ড. জেফরি ল্যাং-পাট ফোর

মোস্তফা খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরল। হাসান আস্তে করে বলল, ‘মোস্তফা ভাই, তিনি এখনো মুসলিম হননি’ মোস্তফা কিছুটা চমকে আমাকে ছেড়ে দিল ।

খাসান আবার বলল, ‘মোস্তফা, তাকে শাহাদাহ পাঠ করাও।

মোস্তফা আমার দিকে ফিরল। তারপর প্রতিটা শব্দ ধীরে ধীরে উচ্চারণ করে আমাকে শাহাদাহ পাঠ করাল। প্রতিটা শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে যেন পানির একেকটি ফোটা আমার শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল। আমার অন্তর হয়ে উঠছিল পরিশুদ্ধ।

আমি মসজিদ থেকে বেরিয়ে এসে খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিলাম। পুরোনো অবিশ্বাসীর খোলস ছেড়ে, একজন আত্মসমর্পণকারী মুসলিম হিসেবে।

পরিচিতি

শুধু কুরআন পড়েই যে, একজন মানুষ আমূল বদলে যেতে পারেন, ড. ল্যাং তার চমৎকার উদাহরণ। ড. ল্যাং মূলত আমেরিকার কানসাস ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক।

ক্যাথলিক স্কুলে পড়া ল্যাং ছোটবেলা থেকে ধীরে ধীরে ধর্মের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ১৮ বছর হতে না হতে হয়ে যান ঈশ্বরে অবিশ্বাসী নাস্তিক। সানফ্রান্সিস্কো ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময় ঘটনাক্রমে কুরআনের একটা কপি তার হাতে আসে। পড়তে পড়তে তিনি মুগ্ধ হন। শেষে ইসলাম গ্রহণ করেন।

‘Even Angels Ask ও Struggling to surrender’ তার দুটো বিখ্যাত বই।

পাদটিকা

১. আদম(আ) এর দুনিয়ায় আগমন : আমাদের মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত আছে, গন্ধম ফল

খাবার কারণে শাস্তি হিসেবে আদমকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। কেউ কেউ আবার এর জন্য হাওয়াকে দোষারোপ করেন। ভাবেন, হাওয়া যদি আদমকে প্ররোচিত করে গন্ধম না খাওয়াতেন, তবে মানুষের বংশধররা জান্নাতেই থাকত। গন্ধম খাওয়ার পর দুজনকে দুনিয়ায় নামিয়ে দেয়া হয়। আদম(আ)কে নামানো হয় বর্তমান শ্রীলঙ্কায় আর হাওয়াকে নামানো হয় সৌদি আরবে। আদম (আ)পৃথিবীতে নেমে অনুতপ্ত হন, হাওয়ার খোঁজ করতে থাকেন। শেষে আরাফার ময়দানে দুজনের মিলন হয়। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় আদম যেখানে নেমেছিলেন, সে স্থানটা Adams Peak নামে পরিচিত। অনেক পর্যটক সেটি দেখতে যান। সেখানে বিশাল বড় একটা পায়ের ছাপও আছে।

এই ঘটনাতে বেশ কিছু ভুল রয়েছে। প্রথমত, ‘আদমের দুনিয়ার আগমন পাপের শাস্তি হিসেবে’, এটা বাইবেলের ভাষ্য, কুরআনের নয়। কুরআন পরিষ্কার ভাষায় বলছে, আল্লাহ আগ থেকেই আদমকে দুনিয়াতে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন। সৃষ্টির পরে কিছু দিন জান্নাতে রেখে দিয়েছেন, যাতে আদম জান্নাত ও জাহান্নামের স্বরূপ বুঝতে পারেন। বুঝতে পারেন শয়তান কী করে বন্ধু বেশে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, গন্ধম শব্দের উল্লেখ কুরআন কিংবা সহিহ হাদিস কোথাও নেই। সম্ভবত তাফসিরকারকগণ বাইবেল থেকেই এই শব্দের আমদানী করেছেন। তৃতীয়ত, হাওয়া আগে গন্ধম খেয়েছেন এবং পরে আদমকে ভুলিয়ে ভালিয়ে খাইয়েছেন, এটাও বাইবেলের বক্তব্য, কুরআনের নয়। বাইবেল তো এও বলেছে, হাওয়ার শাস্তি স্বরূপ। হাওয়াকে বলা হয়েছে, আজ থেকে তুমি ও তোমার বংশধরেরা সন্তান জন্মদানের সময়। তীব্র ব্যথা অনুভব করবে।। কুরআনে কোথাও বলা হয়নি, হাওয়া আদম(আ)কে প্ররোচিত করেছেন। বরং কুরআনের ভাষ্য হলো, শয়তান দুজনকেই বিভ্রান্ত করেছে। কে আগে কে পরে এমন কথা কুরআনে বলা হয়নি। পাশাপাশি ইসলামে সন্তান জন্মদানের সময় তীব্র ব্যথাকে মায়ের বিশেষ মর্যাদা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, শাস্তি হিসেবে নয়। সর্বশেষ, আদম (আ)এর জান্নাত থেকে শ্রীলঙ্কায় অবতরণ ও আরাফার ময়দানে হাওয়ার সাথে মিলন, এই ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। সহিহ সনদে কোনো হাদিসের কিতাবেও এমন কোনো বর্ণনা নেই। ঘটনাটি এক ধরনের লোক কথা মাত্র। (বিস্তারিত জানতে দেখুন : হাদিসের নামে জালিয়াতি-ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, ৪র্থ। সংস্করণ,পৃ. ২৮৮-২৮৯, বাইবেল, আদী পুস্তক ৩ : ১৬)

২. সিনাই পর্বত : মিসরে অবস্থিত একটি পাহাড়, যা মুসলিমদের মাঝে তুর পাহাড় নামে পরিচিত।

এখানেই আল্লাহ মুসা(আ)এর সাথে কথা বলেন। এখানেই তাকে তাওরাত দেয়া হয়।

৩. সান্তা ক্লজ : কল্পিত এক বুড়ো চরিত্র। তার আছে লম্বা সাদা দাড়ি, গায়ে শীতের বিশাল

জুব্বা। দুহাত দস্তানায় ঢাকা। খ্রিষ্টানরা তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে এমন একটি চরিত্র সাজে। বলা হয়, সান্তা ক্লজ স্বর্গ থেকে হরিণ টানা স্লেজ গাড়িতে চড়ে বড়দিনের আগে আগে বাচ্চাদের জন্য অনেক অনেক খেলনা আর উপহার নিয়ে আসেন। বাচ্চারা। অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকে।

কথিত আছে, অনেক অনেক আগে Saint Nicholas নামে একজন ধর্মীয় যাজক ছিলেন। তিনি বড়দিনের সময় ছোট বাচ্চা আর গরিব মানুষদের মধ্যে উপহার বিলি করতেন। তার স্মরণেই এই সান্তা ক্লজের চরিত্রের সৃষ্টি হয়।

আগের অংশ টুকু পড়তে
[এখানে ক্লিক করুন]

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন