কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: مَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ عُذِّبَ “হিসাবে যাকে জেরা করা হবে, তাকেই আযাব দেয়া হবে।” হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে  سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا“দুনিয়াতে আমি তোমার গুনাহকে গোপন রেখেছিলাম…

প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: مَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ عُذِّبَ “হিসাবে যাকে জেরা করা হবে, তাকেই আযাব দেওয়া হবে।”[1] ইমাম বুখারী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন। এ হাদীস এবং অপর হাদীস- إِنَّ اللَّهَ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ وَيَسْتُرُهُ فَيَقُولُ أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا فَيَقُولُ نَعَمْ أَيْ رَبِّ حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ وَرَأَى فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ هَلَكَ قَالَ سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ فَيُعْطَى كِتَابَ حَسَنَاتِهِ “আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনের কাছাকাছি আসবে এবং তার উপর স্বীয় পর্দা রাখবে এবং তাকে গোপন করবে। এবং বলবে তুমি কি অমুক গুনাহ সম্পর্কে জান? তুমি কি অমুক গুনাহ সম্পর্কে জান? তখন সে উত্তরে বলবে হে আমার রব হ্যাঁ। এভাবে যখন সে তার সমস্ত গুনাহ স্বীকার করবে এবং সে মনে মনে চিন্তা করবে যে, আমি ধ্বংস হয়ে গেলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবে দুনিয়াতে আমি তোমার গুনাহগুলো গোপন রেখেছিলাম আজকের দিন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তারপর তাকে তার নেক আমলের আমল নামা দেবে।”[2] —যাতে মু’মিনদের সাথে জেরা করা হয়, কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?

উত্তর: উভয় হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ বা অসামঞ্জস্যতা নেই। কারণ, জেরার অর্থ হলো হিসাব গ্রহণ করা। আল্লাহ তা‘আলা তাকে যত নি‘আমত দিয়েছেন তা চাওয়া। কারণ, যে হিসাবের মধ্যে জেরা থাকে তার অর্থ হলো তুমি যেমনি-ভাবে নিয়েছে তেমনিভাবে পরিশোধ করবে। কিন্তু কিয়ামতের মু’মিনদের থেকে আল্লাহর হিসাব এ পর্যায়ের বা এ ধরনের হবে না। বরং তা হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রাত অনুগ্রহ ও দয়া। যখন বান্দা তার অপরাধ স্বীকার করবে তখন আল্লাহ বলবে— سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ “দুনিয়াতে আমি তোমার জন্য গোপন করেছিলাম আর আজকের দিন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম”। এবং জেরা শব্দটি দ্বারা এ কথাই প্রমাণ করে। কারণ, কোন কিছু নিয়ে জেরা করার অর্থ গ্রহণ করা ও ফেরত দেওয়া এবং কোন বস্তুর সূক্ষ্ম বিষয়ে অনুসন্ধান করা। আল্লাহর ক্ষেত্রে মু’মিন বান্দাদের সাথে এ ধরনের হিসাব কখনোই হবে না। বরং মু‘মিনদের জন্য আল্লাহর হিসাব হবে দয়া, ইহসান ও অনুগ্রহের ভিত্তিতে। জেরা করা, দেওয়া-নেওয়া ও ইনসাফের ভিত্তিতে নয়। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

[1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৩৬

[2] বর্ণনায় সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৪১

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন