কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— من أتى كاهنا أو عرافا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم “মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করল

প্রশ্ন: من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না।”[1] অনুরূপ হাদীস— من أتى كاهنا أو عرافا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم “যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষী বা গণকের কাছে আসল, এবং তার কথায় বিশ্বাস করল, সে মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি কুফরী করল।”[2] বিশ্বাস মানুষের সাথে স্থায়ী হয় নাকি ক্ষণস্থায়ী অর্থাৎ এখন জিজ্ঞাসা করল কিছুসময় মানল, পরে আর তা মানল না। নাকি স্থায়ী হওয়া অর্থ এই যে, তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করল এবং সে তাকে পথ দেখালও এমন….?

উত্তর: প্রথম হাদীসের শব্দে ‘তাকে বিশ্বাস করল’ কথাটি নেই। তাতে রয়েছে— من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না” এখানে বিশ্বাস করা নেই। আর দ্বিতীয় হাদীসে বিশ্বাস করা কথাটি রয়েছে। এ ব্যক্তি কাফের হওয়ার কারণ, তার অন্তরে এ বিশ্বাস জন্মে যে, গণক বা জ্যোতিষী সত্যবাদী, তার কথা গাইবী কথা ও ভবিষ্যতবাণী। আর এগুলো সবই অর্ন্তভুক্ত করে আল্লাহর বাণীর প্রতি কুফরী করাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  قل لا يعلم من في السموت و الأرض الغيب إلا الله“বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনের গাইব আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।” প্রথম অবস্থায় বিশ্বাস করাই যথেষ্ট। তার অর্থ এ নয় যে, বাস্তবের সাথে ঘটনা মিলে কিনা সে পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হবে। যদি মিলে বিশ্বাস করবে আর যদি না মিলে বিশ্বাস করবে না। যদি কোন ব্যক্তি এরকম অপেক্ষা করে এবং বলে আমি দেখব যে, গণক যা বলেছে সত্য হয় কিনা? এ ব্যক্তি বাস্তবে তাকে বিশ্বাস করল না। তবে গণকের কাছে গমনের কারণে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। বিশ্বাস বলা হয়, তার কথার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা ও তাকে সত্য বলে জানা এবং এ কথা বিশ্বাস করা যে, তার কথার বাস্তবায়ন হবেই। আর যদি এ কথা বলে, আমি দেখব লোকটি সত্যবাদী কিনা মিথ্যাবাদী— একে বিশ্বাস বলে না এবং লোকটি গণককে বিশ্বাস করছে এ কথা বলা যাবে না। অনুরূপভাবে কেউ যদি গণক ও জ্যোতিষীর কাছে তার মিথ্যুক হওয়া প্রমাণ করার জন্য আসে এবং কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে তাতে কোন গুনাহ হবে না। কারণ, ইবন সাইয়্যাদ যে গাইব জানে বলে দাবি করছিল তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পূর্ণ গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, «اخْسَأْ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ»..“চুপ থাক, তুমি গণক ছাড়া আর কিছুই নয় এবং অহীর মাধ্যমে গাইবী বিষয় জানা পর্যন্ত কখনোই পৌছবে না।”[3] আল্লাহ তা‘আল্লাই তাওফীক দাতা

শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৩০

[2] মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৯৫৩২

[3] সহীহ বুখারী হাদীন নং ১৩৫৪

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন