মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

নাস্তিক প্রশ্ন : কুরআনের উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনে কেন এমন ভুল থাকবে (কুরআন ৪ : ১১-১২)? একজন সৃষ্টিকর্তার পক্ষে কি মানুষের মতো কোনোরূপ ভুল হওয়ার আদৌ সম্ভব?

স্ত্রীঃ১/৮=৩/২৪, কন্যাঃ ২/৩=৪/২৪, মাতাঃ ১/৬=৪/২৪ মোট=২৭/২৪= ১.১২৫ (যা ১ এর চেও বড়)

উত্তর : সূরা নিসার ৩টি আয়াতে (৪ : ১১, ৪: ১২ ও ৪ : ১৭৬) মৃতের সম্পত্তি বণ্টনের নীতি বর্ণিত হয়েছে।

“আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক ছেলের জন্য দুই মেয়ের অংশের সমপরিমাণ। তবে যদি তারা দুইয়ের অধিক মেয়ে হয়, তাহলে তাদের জন্য হবে, যা সে রেখে গেছে তার তিন ভাগের দুই ভাগ; আর যদি একজন মেয়ে হয় তখন তার জন্য অর্ধেক। আর তার মাতা-পিতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ সে যা রেখে গেছে তা থেকে, যদি তার সন্তান থাকে। আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার ওয়ারিস হয় তার মাতা-পিতা তখন তার মাতার জন্য তিন ভাগের এক ভাগ। আর যদি তার ভাই-বোন থাকে তবে তার মায়ের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। অসিয়ত পালনের পর, যা দ্বারা সে অসিয়ত করেছে অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের মাতা-পিতা ও তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্য থেকে তোমাদের উপকারে কে অধিক নিকটবর্তী তা তোমরা জানো না। [এটি] আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। আর তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীগণ যা রেখে গেছে তার অর্ধেক, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তারা যা রেখে গেছে তা থেকে তোমাদের জন্য চার ভাগের এক ভাগ। তারা যে অসিয়ত করে গেছে তা পালনের পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর স্ত্রীদের জন্য তোমরা। যা রেখে গিয়েছ তা থেকে চার ভাগের এক ভাগ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে তাহলে তাদের জন্য আট ভাগের এক ভাগ, তোমরা যা রেখে গিয়েছে তা থেকে। তোমরা যে অসিয়ত করেছ তা পালন অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি মা-বাবা এবং সন্তানসন্ততি নেই এমন কোনো পুরুষ বা মহিলা মারা যায় এবং তার থাকে এক ভাই অথবা এক বোন, তখন তাদের প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। আর যদি তারা এর থেকে অধিক হয় তবে তারা সবাই তিন ভাগের এক ভাগের মধ্যে সম-অংশীদার হবে, যে অসিয়ত করা হয়েছে তা পালনের পর অথবা ঋণ। পরিশোধের পর। কারও কোনো ক্ষতি না করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে অসিয়তস্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।”[২৯০]

“তারা তোমার নিকট ব্যবস্থা প্রার্থনা করছে, তুমি বলো, আল্লাহ তোমাদের পিতা-পুত্রহীন সম্বন্ধে ব্যবস্থা দান করেছেন। যদি কোনো ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় এবং তার ভগ্নী থাকে, তাহলে সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে অর্ধাংশ পাবে; এবং যদি কোনো নারীর সন্তান না থাকে, তাহলে। তার ভাই-ই তদীয় উত্তরাধিকারী হবে; কিন্তু যদি দুই ভগ্নী থাকে, তাহলে তাদের উভয়ের জন্য পরিত্যক্ত বিষয়ের দুই-তৃতীয়াংশ এবং যদি তার ভাই ভগ্নী-পুরুষ ও নারীগণ থাকে, তাহলে পুরুষ দুই নারীর তুল্য অংশ পাবে; আল্লাহ তোমাদের জন্য বর্ণনা করছেন যেন তোমরা বিভ্রান্ত না হও এবং আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।”[২৯১]

আল কুরআন ব্যাখ্যার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ সাহাবী হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস(রা.)। তাঁর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “হে আল্লাহ, তাঁকে [ইবন আব্বাস (রা.)] কিতাবের [ কুরআনের] জ্ঞান দান করুন।”[২৯২]

ইবন আব্বাস(রা.) এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন : “…আমি তাদের অংশ কমিয়ে দেবো, যাদের দাবি কিছুটা দুর্বল। এই ধরনের অংশীদার হচ্ছে কন্যাগণ ও ভগ্নীগণ।”[২৯৩]

অর্থাৎ, ইবন আব্বাস (রা.) এর মতে কুরআনে উল্লেখিত ওয়ারিসদের সম্পত্তির ভগ্নাংশগুলোর যোগফল ১ হওয়া জরুরি নয়। কুরআনে যেভাবে ভগ্নাংশ দেওয়া আছে, ঠিক সেভাবেই বণ্টন করে দেওয়া হবে। যাদের দাবি কিছুটা কম, [২৯৪] যেমন : কন্যাগণ ও ভগ্নীগণ—তাদের অবশিষ্টাংশ দেওয়া হবে। ফলে কোনো আপাত অসংগতি থাকছে না। নিশ্চয়ই আল কুরআন সকল অসংগতির উর্ধ্বে।।

অনুরূপ একটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন প্রখ্যাত দাঈ ড. জাকির নায়েক। তাঁর মতে, যেসব ওয়ারিসগণ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, তাদেরকে আগে সম্পদ প্রদান করা হবে। যাদের দাবি কম, তাদেরকে পরে দেয়া হবে। পাটিগণিতের নিয়মে সরল অংক করার সময়ে প্রথমে ব্রাকেট অফ করতে হয়, এরপর ভাগের হিসাব, এরপর গুণের হিসাব, এরপর যোগের হিসাব এবং সর্বশেষে বিয়োগের হিসাব করতে হয়। একইভাবে ইসলামের সম্পত্তি বণ্টন আইনেও প্রথমে স্বামী-স্ত্রীর, এরপরে বাবা-মায়ের অংশের হিসাব করতে হবে। এরপর যা বাকি থাকবে তা সন্তানরা পাবে। এভাবে হিসাব করা হলে কখনোই যোগফল ১ এর বেশি হবে না।[২৯৫]

তবে সে যুগে বণ্টন-পদ্ধতির সুবিধার জন্য সাহাবীগণ ‘আওল’ নামক একটি পদ্ধতির ওপরে একমত হয়েছিলেন। খলিফা থাকাকালীন উমার(রা.) সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এর নিকট এটি উত্থাপন করলে তাঁরা একটি পদ্ধতির ওপর ইজমাবদ্ধ বা একমত হন। ইসলামী শরিয়তে এই পদ্ধতিটি ‘আওল’ নামে পরিচিত।[২৯৬] একটি বিবরণে রয়েছে যে, পদ্ধতিটি এসেছিল আলী(রা.) এর কাছ থেকে। তিনি মিম্বরে থাকা অবস্থায় এই পদ্ধতিটি দিয়েছেন বলে একে বলা হয়, ‘মাসআলা মিম্বরিয়্যা “[২৯৭]। নিম্নে পদ্ধতিটি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

আল কুরআনের ৩টি আয়াতে (নিসা ৪:১১, ৪: ১২ ও ৪ : ১৭৬) কতিপয় আত্মীয়কে সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ (যেমন : ১/৩,২/৩,১/৬,১/২,১/৪) প্রদানের নির্দেশ আছে। এই ওয়ারিসদের নামকরণ করা হয়েছে ‘যাবিল ফুরূদ’ বা ‘নির্ধারিত অংশীদারগণ। কোনো কোনো সময় এই শ্রেণির আত্মীয়দের তাদের নির্ধারিত অংশ দিতে গেলে মূল সম্পত্তি অপেক্ষা তাদের প্রাপ্য অংশ বেশি হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি ২ কন্যা, পিতা, মাতা ও এক স্ত্রী রেখে মারা গেল। এখানে সূরা নিসার বিধান অনুযায়ী মোট সম্পত্তির –২/৩ অংশ ২ কন্যার, ১/৬ অংশ পিতার,১/৬ অংশ মাতার এবং ১/৮ অংশ স্ত্রীর পাবার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ২ কন্যার ২/৩অংশ ও পিতা-মাতার (১/৬+১/৬)

= ১/৩­­) অংশ দিলেই সমস্ত সম্পত্তি নিঃশেষ হয়ে যায়, স্ত্রীর জন্য কিছু অবশিষ্ট থাকে না। অংশীদারদের অর্থাৎ ২ কন্যা, পিতা, মাতা ও স্ত্রীর প্রাপ্য অংশের সমষ্টি [২/৩+১/৬+১/৬+১/৮ =(১৬+৪+৪+৩)/২৪ =২৭/২৪]  অংশ। এই জটিলতার সমাধানের জন্য ‘আওল’ পদ্ধতি অনুযায়ী হরকে লবের সমান অর্থাৎ ২৭ ধরে হিসাব করা হয়, ফলে সম্পত্তি সকলকে বণ্টন করা সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে ২ কন্যা, পিতা, মাতা ও স্ত্রীর অংশ হবে যথাক্রমে ১৬/২৭, ৪/২৭, ৪/২৭, ৩/২৭ ।এর সমষ্টি হবে ।২৭/২৭ = ১। এই হিসাব পদ্ধতির মাধ্যমে সকল ওয়ারিসই সমানুপাতিকভাবে সম্পদের অংশ লাভ করে। বণ্টনরীতি approximate (যথাযথপ্রায়) ভাবে কুরআনের বিধানের সমান থাকে।

‘আওল’ পদ্ধতির একটি উদাহরণ এখানে দেখানো হয়েছে। এ রকম আরও অনেকগুলো ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে, যেসব ক্ষেত্রে এভাবে হিসাব করার প্রয়োজন। হয়। আগ্রহীদের জন্য সেই ক্ষেত্রগুলো”[২৯৮]এখানে উল্লেখ করা হলো:

 ক্রমিক ওয়ারিস আঙল প্রয়োগে প্রাপ্য অংশ।
স্বামী +২ পূর্ণ ভগ্নী ৩/৭+৪/৭
স্বামী +মাতা+ ১ কন্যা ৩/৭+১/৭ +৩/৭
স্বামী+পিতামহ/পিতা+১বৈমাএেয় ভাগ্নী ৩/৭+১/৭ +৩/৭
স্বামী+১ বৈমাএেয় ভাগ্নী+ ১ বৈপিত্রেয় ভগ্নী ৩/৭+৩/৭+১/৭
স্বামী +১ পূর্ণ ভগ্নী+ ১ বৈমাএেয় ভাগ্নী ৩/৭+৩/৭+১/৭
স্বামী +১ পূর্ণ ভগ্নী+ ১ বৈপিএেয় ভাগ্নী ৩/৭+৩/৭+১/৭
মাতামহী+২ বৈমাএেয় ভাগ্নী+১ পূর্ণ ভগ্নী+ ১ বৈমাএেয় ভাগ্নী ১/৭+২/৭+৩/৭+১/৭
স্বামী+২ পূর্ণ ভগ্নী/ বৈপিএেয় ভাগ্নী+মাতা ৩/৮ +৪/৮+১/৮
স্বামী+মাতা+ ১ পূর্ণ ভগ্নী ৩/৮ +২/৮+৩/৮
১০ পিতা+মাতা+৩ পূর্ণ ভগ্নী+৩  বৈপিএেয় ভাগ্নী ১/৮+১/৮+৪/৮+২/৮
 ১১ স্বামী+ ১ পূর্ণ ভগ্নী+ ২ বৈপিএেয় ভাগ্নী ৩/৮+৩/৮+২/৮
 ১২ স্বামী+২ পূর্ণ ভগ্নী/ বৈমাএেয় ভাগ্নী +১ বৈপিএেয় ভাগ্নী/মাতা ৩/৮+৪/৮+১/৮
 ১৩ স্বামী+১ পূর্ণ ভগ্নী/১ বৈমাএেয় ভাগ্নী +২ বৈপিএেয় ভাই বা ২ বৈপিএেয় ভাগ্নী ৩/৮+৩/৮+২/৮
 ১৪ স্বামী +২ পূর্ণ ভগ্নী+ ২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী ৩/৯+৪/৯+২/৯
 ১৫ স্বামী +১ পূর্ণ ভগ্নী+ ২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী +মাতা ৩/৯+৩/৯+২/৯+১/৯
 ১৬ স্বামী +মাতা+২ বৈমাএেয় ভাগ্নী + ২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী ৩/১০+১/১০+৪/১০+২/১০
 ১৭ স্বামী +২ পূর্ণ ভগ্নী+ ২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী+মাতা ৩/১০+৪/১০+২/১০+১/১০
 ১৮ স্ত্রী+ ২ পূর্ণ ভগ্নী+ ১ বৈপিত্রেয় ভগ্নী ৩/১৩+৮/১৩+২/১৩
 ১৯ স্ত্রী+ ২ পূর্ণ ভগ্নী+মাতা/মাতামহী ৩/১৩+৮/১৩+২/১৩
 ২০ স্ত্রী+ ২ পূর্ণ ভগ্নী+২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী ৩/১৫+৮/১৫+৪/১৫
 ২১ স্ত্রী+ ২ পূর্ণ ভগ্নী+১ বৈপিত্রেয় ভগ্নী+মাতা ৩/১৫+৮/১৫+২/১৫+২/১৫
 ২২ স্ত্রী+ ২ পূর্ণ ভগ্নী+১ বৈপিত্রেয় ভগ্নী+মাতা ৩/১৭+৮/১৭+৪/১৭+২/১৭
 ২৩ স্ত্রী+ ২ পূর্ণ ভগ্নী/বৈমাএেয় ভাগ্নী+২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী+মাতা ৩/১৭+ ৮/১৭ +৪/১৭+ ২/১৭
 ২৪ ৩স্ত্রী +২ মাতামহ/পিতামহ+ ২ বৈপিএেয় ভাগ্নী+২ বৈপিত্রেয় ভগ্নী+৮ পূর্ণ ভগ্নী ৩/১৭+২/১৭+৪/১৭+৮/১৭
 ২৫ মাতা+পিতা+ ২ কন্যা+স্ত্রী ৪/২৭+৪/২৭+১৬/২৭+৩/২৭
 ২৬ স্ত্রী+পিতা+মাতা+ ১ কন্যা+১ পৌএী ৩/২৭+ ৪/২৭+৪/২৭+১ /২৭+৪/২৭
 ২৭ মাতা+পিতা+স্বামী+২ কন্যা ২/১৫+২/১৫+৩/১৫+৮/১৫
 ২৮ মাতা+ স্বামী+২ কন্যা ১/৮+৩/৮+৪/৮
 ২৯ মাতা+ স্বামী+৩ কন্যা ১/৮+৩/৮+৪/৮
 ৩০ মাতা+পিতা+স্বামী+৩ কন্যা ৪/২৭+৪/২৭+৩/২৭+১৬/২৭
 ৩১ স্বামী+ পিতা+ মাতা+ ৩ কন্যা ২/১৫+২/১৫+৩/১৫+৮/১৫
 ৩২ স্বামী+ পিতা+ মাতা+ ১ কন্যা ৩/১৩+২/১৩+২/১৩+৬/১৩

 

যে সমস্ত খ্রিষ্টান মিশনারিরা আওল পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের ধর্মগ্রন্থে কি সম্পদ বণ্টনের ব্যাপারে এমন ইনসাফভিত্তিক কোনো বিধান আছে?

তর্কপ্রিয় ইসলামবিরোধীরা আরেকটি প্রশ্ন তুলতে পারে, আর তা হচ্ছে : পদ্ধতিটি এসেছে সাহাবীদের কাছ থেকে, মুসলিমরা “কুরআন বাদ দিয়ে”(!) কেন সাহাবীদের পদ্ধতি গ্রহণ করবে?

এর উত্তর হচ্ছে : সাহাবীদের থেকে পদ্ধতি গ্রহণ করা মোটেও কুরআন-বিরোধী কাজ নয়; বরং কুরআন থেকেই এর হুকুম পাওয়া যায়। সাহাবীদের ইজমা বা ঐকমত ইসলামী শরিয়তের দলিল। কুরআনের বহু আয়াতে সাহাবীদের ঈমান ও আদর্শের প্রশংসা করা হয়েছে।[২৯৯] কুরআনের নির্দেশ হচ্ছে রাসুল ﷺ -এর সুন্নাহ অনুসরণ।তিক আবার রাসুল ﷺ -এর সুন্নাহ থেকেই আমরা সাহাবাগণের সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ পাই৷

সুন্নাতে সাহাবা বা সাহাবীগণের (রা.) আদর্শ অনুসরণের ব্যাপারে রাসুল ﷺ বলেছেন :

“আমি আল্লাহকে ভয় করার জন্য তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি। আর (জেনে রাখো) তোমাদের ওপর যদি কোনো হাবশী (আবিসিনিয় নিগ্রো) গোলামকেও শাসক নিযুক্ত করা হয়, তবু তার কথা শুনবে এবং তার আনুগত্য করে চলবে। আর তোমাদের কেউ জীবিত থাকলে সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নাত এবং সঠিক নির্দেশনাপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ করাই হবে তোমাদের অবশ্য কর্তব্য। এ সুন্নাতকে খুব দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং সমস্ত অবৈধ বিষয়কে এড়িয়ে চলবে।”[৩০১] |

ইমাম আবু হানিফা(র.) বলেছেন :

“আমি কুরআনের ওপর নির্ভর করি। কুরআনে যা পাই না, তার জন্য সুন্নাতে রাসুল ﷺ -এর ওপর নির্ভর করি। যদি কোনো বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাতে রাসুল

এ না পাই, তাহলে আমি সাহাবীদের মতামত ও শিক্ষার ওপর নির্ভর করি, তাঁদের মতামত ও শিক্ষার বাইরে যাই না৷”[৩০২]

কাজেই আল কুরআনের হুকুম অনুসরণ করেই সকল আপাত সমস্যার সমাধান হলো।

এবং আল্লাহ ভালো জানেন।

রিফারেন্সঃ
[২৯০] আল কুরআন, নিসা ৪: ১১-১২
[২৯১] আল কুরআন, নিসা ৪: ১৭৬
[২৯২] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৩৪৮৫
[২৯৩] সাইয়িদ শারীফ জুরজানী, আশ শারিফিয়্যা, পৃষ্ঠা ৫৫
[২৯৪] মেয়েরা পিতা-স্বামীর উভয়ের থেকেই সম্পদ লাভ করে
[২৯৫] “কুরআনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি বন্টন আইনে গাণিতিক ভুলের অভিযোগের জবাব ড. জাকির নায়েক”
(YouTube) লিঙ্কঃ https://bit.ly/2u5hW20
[২৯৬] “Objection from an atheist to the ‘awl process in cases of inheritance”islamQA(Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)
https://islamqa.info/en/131556
[২৯৭] ইসলামী বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ৯৪
[২৯৮] = ইসলামী বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড , (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ) পৃষ্ঠা ৯৪৯৬।
আওল পদ্ধতিতে উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের যে কোন ক্ষেত্র খুব সহজে হিসাব করা যেতে পারে এই অনলাইন ‘উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর’ গুলোর দ্বারাঃ“Islamic Inheritance Calculator” লিঙ্ক : https://goo.gl/KfdRcH ।
“উত্তরাধিকার। সহজেই সম্পত্তির হিসাব” (এটুআই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) লিঙ্ক : https://goo.gl/Kws6VZ
[২৯৯] দেখুন : আল কুরআন, আলি ইমরান ৩:১০১, ১১০, ১৭২-১৭৪; আনফাল ৮ : ৬২, ৭৪; তাওবা। ৯ : ৮৮-৮৯, ১০০, ১১৭; ফাতহ ৪৮ : ১৮-১৯, ২৬, ২৯; হুজুরাত ৪৯: ৭; হাদিদ ৫৭; ১০. হাশর ৫৯ : ৮-১০
[৩০০] দেখুন : আল কুরআন, আলি ইমরান ৩: ৩১; আহযাব ৩৩ : ২১; হাশর ৫৯ : ৭
[৩০১] আবু দাউদ ও তিরমিযী; রিয়াদুস সলিহীন; বই ১, হাদিস নং : ১৫৭
[৩০২] আল ইন্তেকা -ইবন আব্দুল বারর, পৃষ্ঠা ১৪২, ১৪৩শরিয়তের দলিল হিসাবে সুন্নাতে সাহাবা বা সাহাবীগণের (রা.) আদর্শ অনুসরণের ব্যাপারে আরও বিস্তারিত প্রমাণের জন্য খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র.) এর কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকিদাবইয়ের ৫৮৬২ পৃষ্ঠা এবং এহইয়াউস সুনান বইয়ের ১০২-১০৭ পৃষ্ঠা দেখা যেতে পারে।

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন