মূল:নারীর হজ ও উমরাহ

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

মহিলাদের ইহরামের পোশাকের ক্ষেত্রে শরী‘আত কোনো পোশাক নির্দিষ্ট করে দেয়নি। অনেকেই মনে করে থাকে মহিলারা সেলোয়ার কামিজ পড়তে হবে বা তাদের পোশাক সাদা হতে হবে। এ ধরনের কোনো নিয়ম শরী‘আত নির্ধারণ করে দেয় নি।

সুতরাং মহিলা ইহরামের জন্য তার স্বাভাবিক পোশাকই পরতে পারবে। তবে তাকে অবশ্যই শরী‘আত নিষিদ্ধ পোশাক পরিত্যাগ করতে হবে। তার পোশাক আঁট সাট, এমন মিহি যেন না হয় যাতে শরীর স্পষ্ট হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় এমন পোশাক পরা যা মানুষের দৃষ্টি কাড়বে না। কেননা, এখানে পুরুষ মহিলা কাছাকাছি অবস্থান করে থাকে। সৌন্দর্যময় পোশাক পরার মধ্যে ফিতনায় পড়ে যাওয়া এবং ফেলে দেওয়ার ভয় আছে।

তারপরও মহিলারা কয়েকটি পোশাক পরতে পারবে না:

১ ও ২- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাত মোজা ও নেকাব পড়া হারাম:

কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইহরাম অবস্থায় মহিলারা নেকাবও পরবে না, আবার হাত মোজাও পরবে না।” সহীহ বুখারি: ১৭৪১ কিন্তু যদি অপরিচিত পুরুষ মহিলাদের পাশ দিয়ে যায়, তবে মাথার ওড়না দ্বারা মুখ ঢেকে রাখতে হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “পুরুষরা আমাদের পাশ দিয়ে যেত যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের নিকটবর্তী হলে আমাদের প্রত্যেকে মাথার ওড়না মুখের উপর দিতাম। যখন তারা আমাদের পাশ দিয়ে চলে যেত, তখন আবার মুখের থেকে কাপড় সরিয়ে নিতাম।”[1]

৩- ইহরাম অবস্থায় মহিলারা সুগন্ধিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করতে পারবে না। ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ইহরাম অবস্থায় বলেন, “ঠোঁটের ওপর কোনো কাপড় দেবে না, নেকাব পরবে না এবং যে কাপড়ে জাফরান ও ওয়ার্স (এক ধরনের সুগন্ধি) লেগে আছে, সে কাপড় পরিধান করবে না।”[2]

৪- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য যেকোনো রঙের পোশাক পরা জায়েয আছে। যেমন, কালো, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি। অন্য রঙের চেয়ে সবুজ বা সাদা রঙের কোনো বিশেষত্ব নেই।

৫- ইহরাম অবস্থায় মহিলারা তাদের কাপড় বদলিয়ে পরিষ্কার অন্য কোনো কাপড় পরতে পারবে।

৬- ইহরাম অবস্থায় যদি কোনো মহিলা ভুলে অথবা অজ্ঞাতবশত নেকাব পরে, তবে তার ওপর কোনো কাফ্ফারা নেই এবং তার হজ বা উমরাহ সঠিক হবে। কেননা, কাফ্ফারা শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য, যে হুকুম জানার পরও নিষিদ্ধ কাজে হাত দেয়।

৭- ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য পা-মোজা পরা জায়েয আছে। বরং তা উত্তম। কেননা এর দ্বারা তার পা ঢেকে রাখা যাবে।


[1] আবু দাঊদ, হাদীস নং ১৮৩৩।

[2] সহীহ বুখারী ২/৫৫৯।