ড. আব্দুল কারীম যাইদান

অনুবাদক: মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন

সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

৫৭. হত্যা, যখম ও অঙ্গচ্ছেদ -এ অপরাধগুলো কেউ ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে ঘটালে তার শাস্তি হয় কিসাস (অপরাধী যা করেছে তাই করে তাকে শাস্তি দেওয়া)। স্বয়ং বিধানদাতা আল্লাহর পক্ষ থেকে এ শাস্তি নির্ধারিত। কিসাসের হকদার আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীগণ। পক্ষান্তরে এ অপরাধগুলো যদি কারো দ্বারা ভ্রম বসত হয় অথবা ইচ্ছাকৃত হয় কিন্তু কিসাসের সকল শর্ত পূরণ না থাকে তখন শাস্তি হয় দিয়ত বা রক্তমূল্য। দিয়তও শরী‘আত কতৃক নির্ধারিত শাস্তি। আর মানুষের অঙ্গ কর্তন বা যখমের ক্ষেত্রে ধার্য শাস্তিকে বলে (ارش) আরশ। এখানে দিয়ত না বলার কারণ হলো, দিয়ত শব্দটি পূর্ণ দিয়তের (الدية الكاملة) জন্য ব্যবহৃত হয় যা কেবল প্রাণ বধের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হয়। তবে কোনো কোনো ফকীহ দিয়ত শব্দকে প্রাণবধ ছাড়াও যখম ও অঙ্গ কর্তনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন। এটা তাদের নিজস্ব পরিভাষা মাত্র। আর পরিভাষার মধ্যে কোনো আপত্তি থাকে না।

৫৮. কিসাস সম্পর্কে পূর্বেই বলা হয়েছে যে, অপরাধীর সাথে ঠিক সেরূপ আচরণ করা যেরূপ আচরণ সে করেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর কিসাস যেহেতু বান্দার অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীদের অধিকার তখন তাদের অধিকার আছে দিয়ত বা রক্তমূল্য নিতে সম্মত হয়ে কিসাস মাফ করে দেওয়া অথবা কিসাস ও দিয়ত উভয়টা মাফ করে দেওয়া। যখন তারা মাফ করে দিবে তখন আদালত তা‘যীর হিসেবে অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারবে।

৫৯. উল্লিখিত অপরাধসমূহ যদি ভুলক্রমে সংঘটিত হয় তাহলে ইমাম শাফেঈর মতে দিয়ত আদায় করবে অপরাধীর স্বজনরা (عاقلة)। তিনি ব্যতীত অন্যান্য ফকীহদের মতে দিয়তের কত অংশ অপরাধী বহন করবে এবং কত অংশ তার স্বজনরা বহন করবে সে ব্যপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। আকিলা বা স্বজন হলো হত্যাকারীর আসাবা অর্থাৎ নিকটাত্মীয় পুরুষ, যারা অপরাধীর পিতৃ-বংশের সাথে যুক্ত, যদিও তাদের সম্বন্ধসূত্র দূরবর্তী হয়।