মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

নাস্তিক প্রশ্ন : একমাত্র আল্লাহ জানেন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে (Qur’an ৩৪ : ৩১), যা অন্য কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয় (Sahih Bukhari ২:১৭:১৪৯)! তিনি কি জানতেন না ভবিষ্যতে আল্টাসনোগ্রাফি আবিষ্কৃত হবে?
উত্তর : কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে,
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাতৃগর্ভে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।”[১৬০] রাসুলুল্লাহ  বলেছেন:“গায়েবের কুঞ্জি হলো পাঁচটি, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। কেউ জানে না যে, আগামীকাল কী ঘটবে। কেউ জানে না যে, মায়ের গর্ভে কী আছে। কেউ জানে না যে, আগামীকাল সে কী অর্জন করবে। কেউ জানে। না যে, সে কোথায় মারা যাবে। কেউ জানে না যে, কখন বৃষ্টি হবে।”[১৬১] এখানে আলোচ্য আয়াত বা হাদিসে কোথাও এটা বলা হয়নি যে—“একমাত্র আল্লাহই জানেন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে।” ছেলে বা মেয়ের কথাই আলোচ্য আয়াত বা হাদিসে আসেনি। এখানে কোথাও লিঙ্গের কথা বলা হয়নি। এটি অভিযোগকারীরা নিজে থেকে যোগ করেছে কুরআন ও হাদিসের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার জন্য। লিঙ্গ  শব্দটি পুরো কুরআনেও কোথাও আসেনি। আলোচ্য আয়াত ও হাদিসে বলা হয়েছে যে—মাতৃগর্ভে যা থাকে, আল্লাহই তা জানেন এবং তিনি ছাড়া কেউ জানে না। এখানে “মায়ের গর্ভে কী আছে” বলতে শুধু ছেলেসন্তান বা মেয়েসন্তানই বোঝায় না; বরং এর সাথে সাথে কীরকম হায়াতপ্রাপ্ত সন্তান, নেক সন্তান নাকি পাপী সন্তান, কীরকম রিযিকপ্রাপ্ত সন্তান, কেমন স্বভাবের সন্তান— এই সবকিছুকেই বোঝায়।[১৬২] এ ছাড়া সন্তানটি সুস্থ সন্তান নাকি বিকলাঙ্গ সন্তান, দেখতে কেমন হবে এগুলোও এসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। “মায়ের গর্ভে কী আছে” বলতে এর সবগুলোকেই বোঝায় এবং এই সমস্ত তথ্য সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা অধিক জ্ঞাত। কীরকম হায়াতপ্রাপ্ত সন্তান, নেক সন্তান নাকি পাপী সন্তান, কীরকম রিযিকপ্রাপ্ত সন্তান—আল্লাহ ব্যতীত আর কারও পক্ষে এইসব তথ্য জানা সম্ভব নয়। আল্টাসনোগ্রাফি বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগুলো জানা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া আন্ট্রাসনোগ্রাফি দ্বারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর সন্তানের লিঙ্গ জানা যায়। গর্ভধারণের ১১ সপ্তাহের আগে কোনোক্রমেই জানা সম্ভব না, সন্তানটির লিঙ্গ কী হবে।[১৬৩] এগুলো হচ্ছে গায়েবের সংবাদ যা কোনো মানুষের পক্ষে জানা অসম্ভব; যেমনভাবে কেউ জানে না পরদিন সে কী উপার্জন করবে বা কোন দেশে সে মারা যাবে। এমনকি ১০০% নিখুঁতভাবে এটাও বলা সম্ভব না যে, কখন বৃষ্টি হবে। বাতাসের আর্দ্রতা, মেঘের অবস্থান এসব জিনিস দেখে আবহাওয়াবিদগণ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেন। কিন্তু কখন কোথায় মেঘ জমবে এটা নিশ্চিতভাবে তারা বলতে পারেন না। আবহাওয়াবিদগণ শুধু একটা সম্ভাব্যতা বলতে পারেন, কিন্তু তা কখনো শতভাগ নির্ভুল হয় না।।
কাজেই আলোচ্য আয়াত ও হাদিসে যথার্থরূপেই বলা হয়েছে যে—একমাত্র আল্লাহই জানেন মায়ের গর্ভে কী আছে।

রিফারেন্সঃ
[১৬০] আল কুরআন, লুকমান ৩১ : ৩৪
[১৬১] সহীহ বুখারী; খণ্ড ২, অধ্যায় ১৭, হাদিস নং : ১৪৯
[১৬২] তাফসির ইবন কাসির, সূরা লুকমানের ৩৪ নং আয়াতের তাফসির; ‘কুরআনুল কারিম বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির (ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া), ২য় খণ্ড, সূরা লুকমানের ৩৪ নং আয়াতের তাফসির
[১৬৩] “When will I be able to find out my baby’s gender on a scan?” (Baby Center) https://www.babycenter.com.au/x2200/when-will-i-be-able-to-find-out-my-babys-genderon-a-scan

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন