কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রশ্ন: একজন প্রশ্ন কারী প্রশ্নে বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, ﴿تَٱللَّهِ لَتُسۡ‍َٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمۡ تَفۡتَرُونَ ٥٦﴾ [النحل: ٥٦] “আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা যে মিথ্যা রটাচ্ছ সে ব্যাপারে।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৫৬] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَلَتُسۡ‍َٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ ٩٣﴾   [النحل: ٩٣]  “তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৯৩] কিন্তু সূরা আর-রহমানের একটি আয়াত পাওয়া যায়, যাতে কিয়ামতের দিন মানব ও দানবকে প্রশ্ন করার বিষয়টি না করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿فَيَوۡمَئِذٖ لَّا يُسۡ‍َٔلُ عَن ذَنۢبِهِۦٓ إِنسٞ وَلَا جَآنّٞ ٣٩﴾ [الرحمن: ٣٩]    “সেদিন তার অপরাধ সম্পর্কে কোন মানব ও দানবকে জিজ্ঞাসা করা হবে না।” [সূরা আর রহমান, আয়াত: ৩৯] তাহলে উভয় আয়াতের বিরোধ কীভাবে নিরসন করা হবে, যেখানে একটি আয়াত হিসাব প্রমাণ করে অপরটি না করে?

উত্তর: হে প্রশ্নকারী ভাই! মনে রাখুন, কিয়ামতের দিন অত্যন্ত ভয়াবহ। ঐ দিনের অবস্থা অত্যন্ত করুন। সেদিনগুলো অনেক দীর্ঘ। এক একটি দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমে বলেন, ﴿تَعۡرُجُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيۡهِ فِي يَوۡمٖ كَانَ مِقۡدَارُهُۥ خَمۡسِينَ أَلۡفَ سَنَةٖ ٤ فَٱصۡبِرۡ صَبۡرٗا جَمِيلًا ٥ إِنَّهُمۡ يَرَوۡنَهُۥ بَعِيدٗا ٦ وَنَرَىٰهُ قَرِيبٗا ٧﴾ [المعارج: ٤،  ٧] “ফেরেশতাগণ ও রূহ এমন এক দিনে আল্লাহর পানে ঊর্ধ্বগামী হয়, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। অতএব তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ কর। তারা তো এটিকে সুদূরপরাহত মনে করে। আর আমি দেখছি তা আসন্ন।” [সূরা আল-মা‘আরেজ, আয়াত: ৪, ৭] সুতরাং, ঐ দিনের অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে, কখনো সময় জিজ্ঞাসা করা হবে আবার কখনো সময় জিজ্ঞাসা করা হবে না। কখনো সময় তাদের তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿فَوَرَبِّكَ لَنَسۡ‍َٔلَنَّهُمۡ أَجۡمَعِينَ ٩٢ عَمَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٩٣﴾ [الحجر: ٩٢،  ٩٣]  “অতএব তোমার রবের কসম, আমি তাদের সকলকে অবশ্যই জেরা করব, তারা যা করত, সে সম্পর্কে।” [সূরা আন-হিজর, আয়াত: ৯২, ৯৩] তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং বদলা দেয়া এবং তাদের আমলনামা তাদের সামনে তুলে ধরা হবে। আবার অনেক সময় দেখা যাবে, সু-দীর্ঘ সময় তাদের কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না। অনুরূপভাবে কুরআনে কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿ثُمَّ لَمۡ تَكُن فِتۡنَتُهُمۡ إِلَّآ أَن قَالُواْ وَٱللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشۡرِكِينَ ٢٣﴾ [الانعام: ٢٣] “অতঃপর তাদের পরীক্ষার জবাব শুধু এ হবে যে, তারপর তারা বলবে, ‘আমাদের রব আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না।”  [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৫৬] অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿وَلَا يَكۡتُمُونَ ٱللَّهَ حَدِيثٗا ٤٢﴾ [النساء : ٤٢]  “আর তারা আল্লাহর কাছে কোন কথা গোপন করতে পারবে না।” এ ধরনের আরো আয়াত রয়েছে। মোট কথা, কিয়ামতের সময় অনেক দীর্ঘ অবস্থা খুবই করুন ও ভয়াবহ। সেদিন আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পৃক্ততা বড়ই মহান। তারা সেদিন কখনো স্বীকার করবে আবার কখনো অস্বীকার করবে। সুতরাং, সতর্কতা সাথে মন্তব্য করবে এসব কোন বিষয়ে তুমি সন্দেহ করবে না। সবই হক ও সত্য। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তিনিই ভালো জানেন।

শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন