গল্পে জল্পে ডারউইনিজম-পাট টু

সেদিন বিভাস মণ্ডল বেশ সুন্দরভাবেই সৌরভের এই প্রশ্নকে এড়িয়ে গিয়েছিল। আজ সৌরভ বুঝতে পারছে আসলে কমিউনিজম আর এথেইজম তথা ডারউইনিজমের মধ্যে কী সম্পর্ক। সে আবার পড়া শুরু করে দেয় সাজিদের ডায়েরি :

‘কার্ল মার্ক্সের ফিলোসফিকে যে-ব্যক্তি বাস্তব রূপ দান করে, তার নাম লেনিন। ইতিহাসের ছাত্র মাত্রই নামটির সাথে পরিচিত। Communist Bolsheviks Movement নামের একটি ইতিহাস বিখ্যাত আন্দোলনের মাধ্যমে লেনিন রাশিয়ার ক্ষমতা দখল করে। বলাই বাহুল্য, এই আন্দোলন রাশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম একটি রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ছিল। এই আন্দোলনে মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ এবং বাস্তুহারা হয়েছিল অনেক মানুষ। মার্ক্সের অন্যতম শিষ্য, কমিউনিজমের ঝাণ্ডাবাহী এই লেনিনও ছিল ডারউইনের গুণমুগ্ধ ভক্ত। ডারউইন সম্পর্কে সে লিখেছে, ‘Darwin put an end to the belief that the animal and vegetable species bear no relation to one another, except by chance, and that they were created by God, and hence immutable.[১]

মানে, ধর্মবাদী ধার্মিকরা উদ্ভিদ এবং প্রাণীর ব্যাপারে যে প্রথাগত বিশ্বাস রাখে, সেই বিশ্বাসের ইতি ঘটিয়েছেন ডারউইন। লেনিনের পরে রাশিয়ার ক্ষমতা দখল করে আরেক নাস্তিক, বস্তুবাদী কমিউনিস্ট স্ট্যালিন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্ট্যালিন হত্যা করেছিল প্রায় এক মিলিয়ন মানুষকে এবং ঘরবাড়ি ছাড়া করেছিল বিশ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে। এই স্টালিনও ছিল ডারউইনের একজন তুখোড় ভক্ত। ডারউইন সম্পর্কে স্ট্যালিন লিখেছে, “There are three things that we do to disabuse the minds of our seminary students. We had to teach them the age of the earth, the geologic origin, and Darwin’s teachings.’

ছোটবেলা থেকেই স্ট্যালিন ডারউইনের ফ্যান হয়ে পড়ে। স্ট্যালিনের এক বাল্যবন্ধু স্ট্যালিনের জীবনী লিখেছিল। সেখানে তিনি জানিয়েছেন যে, স্ট্যালিন মূলত ডারউইনের বইপত্র পড়েই নাস্তিক হয়ে পড়ে এবং তার সেই বন্ধুকে ডারউইনের বইপত্র পড়ার জন্যে চাপ প্রয়োগ করত। তিনি লেখেন, ‘At a very early age, while still a pupil in the ecclesiastical school, Comrade Stalin developed a critical mind and revolutionary sentiments. He began to read Darwin and became an atheist’. [২]

হিটলার, মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেলিন এবং স্ট্যালিন। পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ ঘটিয়েছে হত্যাকাণ্ড, কেউ বপন করেছে নাস্তিকতার বীজ। এদের সবার মূল গিয়ে পৌঁছেছে একটি জায়গায়—ডারউইন এবং ডারউইনিজম; কিন্তু কোনোএক অদ্ভুত কারণে আমাদের ইতিহাস কিংবা বিজ্ঞানের কোনোপাঠ্যতালিকায় আমরা এই ইতিহাসগুলো খুঁজে পাই না। সবখানে একটা আবছা অন্ধকার!

সাজিদের ডায়েরিতে এই পর্যন্তই লেখা। সৌরভ ডায়েরিটি বন্ধ করল। এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি না বলেছিলে সাজিদ ভাইয়ার কোনো এক স্যার তাকে কী একটি নামে ডাকে?’। আমি বললাম, “হু। মফিজুর রহমান স্যার। সাজিদকে মি. আইন্সটাইন বলে ডাকে, ব্যঙ্গ করে।

‘তিনি কিন্তু খুব একটা খারাপ বলেন না।

সৌরভের কথা শুনে আমার চোখ কপালে উঠে গেল। বললাম, “মানে? সৌরভ মুচকি হেসে বলল, “সাজিদ ভাইয়া হলো আমাদের আইনস্টাইন। হা-হা-হা-হা…। আমি সৌরভের চেহারার দিকে তাকালাম ভালো করে। ছেলেটি তখনো হাসছে। তার গালে সুন্দর একটি টোল পড়েছে। ভারি সুন্দর!

সমাপ্ত।

পদটিকা:
[১] Landmarks in the life of Stalin, E. Yaroslavsky, Page : 08
[২] Landmarks in the life of Stalin, E. Yaroslavsky, Page : 08

আগের অংশ টুকু পড়তে[এখানে ক্লিক করুন]

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

4 মন্তব্য

  1. Imran Hasan Shovo

    আবারও, জাজাকাল্লাহ খাইরান❤
    আল্লাহ আপনাদের উওম প্রতিদান দান করুক। আল মুহাইমিন, আল মুমিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন