মূল:চার ইমামের আকীদাহ

মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান

তাওহীদ বিষয়ে তার বাণী

ইমাম বাইহাহী রাবী‘ ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, শাফে‘ঈ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর শপথ করে অথবা তার নামসমূহ হতে কোন নাম দ্বারা শপথ করে তারপর সে কসম ভঙ্গ করল, তার ওপর কাফফারাহ ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কিছুর শপথ করে যেমন কোন লোক বলল, কা‘বার কসম, আমার বাপের কসম ইত্যাদি তারপর সে কসম ভঙ্গ করল, তার ওপর কোন কাফফরাহ নেই। অনুরূপভাবে যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমার জীবনের কসম, তার ওপর কোন কাফফরাহ নেই। গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অনুযায়ী মাকরুহ ও নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার কসম খেকে নিষেধ করেছেন। যে ব্যক্তি শপথ করতে চায় সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে।

ইমাম শাফে‘ঈ এর কারণ বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নামসমূহ মাখলুক নয়। সুতরাং যে আল্লাহর নামের দ্বারা শপথ করল তারপর ভঙ্গ করল, অবশ্যই তাঁর ওপর কাফফারাহ ওয়াজিব।

ইবনুল কাইয়্যিম ‘ইজতিমাউল জুয়ুশ’ নামক গ্রন্থে শাফে‘ঈ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি যে সুন্নাতের ওপর আছি এবং আমার আহলে হাদীস ভাইদেরকে যে সুন্নাতের উপর দেখেছি ও যাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি যেমন সুফিয়ান, মালেক ও অন্যান্যগণ, তাওহীদের বিষয়ে তাদের মত হলো এই স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর স্বীকার করা যে, আল্লাহ স্বীয় আসমানে তার আরশের উপর আছেন। তিনি যেভাবে চান তার মাখলুকের নিকটবর্তী হন। আর আল্লাহ যেভাবে চান দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন।

আর আয-যাহবী আল-মুযানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছন: আমি বললাম: তাওহীদের বিষয়ে আমার অন্তরে যা রয়েছে এবং যার সাথে আমার অন্তর সম্পৃক্ত হয়েছে তা দূর করার যদি কেউ থাকে, তাহলে তিনি হলেন (ইমাম) শাফে‘ঈ। ফলে আমি তার নিকট গেলাম তখন তিনি মিসরের মসজিদে ছিলেন। যখন আমি তার সামনে বসলাম, বললাম : তাওহীদ বিষয়ে আমার অন্তরে একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে, আর আমি জানি যে, আপনার জানার মতো আর কেউ জানে না। অতএব (এ বিষয়ে) আপনার ইলম কি? তিনি ক্ষুব্ধ হলেন। অতঃপর বললেন, তুমি কি জান তুমি কোথায়? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটিই সেই জায়গা যেখানে আল্লাহ ফিরআউনকে ডুবিয়েছেন। তোমার কাছে কি পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন? আমি বললাম: না। তিনি বললেন, সাহাবীগণ এ বিষয়ে কথা বলেছেন? আমি বললাম: না। তিনি বললেন, আসমানে কতটি তারকা আছে তুমি জান? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: যত নক্ষত্র সৃষ্টি করা হয়েছে তার কয়টির প্রকৃতি ও উদয়-অস্ত জান? আমি বললাম: না। তিনি বললেন, সৃষ্টির একটি জিনিস তুমি তোমার চোখে দেখ, অথচ তার সম্পর্কে তুমি জান না, অথচ তুমি তার স্রষ্টার ইলম সম্পর্কে কথা বলছো!?

অতঃপর তিনি আমাকে ওযূ সম্পর্কীয় একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলে আমি তাতে ভুল করি। তিনি মাসআলাটি চারটি ভাগ করলেন। আমি তার একটিতেও সঠিক উত্তর দিতে পারিনি। তখন তিনি বললেন, যার প্রতি তুমি দৈনিক পাঁচবার মুখাপেক্ষি হও, তার ইলম রেখে স্রষ্টার ইলম নিয়ে টানাটানি করছ। যখন তোমার অন্তরে এর উদ্রেক হয়, তখন তুমি আল্লাহর বাণীর দিকে ফিরে যাও:আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু।নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির মধ্যেসূরা আল বাকারাহ : ১৬৩, ১৬৪ সুতরাং মাখলুক দ্বারা খালেকের অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ দাও। আর যেখান তোমার জ্ঞান পৌঁছেনি সে বিষয়ে নিজেকে কষ্টে ফেল না।

ইবনু আব্দুল বারর ইউনুস ইবন আব্দুল আ‘লা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ইমাম শাফে‘ঈকে বলতে শুনেছি, যখন তুমি কোন ব্যক্তিকে বলতে শুনবে নাম এক জিনিষ আর নাম দ্বারা নামকরণকৃত বস্তু আরেক জিনিষ অথবা বলে এ জিনিষটি এ জিনিষ হয় তাহলে তুমি জেনে রাখো যে, সে যিনদীক।

শাফে‘ঈ স্বীয় কিতাব আর-রিসালায় বলেছেন, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য…যিনি তেমনই যেমন তিনি তার নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তার মাখলুক তার বিষয়ে যা বর্ণনা করে তিনি তার উর্ধ্বে।

যাহবী সীয়ার গ্রন্থে শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত সিফাতগুলো আমরা সাব্যস্ত করব এবং তুলনাকে তার থেকে অসাব্যস্ত করব। যেমনিভাবে তিনি তা নিজের থেকে অসাব্যস্ত করেছেন।“তার মতো কোন কিছু নেই”।আশ-শূরা : ১১।ইবন আব্দুল বার রাবী ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি শাফিঈকে আল্লারহ বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছি।কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।আল-মুতাফফিফীন : ১৫

এ দ্বারা আমাদের জানিয়ে দেন যে, সেখানো কতক সম্প্রদায় এমন থাকবে যাদের আড়াল করা হবে না, তারা তার দিকে দেখবেন। তাকে দেখাতে তাদের কোন অসুবিধা হবে না।

লালাকায়ী রাবী ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবন ইদ্রীস আশ-শাফে‘ঈর দরবারে হাযির হলাম। তখন তার কাছে একটি মাটির টুকরা আনা হলো যাতে ছিল: আপনি আল্লাহর বাণী সম্পর্কে কি বলেন?কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।

শাফে‘ঈ বললেন, নারাজির কারণে যেহেতু তাদের আড়াল করা হয়েছে, এতে প্রমাণিত হয় যে সন্তুষ্টির কারণে তারা তাকে দেখবে। রবী‘ বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আব্দুল্লাহ আপনি কি এ মত পোষণ করেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এ দ্বারাই আমি আল্লাহর দীনদারি গ্রহণ করি।

ইবন আব্দুল বার হারুদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইবরাহীম ইবন ইসমাঈল ইবন উলাইয়্যাহ সম্পর্কে ইমাম শাফে‘ঈর নিকট আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, আমি প্রতিটি বিষয়ে তার বিরোধি এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বিষয়েও। সে যা বলে আমি তা বলি না। আমি বলি আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই যিনি পর্দার আড়াল থেকে মূসার সাথে কথা বলেছেন। আর সে বলে আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই যিনি কালাম সৃষ্টি করেছেন যা পর্দার আড়াল থেকে তিনি মূসাকে শুনিয়েছেন।

লালাকা’ঈ রাবী‘ ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, শাফে‘ঈ বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে যে, কুরআন মাখলুক সে কাফির। বাইহাকী আবূ মুহাম্মাদ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক লোক শাফে‘ঈকে বলল, আপনি আমাকে কুরআন সম্পর্কে বলুন তা কি স্রষ্টা? শাফে‘ঈ বললেন, আল্লাহুম্মা, না। সে বলল, তাহলে কি সৃষ্টি? শাফে‘ঈ বললেন, আল্লাহুম্মা, না। তাহলে কি গাইরে মাখলুক (অসৃষ্ট)? শাফে‘ঈ বললেন, আল্লাহুম্মা হ্যাঁ। কুরআন যে গাইরে মাখলুক তার ওপর প্রমাণ কি? এ কথা শোনে শাফে‘ঈ মাথা উঁচা করলেন এবং বললেন, তুমি কি স্বীকার কর কুরআন

আল্লাহর কালাম, সে বলল, হ্যাঁ। শাফে‘ঈ বললেন, এ বাক্যের মধ্যে বিষয়টি অতিবাহিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনে,আত-তাওবাহ : ৫।আর আল্লাহ মূসার সাথে সুস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন।আন-নিসা : ১৬৪।

শাফে‘ই বললেন, তুমি কি স্বীকার করো যে, আল্লাহ ছিল এবং তার কালামও ছিল? বা আল্লাহ ছিল কিন্তু তার কালাম ছিল না? লোকটি বলল, বরং আল্লাহ ছিল এবং তার কালামও ছিল। তিনি বলেন, শাফে‘ই মুচকি হাঁসি দিলেন এবং বললেন, হে কূফীগণ, তোমরা আশ্চর্য ধরনের কথা বলো, কারণ তোমরা স্বীকার করো যে, আল্লাহ সবকিছুর পূর্বে ছিলেন এবং তার কথাও ছিল। তাহলে তোমরা এ জাতীয় কথা কোথায় পেলে : কালামই আল্লাহ, অথবা (কালাম) আল্লাহ নন, অথবা (কালাম) গাইরুল্লাহ অথবা (কালাম) আল্লাহকে বাদ দিয়ে? লোকটি চুপ হয়ে গেল এবং বের হয়ে পড়ল।

জুযউল ই‘তিকাদ গ্রন্থ যা শাফে‘ঈর দিকে নিসবত করা হয়ে থাকে—তাতে আবূ তালেব আল আশারী থেকে বর্ণিত—: যার নস হলো, তিনি বলেন: আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে এবং তার প্রতি ঈমান আনয়ন সম্পর্কে শাফে‘ঈকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন, আল্লাহ তাবারাকা ও তা‘আলার জন্য রয়েছে নামসমূহ ও সিফাতসমূহ, যা নিয়ে নাযিল হয়েছে তার কিতাব এবং যার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহর মাখলুকের মধ্য থেকে যার নিকট প্রমাণ পৌঁছেছে যে, কুরআন এর (অর্থাৎ সিফতা ও নামসমূহের) বর্ণনাসহ নাযিল হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা তার নিকট সহীহভাবে সাব্যস্ত হয়েছে, যা ইনসাফগার বর্ণনাকারীগণ তার থেকে পরম্পরায় বর্ণনা করেছেন, তার জন্যে তার বিরোধিতা করার কোন সুযোগ নেই। দলীল প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি কেউ তার বিরোধিতা করে সে আল্লাহকে অস্বীকার করল। আর যদি সংবাদ পৌঁছানোর পূর্বে অস্বীকার করে, তাহলে সে না-জানার কারণে ক্ষমা যোগ্য, কারণ তার ইলম গবেষণা ও চিন্তা দ্বারা অর্জন করা সম্ভবপর নয়।

এ ধরনের আল্লাহর আরো সংবাদ দেওয়া যে, তিনি অবশ্যই সর্বশ্রোতা। আর তাঁর জন্য রয়েছে দুটি হাত। কারণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী:বরং তাঁর দুই হাত প্রশস্ত।আল-মায়েদাহ : ৬৪এবং তার জন্য রয়েছে ডান হাত, কারণ আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা বলেন:এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে।আয-যুমার : ৬৭এবং তাঁর জন্য রয়েছে চেহারা, কারণ আল্লাহ আয্যা ওয়াজাল্লা বলেন:প্রতিটি বস্তুই ধ্বংস হবে। তবে তার চেহারা ছাড়া।আল-কাসাস : ৮৮এবং তার বাণীআর থেকে যাবে শুধু মহামহিম ও মহানুভব তোমার রবের চেহারা।আর-রহমান : ২৭এবং তাঁর জন্য রয়েছে পা, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:এমনকি রব তাতে তাঁর পা রাখবেন।অর্থাৎ জাহান্নাম (এর ওপর)। কারণ, যে আল্লাহর রাস্তায় মারা গিয়েছে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনসে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করেছে যে, তিনি তার দিকে তাকিয়ে হাঁসছেন।আর তিনি প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে সংবাদ দেন। আর তিনি কানা নন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দাজ্জালের আলোচনা করেন তখন বলেন:নিশ্চয় সে কানা আর তোমাদের রব কানা নন।আর মু’মিনগণ কিয়ামতের তাদের রবকে স্বচোক্ষে দেখবেন যেমনটি তারা চাঁদকে চৌদ্দ তারিখের রাত্রিতে দেখতে পাবেন এবং তার জন্য রয়েছে আঙ্গুল। রাসূলের কথা দ্বারা প্রমাণিত:এমন কোনো অন্তর নেই যা রহমানের আঙ্গুলসমূহ থেকে দু’আঙ্গুলের মাঝে নেই।আর এসব অর্থ (তথা সিফাত) যদ্বারা আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা তার নিজের সত্তাকে গুণান্বিত করেছেন এবং যদ্বারা গুণান্বিত করেছেন তাঁকে তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তা ও গবেষণা দ্বারা যথাযথভাবে তা অনুভব করা যায় না এবং এগুলো না-জানার কারণে কাউকে কাফিরও বলা যায় না। তবে তার কাছে সংবাদ পৌঁছার পর, যদি অস্বীকার করে তবে তাকে কাফির বলা যাবে। আর যদি এ বিষয়ে বর্ণিত সংবাদ এমন হয় যা বুঝার ক্ষেত্রে শোনাটাই প্রত্যক্ষ করার স্থলাভিষিক্ত হয় তখন শ্রোতার ওপর তার যথাযথ অর্থ মেনে নেওয়া ও তার ওপর সাক্ষ্য দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। যেমনটি সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনল এবং প্রত্যক্ষ করল। তবে আমরা এসব সিফাত সাব্যস্ত করব এবং সাদৃশ্যকে নাকোচ করবো যেমনটি তিনি তার নিজের সত্তা থেকে নাকোচ করেছেন। তিনি বলেন,তাঁর মতো কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।আশ-শূরা : ১১সর্বশেষ বিশ্বাস

কাদর বিষয়ে তার বাণী

বাইহাকী রাবী‘ ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, শাফে‘ঈকে কাদার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

(কবিতা) (হে আল্লাহ) তুমি যা চাও তা হবেই যদিও তা আমি না চাই। আর আমি যা চাই তা যদি তুমি না চাও হবে না।

(কবিতা) (হে আল্লাহ!) তোমার ইলম অনুযায়ী বান্দাদের সৃষ্টি করেছো। সুতরাং তোমার ইলম অনুযায়ী চলে যুবক ও বৃদ্ধ।

(কবিতা) তুমি তার ওপর দয়া করেছ ও একে লাঞ্ছিত করেছ এবং একে সাহায্য করেছ ও তাকে পরিত্যাগ করেছ।

(কবিতা) তাদের কেউ হতভাগা আর সৌভাগ্যবান। আর তাদের কেউ কুশ্রী আর কেউ সুন্দর।

বাইহাকী শাফে‘ঈর গুণাবলির আলোচনা করতে গিয়ে বর্ণনা করেন: শাফে‘ঈ বলেছেন, নিশ্চয় বান্দাদের ইচ্ছা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার অনুগামী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা না হলে তারা ইচ্ছা করে না। কারণ মানুষ তাদের কর্মের স্রষ্টা নয়। বান্দাদের কর্মসমূহ আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি করার কারণে সৃষ্টি বা মাখলুক হয়েছে। আর ভাগ্যের ভালো ও মন্দ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। কবরের শাস্তি সত্য, কবরবাসীদের প্রশ্ন করা সত্য, পুনরুত্থান সত্য, হিসাব সত্য, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য। এ ছাড়া আরও যা সুন্নাতে বর্ণিত আছে সবই সত্য।

লালাকায়ী মুযানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, শাফে‘ঈ বলেছেন, কাদারী কে তুমি কি তা জানো? যে বলে আল্লাহ কোনো আমলকে সৃষ্টি করেননি যতক্ষণ না তার ওপর আমল করা হয়েছে।

বাইহাকী শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, কাদারিয়া সম্প্রদায় তারাই যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:তারা এ উম্মাতের অগ্নিপুজক।যারা বলে আল্লাহ গুণাহ সম্পর্কে জানেন না যতক্ষণ তা সংঘটিত হয়।

বাইহাকী রাবী‘ ইবন সুলাইমান সূত্রে শাফেঈ সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি কাদারীর পিছনে সালাত আদায় করতে অপছন্দ করতেন।

ঈমান বিষয়ে তার বাণী

ইবন আব্দুল বারর রাবী‘ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,: আমি শাফে‘ঈকে বলতে শুনেছি: ঈমান হচ্ছে কথা, আমল ও অন্তরের বিশ্বাস। তোমরা কি আল্লাহর বাণী দেখ না:আল্লাহ তোমাদের সালাতকে নষ্ট করার নন।আল-বাকারাহ : ১৪৩অর্থাৎ বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে পড়া তোমাদের সালাত। অতএব আয়াতে সালাতকে ঈমান নামকরণ করা হয়েছে। আর তা হলো কথা, আমল ও বিশ্বাস।

বাইহাকী রাবী ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শাফে‘ঈকে বলতে শুনেছি, ঈমান হলো কথা ও আমল এবং তা বাড়ে ও কমে।

বাইহাকী আবূ মুহাম্মাদ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক লোক শাফে‘ঈকে বলল, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম? শাফে‘ঈ বললেন, যা ছাড়া আমল কবুল করা হয় না। লোকটি বলল, সেটি কী? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস যিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ নেই। এটি সর্বোচ্চ আমল, সর্বশ্রেষ্ঠ আমল এবং ছাওয়াবের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড়। লোকটি বলল, আপনি কি আমাকে ঈমান সম্পর্কে জানাবেন না? তা কি কথা ও আমল? নাকি আমল ছাড়া শুধু কথার নাম?শাফে‘ঈ বললেন, ঈমান হলো আল্লাহর জন্য আমল করা, আর কথা হলো এ সব আমলের অংশ বিশেষ।লোকটি বলল, বিষয়টি আমার জন্য ব্যাখ্যা করুন। যাতে আমি বুঝতে পারি।শাফে‘ঈ বলেছেন, ঈমানের একাধিক অবস্থা, স্তর ও ভাগ রয়েছে। তার একটি হলো পরিপূর্ণ যার পর আর কোন পূর্ণতা নেই। (আরেকটি হলো) দুর্বল ঈমান যার দুর্বলতা স্পষ্ট। (আরেকটি হলো) প্রাধান্যপ্রাপ্ত যার প্রাধান্যের অংশ বেশী।লোকটি বলল, ঈমান কি পরিপূর্ণ না হয়ে বাড়ে ও কমে?শাফে‘ঈ বললেন, হ্যাঁলোকটি বলল, তার প্রমাণ কি?শাফে‘ঈ বললেন, আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের অঙ্গসমূহের উপর ঈমানকে ফরয করেছেন। তার মধ্যে একে বন্টন করেছেন এবং তার বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করে দিয়েছেন। তার অঙ্গসমূহ হতে কোনো অঙ্গ নেই, তবে তাকে আল্লাহর নির্দেশে ঈমানের এমন অংশ অবশ্যই সোপর্দ করা হয়েছে যা তার ন্যায় অপর অঙ্গকে প্রদান করা হয়নি।তার একটি হলো অন্তর, যা দ্বারা সে জ্ঞান লাভ করে, ভাবে ও বুঝে। আর এই অন্তরই হচ্ছে তার দেহের আমীর। তার মতামত ও নির্দেশ ব্যতিত অঙ্গসমূহ নড়চড় করে না ও প্রকাশ পায় না।তার মধ্যে দুই চোখ, যা দ্বারা সে দেখে। দুই কান, যা দ্বারা সে শোনে। দুই হাত যা দ্বারা সে ধরে। দুই পা যা দ্বারা সে হাঁটে। লজ্জাস্থান যার থেকে যৌন শক্তি পায়। তার জবান, যার দ্বারা সে কথা বলে এবং তার মাথা যাতে রয়েছে তার চেহারা।অন্তরের ওপর এমন কিছু ফরয করা হয়েছে যা জবানের ওপর করা হয়নি। দুই হাতের ওপর যা ফরয করা হয়েছে দুই পায়ের ওপর তা ফরয করা হয়নি এবং লজ্জা স্থানের ওপর যা ফরয করা হয়ে তা চেহারার ওপর ফরয করা হয়নি।আর অন্তরের ওপর আল্লাহর ফরয করা ঈমান হলো, স্বীকার করা, জানা, বিশ্বাস করা, সন্তুষ্টি ও মেনে নেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। তিনি কোন সঙ্গীনি ও সন্তান গ্রহণ করেননি। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী বা কিতাব যা এসেছে তা স্বীকার করাকেই আল্লাহ অন্তরের ওপর ফরয করেছেন। আর তা হলো তার কর্ম বা আমল:“তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় (কুফরী করতে) অথচ তার অন্তর থাকে ঈমানে পরিতৃপ্ত, তবে যে তার অন্তর কুফরী দ্বারা উন্মুক্ত করে নিয়েছে”।আর-রা‘আদ : ২৮, ( সঠিক হচ্ছে: আন-নাহাল : ১০৬)তিনি আরো বলেন,যারা তাদের মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি। কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি।আল মায়েদাহ : ৪১তিনি আরো বলেন,আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন।আল-বাকারাহ: ২৮৪এ ঈমানই আল্লাহ অন্তরের ওপর ফরয করেছেন। আর তাই অন্তরের আমল এবং তাই হলো ঈমানের মাথা বা মূল।মুখের ওপর আল্লাহ ফরয করেছেন কথা বলা এবং অন্তর যা বিশ্বাস করে ও স্বীকার করে তা ব্যক্ত করা। এ বিষয়ে তিনি বলেন,তোমরা বলো, আমরা

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম।আল বাকারাহ : ১৩৬এবং তিনি বলেছেনআর তোমরা মানুষের জন্য সুন্দর কথা বলো।আল বাকারাহ: ৮৩এটিই তা যা মুখে বলা এবং অন্তরের অবস্থা ব্যক্ত করাকে আল্লাহ মুখের ওপর ফরয করেছেন। আর তাই অন্তরের আমল ও ঈমান বিষয়ে তার ওপর ফরয।আল্লাহ কানের ওপর ফরয করেছেন যেন, তা আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি কর্ণপাত করা থেকে বেঁচে থাকে এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে অবনত থাকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,আর তিনি তো কিতাবে তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, তাহলে তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় নিবিষ্ট হয়, তা না হলে তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে।আন-নিসা : ১৪০অতঃপর ভুলে যাওয়ার স্থানকে বাদ দেন এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়াআযযা বলেন:আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়,অর্থাৎ ফলে তুমি তাদের সাথে বসে পড়েছতবে স্মরণের পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না।আল-আন‘আম : ৬৮এবং তিনি বলেছেনঅতএব বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে তাদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দান করেন। আর তারাই বুদ্ধিমান।আয-যুমার : ১৭, ১৮এবং তিনি বলেছেনঅবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে।যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত।তার এ বাণী পর্যন্ত:যাকাত আদায়কারীআল-মু’মিনুন : ১, ৪এবং তিনি বলেছেনযখন তারা অনর্থক কথা শোনে তা থেকে তারা বিমুখ থাকে।আল-কাসাস : ৫৫এবং তিনি বলেছেনএবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়।আল-ফুরকান : ৭২এটি তাই যা আল্লাহ তা‘আলা কানের ওপর ফরয করেছেন, যেমন যা শোনা তার জন্য হালাল নয় তা থেকে বিরত থাকা। এটিই তার আমল এবং এটিই ঈমানের অংশ।আর দুই চোখের ওপর ফরয হলো, তা দ্বারা যা দেখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা দেখবে না এবং তা থেকে চক্ষুদ্বয়কে অবনত রাখবে। আল্লাহ তা‘আলা এ বিষয়ে বলেন,মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।আন-নূর : ৩০ ও ৩১ দু’টি আয়াত।তাদের কেউ তার ভাইয়ের লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকবে এবং তার নিজের লজ্জাস্থানকে অপরের দৃষ্টি থেকে হিফাযত করবে।

এবং তিনি বলেছেন

অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে।

যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত।

তার এ বাণী পর্যন্ত:

যাকাত আদায়কারী

আল-মু’মিনুন : ১, ৪

এবং তিনি বলেছেন

যখন তারা অনর্থক কথা শোনে তা থেকে তারা বিমুখ থাকে।

আল-কাসাস : ৫৫

এবং তিনি বলেছেন

এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়।

আল-ফুরকান : ৭২

এটি তাই যা আল্লাহ তা‘আলা কানের ওপর ফরয করেছেন, যেমন যা শোনা তার জন্য হালাল নয় তা থেকে বিরত থাকা। এটিই তার আমল এবং এটিই ঈমানের অংশ।

আর দুই চোখের ওপর ফরয হলো, তা দ্বারা যা দেখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা দেখবে না এবং তা থেকে চক্ষুদ্বয়কে অবনত রাখবে। আল্লাহ তা‘আলা এ বিষয়ে বলেন,

মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।

আন-নূর : ৩০ ও ৩১ দু’টি আয়াত।

তাদের কেউ তার ভাইয়ের লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকবে এবং তার নিজের লজ্জাস্থানকে অপরের দৃষ্টি থেকে হিফাযত করবে।

আর তিনি বলেছেন, লজ্জা স্থানের হিফাযত বিষয়ে আল্লাহর কিতাবে যা রয়েছে তার অর্থ হচ্ছে ব্যভিচার থেকে হিফাযত করা, তবে এ আয়াত ব্যতীত। কারণ এখানে তার (অর্থাৎ লজ্জাস্থানের হিফাযত) অর্থ দৃষ্টি থেকে হিফাযত করা।

এটি তাই যা আল্লাহ দুই চোখের ওপর দৃষ্টিকে অবনত রাখা বিষয়ে ফরয করেছেন। আর তা চোখের আমল এবং তা ঈমানের অংশ।

অতঃপর তিনি অন্তর, কান এবং চোখের ওপর যা ফরয করেছেন তা একটি আয়াতেই বলে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন,আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ- এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে।আল-ইসরা : ৩৬তিনি বলেছেন: অর্থাৎ আর তিনি লজ্জাস্থানের ওপর ফরয করেছেন যে, সে তার লঙ্গন করবে না আল্লাহ যা তার ওপর হারাম করেছেন।“আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী”।আল-মু‘মিনূন : ৫এবং তিনি বলেছেনতোমরা কিছুই গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কান, চোখসমূহ ও চামড়াসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না।ফুসসিলাত : ২২আয়াতটি।চামড়াসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: লজ্জাস্থান ও উরুসমূহ, যা লজ্জাস্থানের জন্য হালাল নয় তার থেকে তাকে হিফাযত করাই আল্লাহ লজ্জাস্থানের ওপর ফরয করেছেন। আর এটি তার আমল।আর দুই হাতের ওপর আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন যে, হাতদ্বয় দ্বারা বান্দা আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিসগুলো ধরবে না এবং এর দ্বারা ঐ কাজগুলোই করবে, যা করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা আদেশ দিয়েছেন। যেমন সাদকা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, সালাত আদায় করার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ইত্যাদি। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন,“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর”।আল-মায়েদাহ : ৬, আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি আরো বলেন,অতএব তোমরা যখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত কর। পরিশেষে তোমরা যখন তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত করবে তখন তাদেরকে শক্তভাবে বেঁধে নাও। তারপর হয় অনুগ্রহ না হয় মুক্তিপণ আদায়।মুহাম্মাদ : ৪কারণ আঘাত করা, যুদ্ধ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সাদকা করা হাতের আমল।আর দুই পায়ের ওপর তিনি ফরয করেছেন: তা দ্বারা আল্লাহ জাল্লা যিকরুহু যা হারাম করেছেন তার দিকে হাঁটবে না। এ বিষয়ে তিনি বলেন,আর যমীনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনো যমীনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না।আল-ইসরা : ৩৭আর তিনি চেহারার ওপর ফরয করেছেন রাত ও দিনে এবং নামাযের সময়ে আল্লাহর জন্য সেজদা করাকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদাত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে।আল-হাজ্জ : ৭৭এবং তিনি বলেছেনআর মাসজিদসমূহ কেবলই আল্লাহর জন্য সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না।আল-জিন : ১৮মাসজিদসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: আদম সন্তান স্বীয় সালাতে যার ওপর সেজদা করে তাই, যেমন, কপাল ইত্যাদিতিনি বলেন, এ হলো আল্লাহ তা‘আলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের ওপর যা ফরয করেছেন তার আলোচনা।আর পবিত্রতা এবং সালাতসমূহকে আল্লাহ স্বীয় কিতাবে ঈমান বলে নাম রেখেছেন যখন আল্লাহ তা‘আলা তার নবীর চেহারাকে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা থেকে ফিরিয়ে দেন এবং কা‘বার দিকে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন। মুসলিমগণ ষোল মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিল, ফলে তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে যে সালাত আদায় করেছি তার এবং আমাদের অবস্থা কি হবে?ফলে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন,এবং আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।আল-বাকারাহ : ১৪৩

আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ- এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে।

আল-ইসরা : ৩৬

তিনি বলেছেন: অর্থাৎ আর তিনি লজ্জাস্থানের ওপর ফরয করেছেন যে, সে তার লঙ্গন করবে না আল্লাহ যা তার ওপর হারাম করেছেন।

“আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী”।

আল-মু‘মিনূন : ৫

এবং তিনি বলেছেন

তোমরা কিছুই গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কান, চোখসমূহ ও চামড়াসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না।

ফুসসিলাত : ২২

আয়াতটি।

চামড়াসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: লজ্জাস্থান ও উরুসমূহ, যা লজ্জাস্থানের জন্য হালাল নয় তার থেকে তাকে হিফাযত করাই আল্লাহ লজ্জাস্থানের ওপর ফরয করেছেন। আর এটি তার আমল।

আর দুই হাতের ওপর আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন যে, হাতদ্বয় দ্বারা বান্দা আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিসগুলো ধরবে না এবং এর দ্বারা ঐ কাজগুলোই করবে, যা করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা আদেশ দিয়েছেন। যেমন সাদকা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, সালাত আদায় করার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ইত্যাদি। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন,

“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর”।

আল-মায়েদাহ : ৬, আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি আরো বলেন,

অতএব তোমরা যখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত কর। পরিশেষে তোমরা যখন তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত করবে তখন তাদেরকে শক্তভাবে বেঁধে নাও। তারপর হয় অনুগ্রহ না হয় মুক্তিপণ আদায়।

মুহাম্মাদ : ৪

কারণ আঘাত করা, যুদ্ধ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সাদকা করা হাতের আমল।

আর দুই পায়ের ওপর তিনি ফরয করেছেন: তা দ্বারা আল্লাহ জাল্লা যিকরুহু যা হারাম করেছেন তার দিকে হাঁটবে না। এ বিষয়ে তিনি বলেন,

আর যমীনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনো যমীনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না।

আল-ইসরা : ৩৭

আর তিনি চেহারার ওপর ফরয করেছেন রাত ও দিনে এবং নামাযের সময়ে আল্লাহর জন্য সেজদা করাকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,

হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদাত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে।

আল-হাজ্জ : ৭৭

এবং তিনি বলেছেন

আর মাসজিদসমূহ কেবলই আল্লাহর জন্য সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না।

আল-জিন : ১৮

মাসজিদসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: আদম সন্তান স্বীয় সালাতে যার ওপর সেজদা করে তাই, যেমন, কপাল ইত্যাদি

তিনি বলেন, এ হলো আল্লাহ তা‘আলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের ওপর যা ফরয করেছেন তার আলোচনা।

আর পবিত্রতা এবং সালাতসমূহকে আল্লাহ স্বীয় কিতাবে ঈমান বলে নাম রেখেছেন যখন আল্লাহ তা‘আলা তার নবীর চেহারাকে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা থেকে ফিরিয়ে দেন এবং কা‘বার দিকে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন। মুসলিমগণ ষোল মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিল, ফলে তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে যে সালাত আদায় করেছি তার এবং আমাদের অবস্থা কি হবে?

ফলে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন,

এবং আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।

আল-বাকারাহ : ১৪৩

তিনি সালাতকে ঈমান নামকরণ করেছেন, অতএব যে ব্যক্তি স্বীয় সালাত ও স্বীয় অঙ্গসমূহের হিফাযতকারী এবং তার অঙ্গসমূহের প্রত্যেক অঙ্গ দ্বারা আল্লাহ যার আদেশ করেছেন ও তার ওপর যা ফরয করেছেন তা পালনরত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সে পূর্ণ ঈমানদার এবং জান্নাতী হিসেবে সাক্ষাত করবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা ছেড়ে দিবে, সে আল্লাহর সাথে ত্রুটিপূর্ণ ঈমান অবস্থায় সাক্ষাত করবে।

লোকটি বলল, আমি ঈমান কমে যাওয়া ও পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি জানলাম। কিন্তু ঈমান বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি কোথা থেকে আসলো?শাফেঈ বললেন, আল্লাহ জাল্লা যিকরুহু বলেন,আর যখনই কোন সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল’? অতএব যারা মুমিন, নিশ্চয় তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়।আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের অপবিত্রতার সাথে অপবিত্রতা বৃদ্ধি করে এবং তারা মারা যায় কাফির অবস্থায়।আত-তাওবাহ : ১২৪, ১২৫এবং তিনি বলেছেননিশ্চয় তারা কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।আল-কাহাফ : ১৩

শাফেঈ বললেন, আল্লাহ জাল্লা যিকরুহু বলেন,

আর যখনই কোন সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল’? অতএব যারা মুমিন, নিশ্চয় তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়।

আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের অপবিত্রতার সাথে অপবিত্রতা বৃদ্ধি করে এবং তারা মারা যায় কাফির অবস্থায়।

আত-তাওবাহ : ১২৪, ১২৫

এবং তিনি বলেছেন

নিশ্চয় তারা কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

আল-কাহাফ : ১৩

শাফে‘ঈ বললেন, এ ঈমান যদি সবই এক হতো যাতে কোন কম বা বেশি নেই, তাহলে এতে কারো কোন শ্রেষ্ঠত্ব থাকতো না। মানুষ সবাই সমান হতো এবং শ্রেষ্ঠত্ব বাতিল হয়ে যেতো। তবে ঈমানের পূর্ণতা দ্বারা মু’মিনগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর ঈমান বেশি হওয়ার কারণে মুমিগণের স্তর আল্লাহর নিকট জান্নাতে বৃদ্ধি পাবে আর ঈমান কম হওয়ার কারণে বাড়াবাড়িকারীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

শাফে‘ঈ বললেন, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা তার বান্দাদের মাঝে প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা করেছেন যেমন ঘোড়ার মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিযোগিতার দিন। অতঃপর যে তাদেরকে ছাড়িয়ে যাবে তারা বিভিন্ন স্তরের হবে। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষকে তার প্রতিযোগীতার স্থানের ওপর রাখবেন। তাতে তার প্রাপ্য কমাবেন না। কোন পশ্চাতগামী লোক প্রতিযোগীতায় অগ্রগামীকে ডিঙ্গিয়ে যাবে না এবং কোন অনুত্তম ব্যক্তি উত্তম ব্যক্তির ওপর প্রাধান্য পাবে না। এ কারণেই উম্মতের প্রথম যুগের মানুষকে শেষ যুগের মানুষের ওপর ফযীলত দেওয়া হয়েছে। ঈমানে অগ্রগামী ব্যক্তির যদি তাতে পশ্চাতগামী লোকের উপর কোনো ফযীলত না হতো তাহলে এ উম্মতের শেষাংশ তার প্রথমাংশের সাথে মিলে যেতো।

সাহাবীদের বিষয়ে তার মতামত

বাইহাকী শাফে‘ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা কুরআন, তাওরাত ও ইন্জিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রশংসা করেছেন। আর রাসূলের জবানে তাদের জন্যে যে মর্যাদা অতিবাহিত হয়েছে তা তাদের পরে আর কারো জন্য হয়নি। যেমন আল্লাহ তাদেরকে সিদ্দীকীন, শুহাদা ও সালেহীনদের উচ্চ মাকাম দান করে তাদের প্রতি দয়া করেছেন ও তাদেরকে সৌভাগ্যবান বানিয়েছেন। তারা আমাদের নিকট রাসূলের সুন্নাতসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন। এবং তারা তাকে তখন দেখেছেন যখন তার ওপর ওহী নাযিল হতেছিল। ফলে (অহী থেকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাপক, বিশেষ, আবশ্যক ও উপদেশ যাই উদ্দেশ্য করেছেন তারা তা (সরাসরি) জেনে নিয়েছেন। আর আমরা তার সুন্নত থেকে যা জানি ও যা জানি-না তারা তা জেনেছেন। তারা ইলম ও ইজতেহাদ, পরহেযগারী ও মেধাশক্তিতে এবং যার দ্বারা ইলম হাসিল ও জ্ঞান বের করা হয় সেসব ক্ষেত্রে আমাদের ওপরের আসনে। অতএব আমাদের জন্য তাদের মতামত আমাদের নিজেদের মতামত থেকে অধিক কল্যাণকর ও উত্তম।

বাইহাকী রাবী ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি শাফেঈকে ফযীলতের ক্ষেত্রে বলতে শুনেছি: আবূ বকর, উমার, উসমান ও আলী।

বাইহাকী মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি শাফে‘ঈকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সবোর্ত্তম ব্যক্তি আবূ বকর, তারপর উমার তারপর উসমান তারপর আলী—রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

হারাভী ইউসূফ ইবন ইয়াহইয়া আল-বুওয়াইতী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি শাফে‘ঈকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি রাফেযীর পিছনে সালাত আদায় করব? তিনি বললেন, রাফেযী, কাদারী এবং মুরজিয়ার পিছনে তুমি সালাত আদায় করো না। আমি বললাম, আপনি আমাদের জন্য তাদের চেনার আলামত বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, যে বলে ঈমান শুধু কথার নাম, সে মুরজি। আর যে বলে, আবূ বকর ও উমার ইমাম ছিলেন না সে রাফেযী। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করে সে কাদারী।

কালাম (তর্কশাস্ত্র) ও দীনের বিষয়ে ঝগড়া করা থেকে তার নিষেধ করা

হারাভী রাবী ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি শাফে‘ঈকে বলতে শুনেছি: কোন ব্যক্তি যদি তার ইলমী কিতাবগুলো অন্য কাউকে দিয়ে দেয়ার অসিয়ত করে যায় এবং তাতে যদি কালাম শাস্ত্রের কোন বই থাকে, তাহলে তার কালাম শাস্ত্র সম্পর্কিত কিতাবগুলো অসিয়তের অর্ন্তভুক্ত হবে না। কারণ এগুলো ইলম নয়।

হারাভী হাসান আয-যা‘আফরানী থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন: আমি শাফে‘ঈকে বলতে শুনেছি: আমি জীবনে একবারের বেশি কারো সাথে কালাম শাস্ত্র নিয়ে বিতর্ক করিনি। আর আমি এখন তা থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।

হারাভী রাবী ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, শাফে‘ঈ বলেছেন, আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক বিরোধী লোকের প্রতিবাদে বড় একটি কিতাব রচনা করতে পারতাম। কিন্তু ইলমুল কালাম নিয়ে কথা বলা আমার জন্য শোভনীয় নয়। ইলমুল কালামের কোন কিছু আমার দিকে সম্বোধন করা হোক আমি তা পছন্দ করি না।

ইবন বাত্তাহ আবূ সাওর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, শাফে‘ঈ আমাকে বললেন, কালামের কোন কিছুতে ঘুরপাক খেয়েছে এমন কাউকে সফল হতে আমি দেখিনি।

হারাভী ইউনুস আল-মাসরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, শাফে‘ঈ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা যেসব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, তার মধ্য থেকে আল্লাহর সাথে শির্ক ছাড়া অন্য কিছুতে আক্রান্ত হওয়া ইলমুল কালামের ফিতনায় পড়া থেকে উত্তম।

দীনের মৌলিক বিষয়ে এ হলো ইমাম শাফে‘ঈ—রাহিমাহুল্লাহু— এর মতামত এবং ইলমে কালাম বিষয়ে তার অবস্থান।