মূল: ড. মাজহার কাজি । অনুবাদ: মাওলানা ফয়জুলাহ− মুজহিরী। সম্পাদনা: এম মুসলেহ উদ্দিন

কুরআন মাজিদের মুজিজার একটি অনুপম দিক হল অবিশ্বাসীদের প্রতি বহু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া। এসব চ্যালেঞ্জের সবগুলিই খুব সুনির্দিষ্ট, বলিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট। চৌদ্দশ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, তথাপি এ পর্যন্ত কেউ একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জেরও জবাবে সাড়া দিতে সক্ষম হয় নি। যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামক একজন ব্যক্তি কুরআনে এসব চ্যালেঞ্জ সন্নিবিষ্ট করতেন, তবে অসংখ্য মানুষ সেসবের জবাবে সাড়া দিত। বাস্তবতা হল, কোনো মানুষ একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জের জবাবেও সাড়া দেয় নি, যা যে কাউকে এই বিশ্বাসের পথে পরিচালিত করে যে, আল্লাহ তাআলাই এসকল চ্যালেঞ্জ কুরআন মাজিদে সন্নিবিষ্ট করেছেন। এভাবে কুরআন মাজিদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জই তা আসমানি গ্রন্থ হওয়ার সাক্ষ্য বহন করে। নিম্নে এসব চ্যালেঞ্জের কিছু নমুনা তুলে ধরা হল :

মুজিজা নং– ১৪৩

কুরআন মাজিদে সন্দেহের একটি ছায়া খুঁজে দেখাও

এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের (যারা আল্লাহর প্রতি তাদের করণীয়সমূহ সম্পর্কে সচেতন তাদের) জন্য হেদায়াত। (বাকারা, ০২ : ০২)

আর আমি আমার বান্দার ওপর (কুরআন মাজিদে) বিভিন্ন সময়ে যা নাজিল করেছি যদি তোমরা সে সম্পর্কে সন্দেহে থাক তবে তোমরা তার মত একটি ‘সুরা’ নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীসমূহকে ডাক; যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হও। (বাকারা, ০২ : ২৩)

এই কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি যা (যে ওহি) তার সামনে, তার সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা সৃষ্টিকুলেন রবের পক্ষ থেকে। (ইউনুস, ১০ : ৩৭)

এ কিতাব সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নাই। (সাজদাহ, ৩২ : ০২)

লক্ষণীয় বিষয় হল, এই আয়াতগুলি কাফিরদেরকে কুরআন মাজিদের ভুল-ত্রুটি, অসঙ্গতি কিংবা অনৈক্য খুঁজে বের করতে বলে না, বরং কুরআন মাজিদে একটি সাধারণ সন্দেহের ছায়া খুঁজে বের করতে বলে। মানব ইতিহাসে এমন কোনো বইয়ের নজির নেই যার লেখক এই দাবি করতে পেরেছেন। কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা এই দাবি করেছে।

এখন আমরা সেসব বিবিধ সন্দেহের বিশ্লেষণ করি যা কোনো বই সম্পর্কে একজন মানুষের হতে পারে। তা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত, রচিত বা প্রচারিত হতে পারে, যিনি মানব সমাজে অপরিচিত কিংবা তা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত, রচিত বা প্রচারিত হতে পারে, যার চরিত্র, আচরণ কিংবা ন্যায়পরায়নতা সন্দেহপূর্ণ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন ইতিহাসের এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা যে, তাঁর জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত, লিখিত এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে এক প্রজন্ম

থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়ে এসেছে। বস্তুত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই মানব ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যার জীবন বৃত্তান্ত বিগত চৌদ্দশ বছরের প্রত্যেক যুগের মুসলমানরাই লিপিবদ্ধ করেছে। অধিকন্তু এ সকল বিবরণ এতই ব্যাপক যে, তারা কেবল তার জীবন-বৃত্তান্ত লিখেই ক্ষান্ত হয় নি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক, আদান-প্রদান, কথা বলার ধরণ, হাঁটা-চলা, নিদ্রা যাওয়া, প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং তাঁর দেহাবয়বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের ওপরও আলোকপাত করেছে। যেমন- তাঁর দাড়িতে শুভ্র চুলের পরিমাণ কত ইত্যাদি। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণ ও ন্যায়পরায়নতা সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, মক্কায় তাঁর ঘোর শত্রুরাও তাঁকে ‘সিদ্দিক’ (সত্যবাদী) এবং ‘আল-আমিন’ (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন-ইতিহাস, চারিত্রিক ন্যায়পরায়নতা ও আচার-আচরণ সম্পর্কিত বাস্তব ঘটনাবলি এমন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের পর সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সংশয় থাকতে পারে না যিনি মানব জাতির কাছে কুরআনের বাণী প্রচার করেছেন। তিনি ইতিহাসের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বই নন, বরং একজন প্রখ্যাত ও স্বতঃসিদ্ধ সত্যের প্রচারক।

অতএব এ থেকে বুঝা যায়, কুরআন মাজিদের উৎসের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের সন্দেহের অবকাশ নেই।

দ্বিতীয় প্রকার সন্দেহ, যা একটি গ্রন্থে সৃষ্টি হতে পারে তা, তার অন্তর্নিহিত সঙ্গতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যদি একটি গ্রন্থের কিছু বর্ণনা অন্য বর্ণনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা একটি গ্রন্থের অন্তর্নিহিত সঙ্গতি কিংবা সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। পুরো কুরআন মাজিদে ৬,২৩৬টি আয়াত এবং ৮৬,৪৩২টি শব্দ রয়েছে।

তথাপি কুরআন মাজিদের একটি সাধারণ আয়াত, প্রবাদ-প্রবচন, বাগধারা কিংবা শব্দ অন্য অংশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। পক্ষান্তরে প্রত্যেকটি আয়াত ও শব্দ সমগ্র কুরআন মাজিদের টেক্সটের সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাঠক এই বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন, যদি বর্তমান বাইবেল সম্পর্কে কেবল দু’টি উদ্ধতিৃ দেয়া হয়। প্রটেস্টেন্ট খ্রিস্টানদের বাইবেলের কপিতে বই সংখ্যা ৬৬টি, যার মধ্যে ৩৯টি বই পুরাতন সমাচার থেকে এবং ২৭টি বই নতুন সমাচার থেকে। অপরপক্ষে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের বাইবেলের কপিতে বই সংখ্যা ৭৩টি; ৬৬টি বই প্রটেস্টেন্ট খ্রিস্টানদের কপি থেকে এবং ৬টি অতিরিক্ত বই যেগুলি অঢ়ড়পৎুঢ়যধ (অ্যাপোক্রাইফা) নামে পরিচিত।

বাইবেলের এই দুই ধরনের ভার্সনের অস্তিত্ব থাকার কারণে পুরো বাইবেলের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সুস্পষ্ট সন্দেহের সষ্টিৃ হয়। প্রশ্ন জাগে গ্রন্থটির কোন ভার্সনটি গ্রহণ করা যাবে, প্রটেস্টেন্ট ভার্সন না ক্যাথলিক ভার্সন? বাইবেলের একটি বিস্ময়কর অসঙ্গতি হল, এটি যীশু খ্রিস্টের (ঈসা আলাইহিস সালাম-এর) দু’টি ভিন্ন ভিন্ন বংশ তালিকা প্রদান করে। বাইবেল অনুসারে, তার একজন পূর্বপুরুষের নাম হল যোসেফ। মেথিউ ১ : ১-৭ অনুসারে যোসেফের পিতার নাম জ্যাকব। পক্ষান্তরে লূক ৩ : ২৩ অনুসারে যোসেফের পিতার নাম হেলি।

আল হামদুলিলাহ।− কুরআন মাজিদের কেবল একটি ভার্সনই সদা বিদ্যমান থেকেছে এবং এর টেক্সটও সবধরনের অসঙ্গতিরহিত। সেহেতু সন্দেহের দ্বিতীয় রূপ অর্থাৎ গ্রন্থের আভ্যন্তরীণ সঙ্গতি ও সামঞ্জস্য অনুসারেও কুরআন মাজিদে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই।

একটি গ্রন্থে তৃতীয় প্রকার যে সন্দেহের সষ্টিৃ হয় তা তার বাহ্যিক সঙ্গতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তার অর্থ, গ্রন্থটিতে এমন কোনো বর্ণনা থাকবে না, যা গ্রন্থটির বাইরের জগতের স্বতঃসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। বিগত পৃষ্ঠাগুলি তার কিছু নমুনা প্রদান করে যে, কুরআন মাজিদের

বর্ণনা শরীরবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, ভ্রূণবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, ব্যবচ্ছেদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়সহ কোনো মানবজ্ঞান জগতের সঙ্গেই অসঙ্গতি রাখে না। অধিকন্তু কুরআন মজিদ মানব জ্ঞানের সকল স্তর থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা রাখে, চাই তা প্রাচীন, সাম্প্রতিক কিংবা অতি সাম্প্রতিকই হোক না কেন।

এভাবে কুরআন মজিদ বাহ্যিক সঙ্গতির পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ। কোনো মানুষই এমন কোনো গ্রন্থ রচনা করতে পারে নি যা চিরকাল বাহ্যিক সঙ্গতির বিষয়টি রক্ষা করতে পেরেছে। প্রত্যেক বই-ই সময়ের সঙ্গে একটি ধাপ পেরিয়ে গেলে সেকেলে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে। কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা সফলতার সঙ্গে বিগত চৌদ্দশ বছর যাবৎ বাহ্যিক সঙ্গতির চ্যালেঞ্জ মুকাবেলা করেছে। মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ তাআলাই এমন একটি গ্রন্থ অবতীর্ণ করতে পারেন, যা এমন সর্বব্যাপী জ্ঞান ধারণ করে যা সকল যুগের মানুষের জ্ঞানকে পরিব্যাপ্ত করে এবং সকল জ্ঞান জগতের ওপর নিরংকুশ শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।

মুজিজা : ১৪৪

কুরআনের মত একটি গ্রন্থ নিয়ে আস

বল, যদি মানুষ ও জ্বিন এ কুরআনের অনুরূপ হাজির করার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ হাজির করতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। (ইসরা, ১৭ : ৮৮)

এই আয়াতটি সমগ্র মানব ও জ্বিন জাতিকে এ মর্মে চ্যালেঞ্জ করে যে, তারা পারলে কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ তৈরি করে নিয়ে আসুক। পাশাপাশি এও বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ তৈরি করতে কেউ কখনো সক্ষম হবে না। বাস্তবতা হল, এমনকি, এ পর্যন্ত কেউ কুরআন মাজিদের মত একটি গ্রন্থ রচনা করার চেষ্টা পর্যন্ত করে নি, যা কুরআন মজিদ আল্লাহ তাআলা কর্তকৃ অবতীর্ণ আসমানি গ্রন্থ হওয়ার ব্যাপারে আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। স্মরণ করে নেয়া ভাল যে, খৃস্টানরা বাইবেলের প্রচুর সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন তৈরি করেছে। কিন্তু কেউ কখনো কুরআন মাজিদের, এমনকি, একটি দ্বিতীয় ভার্সন পর্যন্ত প্রস্ততু করে, দেখায় নি।

মুজিজা : ১৪৫

কুরআন মাজিদের মত একটি সুরা নিয়ে আস

এ কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি, যা তার সামনে রয়েছে, তার সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নাই, যা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে। নাকি তারা বলে, ‘সে তা বানিয়েছে?’ বল, তবে তোমরা তার মত একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (তোমাদের সাহায্যের জন্য) ডাক, যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্য হয়ে থাক। (ইউনুস, ১০ : ৩৭-৩৮)

আয়াতদ্বয় সমগ্র মানব সমাজের জন্য একটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। আয়াতগুলি পরিষ্কার ভাষায় বলছে, কুরআন মাজিদ এমন একটি গ্রন্থ যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ রচনা করতে পারে না। অতঃপর বলে, যদি কেউ ধারণা করে এটি একজন মানুষ কর্তকৃ রচিত গ্রন্থ সে যেন নিদেনপক্ষে কুরআন মাজিদের মত একটি সুরা তৈরি করে নিয়ে আসে। বাস্তবতা হল, এ যাবৎ কেউ একটি সুরাও তৈরি করতে সক্ষম হয় নি, যা কুরআন মাজিদের কোনো সুরার অনুরূপ হতে পারে। আমরা এখানে একটি ঘটনার কথা স্মরণ করি, যা তৎকালীন আরব সমাজ কুরআন মাজিদের এই চ্যালেঞ্জকে কিভাবে গ্রহণ করেছিল, তার চিত্র তুলে ধরবে।

কুরআন মাজিদের সর্বকনিষ্ঠ সুরা হল আল-কাউসার (১০৮)। এতে কেবল ছোট ছোট তিনটি আয়াত রয়েছে, যা কেবল একটি সাধারণ সারিতে লেখা যেতে পারে। ঐতিহাসিকগণ বলেন, যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘোর শত্রু আবু জেহেল এই সুরা শুনতে পেল সে এতই অভিভূত হয়ে পড়েছিল যে, সে বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘সকল মহিমা প্রভুর জন্যে!’ উল্লেখ্য যে, আরবরা ছিল খুবই কাব্যানুরাগী। আর কবিতা প্রতিযোগিতা ছিল তাদের সামাজিক অনুষ্ঠান-সমাবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহাসিকগণ লিখেন, বহুদিন যাবৎ সাতটি আরবি কবিতা তৎকালীন আরবি সাহিত্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে স্বীকতৃ ছিল। এই কবিতাগুলি পৃথক পৃথকভাবে কাগজের টুকরায় লিখে কাবা শরিফের প্রধান দরজায় ঝুলানো ছিল। ইতিহাসের গ্রন্থে সেগুলি ‘সাবআ মুআলাকাত’− বা ঝুলন্ত সপ্তক নামে খ্যাত।

যখন সুরা কাউসার অবতীর্ণ হয় তখন এসব কবিতার লেখকদের মধ্যে একজন ব্যতীত সবাই মৃত্যুবরণ করে। আবু জেহেল একটি কাগজের টুকরায় সুরা কাউসার লিপিবদ্ধ করে এবং তা একমাত্র জীবিত কবির কাছে নিয়ে যায়। যখন কবি সুরা কাউসার পড়ল, সে বিস্ময়ে ফেটে পড়ল এবং বলল, ‘সকল মহিমা প্রভুর জন্যে! এটি কোনো মানুষের কথা হতে পারে না।’ সে তখন কাবা শরিফে গেল, নিজের কবিতার টুকরা সেখান থেকে সরিয়ে ফেলল এবং সেখানে সুরা কাউসার লিখিত কাগজটি ঝুলিয়ে দিল। এমনও বর্ণিত আছে যে, সুরা কাউসারের শেষ তৃতীয় আয়াত অর্থাৎ ‘ইন্না আতাইনাকাল কাউসার’-এর নিচে সে একটি ছন্দপূর্ণ লাইন যোগ করে দেয়- ‘মা হাযা কালামুল বাশার’। অর্থাৎ এটি কোনো মানুষের কথা নয়।

মুজিজা : ১৪৬

কুরআনের মত দশটি সুরা রচনা করে নিয়ে আস

নাকি তারা বলে, সে এটি রটনা করেছে? বল, ‘তাহলে তোমরা নিদেনপক্ষে দশটি সুরা বানিয়ে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার (তোমাদের সাহায্যের জন্য) ডেকে নিয়ে আস, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।(হুদ, ১১ : ১৩)

আমরা এ ক্ষেত্রে মুসলমান ও কুরআনের বিপক্ষে মক্কাবাসীদের বিদ্বেষ ও শত্রুতার কথা একটু স্মরণ করি। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, কুরআন নাজিলের সময় সকল আরব, বিশেষত যারা মক্কায় ছিল, কুরআনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। তারা কুরআনের বাণীকে মিটিয়ে দিতে এবং মুসলমানদেরকে সমূলে উৎখাত করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যায়। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথী-সঙ্গীগণসহ মদিনায় হিজরত করা পর্যন্ত তাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধে কতিপয় যুদ্ধেও লিপ্ত হয়। এতে তাদের কিছু পরাজয়, অপমান ও জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি গুণতে হয়। তারা তাদের একজন কবিকে ডেকে কুরআন মাজিদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কুরআন মাজিদের মত কিছু আয়াত রচনা করিয়ে নিলে এসকল ভোগান্তি এবং জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি সহজে এড়াতে পারত। তবে বাস্তবতা হল, আরবরা কুরআন মাজিদের চ্যালেঞ্জের মুকাবিলা করতে সক্ষম হয় নি, না এর অবতরণকালে, আর না বিগত চৌদ্দশ বছরের দীর্ঘ সময়ে।

মুজিজা : ১৪৭

কুরআন মাজিদের মত একটি বাণী তৈরি কর

তারা কি বলে, সে এটা বানিয়ে বলছে? বরং তারা ঈমান আনে না। অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে তার অনুরূপ একটি বাণী নিয়ে আসুক। (তুর, ৫২ : ৩৩-৩৪)

কুরআন মাজিদ একটি জীবন্ত মুজিজা, যা তার ভাষা, যুক্তি উপস্থাপন, অতীত ও ভবিষ্যতের ঘটনার বর্ণনা, শ্রোতাদের ওপর তার প্রতিক্রিয়া, সতর্কবাণী ও সুসংবাদ পরিবেশন, তার অন্তহীন জ্ঞান-ভাণ্ডার, মানব জীবনের ওপর তার প্রভাব এবং মানব ইতিহাস বিনির্মাণে এর ভূমিকা- সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। এই আয়াতগুলি মানব জাতিকে কুরআন মাজিদের মত একটি বাণী রচনার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত কোনো মানুষই কুরআন মাজিদের মত একটি বাণী রচনা করতে পারে নি। এ থেকে বুঝা যায়, কুরআন মাজিদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক আসমানি গ্রন্থ। তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামক একজন মানুষের রচিত নয়।

মুজিজা : ১৪৮

কুরআন মাজিদে একটি অসঙ্গতি খুঁজে বের কর

তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ হতে হত, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরিত্য দেখতে পেত।(নিসা, ০৪ : ৮২)

আসুন আমরা মানব ইতিহাসের একটি সাধারণ ঘটনা স্মরণ করি। যখন থেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর ওপর কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়, একদল কাফির সর্বদা এর বিরুদ্ধাচরণ করে আসে। তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে একথা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, কুরআন মাজিদ সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ নয়। বলাবাহুল্য, তারা উপর্যুক্ত আয়াতটি পড়েছে। বিগত চৌদ্দশ বছরে কোনো ব্যক্তিই এ যাবৎ পুরো কুরআন মাজিদে একটি বৈপরিত্য খুঁজে বের করতে পারে নি।

যদি বর্তমান সময়ের বাইবেলের ভার্সন থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেয়া হয় তবে পাঠকবৃন্দ বিষয়টি ভালভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন। বাস্তব কথা হল, বর্তমান সময়ের বাইবেলে এত বেশি বৈপরিত্য ও অসঙ্গতি বিদ্যমান এবং তা এত ভালভাবে প্রমাণিত যে, খৃস্টানদের প্রতিটি দলই তা স্বীকার করে নেয়। নিম্নে বর্তমান বাইবেলের কিছু সুপরিচিত অসঙ্গতি তুলে ধরা হল :

‘ম্যাথিউ ১০ : ২-৪- এর মধ্যে বারোজন ঈসায়ি ধর্ম প্রচারকের যে নাম দেয়া হয়েছে তা ‘লুক’ ৬ : ১৪-১৬- এর মধ্যে প্রদত্ত নামগুলি থেকে ব্যতিক্রম। আর স্যামুয়েল ৬ : ২৩ অনুসারে সল (Saul) এর কন্যা মৃত্যুর সময় কোনো ছেলে সন্তান রেখে যান নি। পক্ষান্তরে স্যামুয়েল ২১ : ১ অনুসারে তিনি পাঁচ সন্তান রেখে যান। অনুরূপভাবে জুডাস (Judas)-এর মৃত্যু সম্পর্কে বাইবেল দু’টি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করে। ম্যাথিউ ২৭ : ৫ বলে, ‘আর গীর্জার রূপার টুকরোসমূহ নিক্ষেপ করে তিনি নিষ্ক্রান্ত হন এবং চলে গিয়ে নিজেকে ফাঁসিতে ঝুলান।’ এ্যাক্ট ১ : ১৮ বলে, ‘এই লোকটি তার দুষ্টামির পুরস্কার নিয়ে একটি মাঠ ক্রয় করে এবং অধোমুখে পতিত হয়ে মাঝখানে ছিড়ে আর ফেটে যায়। তার সকল নাড়ি-ভূঁড়ি দ্রুতবেগে বের হয়ে পড়ে।’ বাইবেলের নিম্নোক্ত বাক্যটিতে অন্য একটি অসঙ্গতি দেখা লক্ষণীয় । ম্যাথিউ ১২ : ৪০ অনুসারে যীশুখৃস্ট বলেন, ‘যেহেতু যোনাহ (Jonah) তিমির পেটে তিনদিন তিনরাত ছিল, তাই মানব সন্তানও মাটির অভ্যন্তরে তিনদিন তিনরাত থাকবে।’ যীশুকে দাফন করা হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় এবং উত্তোলন করা হয় রবিবার সকালে, কেবল একদিন দুইরাত্রি পর; তিনদিন তিনরাত পরে নয়। বাইবেলের এটিও একটি অসঙ্গতি যে, লুক ২৪ : ৫১ অনুসারে যীশুর আরোহণ সংগঠিত হয় কবর থেকে উত্তোলনের দিন। পক্ষান্তরে Acts (এ্যাক্টস) ১ : ৩-৯ বলে, তা সংগঠিত হয় কবর থেকে উঠানোর চল্লিশ দিন পর। অধিকন্তু জেনেসিস (Genesis) ৬ : ৩ বলে, প্রভু মানুষের জীবনকালের ব্যাপ্তি ১২০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। পক্ষান্তরে জেনেসিস (Genesis) ১১ : ১০-৩২ বলে, কিন্তু অতি শীঘ্রই মানুষ ১৪০-৬০০ বছর জীবন লাভ করবে। তাছাড়া এক্সোডাস (Exodus) ৪ : ২২ অনুসারে প্রভুর প্রথম পুত্র হল জ্যাকব (Jacob)। কিন্তু ‘জারমিয়াহ’ (Jermiah) ৩১ : ৯ অনুসারে এফ্রাইম (Ephraim)।

এই হল, আধুনিক বাইবেলে বিদ্যমান সুস্পষ্ট অসঙ্গতি, যা একজন সাধারণ পাঠকও লক্ষ করতে সক্ষম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এ পর্যন্ত কেউ সমগ্র কুরআন মাজিদে একটি সামান্য অসঙ্গতিও আবিষ্কার করতে পারে নি। কুরআন মাজিদকে আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ গ্রন্থ বলতে বর্তমানযুগেও যারা নারাজ তাদের জন্য এ চ্যালেঞ্জ এখনো উন্মুক্ত।

মুজিজা : ১৪৯

কুরআন মাজিদের সংরক্ষণ

নিশ্চয় আমি (আল্লাহ) কুরআন নাজিল করেছি, আর আমিই তার হেফাজতকারী। (হিজর, ১৫ : ০৯)

 আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? (কামার, ৫৪ : ১৭, ২২, ৩২, ৪০)

যেসব উপায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন তার মধ্যে একটি হল, তিনি ঈমানদারদের জন্য কুরআন মুখস্ত করাকে সহজ করে দিয়েছেন। বস্তুত কুরআন মাজিদই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যা তার অনুসারীরা মুখস্ত করে থাকে। প্রতিটি মুসলিম সমাজে প্রচুর সংখ্যক ব্যক্তি কুরআন অবতরণের প্রথম দিন থেকে তা সম্পূর্ণরূপে মুখস্ত করে আসছে। পাঁচ বছরের ছোট শিশু থেকে নিয়ে ৫০ বছরের বৃদ্ধ পুরুষ-মহিলা পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার কিতাবের প্রতি ভালবাসা ও ভক্তি নিয়ে পুরো কুরআন মুখস্ত করে থাকে। যে ব্যক্তি কুরআন মাজিদ মুখস্ত করেন তাকে ‘হাফিজ’ বলা হয়। এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার যে, একজন হাফিজ কেবল পুরো কুরআন মাজিদই মুখস্ত করে না, বরং সে কুরআন মাজিদের সকল যতিচিহ্ন, প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের বর্ণসমূহ পর্যন্ত মুখস্ত করে নেয়। মুসলমানরা সারা বিশ্বে রমজান মাসে পুরো কুরআন মাজিদের তেলাওয়াত শ্রবণ করে থাকে। অধিকাংশ মুসলিম সমাজ তারাবির নামাজের ব্যবস্থা করে, যেখানে একজন হাফিজের মাধ্যমে পুরো কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করানো হয়। সে সর্বদা হাফিজদের একটি দলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, যারা তার তেলাওয়াতকে পরীক্ষা করে। এটি কুরআন মাজিদের একটি অনন্য রহস্য ও অনুপম মুজিজা। যদি একটি পুরো গ্রন্থ মুখস্ত করা মানুষের দ্বারা সম্ভব হত, নিদেনপক্ষে কিছু সংখ্যক লোক হলেও তাদের পবিত্র-কিতাবগুলো মুখস্ত করে নিত। যেহেতু, আল্লাহ তাআলা তাদের কিতাবগুলো সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন নি, তাই তিনি সেসব কিতাবের অনুসারীদেরকে তা মুখস্ত করার ক্ষমতা দেন নি।

যাহোক, আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এভাবে তার অনুসারীদেরকে তা মুখস্ত করার ক্ষমতা দান করেছেন। যে কোনো ধরনের বিকতিৃ ও বিচ্যুতি থেকে কুরআন মাজিদের নিরাপদ থাকা এবং তার বিশ্বাসীদের দ্বারা তা মুখস্ত করা মানব জাতির জন্যে একটি ওপেন চ্যালেঞ্জ।

মুজিজা : ১৫০

মৃত্যু থেকে পলায়ন

তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবে যদিও তোমরা সুদৃঢ় দূর্গে অবস্থান কর। (নিসা, ০৪ : ৭৮)

বল, ‘তোমাদেরকে মৃত্যু দিবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সাজদাহ, ৩২ : ১১)

একজন সাধারণ পাঠক এই আয়াতগুলোতে কোনো বিশেষ কিছু কিংবা স্বতন্ত্র বিষয় দেখতে নাও পেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই আয়াতগুলো মানব সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ। আয়াতএগুলিতে দুটি বিষয় ব্যক্ত হয়েছে। প্রথমত, মৃত্যু অনস্বীকার্য এবং কেউ তা থেকে পালাতে পারে না। দ্বিতীয়ত, মৃত্যুর দিনক্ষণ একটি গুপ্ত বিষয়, যা কেবল আল্লাহ তাআলাই জানেন এবং কেউ তা কখনো জানতে পারবে না। এমনকি একজন নাস্তিক ও স্বীকার করে যে, আল্লাহর শক্তির কাছে সে অসহায় এবং নিজের মৃত্যুর সময়টাকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অধিকন্তু কোনো বিজ্ঞানীই এ পর্যন্ত কারো মৃত্যুর সময় সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতে পারে নি। আমরা জীবন ও মৃত্যুর ওপর আল্লাহ তাআলার সার্বভৌম ক্ষমতার অসংখ্য প্রমাণ প্রত্যক্ষ করি।

অনেকই আছে যারা সাময়িক রোগ-যন্ত্রণায় ভোগে এবং বহু বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। আবার অনেকই এমন আছে যারা সুস্থ জীবন যাপন করে এবং হঠাৎ করে মৃত্যুবরণ করে। অধিকন্তু কারও অসুস্থতা যতই তীব্র হোক না কেন তা কোনো ব্যাপার নয়, কোনো চিকিৎসকই কারো মৃত্যুর সময় সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতে পারে না। এটি এমন একটি জ্ঞান, যা না এ পর্যন্ত কেউ অর্জন করতে পেরেছে, আর না অর্জন করতে পারে। কারো মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কেবল আল্লাহ তাআলাই অবগত আছেন।

মুজিজা : ১৫১

আল্লাহ তাআলার সার্বভৌম ক্ষমতা

তবে কি তোমরা এই বাণীকে (কুরআনকে) তুচ্ছ জ্ঞান করছ? আর তোমরা রিজিক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে। সুতরাং কেন নয়- যখন রুহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়? আর তোমরা তখন কেবল চেয়ে থাক। আর তোমাদের চাইতে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন ফিরিয়ে আনছ না রুহকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? (ওয়াকিয়া, ৫৬ : ৮১-৮৭)

এই আয়াতগুলি ব্যাখ্যা ব্যতীতই বোধগম্য। কুরআন মাজিদ মানব জাতিকে এই ওপেন চ্যালেঞ্জ প্রদান করে যে, কোনো মানুষই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার পথে অন্তরায় হতে পারে না। এক আল্লাহ তাআলাই মানব জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেন। কোনো মানুষই কখনো সাহায্যপ্রাপ্ত হয় নি কিংবা সেই ব্যক্তিকে কখনো সাহায্য করতে পারে নি যার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। প্রায়ই এমন ঘটে থাকে যে, ডাক্তাররা কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা এমন রোগে মৃত্যবরণ করে, যে রোগে তারা বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এই আয়াতগুলো সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার সার্বভৌম আদেশ ও ক্ষমতার কথা বলে। চলুন আমরা তার আদেশের কাছে মাথা নত করি এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ও চলনে-বলনে কুরআন মাজিদকে আসমানি বার্তা ও নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করি।চ্যালেঞ্জ

বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সবকিছুর ওপর শক্তিমান। যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিকে থেকে উত্তম? আর তিনি মহাপরগমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল। (মুলক, ৬৭ : ০১-০২)

(লক্ষ কর,) নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। যারা আলাহকে− স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে রক্ষা কর’।

আল কুরআনের ১৬০ মুজিজা ও রহস্য বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন