ড. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালেহ আস-সুহাইম

অনুবাদক : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের  সম্পাদনা : প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

ইবাদাত হলো, অর্থগত ও প্রকৃতভাবে আল্লাহ তা‘আলার দাসত্ব বা আনুগত্য করা। আল্লাহ হলেন স্রষ্টা আর আপনি সৃষ্ট, আল্লাহ আপনার উপাস্য আর আপনি তার বান্দা বা দাস। অবস্থা যদি এমনই হয়, তাহলে এই পার্থিব জীবনে আল্লাহ তা‘আলার শরী‘আতের অনুসারী হয়ে এবং তাঁর রাসূলের পদাঙ্ক অনুকরণের মাধ্যমে, তাঁর সোজা সরল পথের ওপর মানুষের চলা উচিত। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য অনেক প্রকার মহান ইবাদাত প্রবর্তন করেছেন, যেমন- সমগ্র বিশ্বজাহানের রব আল্লাহ তা‘আলার জন্যই তাওহীদ তথা একত্ববাদের বাস্তবায়ন, সালাত সুপ্রতিষ্ঠা, যাকাত প্রদান, সাওম পালন এবং হজ করা ইত্যাদি।

কিন্তু ইসলামে শুধুমাত্র এগুলোই সব ইবাদাত নয়। বরং ইবাদাত হচ্ছে একটি ব্যাপক বিষয়, ফলে তা হচ্ছে- প্রত্যেক ঐ সব প্রকাশ্য ও গোপন কথা এবং কাজ যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন। সুতরাং আপনার প্রতিটি কথা ও কাজ যা আল্লাহ ভালোবাসেন ও যার প্রতি সন্তুষ্ট হন তাই ইবাদাত। বরং প্রত্যেক ভালো স্বভাব যা আপনি আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জনের নিয়তে করেন সেগুলোই ইবাদাত। ফলে আপনি, আপনার পিতা-মাতা, পরিবারবর্গ, স্ত্রী, সন্তানাদি এবং প্রতিবেশীর সাথে যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে, এর দ্বারা যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করেন তবে তাই ইবাদাত। এমনিভাবে আমানতদারিতা, সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার বা ইনসাফ, কষ্ট না দেয়া, দুর্বলকে সাহায্য করা, হালাল উপার্জন, পরিবার ও সন্তানাদির ওপর ব্যয় করা, মিসকীনকে সহযোগিতা করা, রোগী পরিদর্শন করা, ক্ষুধার্তকে আহার দেয়া, মাযলুমকে সাহায্য করা এগুলো সবই ইবাদাত; যদি এগুলোর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করেন। অতএব প্রতিটি কাজ, যা আপনি আপনার নিজের জন্যে অথবা আপনার পরিবারের জন্য অথবা আপনার সমাজের জন্যে অথবা আপনার দেশের জন্যে করেন, যদি এর দ্বারা আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করেন তবে তা ইবাদাত হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, সেই সীমারেখার মধ্যে আপনার মনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাটাও ইবাদাত হিসেবে গণ্য হবে , যদি তার সাথে সৎ নিয়ত সংযুক্ত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيَأتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: «أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ»

“তোমাদের কারোও স্ত্রী সহবাসেও সদকার সাওয়াব রয়েছে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কীভাবে হয় যে, আমরা যৌনতৃপ্তি অর্জন করবো আর তাতে সাওয়াবও রয়েছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা বল তো দেখি, যদি কেউ ব্যভিচার করে তা হলে তার কি গুনাহ হবে না? অতএব সে যদি তা না করে হালালভাবে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তা হলে অবশ্যই সাওয়াব হবে।”[1]

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,

«عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ» قِيلَ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَجِدْ؟ قَالَ «يَعْتَمِلُ بِيَدَيْهِ فَيَنْفَعُ نَفْسَهُ وَيَتَصَدَّقُ» قَالَ قِيلَ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ: «يُعِينُ ذَا الْحَاجَةِ الْمَلْهُوفَ» قَالَ قِيلَ لَهُ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ: «يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ أَوِ الْخَيْرِ» قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَفْعَلْ؟ قَالَ: «يُمْسِكُ عَنِ الشَّرِّ، فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ»

“প্রত্যেক মুসলিমকেই নিজ পক্ষ থেকে সদকা দিতে হবে। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নবী! যদি কেউ সদকা দেয়ার মতো কিছু না পায়? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে নিজ হাতে কাজ করে নিজেকে লাভবান করবে এবং সদকা দিবে। সাহাবীগণ বললেন: যদি সে তা করতে না পারে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তখন সে একজন দুর্দশাগ্রস্ত অভাবীকে সহযোগিতা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন কেউ আবার নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: যদি সে তা করতে না পারে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন সে সৎ বা ভালো কাজের আদেশ দিবে। সাহাবীগণ বললেন, যদি সে তা করতে না পারে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন সে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে, ফলে সেটাই তার জন্য সদকা হবে।” [2]

 

[1] সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, হাদীস নং ১০০৬।

[2] সহীহ বুখারী,  কিতাবুয যাকাত, অনুচ্ছেদ ২৯; সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, হাদীস নং ১০০৮। শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন