মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

কখনো ভেবে দেখেছেন, মহান আল্লাহ কোনো ফেরেশতাকে নবী হিসেবে না পাঠিয়ে কেন মানুষদের পাঠিয়েছেন? উত্তরটা খুব সহজ। যাতে করে আমরা সহজেই তাঁদের অনুসরণ করতে পারি। নিজের জীবনটাকে তাঁদের মতো করে সাজাতে পারি। তাঁরা আমাদের মতোই মায়ের গর্ভ থেকে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, বিয়ে করেছেন, সন্তানের পিতা হয়েছেন। তারপর, আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী মৃত্যুবরণ করেছেন। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ ﷺএর মৃত্যুসংক্রান্ত বর্ণনাগুলো ব্যবহার করে ইসলামবিরোধীরা বিশেষ করে খ্রিষ্টান মিশনারিরা দাবি করে যে : মুহাম্মাদ ﷺ এর মৃত্যু দ্বারা নাকি প্রমাণ হয় যে, তিনি আল্লাহর নবী নন এবং তাঁর মৃত্যু আল্লাহর শাস্তির কারণে হয়েছিল (নাউযুবিল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ)। সুনির্দিষ্টভাবে তাদের অভিযোগগুলো হচ্ছে :

> সহীহ বুখারীসহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী এক ইহুদি মহিলার দেওয়া বিষের প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মাদ ﷺ এর মৃত্যু হয়েছিল। একজন নবীকে কী করে কোনো মানুষ হত্যা করতে পারে?

> কুরআনে বলা হয়েছে যে : যদি মুহাম্মাদ ই আল্লাহর নামে নিজে থেকে কোনো কিছু রচনা করতেন, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাঁর aorta (ইংরেজি অনুবাদ অনুযায়ী) কেটে দেবেন। বুখারীর কিছু ইংরেজি অনুবাদ অনুযায়ী মৃত্যুকালে বিষের প্রতিক্রিয়ায় রাসুল -এর মনে হচ্ছিল যেন তাঁর aorta কর্তিত হচ্ছে। অতএব এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মুহাম্মাদ ﷺ ও নিজে থেকে আল্লাহর নামে কোনো কিছু উদ্ভাবন করে প্রচার করেছেন এবং পরিণামে তাঁকে আল্লাহ শাস্তি দিয়েছেন ও তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। (নাউযুবিল্লাহ, আসতাগসিরুল্লাহ)।

প্রথমে আমরা দেখে নিই কীভাবে আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজি মুহাম্মাদ ﷺএর মৃত্যু হয়েছিল।

ইউনুস(র.) যুহরী ও ‘উরওয়াহ(র.) সূত্রে বলেন, আয়িশা(রা.) বলেছেন, নবী এ যে রোগে ইন্তিকাল করেন সে সময় তিনি বলতেন, “হে ‘আয়িশা! আমি খাইবারে (বিষযুক্ত) খাবার খেয়েছিলাম, আমি সর্বদা তার যন্ত্রণা অনুভব করছি। আর এখন মনে হচ্ছে বিষক্রিয়ার ফলে আমার শিরাগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।”[২৫০]

নবী মুহাম্মাদ ﷺএর মৃত্যুর ব্যাপারে ইসলামবিরোধীদের অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাক, এগুলোর আদৌ কোনো সত্যতা আছে কি না।

একজন নবীকে কী করে কোনো মানুষ হত্যা করতে পারে?

ইসলামবিরোধীরা বিভিন্ন হাদিস ও সিরাতগ্রন্থ থেকে নবী মুহাম্মাদ ﷺএর মৃত্যুসংক্রান্ত বিবরণগুলো উল্লেখ করলে অনেক সময় মুসলিমরাও চমকে ওঠে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে বর্তমান যুগে মুসলিমদের একটা বড় অংশের ভেতর ইসলামের বেসিক জ্ঞানগুলোও নেই। ইসলাম ও নবী মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান একেবারে ভাসা ভাসা, যদিও ইসলামের প্রতি তাদের ভালোবাসার কোনো অভাব নেই। অধিকাংশ মুসলিমেরই সারা জীবনেও একবার অর্থসহ কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া নেই, সারা জীবনেও নবী ﷺ এর একটা সিরাত (জীবনী) গ্রন্থ পড়া নেই। তাদের জানা নেই যে, কীভাবে আমাদের নবী -এর মৃত্যু হয়েছিল। তাই যখন ইসলামবিরোধীরা হাদিসের বই থেকে দেখায়—বিষ প্রয়োগে নবী -এর মৃত্যু হয়েছিল, তখন অনেক সরলপ্রাণ মুসলিমই অজ্ঞতার কারণে বিব্রত হয়ে যান। চমকের সেই ধাক্কা সামলে। ওঠার আগেই তারা ইসলামবিরোধী এক্টিভিস্টদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে থাকে—কী করে আল্লাহর কোনো নবীকে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা যেতে পারে? আল্লাহর নবীকে কীভাবে কোনো মানুষ খুন করে? তিনি যদি সত্যিই আল্লাহর নবী হয়ে থাকেন, তবে আল্লাহ কেন তাঁকে রক্ষা করলেন না?

এখানে ইসলামবিরোধীরা “নবী কীভাবে হয়” এ ব্যাপারে নিজস্ব একটা স্ট্যান্ডাল দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেটা অনেক সরলপ্রাণ মুসলিম ধরতে পারেন না। “কী কর আল্লাহর কোনো নবীকে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা যেতে পারে?” এই প্রশ্ন দ্বারা ইসলামবিরোধীরা একটা তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে যে, কোনো নবীই আল্লাহর পথে শহীদ হতে পারে না। অথচ এটা এমন একটা স্ট্যান্ডার্ড, যার সাথে কুরআন ও বাইবেল কোনো গ্রন্থই একমত না। রাসুল -এর মৃত্যুর ব্যাপারে অনলাইন ও অফলাইনে অপপ্রচার চালায় মূলত খ্রিষ্টান প্রচারকরা। অথচ খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল বলছে যে, অতীতেও অনেক নবীকে অবিশ্বাসীরা হত্যা করেছিল। নাস্তিকরা তো স্রষ্টাতেই বিশ্বাসী না। নবী-রাসুল’ বলে কোনো কিছুও তাদের অভিধানে নেই। কাজেই কীভাবে একজন মানুষ নবী হয় অথবা কী কারণে একজন নবী হতে পারে

—এমন কিছু বলার ব্যাপারে খেয়াল-খুশি ব্যতীত তাদের কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই৷ দলিল-প্রমাণবিহীন খেয়াল-খুশির কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। অপরদিকে খ্রিষ্টান মিশনারিদের এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে, আর তা হচ্ছে বাইবেল৷ আমি বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old Testament) ও নতুন নিয়ম (New Testament) উভয় অংশ থেকেই নবীদের শহীদ হবার অনেক উদাহরণ দেখাতে পারব। যেমন :

“ঈশ্বর লোকদের মন তাঁর প্রতি ফিরিয়ে আনার জন্য ভাববাদী (নবী/prophet) দের পাঠালেন। কিন্তু লোকরা সদুপদেশে কর্ণপাত পর্যন্ত করলো না। তারপর ঈশ্বরের আত্মা যাজক যিহোয়াদার পুত্র সখরিয়র ওপর ভর করলো। তিনি লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “ঈশ্বর এই কথা বলেছেন: “তোমরা কেন প্রভুর বিধিসমূহ ও আজ্ঞা অমান্য করছো? এভাবে তোমরা কখনোই কোনো কাজে সফল হতে পারবে। না। তোমরা প্রভুকে ত্যাগ করেছে, তাই তিনিও তোমাদের ত্যাগ করেছেন।” কিন্তু বিচারবুদ্ধিহীন লোকরা তখন একসঙ্গে চক্রান্ত করলো এবং রাজা যখন তাদের। সখরিয় [Zechariah/যাকারিয়া(আ.)]কে হত্যা করতে আদেশ দিলেন, তারা পাথর ছুঁড়ে মন্দির চত্বরেই তাঁকে হত্যা করলো৷”[২৫১]

“আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আমি কী করেছিলাম। ঈষেবল যখন প্রভুর ভাববাদী (নবী/prophet) দের হত্যা করছিলেন, আমি তখন তাদের ৫০ জন করে দুভাগে মোট ১০০ জন ভাববাদীকে দু’টো গুহায় লুকিয়ে রেখে নিয়মিত খাবার ও জল দিয়েছিলাম।”[২৫২]

“সেখানে একটি গুহার ভেতরে এলিয় [ইলইয়াস(আ.)/Elijah] রাত্রি বাস। করলেন। সে সময় প্রভু এলিয়র সঙ্গে কথা বললেন, “এলিয় তুমি এখানে কেন?” এলিয় উত্তর দিলেন, “প্রভু ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, আমি সব সময় সাধ্য মতো তোমার সেবা করেছি। কিন্তু ইস্রায়েলের লোকরা তোমার সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করে তোমার বেদী ধ্বংস করে ভাববাদী (নবী/prophet) দের হত্যা করেছে। এখন আমিই একমাত্র জীবিত ভাববাদী আর তাই ওরা আমাকেও হত্যার চেষ্টা করছে।”[২৫৩]

“তারা তোমার বিরুদ্ধে গেল এবং তোমার শিক্ষামালা ছুঁড়ে ফেলে দিল। তারা তোমার ভাববাদী (নবী/prophet) দেরও হত্যা করল, যারা তাদের সতর্ক করে। তোমার কাছে ফেরাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা তোমার বিরুদ্ধে বীভৎস সব কাজ করলো।”[২৫৪]

“মেয়েটি তার মায়ের পরামর্শ অনুসারে বলল, থালায় করে বাপ্তিস্মদাতা যোহনের [ইয়াহইয়া(আ.)/John the Baptist] মাথাটা আমায় এনে দিন। যদিও রাজা হেরোদ এতে খুব দুঃখিত হলেন, তবু তিনি শপথ করেছিলেন বলে এবং যারা তাঁর সঙ্গে খেতে বসেছিলেন তারা সেই শপথের কথা শুনেছিলেন বলে সম্মানের। কথা ভেবে তিনি তা দিতে হুকুম করলেন।তিনি তোক পাঠিয়ে কারাগারের মধ্যে যোহনের [ইয়াহইয়া(আ.)] শিরচ্ছেদ করালেন। এরপর যোহনের মাথাটি থালায় করে নিয়ে এসে সেই মেয়েকে দেওয়া হলে, সে তা নিয়ে তার মায়ের কাছে গেল। তারপর যোহনের অনুগামীরা এসে তাঁর দেহটি নিয়ে গিয়ে কবর দিলেন। আর তাঁরা যিশুর কাছে গিয়ে সব কথা জানালেন।”[২৫৫]

[যিশু বললেন] “ ধিক ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীর দল [ইহুদি পণ্ডিত], তোমরা ভণ্ড! তোমরা ভাববাদীদের জন্য স্মৃতিসৌধ গাঁথো ও ঈশ্বর ভক্ত লোকদের কবর সাজাও, আর বলে থাক, আমরা যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ে থাকতাম, তবে ভাববাদীদের হত্যা করার জন্য তাদের সাহায্য করতাম না। এতে তোমরা নিজেদের বিষয়েই সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, ভাববাদীদের যারা হত্যা করেছিল তোমরা। তাদেরই বংশধর। তাহলে যাও তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যা শুরু করে গেছে তোমরা তার বাকি কাজ শেষ করো৷ সাপ, বিষধর সাপের বংশধর! কী করে তোমরা ঈশ্বরের হাত থেকে রক্ষা পাবে? তোমরা দোষী প্রমাণিত হবে ও নরকে যাবে। তাই আমি তোমাদের বলছি, আমি তোমাদের কাছে যে ভাববাদী, জ্ঞানী লোক ও শিক্ষকদের পাঠাচ্ছি তোমরা তাদের কারো কারোকে হত্যা করবে, আর কাউকে বা। ক্রুশে দেবে, কাউকে বা তোমরা সমাজ-গৃহে চাবুক মারবে। এক শহর থেকে অন্য শহরে তোমরা তাদের তাড়া করে ফিরবে। এই ভাবে নির্দোষ হেবলের রক্তপাত থেকে শুরু করে বরখায়ার পুত্র সখরিয় [যাকারিয়া(আ.)/Zechariah], যাকে তোমরা মন্দিরের পবিত্র স্থান ও যজ্ঞবেদীর মাঝখানে হত্যা করেছিলে, সেই দিন। থেকে আজ পর্যন্ত যত নির্দোষ ব্যক্তির রক্ত মাটিতে ঝরে পড়েছে, সেই সমস্তের দায় তোমাদের ওপরে পড়বে। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই যুগের লোকদের ওপর ঐ সবের শাস্তি এসে পড়বে।’ ‘হায় জেরুশালেম, জেরুশালেম! তুমি, তুমিই ভাববাদীদের [নবী/prophet] হত্যা করে থাকো, আর তোমার কাছে ঈশ্বর যাদের পাঠান তাদের পাথর মেরে থাকো৷ মুরগী যেমন তার বাচ্চাদের ডানার নিচে জড়ো করে, তেমনি আমি তোমার লোকদের কতবার আমার কাছে জড়ো করতে চেয়েছি, কিন্তু তোমরা রাজী হও নি।”[২৫৬]

বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old Testament) অংশটিকে ইহুদি ও খ্রিষ্টান উভয় সম্প্রদায় নিজ ধর্মগ্রন্থ হিসাবে মান্য করে। আমরা ওপরে দেখলাম যে, বাইবেলের অনেক জায়গাতেই ইহুদিদের দ্বারা নবী হত্যা করার ব্যাপারে উল্লেখ রয়েছে। কাউকে হত্যা করা হলে সে নবী হতে পারে না—খ্রিষ্টান প্রচারকদের এই কথাকে সত্য ধরা হলে বাইবেলের অনেক নবীই মিথ্যা হয়ে যান!

বাইবেল অনুযায়ী যাকারিয়া (আ.) [সখরিয়/Zechariah], ইয়াহইয়া (আ.)। [যোহন বাপ্তাইজক/John The Baptist] সহ অনেক নবী-রাসুলকে হত্যা করা হয়েছে। যেসব খ্রিষ্টান প্রচারক মুহাম্মাদ -এর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তারা কিন্তু এই ব্যাপারগুলো বেমালুম চেপে যান! যাকারিয়া(আ), ইয়াহইয়া(আ.) প্রমখ নবীকে অবিশ্বাসীরা হত্যা করা সত্ত্বেও খ্রিষ্টান প্রচারকরা তাঁদের ঠিকই নবী বলে বিশ্বাস করেন। অথচ সেই একই প্রচারকরা মুহাম্মাদ -এর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে তাঁর নবুয়ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই হচ্ছে তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

আল কুরআনও এ ব্যাপারে একমত যে—অতীতেও বহু নবীকে হত্যা করা হয়েছে। আল কুরআনে ইহুদিদের নবী হত্যা করার জন্য ভৎসনা করা হয়েছে।

“বলে দাও : যদি তোমরা [ইহুদিরা] বিশ্বাসীই ছিলে, তবে তোমরা ইতিপূর্বে কেন আল্লাহর নবীদের হত্যা করেছিলে?”[২৫৭]

-এমন হলো এ জন্য যে, তারা [ইহুদিরা] আল্লাহর বিধিবিধান মানত না এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালঙ্ঘনকারী।”[২৫৮]

নবী হলেই যে তাঁকে কেউ হত্যা করতে পারবে না—এ কথা প্রকৃতপক্ষে কোনো জায়গায় বলা নেই। আমরা মুসলিম হিসাবে বিশ্বাস করি যে, আল্লাহর অনেক নবীকেই যুগে যুগে জালিমরা হত্যা করেছে। সেইসব নবীরা আল্লাহর পথে প্রাণ দিয়েছেন; তাঁরা শহীদ হয়েছেন।

এ ছাড়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ইসলামবিরোধীরা এড়িয়ে যায় আর তা হচ্ছে, বিষ প্রয়োগ করার সাথে সাথে কিন্তু নবী ৩ মারা যাননি; বরং তিনি মারা গিয়েছিলেন বিষ প্রয়োগের ঘটনার প্রায় চার বছর পর।২৫৯] তিনি মারা গিয়েছিলেন মক্কা বিজয়ের পরে, বিদায় হজের পরে, আরবের গোত্রগুলো দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করার পরে তথা তাঁর মিশন শেষ হবার পরে।[২৬০]  বিষ প্রয়োগের ফলে অন্য সাহাবীর মৃত্যু ঘটে কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় নবী । সে সময়ে মারা যান না; বরং তাঁর মিশন শেষ করার পরে মারা যান। এর দ্বারা বরং তাঁর নবুয়তের সত্যতা আরও বেশি করে প্রমাণিত হয়, সুবহানাল্লাহ। এটাই সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) এর অভিমত। তাঁর মতে, বিষ প্রয়োগ করার এত পরে এর ক্রিয়া করা নবী -এর একটি মুজিজা এবং আল্লাহ তা’আলা তার নবী এ কে তাঁর দায়িত্ব সমাপ্ত করা পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং তাঁকে সম্মানিত করার জন্য শহীদের মর্যাদা দান করেছেন।[২৬১]

এ ছাড়া বিষ প্রয়োগের সেই ঘটনার বিবরণ লক্ষ করলে তাঁর নবুয়তের সত্যতা আরও বেশি করে ফুটে ওঠে। সুনান আবু দাউদ থেকে ঘটনাটির একটি বিবরণ উল্লেখ করছি :

“খায়বারের অধিবাসী এক ইহুদি মহিলা বিষ মিশিয়ে একটা বকরি ভুনা করে তা রাসুলুল্লাহ কে হাদিয়া দেয়। রাসুলুল্লাহ একটি রান নিয়ে খাওয়া শুরু

করলেন এবং তাঁর কতিপয় সাহাবীও তাঁর সঙ্গে খেতে লাগলেন।

কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ ও তাদের বললেন, তোমরা হাত গুটিয়ে নাও।

অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ – ওই ইহুদি মহিলাকে লোক মারফত ডেকে এনে বললেন, “তুমি কি এ বকরির সঙ্গে বিষ মিশিয়েছ?”

সে বলল, “আপনাকে কে সংবাদ দিয়েছে?”

তিনি বললেন, “আমার হাতের এই রান আমাকে সংবাদ দিয়েছে।”

সে বলল, “হ্যাঁ।”

তিনি বললেন, “এরূপ করার উদ্দেশ্য কী?”

সে বলল, “আমি ভেবেছি যদি তিনি সত্যিই নবী হন, তাহলে বিষ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি নবী না হন, তবে আমরা তার থেকে ঝামেলামুক্ত হব।”

অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে কোনো প্রকার শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করে দিলেন।

যেসব সাহাবী তাঁর সঙ্গে বকরির গোশত খেয়েছেন তাদের কেউ কেউ মারা গেলেন[২৬২] এবং রাসুলুল্লাহ বকরির গোশত খাবার প্রতিক্রিয়া প্রতিহত করার জন্য তাঁর বাহুদ্বয়ের মাঝখানে রক্তমোক্ষণ (শিঙ্গা লাগানো/cupping) করালেন।”[২৬৩]

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বিষযুক্ত বকরির রানটি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বিষের ব্যাপারে অবহিত করেছিল—যা তাঁর একটি মুজিজা, সুবহানাল্লাহ। যেসব খ্রিষ্টান মিশনারি মুহাম্মাদ ﷺ এর নবুয়ত মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য এই বিবরণ উল্লেখ করেন, তাদের জন্য এটা এক চপেটাঘাত। তাদের কী দুর্ভাগ্য যে, মুহাম্মাদ ﷺ এর নবুয়ত মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য তারা যে বিবরণ উল্লেখ করেন, তাতেই তাঁর একটি মুজিজা (miracle) দেখা যাচ্ছে! |

কোনো কোনো খ্রিষ্টান মিশনারি (যেমন ডেভিড উড) বলতে চান যে, মুহাম্মাদ ﷺ বিষ প্রয়োগের চার বছর পর মারা গিয়েছেন এতে কোনো অলৌকিকতা নেই, কেননা

তিনি খুব কম বিষ গ্রহণ করেছেন ফলে তাঁর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়নি; বরং তাঁর স্লো পাবজনিং হয়েছিল। এর জবাবে আমরা তাদের প্রশ্ন করব—তিনি কেন খুব কম বিষ গ্রহণ করেছেন?

এর উত্তর হবে—বিষযুক্ত বকরির রানটি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে বিষের ব্যাপারে অবহিত করেছিল; যার ফলে তিনি দ্রুত গোশত খাওয়া বন্ধ করে দেন এবং অন্যদেরও খাওয়া বন্ধ করতে বলেন। রানটি বিষের ব্যাপারে অবহিত করার আগে খুব সামান্য গোশতই তিনি খেয়েছিলেন।

কাজেই আমরা যদি খ্রিষ্টান মিশনারিদের কথাকেও বিবেচনা করি যে, মুহাম্মাদ ﷺ খুব কম বিষ গ্রহণ করেছেন ফলে তাঁর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়নি—তবুও এর মাঝে তাঁর নবুয়তের সত্যতা নিহিত আছে। মুজিজার দ্বারা তিনি বকরির রানের কাছ থেকে বিষের সংবাদ পেয়েছিলেন বলেই তো তিনি দ্রুত খাওয়া বন্ধ করেছিলেন এবং অন্যদেরও খাওয়া বন্ধ করতে বলেছিলেন।

কেউ যদি এরপরেও অপতর্ক করে বলতে চায়——ওই সামান্য বিষটুকুও-বা কেন তিনি গ্রহণ করলেন? বকরির রানটি কেন খাওয়া শুরুর আগেই তাঁকে বিষের ব্যাপারে অবহিত করল না?

এর জবাবে আমরা বলব, এটাই আল্লাহর ফায়সালা ছিল যে, তিনি তাঁর শেষ নবীকে শহীদের মর্যাদায় ভূষিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। এর দ্বারা শেষ নবী মুহাম্মাদ -এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে—তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, সর্বশেষ নবী এবং একজন শহীদ।

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন,

“আমাকে যদি ৯ বার আল্লাহর নামে শপথ করতে হয় যে—আল্লাহর রাসুল ﷺ কে হত্যা করা হয়েছে, তবে তা আমার নিকট ১ বার শপথ করার চেয়ে প্রিয় হবে। কারণ, আল্লাহ তাঁকে [মুহাম্মাদ ﷺ] একজন নবী বানিয়েছেন এবং একজন শহীদ বানিয়েছেন।”[২৬৪]

এমনকি ওই বিষের প্রভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ যদি চার বছর পর মারা না গিয়ে ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে মারা যেতেন, তাহলেও সেটা তাঁর নবুয়তকে প্রশ্নবিদ্ধ করত না। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে, নবীদেরও হত্যা করা যেতে পারে,

অতীতে বহু নবী আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন এ ব্যাপারে কুরআন ও বাইবেল উভয় গ্রন্থই একমত। সেই ইহুদি মহিলা বলেছিল যে, “আমি ভেবেছি যদি তিনি সত্যিই নবী হন তাহলে বিষ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না”, অথচ এটা ছিল ওই মহিলার নিজের বানানো নবুয়তের স্ট্যান্ডার্ড। তাদের নিজ কিতাবই সাক্ষ্য দেয় যে, অতীতেও নবীদের হত্যা করা হয়েছে। বিষের অথবা অন্য যে কোনো কিছুর ভৌত গুণাগুণ অন্য সকল মানুষের মতো নবীদের দেহেও ক্রিয়া করতে পারে—যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রক্ষা করেন, যত দিন ইচ্ছা বাঁচিয়ে রাখেন, যাকে ইচ্ছা শহীদের মর্যাদা দেন। ওহুদের যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে এক সময় গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। যে, মুহাম্মাদ ﷺ নিহত হয়েছেন। কিন্তু এটা শুনেও সাহাবায়ে কিরাম(রা.) রাসুল ﷺএর নবুয়ত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেননি।

একজন মুহাজির সাহাবী একজন আনসারী সাহাবীকে উহুদের যুদ্ধে দেখেন যে, তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছেন এবং রক্ত ও মাটিতে গড়াগড়ি যাচ্ছেন। তিনি উক্ত আনসারীকে বললেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ যে শহীদ হয়েছেন তা কি আপনি জানেন?

তিনি উত্তরে বলেন, “যদি এ সংবাদ সত্য হয়ে থাকে তাহলে তিনি তাঁর কাজ করে গেছেন। এখন আপনারা সবাই আপনাদের দ্বীনের (ইসলামের) ওপরে নিজের জীবন কুরবান করুন।”[২৬৫] |

আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ লক্ষ করেছিলেন। যে, ইহুদিরা তাঁর নবুয়তে সন্দেহ পোষণ করছে। যেদিন তারা তাঁর খাবারে বিষ মিশিয়েছিল, সেদিন ঘটনাস্থলেই তিনি তাদের নিকট তাঁর নবুয়তের সত্যতা প্রমাণ করে এসেছিলেন।

খাইবার যখন বিজয় হয়, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নিকট হাদীয়াস্বরূপ একটি (ভুনা) বকরি পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল বিষ।

অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, এখানে যত ইহুদি আছে আমার কাছে তাদের একত্র করো। তাঁর কাছে সকলকে একত্র করা হলো। রাসুলুল্লাহ ও তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমি তোমাদের নিকট একটি ব্যাপারে জানতে চাই, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে?

তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম [মুহাম্মাদ ﷺএর উপনাম]। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন , তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, আমাদের পিতা অমুক। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমরা মিথ্যে বলেছ; বরং তোমাদের পিতা অমুক। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন ও সঠিক বলেছেন। এরপর তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি, তাহলে কি তোমরা সে ক্ষেত্রে আমাকে সত্য বথা বলবে? তারা বলল : হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম; যদি আমরা মিথ্যে বলি তবে তো আপনি আমাদের মিথ্যা জেনে ফেলবেন, যেমনিভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের বললেন, জাহান্নামী কারা? তারা বলল, আমরা সেখানে অল্প কয়দিনের জন্যে থাকব। তারপর আপনারা আমাদের স্থানে যাবেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমরাই সেখানে অপমানিত হয়ে থাকবে। আল্লাহর কসম! আমরা কখনো সেখানে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না। এরপর তিনি তাদের বললেন, আমি যদি তোমাদের কাছে আর একটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে কি তোমরা সে বিষয়ে আমার কাছে সত্য কথা বলবে? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তোমরা কি এ বকরির মধ্যে বিষ মিশিয়েছ? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কিসে তোমাদের এ কাজে প্রেরণা জুগিয়েছে? তারা বলল, আমরা চেয়েছি, যদি আপনি মিথ্যাচারী হন, তবে আমরা আপনার থেকে রেহাই পেয়ে যাব। আর যদি আপনি নবী হন, তবে এ বিষয় আপনার কোনো ক্ষতি করবে না।[২৬৬]

আমরা দেখতে পেলাম যে, বকরিতে বিষ মেশানোর দিন মুহাম্মাদ ﷺ ঘটনাস্থলেই সকল ইহুদিকে ডেকে অলৌকিক উপায়ে তাদের পিতার নাম সঠিকভাবে বলে দিয়েছিলেন। এমনকি ইহুদিরাও স্বীকার করছিল যে, তারা যদি মিথ্যা বলে তবে মুহাম্মাদ ﷺ তা আল্লাহর সাহায্যে বুঝে যাবেন। অর্থাৎ তাঁর নবুয়তের সত্যতা তাদের সামনেও ফুটে উঠেছিল [যদিও বংশগত হিংসা তাদের সকলকে ঈমান আনতে দেয়নি]। মুহাম্মাদ ﷺ এর নবুয়ত নিয়ে সন্দিহান ছিল বলে তারা বিষ প্রয়োগ করে এর পরীক্ষা নিতে চাইছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় নবী মুহাম্মাদ , তাদের এ সন্দেহও দূর করে দিয়ে এসেছিলেন। তাদের কোনো ওজর-আপত্তির সুযোগ তিনি রাখেননি। যারা তাকে বিষ খাইয়ে মারতে চাইল, তাদেরই ডেকে এভাবে সন্দেহ নিরসন করে। দিলেন তিনি, কোনো প্রকার শাস্তি দিলেন না। সুবহানাল্লাহ। অথচ এই মানুষটিকেই ইসলামবিদ্বেষীরা নির্দয়, নিষ্ঠুর হিসাবে চিত্রিত করতে চায়।

এত কিছু, এত প্রমাণের পরেও কোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষ কীভাবে মুহাম্মাদ ﷺ এর নবুয়তের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে পারে?

নবী মুহাম্মাদ ﷺ কি আল্লাহর শাস্তির কারণে মৃত্যুবরণ করেছিলেন?

এ প্রসঙ্গে আল কুরআনের যে আয়াতগুলো ইসলামবিরোধীরা উদ্ধৃত করে থাকে সেগুলো হচ্ছে :

“যদি সে [মুহাম্মাদ ] নিজে কোনো কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিত, তবে অবশ্যই আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং কেটে দিতাম তাঁর জীবন-ধমনি (শাহরগ)।”[২৬৭] |

এখানে বলা হচ্ছে যে, মুহাম্মাদ ﷺ যদি আল্লাহর নামে নিজে থেকে কোনো কথা। রচনা করতেন, তাহলে আল্লাহ তাঁর ‘ওয়াতিন’ বা জীবন-ধমনি কেটে দিতেন। এখানে মূল আরবিতে শব্দটি এসেছে।

কয়েকটি ইংরেজি অনুবাদে [যেমন : আহমেদ আলী, হাবিব শাকির, সহীহ ইন্টারন্যাশনাল] দেখা যাচ্ছে যে, ‘ওয়াতিন’ এর অনুবাদ করা হয়েছে ‘Aorta’। বুখারীর কিছু ইংরেজি অনুবাদেও দেখা যাচ্ছে যে বিষ প্রয়োগের ফলে রাসুল ﷺ -এর মনে হচ্ছিল যে, তাঁর aorta কেটে যাচ্ছে। এই ইংরেজি অনুবাদগুলো দেখিয়ে ইসলামবিরোধীরা প্রমাণের চেষ্টা করে যে, রাসুল ﷺ -এর ওপর আল্লাহ শাস্তি বাস্তবায়ন করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।

কিন্তু ইসলামবিরোধীদের এই অভিযোগের পেছনে কিছু শুভংকরের ফাঁকি আছে। যে হাদিসটিতে রাসুল ﷺ -এর মৃত্যুযন্ত্রণার উল্লেখ আছে, তার আরবি ইবারত আমি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি। সেখানে মূল আরবি ইবারতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসুল ﷺ

-এর মনে হচ্ছিল যে, তাঁর ‘আবহার’ কেটে ফেলা হচ্ছে । সূরা হাক্কাহ এর আয়াতটিতে বলা হচ্ছে যে, মুহাম্মাদ ﷺ যদি আল্লাহর নামে নিজে থেকে কোনো কথা রচনা করতেন, তাহলে আল্লাহ তাঁর ‘ওয়াতিন’বা জীবন-ধমনি কেটে দিতেন।

অর্থাৎ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, কোনো কোনো অনুবাদে এক শব্দ থাকলেও আল আরবিতে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ আছে। আমরা আরও দেখলাম ‘আবহার’ ও ‘ওয়াতিন’ মোটেও এক জিনিস নয়। মুহাম্মাদ ﷺ যদি আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করতেন (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে আল্লাহ শাস্তিস্বরূপ তাঁর ডান হাত ধরে ‘ওয়াতিন কেটে দিতেন। আর বিষের যন্ত্রণায় মুহাম্মাদ ﷺ -এর মনে হয়েছে যে তাঁর ‘আবহার’ কেটে ফেলা হচ্ছে।

তা ছাড়া আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করলে শাস্তি হিসাবে ডান হাত ধরে ‘ওয়াতিন’ কেটে দেবার কথা বলা আছে, অথচ রাসুল মৃত্যুর আগে বিষের কারণে কষ্ট হয়েছে। কেউ তাঁর ডান হাত ধরে ‘ওয়াতিন কেটে যবাই করে ফেলেনি। উভয় ঘটনায় বিশাল তফাত রয়েছে।।

যেহেতু ইংরেজি বুখারীর অনুবাদেও aorta ব্যবহার করা হয়েছে এ কারণে ইসলামবিরোধী প্রচারকরা বেছে বেছে কুরআনের কিছু অনুবাদ দেখায় যেগুলোতে aorta শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আমরা দেখেছি যে, মূল আরবিতে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ আছে। ইতিমধ্যেই দেখানো হয়েছে যে, বাংলা অনুবাদগুলোর অনেকগুলোতেই বুখারীর হাদিসটিতে ‘আবহার’ এর অনুবাদ ‘শিরা’ দিয়ে করা হয়েছে। রাসুল ﷺ -এর সুবিখ্যাত জীবনীগ্রন্থ আর রাহিকুল মাখতুম এর বাংলা অনুবাদেও আলোচ্য ঘটনায় ‘আবহার’ এর অনুবাদ ‘শিরা’ দিয়ে করা হয়েছে।[২৬৮] কাজেই এখানে বাংলা অনুবাদ দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কিছুটা শক্ত কাজ। অতএব এখানে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য ইসলামবিরোধীদের কেবল বেছে বেছে কিছু ইংরেজি অনুবাদ ব্যবহার করতে হয়।।

ইসলামবিরোধীরা যদি এরপরেও অপতর্ক করে বলতে চায়—না না, ‘ওয়াতিন’ এবং ‘আবহার’  উভয়ই এক জিনিস—কোনো কোনো অনুবাদক তো উভয়কে ‘aorta’ দিয়ে অনুবাদ করেছেন!!—তাহলে আমি এইসব তর্কপ্রিয় লোকদের আরবি ভাষাবিদদের মতামত দেখতে বলব।

প্রসিদ্ধ আরবি ভাষাবিদ আল মুরতাজা আয-যাবীদী তাঁর ৪০ খণ্ডে রচিত তাজুল আরুস গ্রন্থের ১০ নম্বর খণ্ডের ২৬৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন :

““আবহার’ মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রগ। যার কিছু শিরাউপশিরা আছে, যা পুরো শরীরের অধিকাংশ অঙ্গ-প্রতঙ্গে বিস্তৃত। মাথার শিরাকে বলা হয় ‘না’মাহ’, কণ্ঠনালির শিরাকে বলা হয় ‘ওয়ারিদ, বুকের শিরাকে বলা হয় ‘আবহার’, পিঠের শিরাকে বলা হয় “ওয়াতিন’, তার সাথেই হৃৎপিণ্ডের সম্পর্ক, রানের শিরাকে বলা হয় “নাসা’ আর পায়ের নলার শিরাকে বলে ‘সাফিন।

16 রাসুলুল্লাহ ﷺএর মৃত্যু নিয়ে ইসলামবিরোধীদের অপপ্রচার এবং এর জবাব

‘আবহার’ ও ‘ওয়াতিন’এর ভিন্নতা

হৃদপিন্ড থেকে উৎপত্তি লাভ করে যে ধমনী উপরের দিকে ওঠে এবং বুকে অবস্থান করে তাকে ‘আবহার’ বলে। আবার সেই ধমনী যখন পিছনের দিকে গিয়ে নীচের দিকে নামে তখন তাকে ‘ওয়াতিন’ বলে। এই ধমনী থেকে যখন কিছু শাখা-প্রশাখা গলায় চলে যায় তখন তাকে ‘ওয়ারিদ বলে।।

এটা খুবই সুস্পষ্ট ব্যাপার যে, ‘ওয়াতিন’ এবং ‘আবহার’  মোটেও এক জিনিস নয় এবং গত দেড় হাজার বছরে সূরা হাক্কাহ পড়ে এরপর সহীহ বুখারী ও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থ থেকে রাসুল ﷺ -এর বিষের যন্ত্রণার বিবরণ দেখে কোনো আরব এটা বোঝেনি যে, আল্লাহ ঘোষিত শাস্তির দ্বারা এটা হয়েছে। দেড় হাজার বছর পরে কছু খ্রিষ্টান মিশনারি এবং ইসলামবিদ্বেষী একটিভিস্ট ধূর্ততার সাথে কিছু অনুবাদ ব্যবহার করে রাসুল ﷺ -এর মৃত্যুকে ‘আল্লাহর আযাব’ বানিয়ে ফেলার যে অপচেষ্টা করেছে, তা কখনোই সফল হবার নয়। আল্লাহ এদের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের নিপাত করুন এবং এদের হেদায়েত দিন।।

মৃত্যুর আগে কেন নবী মুহাম্মদ ﷺ এর এতো কষ্ট হল?

অনেকে একটি প্রশ্ন তোলে যে, মুহাম্মাদ ﷺ যদি নবী হন, আল্লাহর প্রিয় বান্দা হন, তাহলে বিষের জন্য মৃত্যুর আগের রোগে তাঁর কেন এত কষ্ট হল? এর উত্তর তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই দিয়ে গেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

আবু সাঈদ খুদরী(রা.) বলেন, আমি রাসুল ﷺ-এর গৃহে প্রবেশ করলাম। অতঃপর তাঁর দেহের উপর হাত রাখলাম। তখন তাঁর লেপের উপরেও তাপ অনুভূত হচ্ছিল। শরীর এত গরম ছিল যে, হাত পুড়ে যাচ্ছিল। এতে আমি বিস্ময়বোধ করলে রাসুল ﷺ বলেন, এভাবে আমাদের নবীদের] কষ্ট দ্বিগুণ হয় এবং আমাদের পুরস্কারও দ্বিগুণ হয়। অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! দুনিয়াতে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত কারা? তিনি বললেন, নবীগণ। আমি বললাম, তারপর কারা? তিনি বললেন, নেককার ব্যক্তিগণ। এমনকি তাদের কেউ দারিদ্র্যের কষাঘাতে এমনভাবে জর্জরিত হবে যে, পোশাক হিসাবে মাথার ‘আবা’  ছাড়া কিছুই পাবে না। তাদের কেউ বিপদে পড়লে এমন খুশী হবে, যেমন তোমাদের কেউ প্রাচুর্য পেলে খুশী হয়ে থাকো। [২৬৯]

কাজেই বিষের তীব্র কষ্ট ও এর জন্য ভয়াবহ শারিরীক কষ্ট আরো বেশি করে প্রমাণ করে যে – মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর নবী, সুবহানাল্লাহ। তাঁর পূর্বের নবীরাও অনেক কষ্টভোগ করে গেছেন। তিনি আল্লাহর জন্য, দ্বীন ইসলামের জন্য, তাঁর উম্মতদের জন্য অবর্ণনীয় কষ্ট করেছেন, যন্ত্রণা সহ্য করেছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এগুলো তাঁর মর্যাদাকে আরো বৃদ্ধি করেছে।

ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থও [বাইবেলের Old Testament / Tanakh] এ ব্যাপারে একমত। বাইবেলের একজন নবী হচ্ছেন ইয়োব [Prophet Job/ আইউব(আ.)]। বাইবেলে উল্লেখ করা হয়েছে যে কী ভয়াবহ দুর্ভোগ, সম্পদহানী ও শারিরীক কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে। বাইবেলে বলা হয়েছে – যন্ত্রণাদায়ক ফোঁড়ায় ইয়োবের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভরে গিয়েছিল। চামড়ার ভয়াবহ রোগের কারণে তাঁর দেহ কৃমিকীট ও আবর্জনার মণ্ড দিয়ে আবৃত হয়ে গিয়েছিল। এমন ভয়াবহ যন্ত্রণা ও কষ্টে পড়েছিলেন যে তিনি যে দিন তিনি জন্মেছিলেন সেই দিনটিকে নিন্দা করেছিলেন, নিজের জীবনকে ঘৃণা করতে শুরু করেছিলেন। এ জন্য তিনি ঈশ্বরকে পর্যন্ত নিন্দা ও অভিযুক্ত করেছিলেন। বাইবেলের ইয়োব (Job) পুস্তকের ২, ৩, ৬, ৭, ৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪, ১৬, ১৭, ১৯, ২৩, ২৭ ও ৩০ নং অধ্যায়ে নবী ইয়োব এর ভয়াবহ যন্ত্রণা ও বিলাপের বিবরণ আছে। বাইবেলের নবী যদি ভয়াবহ যন্ত্রণা ভোগ করে এমনকি এ জন্য ঈশ্বরের নিন্দা করে – তবুও খ্রিষ্টান মিশনারিদেরকে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় না। অথচ আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ -কে নিয়ে তাদের যত আপত্তি। এ হচ্ছে তাদের দ্বিমখী নীতি৷ প্ৰকত ব্যাপার হচ্ছে, শারিরীক কষ্ট বা যন্ত্রণা কোনোভাবেই একজনের নবুয়তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না – এ ব্যাপারে বাইবেলও একমত। মুসলিমদের কাছে বাইবেল কোনো দলিল নয়। শুধুমাত্র তাদের দ্বিমুখী নীতির স্বরূপ উন্মোচনের জন্যই দলিলগুলো দেয়া৷

সুতরাং ওপরের আলোচনার সারাংশ হিসাবে আমরা বলতে পারি :

  • নবী হলেই একজনকে হত্যা করা যাবে না—এই কথার সাথে বাইবেল ও কুরআন কোনো গ্রন্থ একমত না। অতীতেও বহু নবীকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা শহীদ নবী। মুহাম্মাদ ﷺ একজন নবী, যিনি শহীদ হয়েছিলেন। এতে তাঁর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।।
  • নবী মুহাম্মাদ ﷺ-কে বিষ প্রয়োগের সাথে সাথেই তিনি মারা যাননি। আল্লাহ তাঁকে তাঁর মিশন শেষ করা পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। এরপরেই বিষ ক্রিয়া করেছে। এটি একটি মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা।।
  • এমনকি তিনি যদি ঘটনাস্থলেও মারা যেতেন, তবুও তাঁর নবুয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হতো না।
  • বিষ প্রয়োগ করা সেই বকরির রানটি নবী ﷺ কে বিষের ব্যাপারে অবহিত করেছিল। যার ফলে তিনি অন্যদের বিষের ব্যাপারে সতর্ক করতে পেরেছিলেন।ঘটনাস্থলেই তিনি সকল ইহুদিকে ডেকে তাঁদের সকলের বাবার নাম সঠিকভাবে বলে দেন। যা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ সকল মুজিজার দ্বারা তাঁর নবুয়তের সত্যতাই বরং প্রমাণ হয়।।
  • আল্লাহর নামে কিছু বানিয়ে বললে শাস্তিস্বরূপ ‘ওয়াতিন’ কেটে দেবার কথা আল কুরআনে বলা হয়েছে। বিষের যন্ত্রণার সময়ে নবী -এর মনে হয়েছে যে তাঁর ‘আবহার’ কেটে যাচ্ছে। উভয় মোটেই এক জিনিস নয়। কাজেই তিনি আল্লাহর শাস্তির দ্বারা মৃত্যুবরণ করেছেন—এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

শারিরীক কষ্ট বা যন্ত্রণা কারো নবুয়তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। বরং তা আল্লাহর নবীদের ত্যাগের নির্দেশক এবং এটা তাঁদের মর্যাদাকেই বৃদ্ধি করে।যারা আল কুরআন থেকে সুবিধামতো এক অংশ উদ্ধৃত করে অপব্যাখ্যা করে নিজেদের মিথ্যা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের বলব, আপনারা প্রসঙ্গসহ সূরা হাক্কাহ এর আয়াতগুলো পড়ুন।“নিশ্চয়ই এটা (কুরআন) এক সম্মানিত রাসুলের তিলাওয়াত। এটা কোনো কবির কথা নয়; তোমরা অল্পই বিশ্বাস করো। এটা কোনো গণকের কথাও নয়, তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো।এটা জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।যদি সে [মুহাম্মাদ ﷺ ] নিজে কোনো কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিত, তবে অবশ্যই আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং কেটে দিতাম তাঁর জীবনধমনি (শাহরগ)। অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তার ব্যাপারে আমাকে বিরত রাখতে পারে।এটা (কুরআন) মুত্তাকীদের (আল্লাহভীরু) জন্য অবশ্যই এক উপদেশ।আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীও রয়েছে।এবং এটি (কুরআন) নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে। অবশ্যই এটা নিশ্চিত সত্য।।

অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের মহিমা ঘোষণা করো।”[২৭০]

এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে যে, আল কুরআনআল্লাহর সম্মানিত রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ-এর তিলাওয়াতকৃত কিতাব। এটা কোনো কবি কিংবা গণকের কথা নয়; বরং এটা স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে আগত। ইসলামবিরোধীরা মাঝখানের কিছু আয়াতের ওপর ‘ঈমান’(?) এনে রাসুল -এর মৃত্যুকে আল্লাহর গজব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ। আমি তাদের আহ্বান জানাব যে আপনারা অন্য আয়াতগুলোর ওপরেও ঈমান আনুন, মেনে নিন যে কুরআন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলার বাণী।

এরপরেও যদি না মানেন, তাহলে পরের আয়াতগুলো দেখুন। আল্লাহ বলে দিচ্ছেন যে, এই কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী আছে। সুবহানাল্লাহ, এখানে ইসলামবিরোধী মিথ্যাচারকারীদের ব্যাপারে কী স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হচ্ছে! আর মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে পরকালে যে কী পরিণতি হবে তাও বলে দেওয়া আছে। কাজেই সিদ্ধান্ত আপনাদের। আল্লাহ আপনাদের হেদায়েত দিন।

রিফারেন্সঃ
[২৫০] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৪৪২৮
আরো দেখুন : আর রাহিকুল মাখতুম -শফিউর রহমান মুবারকপুরী (র.); পৃষ্ঠা ৫৩৪ [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] অথবা পৃষ্ঠা ৪৮৯ [আল কোরআন একাডেমী লন্ডন] [২৫১] বাইবেল, ২ বংশাবলী (২ Chronicles) ২৪:১৯-২১
[২৫২] বাইবেল, ১ রাজাবলী (১ Kings) ১৮ : ১৩
[২৫৩] বাইবেল, ১ রাজাবলী (১ Kings) ১৯ : ৯-১০
[২৫৪] বাইবেল, নহিমিয় (Nehemiah) ৯ : ২৬
[২৫৫] বাইবেল, মথি (Matthew) ১৪ : ৮-১২
[২৫৬] বাইবেল, মথি (Matthew) ২৩ : ২৯-৩৭
[২৫৭] আল কুরআন, বাকারাহ ২:৯১
[২৫৮] আল কুরআন, বাকারাহ ২:৬১, আলি ইমরান ৩:১১২
[২৫৯] “The Jews’ attempts to kill the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) – islamqa.info” [islamQA (Shaykh Muhammad Salih al Munajjid)] https://islamqa.info/en/32762
[২৬০] “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম।” (আল কুরআন, মায়িদাহ ৫ : ৩)।
[২৬১] “Did the Prophet Muhammad Die As a Martyr” [islamQA Hanafi] https://islamqa.org/hanafi/seekersguidance-hanafi/31931
[২৬২] এ জন্য কিসাস হিসাবে পরবর্তী সময় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩৫০ দ্রষ্টব্য
[২৬৩] সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৫১০; এ অনুচ্ছেদে অনুরূপ ঘটনার বেশ কয়েকটি হাদিস আছে।
[২৬৪] মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং : ৩৬১৭, (সনদ সহীহ)
[২৬৫] দালায়িলুল নাবুওয়াহ ৩/২৪৮; তাফসির ইবন কাসির, সূরা আলি ইমরানের ১৪৪ নং আয়াতের তাফসির।
[২৬৬] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৫৭৭৭
[২৬৭] আল কুরআন, হাক্কাহ ৬৯ : ৪৪-৪৬; ড. মুজিবুর রহমানের অনুবাদ
[২৬৮] আর রাহিকুল মাখতুম – শফিউর রহমান মুবারকপুরী (র.); পৃষ্ঠা ৫৩৪ [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] অথবা পৃষ্ঠা ৪৮৯ [আল কোরআন একাডেমী লন্ডন]।
[২৬৯] ইবন মাজাহ হা/৪০২৪; সিলসিলা সহীহাহ হা/১৪৪
[২৭০] আল কুরআন, হাক্কাহ ৬৯ : ৪০-৫২

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন