কুরআন কেন আরবী ভাষায়-পাট থ্রি

আবার যদি ইংরেজিতে ‘পুরুষ-উট’ বোঝাতে যাই, তখন কী বলতে হবে? তখন বলতে হবে ‘Male Camels’ কিন্তু আমি যদি আরবীতে ‘পুরুষ-উট’ বোঝাতে চাই, আমাকে কিন্তু ইংরেজির মতো এত ঝামেলা পোহাতে হবে না। আমি স্রেফ একটি শব্দ দিয়েই কাজ সেরে ফেলতে পারব। যেমন-আমি যদি পুরুষ উটের কথা বলি, তখন খালি আরবী ‘Jamal শব্দটি বললেই হবে, ব্যস। এই শব্দ দিয়েই বোঝানোহয়ে গেছে—আমি পুরুষ উটের কথা বলছি।

আমাদের সবার চোখেমুখে বিস্ময়ের ভারি রেশ। সাজিদ বলল, “ততাদের একটি আয়াতের কথা বলি। সূরা তাকবীরের শুরুতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামতের পূর্বে ঘটবে এমন কিছু নিদর্শনের কথা বলেছেন। ওই সূরার চার নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “যখন পূর্ণকালীন গর্ভবতী উটগুলো উপেক্ষিত হবে। এই আয়াতের ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছে এরকম-“When full term she camels will be neglected।’ দেখ, বাংলায় বলা হয়েছে পূর্ণকালীন গর্ভবতী উট’, আর ইংরেজিতে বলা হয়েছে ‘Full term she camels’. উটগুলো যে নারী-উট হবে এবং সেগুলো যে পূর্ণকালীন গর্ভবতী হবে, সেটি বোঝাতে বাংলায় দরকার হয়েছে তিনটি শব্দ—পূর্ণকালীন গর্ভবতী উট আর ইংরেজিতে দরকার হয়েছে চার চারটি শব্দ—Full term she camels’ অথচ, আরবীতে পুরো ব্যাপারটির জন্যে কয়টি শব্দ দরকার হয়েছে জানিস?

রাহাত জিজ্ঞেস করল, ‘কয়টা?

‘জাস্ট ওয়ান! কুরআন কেবল ‘Ishar’ শব্দ দিয়েই পুরো ব্যাপারটি ক্লিয়ারলি বুঝিয়ে দিয়েছে। আরবীতে ‘Ishar শব্দের অর্থ হলো এমন নারী-উট, যেটি হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করবে। চিন্তা করতে পারিস আরবী ভাষার গভীরতা কতটুকু?

সঞ্জু তৃতীয়বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে চিৎকার করে উঠল। সে আরও বলল, এমন সমৃদ্ধ যে-ভাষা, সে ভাষায় কুরআন নাযিল হবে না তো কোন ভাষায় হবে? সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

বাড়ির ভেতর থেকে ডাক চলে এসেছে। সাজিদের বড় কাকা চিৎকার করে বলছেন, ‘কই রে সাজিদ! তোরা কি খাওয়া দাওয়া করবি না নাকি? ছেলেগুলো সেই কোন সন্ধ্যায় এসেছে। আরেকটু হলে তো ফজরের আযান হবে মসজিদে।

আমরা যেন কেউই সেদিকে খেয়াল দিইনি। সাজিদের কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। এত চমৎকার কুরআন নিয়ে কখনোই আমাদের সেভাবে ভাবা হয় না। সামান্য একটি শব্দের মধ্যেও যে এরকম বিস্ময় লুকিয়ে থাকতে পারে সেটি আজ সাজিদের মুখে না শুনলে বুঝতামই না।

সাজিদ বলল, এই দেখ, আমার বাড়িতে এনে তোদের না খাইয়ে লেকচার শোনাচ্ছি। চল, এবার খাওয়া-দাওয়া করা যাক…।

ভাজা ইলিশের গন্ধ আসছে নাকে। আচ্ছা, এতক্ষণ এই গন্ধ টের পাইনি কেন? কে জানে, হয়তো পেয়েছি কিন্তু সাজিদের লেকচারে এমন বুদ হয়ে ছিলাম যে ইলিশের গন্ধ নাকে লাগছে অথচ সেটি টেরই পাইনি।

সমাপ্ত

আগের অংশ টুকু পড়তে[এখানে ক্লিক করুন]

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন