কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

একটি হাদীসে ঈমানের ব্যাখ্যা— أن تؤمن بالله   “আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করা” দ্বারা করা এবং অপর হাদীসে ঈমানের ব্যাখ্যা— شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله “এ কথা সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই” দ্বারা করা।

প্রশ্ন: হাদীসে জিবরীল যাতে ঈমানের ব্যাখ্যা —أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره “আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তার ফিরিশতা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখিরাত দিবস, এবং ভালো ও মন্দের ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনা।”[1]– এ বলে দেওয়া হয়েছে। আর ওয়াফদে আবদে কাইসের হাদীসের যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে —شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وأن تؤدوا خمسا من المغنم    “এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার ইলাহ নেই তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, সালাত কায়েম করা, যাকাত পরিশোধ করা এবং গণিমতের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা।”[2]—ঈমানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ও বিরোধ নিরসন কীভাবে করব?

উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটি কথা জানিয়ে দিতে চাই যে, কুরআন ও সুন্নাহের মধ্যে পারস্পরিক কখনোই কোন বিরোধ নেই। কুরআনের একটি অংশ অপর অংশের সাথে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের একটি অংশ অপর অংশের সাথে কোন বিরোধ নেই। কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহের মধ্যে এমন কোন কিছু পাওয়া যাবে না যা বাস্তবতার বিরোধী। কারণ বাস্তবতা সত্য এবং কুরআন ও সুন্নাহও সত্য। দু’টি সত্যের মধ্যে বিরোধ অসম্ভব। এ মূলনীতি যখন তুমি বুঝতে পারবে তখন তোমার অসংখ্য প্রশ্নের সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَۚ وَلَوۡ كَانَ مِنۡ عِندِ غَيۡرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ ٱخۡتِلَٰفٗا كَثِيرٗا ٨٢﴾ [النساء : ٨٢]   “তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হত, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮২] যখন বিষয়টি এমনই, তখন মনে রাখবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে পারস্পরিক কোন বিরোধ নেই। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের একটি তাফসীর করেছেন এবং অপর যায়গায় ভিন্ন তাফসীর করেছেন, তখন বাহ্যিক দৃষ্টিতে তোমার কাছে মনে হবে বিরোধ। কিন্তু বাস্তবে যখন তুমি গভীরভাবে চিন্তা করবে, তখন তুমি কোন বিরোধ দেখতে পাবে না।

হাদীসে জিবরীলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনকে তিন ভাগ করেছেন।

প্রথম প্রকার: ইসলাম

দ্বিতীয় প্রকার: ঈমান

তৃতীয় প্রকার: ইহসান।

আর ওয়াফদে আবদে কাইসের হাদীসে শুধু এক প্রকার অর্থাৎ ইসলাম উল্লেখ করেছেন। আর যখন ইসলাম এককভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন তার মধ্যে ঈমান অর্ন্তভুক্ত থাকে। কারণ, মু’মিন হওয়া ছাড়া ইসলামের বিধান মেনে চলা সম্ভব নয়। ফলে ইসলাম উল্লেখ করলে ঈমান তাতে অর্ন্তভুক্ত হয় এবং ঈমান উল্লেখ করলে ইসলাম তাতে এসে যায়। আর যখন ঈমান ও ইসলাম একত্রে উল্লেখ করা হয় তখন ঈমান বলা হয় অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়সমূহকে আর ইসলাম বলা হয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারী নিয়ম ও মূলনীতি। যখন শুধু ইসলাম উল্লেখ করা হয়, তখন তার মধ্যে ঈমানও অর্ন্তভুক্ত হয়। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ ١٩﴾ [ال عمران: ١٩]   “আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন ইসলাম। [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯]

মনে রাখবে, দীন-ইসলাম হলো, আকীদা, ঈমান ও শরী‘আত—এর সমষ্টির নাম। যখন শুধু ঈমান উল্লেখ করা হয়, তখন তাতে ইসলামও অর্ন্তভুক্ত থাকে। আর যখন উভয়টি উল্লেখ করা হয় তখন ঈমান অন্ততের আমলকে বুঝায় আর ইসলাম দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলকে বুঝায়। এ কারণেই কোন কোন সালাফ রহ. বলেছেন, ‘ইসলাম হলো প্রকাশ্য আর ঈমান হলো গোপন’। কারণ, ঈমান অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণেই একজন মুনাফেককে দেখবে সে সালাত আদায় করে, সাদকা করে এবং সাওম আদায় করে। ফলে সে বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম তবে সে মু’মিন নয়। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَمَا هُم بِمُؤۡمِنِينَ ٨﴾ [البقرة: ٨] “আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি’, অথচ তারা মুমিন নয়।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮] আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

[1] সহীহ মুসলিাম, হাদীস নং ৮

[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন