মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

সম্প্রতি ড্যান গিবসন নামক এক ব্যক্তি ইসলামের তীর্থভূমি মক্কার অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে ‘The Sacred City’ নামে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও নির্মাণ করেছে। অনেকগুলো ভাষায় ডাব করা এই ডকুমেন্টারিটির বাংলা রূপ হচ্ছে: ‘সেই পবিত্র শহর’ বা “পবিত্র নগরী ইসলামের আসল জন্মস্থানের সন্ধানে”। ভিডিওটি সে তার Qur’anic Geography বইয়ের ওপর ভিত্তি করে বানিয়েছে। সেখানে এই কানাডিয়ান তথাকথিত গবেষক দাবি করেছে যে, মহানবী মুহাম্মাদ -এর জন্মভূমি মক্কায় ছিল না, বরং জর্ডানের পেট্রা নগরীতে ছিল। শুধু তা-ই নয়, মক্কার সাথে জড়িত সব জিনিসকে যেমন : কা’বা গৃহও প্রকৃতপক্ষে পেট্রায় ছিল বলে সে দাবি করেছে। সে ওই ভিডিওতে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছে যে, মুসলিমরা এতদিন ভুল কিবলার দিকে ফিরে সলাত (নামাজ) পড়ে আসছে, ভুল জায়গায় হজ করছে। আব্বাসী শাসনামলের লেখকেরা নাকি কুরআন, হাদিস, সিরাত সব জায়গা থেকে পবিত্র নগরীর নাম পরিবর্তন করে মক্কার নাম বসিয়ে দিয়েছে!!! ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং মুসলিমদের বিভ্রান্ত ও সংশয়াচ্ছন্ন করার মিশন নিয়ে যুগে যুগেই কথিত ‘গবেষক’ ও ‘বিশেষজ্ঞরা ইসলাম-সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভট মতবাদ প্রচার করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ড্যান গিবসনের এই ডকুমেন্টারি। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সুচতুরভাবে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশেও এই বিভ্রান্তিকর ভিডিওটি ব্যাপক ফিতনা ছড়িয়ে দিয়েছে বলে এই লেখা। ইসলামের কিবলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও খ্রিষ্টান মিশনারি ও প্রাচ্যবিদ (orientalist)রা এই ধরনের অভিযোগ তুলেছে। অতীতে “আসল কিবলা জেরুজালেমের দিকে” বলে ওরা মিথ্যাচারের চেষ্টা করেছে। এখন ওরা নতুন করে পেট্রার দিকে কিবলা ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে।

ড্যান গিবসনের ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের সেই ভিডিওটিতে এত পরিমাণে ভুল ও বিকৃত তথ্য আছে যে, তার ফিরিস্তি দিলে বিশাল কলেবরের এক বই হয়ে যাবে।

কাজেই এত বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে সংক্ষেপে কিছু তথ্য উল্লেখ করব—যা প্রমাণ করবে যে ড্যান গিবসনের ডকুমেন্টারিতে যা দেখানো হয়েছে তা সঠিক নয়; পেট্রা নয় বরং মক্কাই ছিল রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ -এর বাসভূমি। আল্লাহর তাওফিক কামনা করছি।।

‘মসজিদ’ মানে কী?

ড্যান গিবসন এমনই ‘বিশেষজ্ঞ যে, এই ডকুমেন্টারিতে সে উল্লেখ করেছে, ‘মসজিদ’  মানে জমায়েতস্থল। মসজিদের মানে নাকি ইসলামপূর্ব যুগে ‘জমায়েত’ বা ‘সমাবেশস্থল ছিল, ইসলাম-পরবর্তী যুগে নাকি এর মানে হয়েছে ‘ইবাদতখানা’! আমার প্রশ্ন হচ্ছে—এমন উদ্ভট তথ্য সে কোত্থেকে পেয়েছে? ‘ডু’ ক্রিয়াপদের বিশেষ্য ‘মসজিদ’ এর শাব্দিক অর্থ সিজদা করার স্থান।[১৬৪] ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সলাত (নামাজ) আদায় করার স্থানকে মসজিদ বলে। শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল উসাইমিন(র.) তাঁর মসজিদ ও নামাজঘর-সংক্রান্ত এক ফতোয়ায় বলেছেন : “সুনির্দিষ্ট অর্থে মসজিদ হচ্ছে একটি স্থান যেদিকে স্থায়ীভাবে সলাতের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বণ্টন করা হয়েছে, হোক সেটি পাথর, কাদা বা সিমেন্টে বানানো অথবা তা দ্বারা না বানানো।”[১৬৫]

এর মানে মোটেও ‘সমাবেশস্থল’ না। মসজিদগুলোতে মানুষের সমাবেশ দেখে। আন্দাজের ভিত্তিতে এমন ‘বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছে এই লোকটি। মসজিদুল হারামের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে মসজিদ শব্দের অর্থই ঠিকভাবে বলতে পারলেন না এই ‘বিশেষজ্ঞ। কাজেই এমন ‘বিশেষজ্ঞ’ থেকে জ্ঞান নেবার আগে ২ বার ভাবা উচিত৷

প্রাচীনকালের নথিপত্র ও মানচিত্রে কি আসলেই মক্কার কথা উল্লেখ নেই?

ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে দাবি করেছে, সে প্রাচীনকালের কোনো মানচিত্রেই মক্কার অস্তিত্ব পায়নি। মক্কার কথা নাকি কেউ উল্লেখ করেনি। এটা একেবারেই বিভ্রান্তিকর একটি কথা। মক্কার প্রাচীন নাম ছিল ‘বাক্কা’ এবং ইহুদিখ্রিষ্টানদের গ্রন্থ থেকে শুরু করে বহু সূত্র দ্বারা ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই মক্কার অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়।[১৬৬] ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে রাসুল এর হাজার বছর পরের সময়কালের বিভিন্ন মানচিত্র দেখিয়ে দাবি করার চেষ্টা করেছে যে, প্রাচীন কোনো মানচিত্রেই নাকি মক্কার কথা নেই। অথচ সেই মানচিত্রগুলোতেও বিভিন্ন ভাষায় মক্কার নাম দেখা যায়। তার এহেন অসাধু কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে আর কলেবর বৃদ্ধি করলাম না। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, প্রাচীন ইতিহাসবেত্তারা মক্কা নগরীর কথা উল্লেখ করেছেন। খ্রিষ্টপূর্ব যুগের একজন গ্রিক ইতিহাসবিদ Diodorus Siculus (৯০ খ্রি.পূ.-৩০ খ্রি. পূ.) মক্কা নগরীর কা’বার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। [১৬৭]

John Reynell Morell উল্লেখ করেছেনঃ
“historically speaking, Mecca was a holy city long before Mohammed. Diodorus siculus, following agatharcides, relates that not far from the red sea, between the country of the Sabeans and of the Thamudites there existed a celebrated temple, venerated throughout Arabia.”[১৬৮] অর্থাৎ, ঐতিহাসিকভাবে মুহাম্মাদ ﷺ -এর বহু আগে থেকেই মক্কা ছিল এক পবিত্র নগরী। agatharcides (২য় শতকের একজন গ্রিক ঐতিহাসিক ও ভুগোলবিদ) এর সাথে সাথে Diodorus Siculus ও উল্লেখ করেছেন যে, এটি লোহিত সাগর থেকে বেশি দূরে নয়। এটি সাবেঈ ও সামুদদের (প্রাচীন আরবীয় জাতিগোষ্ঠী) ভুমির মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এবং সেখানে একটি উপাসনালয় [কা’বা] আছে যেটিকে সমগ্র আরবে সম্মান করা হয়।

এ ব্যাপারে Encyclopedia Britannica তে বলা হয়েছে:
“The reign of the heavenly orbs could not be extended beyond the visible sphere; and some metaphorical powers were necessary to sustain the transmigration of the souls and the resurrection of bodies: a camel was left to perish on the grave, that he might serve his master in another life; and the invocation of departed spirits implies that they were still endowed with consciousness and power. Each tribe, each family, each independent warrior, created and changed the rites and the object of this fantastic worship; but the nation in every age has bowed to the religion as well as to the language, of Mecca. The genuine antiquity of the Caaba (ka’bah) extends beyond the Christian era: in describing the coast of the Red Sea, the Greek historian Diodorus has remarked, between the Thamaudites and the Sabeans a famous temple, whose superior sanctity was revered by ALL THE ARABIANS: the linen or silken veil, which is annually renewed by the Turkish Emperor, was first offered by a pious King of the Homerites, who reigned 700 years before the time of Mahomet (Muhammad). [১৬৯]

অর্থাৎ, কা’বার প্রকৃত সময়কাল খ্রিষ্টীয় যুগেরও আগ থেকে। লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে গ্রিক ইতিহাসবিদ ডিওডােরাস উল্লেখ করেন, সামুদ ও সাবেঈদের (প্রাচীন আরবীয় জাতিগোষ্ঠী) মাঝে একটি বিখ্যাত উপাসনালয় [কা’বা] আছে, যেটির শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা সমগ্র আরব জাতি স্বীকার করত।
আলেকজান্দ্রিয়ার প্রখ্যাত গ্রিক-রোমান (Greco-Roman) পণ্ডিত ক্লডিয়াস টলেমি (Claudius Ptolemy) {১০০ খ্রি.-১৭০ খ্রি.) মক্কা নগরীর কথা উল্লেখ করেছেন। Encyclopedia Britannica তে বলা হয়েছে যে, মক্কার আদি নাম ‘বাক্কা’ এবং টলেমি মক্কা নগরীকে ‘মাকোরাবা’ বলে উল্লেখ করেছেন।[১৭০]

‘The New Encyclopedia of Islam’ এ বলা হয়েছে,
“Mecca (Makkah al-Mukarramah, lit ‘Mecca the blessed’). For thousands of years Mecca has been a spiritual center. Ptolemy, the second century Greek geographer, mentioned Mecca, calling it ‘Makoraba’ (Macoraba). Some have interpreted this to mean temple (from Maqribah in south Arabian) but it may also mean ‘Mecca of the Arabs’ “[১৭১]
অর্থাৎ, গ্রিক ভূগোলবিদ টলেমি মক্কার কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি একে ‘মাকোরাবা’ বলে উল্লেখ করেছেন।এমনকি ২য় শতকের এই গ্রিক পণ্ডিতের অঙ্কিত মানচিত্রেও মক্কা নগরীর উল্লেখ আছে। মানচিত্রটি নিম্নরূপ:
7 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।প্রাচীন গ্রিক পণ্ডিত টলেমির (১০০ খ্রি.-১৭০ খ্রি.) মানচিত্রে মক্কার (Macoraba) উল্লেখ।ডানে মক্কার অবস্থানটি জুম করে দেখানো হয়েছে।[১৭২]

অর্থাৎ রাসুল ﷺ -এর সময়েরও বহুকাল আগে মক্কা নগরীর অস্তিত্বের বিবরণসংবলিত নথিপত্র ও মানচিত্র সবই আছে। তাহলে ড্যান গিবসন কিসের ভিত্তিতে বলল যে, মক্কার কোনো বিবরণ সে পায়নি? এর অর্থ হচ্ছে, হয় সে কোনো বিশেষজ্ঞই না, বরং আন্দাজে মন্তব্য করা অজ্ঞ মূর্খ অথবা সে একজন প্রতারক ও ষড়যন্ত্রকারী, যে হীন উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাচার করেছে। সঠিক জ্ঞান আল্লাহরই নিকট।

‘সকল নগরীর মাতা’

ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে বার বার বলেছে যে, সেই পবিত্র নগরীর নাম ছিল ‘সকল নগরীর মাতা’। সে বলতে চেয়েছে, বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল বলে পবিত্র নগরীর এই নাম দেওয়া হয়েছে এবং এ থেকে প্রমাণ হয় যে,নগরীটি ছিল পেট্রা। আল কুরআনে মক্কা নগরীকে বলা হয়েছে। যার মানে হচ্ছে নগর সমূহের মাতা।[১৭৩] কিন্তু আল কুরআনে কেন এই নাম দেওয়া হয়েছে? ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুয়ায়ী মক্কা থেকে পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা হয়েছে এবং এ কারণেই মক্কার এই নাম দেওয়া হয়েছে। তাফসির গ্রন্থসমূহে এটাই উল্লেখ আছে।[১৭৪] ইসলামের পবিত্র নগরীর এই নামের ব্যাপারে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি তথ্য উপস্থাপন করেছে ড্যান গিবসন। সকল নগরীর মাতা’ হবার সাথে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হবার কোনো সম্পর্ক নেই।।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র

ড্যান গিবসন তার বিভ্রান্তিকর ডকুমেন্টারিতে দাবি করেছে—মক্কা কখনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল না এবং এটি সমস্ত বাণিজ্যিক রুট বা যাত্রা পথের বাইরে ছিল। এ কথা বলে সে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, ইসলামের পবিত্র নগরী আসলে পেট্রা। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে তার এই কথার সমর্থনে কোনো ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ নেই। সে কোনো বিশেষজ্ঞের নাম উল্লেখ করে এসব কথা বলেনি; বরং নিজের মনগড়া কথাই বলে গেছে। পুরো ডকুমেন্টারি জুড়েই এ অবস্থা ছিল।

New World Encyclopedia o TOT 263169:
Academic historians state with certainty only that Mecca was a shrine and trading center for a number of generations before the Prophet Muhammad.”[১৭৫] অর্থাৎ, একাডেমিক ইতিহাসবিদরা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর বহু প্রজন্ম আগে থেকেই মক্কা ছিল ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র

Encyclopædia Britannica তে বলা হয়েছে:
“Ancient Mecca was an oasis on the old caravan trade route that linked the Mediterranean world with South Arabia, East Africa, and South Asia. The town was located about midway between Marib in the south and Petra in the north, and it gradually developed by Roman and Byzantinetimes into an important trade and religious centre. Ptolemy’s inclusion of Macoraba, a city of the Arabian interior, in his Guide to Geographywas long held to show that Mecca was known to the Hellenistic world.”[১৭৬] অর্থাৎ, প্রাচীন মক্কা কাফেলাগুলোর বহু পুরোনো বাণিজ্যিক যাত্রাপথ বা রুটের ওপর অবস্থিত একটি মরূদ্যান ছিল, যা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সাথে দক্ষিণ আরব, পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করেছিল। শহরটির অবস্থান ছিল দক্ষিণে মারিব ও উত্তরে পেট্রার মাঝামাঝি এবং রোমক ও বাইজানটাইনদের দ্বারা এটি ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়। টলেমি তাঁর গাইড টু জিওগ্রাফিতে মাকোরাবা (মক্কা) কে আরবের ভেতরের একটি নগর বলে উল্লেখ করেছেন, যা দ্বারা প্রমাণ হয় মক্কা হেলেনীয় (গ্রিক) দুনিয়ায় পরিচিত ছিল।

প্রাচীন মক্কা সম্পর্কে Jewish Virtual Library তে উল্লেখ করা হয়েছে :
”Mecca’s prominence as a trading center also surpassed the cities of Petra and Palmyra”[১৭৭] অর্থাৎ, বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে মক্কার প্রাধান্য পেট্রা ও পালমিরা নগরকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

World History -Patterns Of Interaction (McDougal Littell) 216357 ১০ম অধ্যায়ের ‘The Rise Of Islam’ পরিচ্ছেদে মুহাম্মাদ ﷺ -এর পূর্বযুগে মক্কার বিবরণ দিতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে :
By the early 600s, trade routes connected Arabia to the major ocean and land trade routes, as you can see on the map on the next page. Trade routes through Arabia ran from the extreme south of the peninsula to the Byzantine and Sassanid (Persian) empires to the north. Merchants from these two empires moved along the caravan routes, trading for goods from the Silk Roads of the east. They transported spices and incense from Yemen and other products to the west. They also carried information and ideas from the world outside Arabia.
Mecca: During certain holy months, caravans stopped in Mecca, a city in western Arabia. They brought religious pilgrims who came to worship at an ancient shrine in the city called the Ka’aba. The Arabs associated this house of worship with Abraham, a Hebrew prophet and a believer in one God. Over the years, they had introduced the worship of many gods and spirits to the place. The Ka’aba contained over 360 idols brought by many tribes.[১৭৮] অর্থাৎ – সপ্তম শতকের প্রথম ভাগে যে বাণিজ্যিক যাত্রাপথগুলো আরব দেশের সাথে প্রধান প্রধান সাগরগুলোকে এবং স্থলজ বাণিজ্যিক যাত্রাপথগুলোকে সংযুক্ত করেছিল তা মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে। আরবের বাণিজ্যিক যাত্রাপথগুলো এ উপদ্বীপের একদম দক্ষিণ দিক থেকে উত্তরে বাইজানটাইন (রোমক) এবং সাসানীয় (পারস্য সাম্রাজ্য পর্যন্ত চলে গিয়েছে। এই দুই সাম্রাজ্যের বণিকেরা পূর্বে সিল্ক রোড থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্রের কেনাবেচা করত ও কাফেলার পথগুলো দিয়ে যাতায়াত করত। তারা ইয়েমেন থেকে মশলা ও ধুপ আনা-নেয়া করত এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি পাশ্চাত্যে নিয়ে যেত। সেই সাথে তারা আরবের বাইরের বিশ্বের বিভিন্ন তথ্য ও মতাদর্শও বহন করে আনতে।
মক্কা : হারাম মাসগুলোতে বিভিন্ন কাফেলা মক্কা নামক আরবের পশ্চিম দিকের একটা শহরে যাত্রাবিরতি করত। তারা হজযাত্রীদের নিয়ে আসতো, যারা কাবা নামক সুপ্রাচীন এক তীর্থস্থানে উপাসনার জন্য আসতো। আরবরা এই ঘরটিকে (কাবা) ইব্রাহিমের (আ.) নামক ইহুদিদের একজন নবীর সাথে সংশ্লিষ্ট করত, যিনি ছিলেন এক-অদ্বিতীয় ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কালের পরিক্রমায় তারা ঐ স্থানে বহু দেবতা এবং আত্মার (বা জিনের) উপাসনার উদ্ভাবন করেছিল। বিভিন্ন গোত্রের নিয়ে আসা প্রায় ৩৬০টি মূর্তি কা’বায় অবস্থান করছিল।।

8 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের মানচিত্রে বাণিজ্যিক কেন্দ্র মক্কা[১৭৯]

এখানে সুস্পষ্টভাবে আরবের সাথে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক যাত্রাপথের সংযোগের কথা এবং মক্কায় কাবা ঘরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে ৫৭০ সালে মক্কা। যে বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, মানচিত্রে সেটিও দেখানো হয়েছে।আমরা এর আগে দেখেছি যে, মক্কা ছিল ঐতিহাসিকভাবে প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যেটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সাথে দক্ষিণ আরব, পূর্ব আফ্রিকাও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করেছিল। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে এর প্রসিদ্ধি পেট্রা ও পালমিরা নগরকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বাস্তবের সঙ্গে ড্যান গিবসনের উপস্থাপিত তথ্যের পার্থক্য লক্ষ করুন।

দুশারার মন্দির।

ড্যান গিবসন দশারার মন্দিরের সাথে কাবাকে মেলাবার চেষ্টা করেছে অথচ কোনো ইতিহাস-গ্রন্থে এমন বিবরণ নেই যে, রাসুল ﷺ-এর কুরাঈশ বংশের মানুষেরা দুশারার মন্দিরকে কেন্দ্র করে উপাসনা-কর্ম করত। বরং তারা কা’বার প্রভু আল্লাহর উপাসনা করত, সেই সাথে কিছু কাল্পনিক দেবদেবীর উপাসনাও করত।[১৮০] কাবাকে কেউ কোনোকালে দুশারার মন্দির বলে উল্লেখ করেনি।

কান্না নগরী পেট্রা এবং ভূমিকম্প:

ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে উল্লেখ করেছে যে, ‘বাকা’ বা ‘বাক্কা’ শব্দের অর্থ কান্না। সে দাবি করেছে এই নাম দিয়ে পেট্রা নগরীকে বোঝানো হয়েছে। কেননা, এ নগরে অনেকগুলো ভূমিকম্প হয়েছে ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ড্যান গিবসনের নিজের ওয়েবসাইট nabataea.net/ এ তার নিজেরই বইয়ের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
*On 9 July 551, a devastating earthquake reduced most of what remained of Petra to heaps of rubble. It was never rebuilt, and soon the bishops departed and all records came to an end. This earthquake also destroyed many of the towns in the Negev. Many of these were never rebuilt”. Gibson D. (2002), pp. 241-240.[১৮১] অর্থাৎ ৯ জুলাই ৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে পেট্রা নগরী ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় এবং একে আর নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি। বিশপরা নগর ত্যাগ করেন এবং সকল নথিপত্র শেষ হয়ে যায়।।
রাসুলুল্লাহর ﷺ জন্ম হয় ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে। ড্যান গিবসনের নিজেরই ওয়েবসাইট ও বইয়ের তথ্য অনুযায়ী রাসুলুল্লাহর ﷺ জন্মের মাত্র ১৯ বছর আগে পেট্রা নগরী ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং সে অবস্থাতেই থেকে যায়। এ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ কোনো ক্রমেই পেট্রার মানুষ নন, কেননা সেটা তো তখন বিধ্বস্ত এক নগরী ছিল। রাসুলুল্লাহর ﷺ জন্মস্থান কোনো খ্রিষ্টান অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল না। ড্যান গিবসন নিজেই উল্লেখ করেছে যে, পেট্রা নগরী থেকে খ্রিষ্টান বিশপরা চলে গিয়েছিল।

গাছপালায় ভরা শহর ও সাহাবী কর্তৃক আঙুর খাওয়া।

সিরাত গ্রন্থগুলোতে রাসুলুল্লাহর ﷺ এই যুগে মরুময় মক্কার অজস্র বিবরণ আছে। এই সকল বিবরণকে পাশ কাটিয়ে ইসলামের পবিত্র নগরী ছিল গাছপালায় ভরা একটি শহর—এটি প্রমাণ করার জন্য ডকুমেন্টারিটিতে সাহাবী খুবাইব(রা.) এর একটি ঘটনা আংশিকভাবে উল্লেখ করে ড্যান গিবসন। সেই ঘটনায় খুবাইব (রা.) আঙুর খাচ্ছিলেন। এটা দেখিয়ে ড্যান প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, মক্কায় নাকি আঙুর হয় না। এ থেকে নাকি প্রমাণ হয়, তিনি পেট্রায় ছিলেন! তার এই অপযুক্তির জবাবে যা বলব,
প্রথম কথা: ধরে নিলাম মক্কায় আসলেই আঙুর হতো না। কিন্তু কোনো একটা এলাকায় কোনো ফল না জন্মালেই ওই এলাকার লোকজন সেটা কখনো খেতে পারবে।
এমন তো কোনো কথা নেই। বাংলাদেশেও তো চেরি বা স্ট্রবেরি ফল সেভাবে জন্মায় না। তাই বলে কি বাংলাদেশের মানুষেরা ওই ফলগুলো খায় না? সেগুলো বাংলাদেশে আমদানি হয় না? শাম (Levant) অঞ্চলের সাথে তো মক্কা-মদীনার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। সেখান থেকে ফলসহ অনেক কিছু তো আমদানি-রপ্তানি হতেই পারে।
দ্বিতীয় কথা: বন্দী সাহাবী খুবাইব (রা.) এর আঙুর খাবার সে ঘটনাটি কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। সেটি ছিল একটি কারামত বা অলৌকিক ঘটনা। তাঁকে বন্দী করা হয়েছিল, ভয়াবহ অত্যাচার করা হয়েছিল এবং তিনি সে অবস্থাতেও আল্লাহ ও রাসুল ﷺএর আনুগত্য থেকে এক চুল নড়েননি। আল্লাহ এ কারামতের দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করেছিলেন।[১৮২] এই ঘটনা থেকে মক্কাকে পেট্রা বানানোর চেষ্টা করা চরম মূর্খতা ছাড়া কিছুই না।

প্রাচীন মসজিদগুলো কি আসলেই পেট্রার দিকে মুখ করে ছিল?

ড্যান গিবসন দেখাবার চেষ্টা করেছে যে, প্রাচীন মসজিদগুলো মক্কার দিকে নয়, বরং পেটার দিকে মুখ করে আছে। মসজিদগুলো নাকি মক্কার দিক থেকে কিছুটা অন্য দিকে ঘুরে আছে। এ সম্পর্কে প্রথমেই যেটি বলব—প্রাচীনকালে তো বটেই, একদম আধুনিককালেও মেপে মেপে ডিগ্রি ঠিক রেখে হুবহু ডিরেকশনে মক্কার দিকে মুখ করে মসজিদ নির্মাণ করা হয় না। এমনটা করা সম্ভব নয়, জরুরিও নয়। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবী হচ্ছে গোলাকার। কাজেই একদম ‘হুবহু’ কিবলার দিক অনুসরণ করা কখনোই সম্ভব নয়। আল্লাহ মানুষের জন্য অসাধ্য কোনো বিধান দেন না।[১৮৩] কিবলা হচ্ছে সলাতের জন্য একটি সাধারণ দিক। মোটামুটিভাবে এই দিকটি ঠিক রাখাই যথেষ্ট।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন,রাসুলুল্লাহ ﷺ  বলেছেন “পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে হলো কিবলা।”[১৮৪] কাজেই সরল রৈখিকভাবে কিবলার দিক থেকে কিছু পরিমাণ বিচ্যুতি হলেও সেটি কোনো সমস্যা নয়।এই বিচ্যুতির পরিমাণ সর্বোচ্চ কতটুকু হতে পারে? সুন্নাহর আলোকে উলামায়ে কিরামগণ নির্ধারণ করেছেন যে,এই বিচ্যুতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি হতে পারেযদিও যথাসম্ভব সঠিক দিকে মুখ করাই উত্তম।[১৮৫] প্রাচীনকালে কম্পাস যন্ত্র ছিল না, দিক নির্ণয়ের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না।তখন সূর্যের অবস্থান দেখা হতো এবং সেদিকে আন্দাজ করে কিবলার সাধারণ দিক বিবেচনা করে মসজিদ নির্মাণ করা হতো। কাজেই প্রাচীনকালের মসজিদগুলোতে কিবলার হুবহু দিক থেকে কিছুটা বিচ্যুতি হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। সূর্য দেখে যদি সাধারণ দিক বিবেচনা করা হয়, তাহলে ওই বিচ্যুতি কখনোই ৪৫ ডিগ্রির বেশি হবে না। আধুনিক কালেও অনেক মসজিদই আছে যেগুলো কিবলার হুবহু দিক থেকে কিছুটা বিচ্যুত। যেমন : বাংলাদেশে পশ্চিম দিককে সাধারণভাবে কিবলার দিক ধরা হয়। অথচ মক্কা বাংলাদেশ থেকে কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিমে। ড্যান গিবসন যে প্রক্রিয়ায় প্রাচীন। কয়েকটা মসজিদ বেছে বেছে পেট্রাকে ‘কিবলা’ বানাবার চেষ্টা করেছে, ওই প্রক্রিয়ায়। বাংলাদেশ থেকে বেছে বেছে ১০টা মসজিদ নিয়ে সেগুলো থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিকেও ‘কিবলা’ (!) বানিয়ে ফেলা যাবে। আধুনিক কালেই যেখানে হুবহু দিক ঠিক রাখা যায়।
(যেটি আসলে অপরিহার্যও নয়) সেখানে প্রাচীন কালে তো সেটি আরও অসম্ভব ব্যাপার ছিল। এমনকি খোদ মক্কা শহরেও আধুনিক কালে প্রায় দুই শ’র মতো মসজিদ আছে যেগুলো কা’বার হুবহু দিক থেকে বিচ্যুত।[১৮৬] তবে এই বিচ্যুতি কখনোই ৪৫ ডিগ্রি অতিক্রম করে নয়। অতএব আমরা বলতে পারি, ড্যান গিবসনের কথা যদি সত্যও ধরে নেয়া হয় অর্থাৎ প্রাচীন মসজিদগুলো যদি মক্কার দিক থেকে ১০-২০ ডিগ্রি ঘুরেও থাকে, তাহলেও মোটেও এটা প্রমাণ হয় না যে ইসলামের প্রাথমিক যুগে কিবলা পেট্রা ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ড্যান গিবসন কি আসলেই সত্য বলেছে?
ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে স্যাটালাইট চিত্রের দ্বারা বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদের কিবলার দিক দেখানোর চেষ্টা করেছে। ভালো করে লক্ষ করলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে, মসজিদের সামনের দেয়ালের সাথে লম্বভাবে নয়, বরং লম্ব থেকে ৫-৬ ডিগ্রি বাঁকিয়ে রেখা টেনে সে কিবলার দিক হিসাব করেছে। নমুনা স্বরূপ ড্যানের ডকুমেন্টারি থেকে জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ এবং চীনের গুয়ায়ংজুর মসজিদের ছবি দেখাচ্ছি।

9 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

ড্যান গিবসনের ডকুমেন্টারিতে প্রাচীন মসজিদের কিবলার দিক নিয়ে জালিয়াতি [ডকুমেন্টারীর ২৯ মিনিট ২৫ সেকেন্ড ও ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ড থেকে এই স্ক্রীনশট দুইটি নেয়া হয়েছে]


পৃথিবী ৩৯৬৩ মাইল (৬৩৭৮ কিলোমিটার) ব্যাসার্ধের একটি বিশাল গোলক।[১৮৭] এই সুবিশাল গোলকে ১ ডিগ্রী বাঁকিয়ে রেখা টানলেও সেটি বিশাল দূরত্বে গিয়ে মিশবে।

হেরা গুহা কি আসলেই মক্কার দিকে মুখ করে নেই?

ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে পেট্রা নগরীতে দেবদেবীর প্রতীকে ভরা একটা গুহা দেখিয়ে দাবি করেছে—সেটাই নাকি হেরা গুহা, সেটাতেই নাকি রাসুল ﷺ – ধ্যান করতেন (নাউযুবিল্লাহ)!! সে দাবি করেছে যে “অল্পবয়সী একটি ছেলে” ধ্যান করার জন্য ওই জায়গাতেই আসবে। সে আরও দাবি করেছে যে, মক্কায় যেটিকে হেরা গুহা বলা হয়েছে সেটি নাকি শহরের দিকে মুখ করে নেই। কাজেই সেটা আসল হেরা গুহা হতে পারে না। যে মুহাম্মাদ ﷺ আজীবন আল্লাহ ব্যতীত সকল মিথ্যা দেবদেবীকে ঘৃণা করে এসেছেন,[১৮৮] সেই তিনি ধ্যান করবেন একটা দেবদেবীর প্রতীকে ভরা গুহায়??!!! নাউযুবিল্লাহ, রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নামে এ এক বড় মিথ্যা আরোপ। সে ধ্যান করার সময়ে রাসুলুল্লাহ । কে “অল্পবয়সী একটি ছেলে” বলে উল্লেখ করেছে। এ থেকে তার ভয়াবহ অজ্ঞতা আবারও প্রকাশ পেয়েছে। হেরা গুহায় রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন নবুয়ত পান, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর।১৮৯] যে কোনো সিরাত গ্রন্থেই এই তথ্য উল্লেখ আছে। ৪০ বছর বয়স্ক একজন মানুষকে “অল্পবয়সী একটি ছেলে” বলে। উল্লেখ করার দ্বারা ড্যান গিবসনের ইসলাম ও নবী মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে বেসিক জ্ঞানটুকুরও অভাব পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পেয়ে গেছে। আর হেরা গুহা মক্কার দিকে মুখ করে ছিল কিনা—এ প্রসঙ্গে বলব, ধ্যান করবার জন্য গুহায় যাবার মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে, অখণ্ড মনোযোগ ধরে রাখা। আলো, কোলাহল এসব জিনিস এ মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। যেই ব্যক্তিটি সমাজ-সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহায় ধ্যান করতে যাচ্ছেন, তার কখনো গুহার মধ্য থেকে থেকে নিজ শহরের দিকে তাকিয়ে থাকবার অভিপ্রায় থাকে না। তিনি এমন গুহা বেছে নেবেন যাতে তিনি সমাজ-সংসার থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্নতা লাভ করতে পারবেন। আপন স্রষ্টার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারবেন। কোনো গুহার বাইরের মুখটি যদি লোকালয়ের দিকে মুখ করে থাকে, তাহলে এ উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। মক্কার হেরা গুহাটির ভৌগোলিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর বাইরের দিকটি সরাসরি মক্কার দিকে মুখ করে নেই। কিন্তু গুহা থেকে বের হলে সহজেই মক্কা ও মসজিদুল হারাম দেখতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ধ্যান করবার জন্য সর্বাধিক উপযোগী একটি গুহা ছিল সেটি। ড্যান গিবসন। আমাদের বোঝাতে চেয়েছে যে, নবী মুহাম্মাদ ﷺ যে গুহায় ধ্যান করেছিলেন সেটি অবশ্যই তাঁর শহরের দিকে মুখ করে থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় ড্যান গিবসনের অনুমানের অনুগামী নাও  হতে পারে!

10 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

হাজী সাহেবদের তোলা ছবিতে হেরা গুহার বাইরে থেকে মক্কার মসজিদুল হারাম।[১৯০] [ডকুমেন্টারীর ২৯ মিনিট ২৫ সেকেন্ড ও ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ড থেকে এই স্ক্রীনশট দুইটি নেয়া হয়েছে]।

ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে মক্কার হেরা গুহার বাইরে থেকে। এখানে পরিষ্কার মক্কা ও মসজিদুল হারাম দেখা যাচ্ছে।

হাদিসের ও ইতিহাস গ্রন্থের বিবরণ কি পেট্রার সাথে মিলে যায়?

ড্যান গিবসন তার ডকুমেন্টারিতে সবাইকে বিশ্বাস করাতে চেয়েছে যে, হাদিস ও সিরাত-গ্রন্থগুলোতে ইসলামের পবিত্র নগরীর যে বিবরণ পাওয়া যায়, তার সাথে নাকি মক্কার কোনো মিল নেই। এই বিবরণগুলো নাকি জর্ডানের পেট্রা নগরীর সাথে মিলে যায়। বিভিন্ন বিবরণ আংশিক উল্লেখ করে ও অপব্যাখ্যা করে তার এইরূপ সিদ্ধান্ত। সে আরও বলতে চেয়েছে যে, সব স্থান থেকে পেট্রার নাম মুছে মক্কা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এখন হাদিস ও সিরাত থেকে কিছু বিবরণ উল্লেখ করব, যেগুলো দ্বারা ইন শা আল্লাহ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ হবে যে, ইসলামের পবিত্র নগরী আসলে মক্কা। কোনোমতেই পেট্রার সাথে এগুলোকে মেলানো সম্ভব হবে না।।

পৌত্তলিক কুরাঈশদের থেকে ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা বিজয় হয় ৮ম হিজরী সনে১৯১] বা ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে। আর মুসলিম বাহিনী রোমান বা বাইজানটাইনদের হাত থেকে জর্ডান বিজয় করে ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে।[১৯২] এগুলো প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য। ইসলামের পবিত্র নগরী যদি জর্ডানের পেট্রাই হতো, তাহলে তো এটি খ্রিষ্টান রোমানদের হাত থেকে জয় করতে হতো, কেননা ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে পেট্রা তাদের অধীনে একটি বাইজানটাইন শহর ছিল। অথচ সকল সিরাত ও ইতিহাস-গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে,রাসুল। – কুরাঈশদের হাত থেকে ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা বিজয় করেন, এরপর কা’বাকে পৌত্তলিকতা-মুক্ত করেন।[১৯৩] মুসলিমরা মোটেও বাইজানটাইনদের নিকট থেকে ইসলামের পবিত্র নগরী জয় করেনি৷ মক্কা নগরী সব সময়েই বাইজাইনটাইন, পারস্য সবার থেকে স্বাধীন ছিল।[১৯৪]


রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সকল সিরাত গ্রন্থেই ইয়েমেনের শাসক আবরাহার হস্তিবাহিনীর ঘটনা আছে।[১৯৫] আল কুরআনের ১০৫ নং সূরা ফিল-এ এই ঘটনার কথা আলোচিত হয়েছে। ইয়েমেনের শাসক আবরাহা একটি জাঁকজমকপূর্ণ গির্জা নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সে গির্জার তুলনায় মক্কার কা’বার প্রতি মানুষের ভক্তি-সম্মান দেখে আবরাহা ঈর্ষান্বিত হয় এবং কা’বা ধ্বংস করার জন্য হাতির বাহিনী নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওনা করে। আল্লাহ পাখির ঝাঁক প্রেরণ করেন, সেই পাখিদের নিক্ষিপ্ত কঙ্করে তার সম্পূর্ণ বাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি এতই বিখ্যাত যে, এ ঘটনার সালকে আরবরা ‘হাতির বছর’ বলে অভিহিত করত এবং ওই বছরই রাসুলুল্লাহ ﷺ জন্মগ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে সকল ঐতিহাসিক মক্কার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন; পেট্রার সাথে নয়। এই বিখ্যাত ঘটনা তৎকালীন ভূ-রাজনীতির ওপরে প্রভাব রেখেছিল। ঘটনাটি তৎকালীন সভ্য জগতের (রোমান সাম্রাজ্য, পারস্য সাম্রাজ্য) বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পারস্যবাসী এ ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল এবং তারা দ্রুতগতিতে ইয়েমেন দখল করে বসে।[১৯৬] হাতির মতো বৃহদাকার ও শ্লথগতির প্রাণী নিয়ে ইয়েমেন থেকে পেট্রার বিশাল দূরত্বে অভিযান করা কোনো বাস্তবসম্মত কথা নয়। কিন্তু ইয়েমেন থেকে সহজেই হাতির বাহিনী নিয়ে আরবের মক্কায় অভিযান চালানো সম্ভব। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, কা’বা। যদি পেট্রাতে অবস্থিত হতো, তাহলে কা’বা ধ্বংস করার জন্য আবরাহার বাহিনীকে রোমানদের সাথে দর কষাকষি করতে হতো, কেননা পেট্রা ছিল একটি রোমান বা বাইজানটাইন শহর। কিন্তু সিরাত-গ্রন্থগুলোতে এমন কোনো বিবরণই দেখা যায় না; বরং দেখা যায় আবরাহা মক্কার নেতা আব্দুল মুত্তালিবের সাথে আলোচনা করেন। এ থেকে বোঝা যায় কা’বা রোম সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরের কোনো শহরে অবস্থিত ছিল না। খ্রিষ্টান শাসক আবরাহা রোমানদের মিত্র ছিল বিধায় তার তো বাহিনী নিয়ে কা’বা। ধ্বংস করতে যাবারও প্রয়োজন ছিল না। সে রোম সম্রাটকে পত্রযোগে অনুরোধ করলে। রোম সম্রাট নিজেই কা’বা ধ্বংসের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। রোম সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে কা’বার ন্যায় উপাসনাগৃহ থাকাও একটি অবাস্তব চিন্তা।


পবিত্র নগরী মক্কা বিজয় হয় ৮ম হিজরী সনে(১৯৭] আর সীমান্তে রোমানদের (বাইজানটাইন) বিরুদ্ধে তাবুকের অভিযান হয় ৯ম হিজরী সনে।[১৯৮] সকল ইতিহাসগ্রন্থেই এটা উল্লেখ আছে যে, পবিত্র নগরী আগে বিজয় হয়েছে, এরপর তাবুক অভিযান হয়েছে। ড্যান গিবসনের কথা অনুযায়ী যদি আমরা ধরে নিই পেট্রাই ইসলামের পবিত্র নগরী, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—পেট্রা বিজয়ের পরে কী করে তাবুক অভিযান হতে পারে? নিচের মানচিত্রটি দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

11 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

মক্কা বিজয়ের সময়কালে তাবুকের অবস্থান

আমরা প্রথমে পেট্রাকে ইসলামের পবিত্র নগরী বিবেচনা করে ঐতিহাসিক তথ্যগুলো মেলানোর চেষ্টা করি। পেট্রা ছিল শাম (Levant) অঞ্চলে এবং বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের ভেতরে। পেট্রা থেকে দক্ষিণে তাবুক। পেট্রা বিজয় হয়ে গেলে সেখান থেকে তাবুকের অভিজানের কি আদৌ যৌক্তিকতা থাকে? তাবুক হচ্ছে আরব আর শামের সীমান্তে। সেটি ছিল বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের সীমা। পেট্রা যদি আগে বিজয় হয়ে যায়, তাহলে তাবুকের সীমানায় আবার কী করে বাইজানটাইনের বিরুদ্ধে অভিযান হতে পারে? সীমান্তের ওপারে তো আরব। সেটা বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের এলাকা ছিল না, কাজেই সেখান থেকে তো বাইজানটাইনদের আসবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সেখান থেকে আক্রমণ করতে পারে আরবরা, বাইজানটাইনরা না। এবার মক্কাকে ইসলামের পবিত্র নগরী বিবেচনা করে ঐতিহাসিক তথ্যগুলো। মেলানোর চেষ্টা করি। মানচিত্রে দেখুন, আরবভূমি থেকে উত্তরে বাইজানটাইনদের সাম্রাজ্য। মক্কা-মদীনা থেকে উত্তর দিকে তাবুক। মক্কা আরবের ভেতরে, বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের ভেতরে না। আগে মক্কা বিজয় হয়ে গেছে। এর পরবর্তী সময়ে তাবুকের সীমানার দিকে বাইজানটাইনরা অগ্রসর হতে পারে, ইসলামী বাহিনীও আরব থেকে তাদের প্রতিরোধের জন্য অগ্রসর হতে পারে। কেননা, তাবুকের পরে সীমান্তের ওপারে বাইজানটাইনদের এলাকা। মক্কাকে ইসলামের পবিত্র শহর বিবেচনা করলে এসব তথ্যগুলো খাপে খাপে মিলে যায়। কোন অসংগতি পরিলক্ষিত হয় না।

নবুয়তের ১০ম বছরে রাসুল ﷺ পায়ে হেঁটে মক্কার পার্শ্ববর্তী তায়েফ শহরে দাওয়াহর কাজে যান। মক্কা থেকে তায়েফের দূরত্ব ছিল ৬০ মাইল।[১৯৯] অপর দিকে পেট্রা থেকে তায়েফের দূরত্ব ১৩৪০ কিলোমিটার বা ৮৩২ মাইল।[২০০] এত বিশাল দূরত্ব কি পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা যায়? পেট্রার আশেপাশে তো তায়েফ বলে কোনো শহরও নেই৷

12 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

মক্কা,তায়েফ ও পেট্রার অবস্থান

ড্যান গিবসন রাসুল এর হিজরতস্থল মদীনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। মদীনার অবস্থান যদি ঠিক থাকে, তাহলে মদীনার অবস্থানকে মূল ধরে আমরা ইসলামের পবিত্র নগরের অবস্থানকেও বের করে ফেলতে পারি। কুরাঈশরা মক্কা থেকে সিরিয়ায় ব্যবসা করতে যেত৷ সকল সিরাত-গ্রন্থেই এর উল্লেখ পাওয়া যাবে। মক্কা থেকে সিরিয়ায় যেতে হতো মদীনা হয়ে। কুরাঈশরা ছিল। মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত এবং সাহাবীগণ কুরাঈশদের এ যাত্রাপথে আক্রমণ করতেন। বিখ্যাত বদর যুদ্ধের প্রাক্কালেও আবু সুফিয়ান সিরিয়া থেকে মক্কায় ফিরছিলেন, তার কাফেলায় ছিল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র এবং অন্যান্য মালামাল। সাহাবীগণ যাত্রাপথে তাদের আক্রমণের জন্য যাত্রা করেন। বিপক্ষ দলও সংবাদ পেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে মক্কা থেকে সৈন্য প্রেরণ করেছিল। বদর ছিল মদীনার অন্তর্ভুক্ত এবং এখানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।[২০১]

13 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

মানচিত্র (অ) ও (আ) তে যথাক্রমে পেট্রা ও মক্কা থেকে সিরিয়ার যাত্রাপথ(route) দেখা যাচ্ছে, (ই) তে বদর প্রান্তরের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সিরিয়া থেকে জর্ডানের পেট্রা খুবই কাছে। আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি যে, মক্কা থেকে সিরিয়ায় যেতে হলে মদীনা হয়ে যেতে হয়। কিন্তু পেট্রা থেকে সিরিয়া যেতে হলে মদীনা হয়ে যেতে হয়। না। ইসলামের পবিত্র নগরী যদি পেট্রাতেই হতো, তাহলে কুরাঈশদের সিরিয়া যাবার যাত্রাপথের মধ্যে মদীনা থাকত না। মুসলিমদের পক্ষে তাহলে কখনোই কুরাঈশদের কাফেলা আক্রমণ করা সম্ভব হতো না। বদর প্রান্তরটি মক্কা থেকে সিরিয়া যাবার ও সিরিয়া থেকে মক্কা ফেরার যাত্রাপথের ভেতর পড়ছে। ইসলামের পবিত্র নগরী যদি পেট্রাই হতো, তাহলে বদরে কোনো যুদ্ধ হতো না। বরং অন্য কোথাও হতো।।



৭ম শতাব্দীর শুরুতে জর্ডান অঞ্চলে মূলত অ্যারামায়িক (Aramaic) ভাষা প্রচলিত ছিল। পরবর্তী সময় ইসলামের বিস্তারের সাথে সাথে মানুষজন ইসলামের সাথে সাথে আরবি ভাষাও গ্রহণ করতে শুরু করে। অ্যারামায়িক ভাষা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় ও সে স্থানে আরবি ব্যবহার হতে শুরু করে।[২০২] ৭ম শতাব্দীতে সে অঞ্চলে যোগাযোগের সাধারণ ভাষা (Lingua Franka) ছিল অ্যারামায়িক।[২০৩] আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক রাসুলকেই নিজ জাতির ভাষা দিয়ে প্রেরণ করতেন।[২০৪] নবী করিম যদি জর্ডানের পেট্রা অঞ্চলের মানুষ হতেন, তাহলে তাঁর ভাষাও অ্যারামায়িক হবার সম্ভাবনা ছিল। অথচ আল কুরআনের ভাষা অ্যারামায়িক নয়, আরবি। শাম (Levant) অঞ্চলে সে সময়ে গাসসানী ও লাখমিদ নামে ২টি আরব গোত্র ছিল।[২০৫] কাজেই সে অঞ্চলে অল্প কিছু লোক আরবিভাষী ছিল। কিন্তু ওই অঞ্চলের আরবিভাষীরা শাম অঞ্চলীয় আরবি ভাষায় Levantine Arabic কথা বলে। এটি অ্যারামায়িক দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত একটি আরবি উপভাষা।[২০৬] ৭ম শতাব্দীতে জর্ডান অঞ্চলে অ্যারামায়িক এবং শাম অঞ্চলীয় আরবি এই দুই প্রকারের ভাষা প্রচলিত ছিল।আল কুরআনের আরবি হচ্ছে কুরাঈশী আরবি। এটি প্রথম অবস্থায় এরূপেই রাসুল এর ওপর নাজিল হয় এবং সাহাবীগণ এ অবস্থাতেই কুরআন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
“আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, উসমান (রা.) যায়েদ ইবনু সাবিত (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা.), সাঈদ ইবনুল আস (রা.), আবদুর রহমান ইবনু হারিস (রা.)-কে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা [হাফসা (রা.)-এর নিকট] সংরক্ষিত কুরআনকে সমবেতভাবে লিপিবদ্ধ করার কাজ আরম্ভ করলেন। উসমান (রা.)। কুরাইশ বংশীয় তিনজনকে বললেন, যদি যায়েদ ইবনু সাবিত (রা.) এবং তোমাদের মধ্যে কোনো শব্দে (উচ্চারণ ও লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে) মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে কুরাইশের ভাষায় তা লিপিবদ্ধ করো। যেহেতু কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তা-ই করলেন।”[২০৭] |
আজও আমরা অবিকৃত অবস্থায় সেই কুরআনই পড়ছি, যা কুরাঈশী আরবিতে লিখিত৷ হাদিসশাস্ত্রের ভাষাও সেই আরবি, মুসলিমরা সলাত ও খুতবায় ওই আরবিই ব্যবহার করে। আল কুরআন অ্যারামায়িক ভাষায় নয়, শাম অঞ্চলীয় আরবিতেও নয়—এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নবী মুহাম্মাদ জর্ডানের পেট্রার কেউ ছিলেন। অপরদিকে, ৭ম শতকে কুরাঈশী আরবি ব্যবহার করত আরবের মক্কা অঞ্চলের লোকেরা তথা কুরাঈশরা।[২০৮] আল কুরআনের ভাষাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মুহাম্মাদ ﷺ  পেট্রার নন; বরং মক্কার মানুষ।সর্বোপরি মক্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হলে কুরআন, হাদিস ও সিরাত গ্রন্থে উল্লেখিত অন্যান্য ভৌগোলিক উপাদানগুলো যেমন: সাফা-মারওয়া পাহাড়, যমযম কূপ,

আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর(রা.) কর্তৃক নতুন স্থানে কা’বা বানানোর তত্ত্বের অসারতা

ড্যান গিবসন দাবি করেছে যে, উমাইয়াদের সাথে আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) এর যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে কিবলাকে পেট্রা থেকে মক্কার দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। (নাউযুবিল্লাহ)। এই অসম্ভব দাবিকে রদ করবার জন্য একটা হাদিসই যথেষ্ট।
আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, হাতিমের দেয়াল কি বাইতুল্লাহর [আল্লাহর ঘর, কা’বা] অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, তবে তারা কেন এটাকে বাইতুল্লাহর। অন্তর্ভুক্ত করেনি? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের [কুরাঈশ] নিকট পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এর দরজা উঁচুতে স্থাপিত হওয়ার। কারণ কী? তিনি বললেন, তাও তোমার সম্প্রদায়ের কাণ্ড, যাতে তাদের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি তাতে প্রবেশাধিকার পায় এবং অবাঞ্ছিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। তোমার সম্প্রদায়ের জাহিলিয়াত পরিত্যাগের যুগ নিকটতম না হলে এবং আমার যদি এই আশঙ্কা না হতো যে, তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে—তাহলে আমি অবশ্যই (হাতিমের) দেয়াল বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করা এবং কা’বার দরজা জমিনের সমতলে স্থাপন করার বিষয়ে বিবেচনা করতাম।[২০৯] যেখানে ফিতনা হবার আশঙ্কায় স্বয়ং আল্লাহর রাসুল কাবার গঠন পরিবর্তন করেননি, সেখানে তাঁর ওফাতের কিছুকাল পরে একেবারে পুরো কা’বাকেই মানুষ।
আরেক শহরে নিয়ে গেল আর সবাই সেটা মেনেও নিল?!!! এটা একেবারেই অবাস্তব একটা চিন্তা। প্রকৃতপক্ষে আব্দুলাহ ইবন যুবাইর(রা.) যদি আসলেই অন্যত্র কিবলা। সরিয়ে নিতেন (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে ১ জন লোকও সেখানে হজ করতে আসত না।
তারিখ আত তাবারী থেকে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) কর্তৃক কাবা ভাঙার কাহিনি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে ড্যান গিবসন। আগুন লেগে কা’বা ঘর। পুড়ে গিয়েছিল। এটা ছিল ইয়াযিদ ইবন মু’আবিয়ার রাজত্বের শেষ কাল এবং তখন ইবন যুবাইরকে (রা.) মক্কায় অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। এই সময় মক্কার খলীফা আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) তাঁর খালা আয়িশা সিদ্দিকার(রা.) কাছে যে হাদিসটি শুনেছিলেন [একটু আগে যেটি উল্লেখ করা হয়েছে] তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ এর মনের কথা অনুযায়ী বাইতুল্লাহকে ভেঙে ইব্রাহিম(আ.) এর ভিত্তির ওপর নির্মাণ করেন। হাতীমকে ভিতরে নিয়ে নেন। পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি দরজা রাখেন। একটি ভেতরে আসার জন্য, অপরটি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য। দরজা দু’টি মাটির সমান করে রাখেন। তাঁর শাসনামল পর্যন্ত কা’বা এরূপই থাকে।
সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, “আতা(র.) বলেছেন, ইয়াযিদ ইবন মু’আবিয়ার যুগে যখন সিরিয়াবাসী কাবা ঘরের ওপর আক্রমণ করে এবং যা হবার তা হয়ে যায়, সেই সময় আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) বাইতুল্লাহকে এরূপ অবস্থাতেই রেখে দেন, যেন হজের মৌসুমে জনগণ একত্র হয়ে সবকিছু স্বচক্ষে দেখে। এরপরে আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর(রা.) জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং জানতে চান, কা’বা ঘরকে সম্পূর্ণ ভেঙে কি নতুনভাবে নির্মাণ করব, নাকি ভাঙ্গা যা আছে তাকেই মেরামত করব? ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই, আপনি কা’বা ঘরকে সেইভাবে পুনর্নির্মাণ করুন, মক্কার লোকেরা মুসলিম হতে শুরু করার সময় কা’বা ঘর যে অবস্থায় ছিল। কাবা ঘরের পাথরটিও ওই অবস্থায় রেখে দিন, রাসুল এর নবুয়তের সময় ওটা যে অবস্থায় ছিল এবং লোকেরা ইসলামে দীক্ষিত হচ্ছিল। আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) বলেন, “আপনাদের কারও ঘর যদি আগুনে পুড়ে যায়, তাহলে নিশ্চয়ই সে তা পুনর্নির্মাণ না করা পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকবেন। তাহলে মহাসম্মানিত প্রভুর ঘর সম্পর্কে এরূপ মত পেশ করেন কেন? আচ্ছা। তিন দিন পর্যন্ত আমি ইস্তিখারা করব, তার পরে যা বুঝব তা-ই করব।” তিন দিন পরে তাঁর মত এই হলো যে, অবশিষ্ট দেয়ালও ভেঙে দেওয়া হবে এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। সুতরাং তিনি এই নির্দেশ দিয়ে দেন।[২১০]

এই হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) এর কর্তৃক কাবা ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের প্রকৃত ইতিহাস। এর উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ ও রাসুল এর আনুগত্য। এর সাথে মোটেও মক্কা থেকে পেট্রাতে কা’বা স্থানান্তরের কোনো ব্যাপার ছিল না (নাউযুবিল্লাহ)। সহীহ মুসলিম ও ইবন কাসিরের উপরের বিবরণটি থেকে এটা স্পষ্ট যে, তিনি মোটেও অন্য কোন স্থানে কা’বাকে সরাননি বরং আগের স্থানেই তা পুণঃনির্মাণ করেছিলেন।

উমার(রা.) কি আসলেই আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি পোড়াবার নির্দেশ দিয়েছিলেন?

এই জিনিসটি মূলত ডকুমেন্টারির মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু নিজ মিথ্যা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য ড্যান গিবসন এটিকে টেনে এনেছে। তার মতে, ‘অতি উৎসাহী মুসলিমরা প্রাচীন কাল থেকেই কুরআন বাদে আর সব বইপত্র, পাণ্ডুলিপি, লাইব্রেরি এইসব পুড়িয়ে ফেলত। যার ফলে ইসলামের প্রাথমিক যুগের সব তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই মিথ্যা কথা প্রমাণ করার জন্য সে উমার(রা.) কর্তৃক মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি পোড়ানোর নির্দেশ দানের এক বানোয়াট কাহিনি। উল্লেখ করেছে। এই মিথ্যা খণ্ডন করে অনেক দীর্ঘ আলোচনা করা যায়, কিন্তু লেখার কলেবর বেড়ে যাবে বিধায় তা পরিহার করলাম। এখানে এ বিষয়ে ড. আলি আস সাল্লাবীর বক্তব্য উল্লেখ করছি, যা এই মিথ্যাচার খণ্ডনে যথেষ্ট হবে ইন শা আল্লাহ। ড আলি আস সাল্লাবীর মতে,
“এই বর্ণনাগুলো আমর ইবনুল আস (রা.) ও মিসর জয়ের অনেক দূরবর্তী সময়ে। | লেখা হয়েছে। এই ঘটনার কোনো সনদ নেই। যারা মুসলিমদের মিসর জয়ের ইতিহাস লিখেছেন, তাদের কেউই এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করেননি। এর বহুকাল পরে ওই কাহিনি লেখা হয়েছে। এই ঘটনাটি ওয়াকিদী, তাবারী, ইবনুল আসির, ইবন খালদুন, ইবন আবদুল হাকিম, ইয়াকুত আল হামাওয়ি এদের কেউই আলেকজান্দ্রিয়ার ব্যাপারে বর্ণনা করেননি। এই ঘটনাটি ক্রুসেডের সময়ে লিখিত হয়েছে। কাজেই এটি জাল হবার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সে সময়কাল [সাহাবীদের মিসর জয়] পর্যন্ত ওই তথাকথিত লাইব্রেরিটি আসলেই টিকে থাকত, তাহলে তো বাইজানটাইনদের আলেকজান্দ্রিয়া ত্যাগের সময়ে বইগুলো সাথে নিয়ে যাবার কথা ছিল। তা ছাড়া আমর ইবনুল আস (রা.) খুব সহজেই বইগুলো সাগরে ফেলে দিতে পারতেন। এতে সময় লাগত খুব কম। অথচ এগুলো স্নানাগারের জ্বালানি হিসাবে পোড়াতে ৬ মাস সময় লেগেছে। আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে, উমার (রা.) ও আমর ইবনুল আস (রা.) এই বানোয়াট কাহিনির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও নির্দোষ।”[২১১]

কুরআন থেকে কি বাক্কার নাম মুছে দেওয়া হয়েছিল?

ডকুমেন্টারির শেষ দিকে এসে ড্যান গিবসন আব্বাসী যুগের লেখকদের দ্বারা কুরআন বিকৃতির অভিযোগ এনেছে, নাউযুবিল্লাহ। সে দাবি করেছে যে, পবিত্র নগরীর আসল নাম বাক্কা এবং আব্বাসী খিলাফতকালে আল কুরআন থেকে ‘বাক্কার’ নাম মুছে দেওয়া হয়েছে এবং ‘বাক্কা’কে ‘মক্কা’ করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, একমাত্র অজমূর্খ বাদে কেউই এমন উদ্ভট অভিযোগ তুলতে পারে না। ইসলামের একদম প্রাথমিক যুগ থেকেই আল কুরআন মূলত একটি মুখস্থ কিতাব। মুখস্থের দ্বারা এটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাহাবায়ে কিরাম(রা.) গণের একটা বিশাল অংশ ছিলেন। হাফেজ, তাঁদের সম্পূর্ণ কুরআনমুখস্থ ছিল। সাহাবী (রা.) এর যুগ থেকেই এই সংস্কৃতি চলে আসছে, আজও পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ কুরআনের হাফেজ আছেন। কোনোকালে যদি কেউ কুরআনের ২-১টি শব্দ বদলে দেয়, তাহলে সহজেই কুরআনের হাফেজরা তা ধরে ফেলবেন। কখনোই লিখিত কপিতে একটি-দুটি শব্দ পরিবর্তন করে আল কুরআনবিকৃত করা সম্ভব না। হোক তা আব্বাসী খিলাফতকালে, হোক তা একবিংশ শতাব্দীতে৷ বাকা হচ্ছে মক্কারই প্রাচীন নাম। আল কুরআনেরা আলি ইমরানের ৯৬ নং আয়াতে ‘বাক্কা’ শব্দটি আছে। আব্বাসীরা যদি আল কুরআন থেকে ‘বাক্কা’ শব্দটি মুছেই দিতে চাইত (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে সূরা আলি ইমরানের ৯৬ নং আয়াত থেকে কেন শব্দটি মুছে দিলো না? এমন ইচ্ছা আদৌ থেকে থাকলে তো তারা এই আয়াত থেকেও শব্দটি মুছে দিত। আল কুরআনের আয়াত থেকেই ড্যান গিবসনের এ হঠকারী দাবি খণ্ডন হয়ে যাচ্ছে।

মক্কা ও কা’বা-সম্পর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

এবার তথাকথিত বিশেষজ্ঞ ড্যান গিবসনের আরো একটি অজ্ঞতা ও মিথ্যাচারের স্বরূপ উন্মোচন করছি। তার দাবি: সে নাকি সশরীরে ওই স্থানে গিয়ে দেখেছে যে কোন প্রত্নতাত্ত্বিক বিবরণ নেই। আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ সে কী করে সশরীরে মক্কায় গিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজেছে? সে তো একজন অমুসলিম। আর মক্কায় তো কখনো কোন অমুসলিম প্রবেশ করতে পারে না।[২১২] কাজেই তার এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খোঁজার কথাটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা।।আর সে যদি আসলেই কোন বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকত, তাহলে সে অবশ্যই এটা জানতো যে, সৌদি আরবে মক্কার সাথে সম্পর্কিত অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে প্রাপ্ত ৬০টি ইসলামী শিলালিপির একটির বিবরণ এখানে উল্লেখ করছি। এটি সব থেকে প্রাচীন শিলালিপির একটি। এটি ‘ক’আল মুতাদিল’ (Qa’a al Muatadil) নামক স্থানে পাওয়া গেছে। এর সময়কাল হচ্ছে ২৪ হিজরী বা ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ। যেখানে উমার(রা.) এর মৃত্যুর সময়কাল লিখিত ছিল।

14 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।সৌদি আরবে প্রাপ্ত ২৪ হিজরি (৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) সময়কালের শিলালিপি এবং এ থেকে উদ্ধারকৃত লেখার একাংশ।[২১৩]

লিপিটিতে যা লেখা ছিল তার একাংশ:

15 ড্যান গিবসনের ‘সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব।

অর্থ : আল্লাহর নামে।আমি যুহাইর [এটি] লিখছি সেই সময়ে [যখন] উমার (রা.) মারা গেলেন ২৪তম বর্ষে।

লিপির বাকি অংশে লেখক যুহাইরের বংশ-পরিচয়ও উল্লেখ করা ছিল। তিনি আরবের বনী সালামাহ গোত্রের।আমরা দেখতে পেলাম, সৌদি আরবে ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালের প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা পাওয়া গেছে। এটি ৬৮৩ থেকে ৬৯২ সাল পর্যন্ত চলা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান ও আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর(রা.) এর যুদ্ধের বহুকাল আগে লেখা। এই লিপিগুলো লিখিত হয়েছিল সে সময়কার হজ যাত্রীদের দ্বারা।[২১৪] অর্থাৎ হজ সে সময় মোটেই পেট্রায় হতো না, বরং বর্তমান সৌদি আরবের মক্কায় হতো। এটি খুবই বিখ্যাত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা যার আবিষ্কারের স্থানটি ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক World Heritage site হিসাবে স্বীকৃত।[২১৫] এই শিলালিপির কথা ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটেও খুব গুরুত্বের সাথে লেখা আছে।[২১৬] ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নমিনেশন ফর্মটিও পাওয়া যাবে, যাতে এটির বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ আছে।[২১৭] এটি ছাড়াও সৌদি আরবে আরোও অনেক প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নদর্শন পাওয়া গেছে।[২১৮] এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি ড্যান গিবসনের সম্পূর্ণ তত্ত্বটিকেই বাতিল প্রমাণ করে।গুগলে ‘zuhayr inscription’ কিংবা ‘umar inscription’ লিখে সার্চ দিলে এই বিখ্যাত প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির ব্যাপারে অজস্র আর্টিকেল চলে আসবে। ভ্যান গিবসন এমনই একজন বিশেষজ্ঞ’ (!), যে কিনা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এবং এত বিখ্যাত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির ব্যাপারেও জানে না। এবং নিজ অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে কাড়িকাড়ি টাকা খরচ করে মুসলিমদের কিবলার স্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বই লেখে, ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে, অনেকগুলো ভাষায় সেগুলো অনুবাদ করে আর স্পন্সর করে প্রচার করে। সে নিজে তো বিভ্রান্ত হয়েছেই, বহু সরলপ্রাণ মুসলিমকেও বিভ্রান্ত হবার পথ দেখিয়ে দিয়েছে। সচেতন ব্যক্তিমাত্রেরই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এত সব আয়োজন, প্রচার, অর্থ ব্যয়—এগুলোর মূলে কি শুধুই অজ্ঞতা, নাকি অন্য কিছু? আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সকল প্রকার অজ্ঞতাও হীন চক্রান্ত থেকে রক্ষা করুন।
“আহলে কিতাবের [ইহুদি ও খ্রিষ্টান] অনেকেই তাদের প্রতি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তাদের অন্তর্হিত বিদ্বেষবশত কামনা করে, যদি তারা তোমাদের ঈমান আনার পর কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারত!
সুতরাং তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”[২১৯] “আর এভাবেই আমি তোমাদের মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসুল সাক্ষী হন তোমাদের ওপর। আর যে কিবলার ওপর তুমি ছিলে, তাকে কেবল এজন্যই নির্ধারণ করেছিলাম, যাতে আমি জেনে নিই
যে, কে রাসুলকে অনুসরণ করে এবং কে তাঁর পেছনে ফিরে যায়। যদিও তা অতি কঠিন (অন্যদের কাছে)—তাদের ছাড়া যাদের আল্লাহ হিদায়াত করেছেন। এবং আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।
আকাশের দিকে বারবার তোমার [মুহাম্মাদ ] মুখ ফেরানো আমি অবশ্যই দেখছি। অতএব আমি অবশ্যই তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফেরাব,যা তুমি পছন্দ করো। সুতরাং তোমার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও এবং তোমরা যেখানেই থাকো, এর দিকেই তোমাদের চেহারা ফেরাও। আর নিশ্চয়ই যারা কিতাব প্রাপ্ত [আহলে কিতাব] হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, তা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য এবং তারা যা করে, সে ব্যাপারে আল্লাহ গাফিল নন।।
আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তুমি যদি তাদের নিকট সব নিদর্শন নিয়ে আসো, তারা তোমার কিবলার অনুসরণ করবে না; আর তুমিও তাদের কিবলার অনুসরণকারী নও এবং আর তাদের কোনো দলও অন্যদলের কিবলাকে স্বীকার করেনি। আর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর, তবে নিশ্চয়ই তুমি তখন যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
যাদের আমি কিতাব দিয়েছি [আহলে কিতাব], তারা তাঁকে [মুহাম্মাদ ] চেনে, যেমন চেনে তাদের সন্তানদের। আর নিশ্চয়ই তাদের মধ্য থেকে একটি দল সত্যকে অবশ্যই গোপন করে, অথচ তারা জানে।ড্যান গিবসন 
“সত্য তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে। সুতরাং তুমি কখনো সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”[২২০] “আর তিনিই মক্কা উপত্যকায় তোমাদের তাদের ওপর বিজয়ী করার পর তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন। আর তোমরা যা আমল করো, আল্লাহ হলেন তার সম্যক দ্রষ্টা।”[২২১]

রিফারেন্সঃ
[১৬৪] Wiktionary
https://en.wiktionary.org/wiki/zums
[১৬৫] ফতোয়া শাইখ উসাইমিন: ১২/৩৯৪
[১৬৬] এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ের “কা’বা : মূর্তিপূজকদের মন্দির, নাকি ইব্রাহিম(আ.) এর নির্মাণ করা ইবাদতখানা?” শীর্ষক প্রবন্ধে
[১৬৭] Edward Gibbon (Introduction by Christopher Dawson), Gibbon’s Decline And Fall Of The Roman Empire, Volume V, Everyman’s Library, London, pp. 223-224
[১৬৮] Turkey, Past and Present: Its History, Topography, and Resources By John Reynell Morell, page 84
[১৬৯] Encyclopaedia Britannica: Or, A Dictionary of Arts, sciences and Miscellaneous Literature Constructed on a Plan volume 2, by Colin Macfarquhar page 183 – 184
[১৭০] “Mecca _ History & Pilgrimage _Britannica.com”
https://www.britannica.com/place/Mecca
[১৭১] The New Encyclopedia of Islam by Cyril Glasse page 302
[১৭২] “Mecca before Islam_2) Macoraba – Ian D. Morris”

Mecca before Islam: 2) Macoraba


[১৭৩] আল কুরআন, আন’আম ৬ : ৯২ দ্রষ্টব্য
[১৭৪] সূরা আনআমের ৯২ নং আয়াতের তাফসির—বাগভী, ফাতহুল কাদির, কুরআনুল কারীম বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির ১ম খণ্ড (ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া), পৃষ্ঠা ৬৬৯
[১৭৫] “Mecca – New World Encyclopedia”
http://www.newworldencyclopedia.org/entry/Mecca
[১৭৬] “Mecca_History & Pilgrimage _Britannica.com”
https://www.britannica.com/place/Mecca
[১৭৭] “Mecca” (Jewish Virtual Library)
http://www.jewishvirtuallibrary.org/mecca
[১৭৮] World History -Patterns Of Interaction By Roger B. Beck, Linda Black, Larry S. Krieger, Philip C. Naylor, Dahia Ibo Shabaka, Chapter 10 (The Muslim World) Page 263-264
[১৭৯] World History -Patterns Of Interaction By Roger B. Beck, Linda Black, Larry S. Krieger, Philip C. Naylor, Dahia Ibo Shabaka, Chapter 10 (The Muslim World) Page 264
[১৮০] সীরাতুন নবী(সা.)-ইবন হিশাম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ) ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৮-১০৬
[১৮১ ] Nabataea The Fall of Petra http://nabataea.net/pfall.html
[১৮২] বিস্তারিত দেখুন: ইবন হিশাম, ২য় খণ্ড, ১৬৯-১৭৯ পৃষ্ঠা; যাদুল মাআদ, ২য় খণ্ড ১৯৯ পৃষ্ঠা; সহীহ বুখারী, ২য় খণ্ড, ৫৬৮-৫৬৯, ৫৮৫ পৃষ্ঠা; আর রাহিকুল মাখতুম ৩৩৩-৩৩৫ পৃষ্ঠা
[১৮৩] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৮৬ দ্রষ্টব্য ।
[১৮৪] ইবন মাজাহ, হাদিস নং : ১০১১; তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৪২; সহীহ
[১৮৫] “Being 45 degrees off from the qiblah” – islamQa (Shaykh Muhammad Saalih alMunajjid) https://islamqa.info/en/101449
[১৮৬] Old Mecca mosques face ‘wrong’ direction (al arabiya news) https://www.alarabiya.net/articles/2009/04/05/69984.html
[১৮৭] ‘How Big Is Earth’ By Tim Sharp
https://www.space.com/17638-how-big-is-earth.html
[১৮৮] সীরাতুল মুস্তফা(সা.) – ইদরিস কান্ধলভী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৭-১০৯ দ্রষ্টব্য
[১৮৯] সীরাতুন নবী(সা.)-ইবন হিশাম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৩ দ্রষ্টব্য
[১৯০]“Mount Hira Cave Stock Photos & Mount Hira Cave Stock Images – Alamy http://www.alamy.com/stock-photo/mount-hira-cave.html
“Mecca and Medina, Old and Recent”
https://goo.gl/DgcWYR
“Traveling to Makkah | Mountain of Hira/Jabal noor | Hira Guha | Mountain of Al Rahmah in Arafat https://goo.gl/jv8VXz
[১৯১] আর রাহিকুল মাখতুম – শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) পৃষ্ঠা ৪৬০
[১৯২] “Jordan – History – The Islamic Periods and the Crusades” http://www.kinghussein.gov.jo/his_islam_crusades.html
[১৯৩] আর রাহিকুল মাখতুম-শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) পৃষ্ঠা ৪৫৭-৪৬৫
[১৯৪] আর রাহিকুল মাখতুম-শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) পৃষ্ঠা ৩৪
[১৯৫] সীরাতুন নবী(সা.) – ইবন হিশাম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৫-৮৭
[১৯৬] আর রাহিকুল মাখতুম – শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] পৃষ্ঠা ৭৮
[১৯৭] আর রাহিকুল মাখতুম – শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] পৃষ্ঠা ৪৬০
[১৯৮] আর রাহিকুল মাখতুম – শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা ৪৯১
[১৯৯] আর রাহিকুল মাখতুম-শফিউর রহমান মুবারকপুরী (র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] পৃষ্ঠা ১৭০
[২০০] Google Map: Distance between Petra & Taif https://goo.gl/eDKQCY
[২০১] খালীফাতু রাসূলিল্লাহ আবু বাকর আছ ছিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু – ড. আহমদ আলী, পৃষ্ঠা ১৩৬
[২০২] The Ancient Languages of Syria-Palestine and Arabia, edited by Roger D. Woodard; chapter 6, page 104
[২০৩] “Aramaic Definition of Aramaic in US English by Oxford Dictionaries” https://en.oxforddictionaries.com/definition/us/aramaic
“Aramaic language – Wikiwand”
http://www.wikiwand.com/en/Aramaic_language
[২০৪] আল কুরআন, ইব্রাহিম১৪ : ৪ দ্রষ্টব্য
[২০৫] “Syria.”Encyclopædia Britannica. 2006. Encyclopædia Britannica Online. 20 Oct. 2006 Syria — Britannica Online Encyclopedia
“Ghassan.”Encyclopædia Britannica. 2006. Encyclopædia Britannica Online. 18 Oct. 2006 Ghassan (ancient kingdom, Arabia) — Britannica Online Encyclopedia
[২০৬] “Arabic (Levantine) _ About World Languages”
http://aboutworldlanguages.com/arabic-eastern
[২০৭] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৩২৫৬
[২০৮] “The Arabic Language_Origins As-Souq Arabic Centre”
http://www.as-souq.com/2016/09/30/arabic-language-origins/
[২০৯] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩১১৯
[২১০] তাফসির ইবন কাসির, ১ম খণ্ড (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী) সূরা বাকারাহর ১২৬-১২৮ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৩৭৯-৩৮০ )
[২১১] Umar Ibn al-Khattab – His Life & Times by Dr. Muhammad Ali al-Sallabi, volume 2, page 339 – 341
[২১২] “Why non-Muslims cannot visit Makkah Arab News”
http://www.arabnews.com/node/211566
[২১৩] “Salaf – Islam, Quran and the Sunnah – Sayings of the Salaf” https://www.sayingsofthesalaf.net/page/29/
[২১৪] প্রাগুক্ত
[২১৫] “The coming of Islam (Part 4 of Ancient Arabia re-interpreted series) _Arab News” (Geoffrey King)
http://www.arabnews.com/node/361836
[২১৬] “UNESCO – Twenty-three new inscriptions on Memory of the World Register of Documentary Collections”
http://portal.unesco.org/en/ev.php-URL ID=14264&URL DO=DO TOPIC&URL SECTION=201.html অথবা শর্ট লিঙ্ক :https://goo.gl/sMpmQD
[২১৭] “Earliest Islamic Kufic inscription Nomination Form”
http://www.unesco.org/fileadmin/MULTIMEDIA/HQ/CI/CI/pdf/mow/nomination forms/ অথবা শর্ট লিঙ্ক :https://goo.gl/RB9QCX
[২১৮] “The Inscription of Zuhayr, the oldest Islamic Inscription (AH 24_AD 644)_ Robert Hoyland – Academia.edu”
http://www.academia.edu/3576977/The Inscription of Zuhayr the oldest Islamic Inscription_AH_24_AD_644 অথবা শর্ট লিঙ্ক :https://goo.gl/5WJ7JU
[২১৯] আল কুরআন, আলি ইমরান ৩: ১০৯
[২২০] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ১৪৩-১৪৭
[২২১] আল কুরআন, ফাতহ ৪৮ : ২৪

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন