাতসমূহ, তার কালাম, ইলম ও কুদরাত সম্পর্কে ইলমুল কালাম দ্বারা কথা বলে এবং সাহাবী ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী তাবে‘ঈগণ যে বিষয়ে চুপ ছিলেন সে বিষয়ে তারা চুপ থাকে না।
আবূ নু‘আইম শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মালেক ইবন আনাসের নিকট যখন কোন প্রবৃত্তির পুজারী আসত তিনি বলতেন, আমি আমার রব ও দীনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর আছি। আর তুমি সন্দেহ পোষণকারী। তাই তুমি সন্দিহান লোকের কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক কর।
ইবন আব্দুল বার মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন খুয়াইয মিনদাদ আল-মাসরী আল-মালেকী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি তার কিতাব আল-খিলাফে ইজারা অধ্যায়ে লিখেছেন, ইমাম মালেক বলেছেন, প্রবৃত্তির পুজারী, বিদ‘আতী ও নজুমীদের কিতাবসমূহে বন্ধকী লেন-দেন করা বৈধ নয়। তিনি কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করেন। তারপর তিনি বলেন, আমাদের সাথীদের নিকট প্রবৃত্তির পুজারী ও বিদআতীদের কিতাব হলো কালামী সম্প্রদায় থেকে মু‘তাযিলা ও অন্যান্যদের কিতাব। এ বিষয়ে ইজারাহ বাতিল।
তাওহীদ, ঈমান, সাহাবীগণ এবং ইলমে কালাম ও অন্যান্য বিষয়ে ইমাম মালেকের মতামত ও অবস্থান এখানে তুলে ধরা হলো।