মূল:ঈমানের রুকনসমূহ

অনুবাদ: মোহাম্মাদ ইবরাহীম আবদুল হালীম  সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

(১) কদরের (তাকদীরের) সংজ্ঞা ও তার ওপর ঈমান আনার গুরুত্ব:

কদর বা (ভাগ্য) হলো, আল্লাহর অনন্ত জ্ঞান ও হিকমাত অনুযায়ী সৃষ্টিকুলের সকল কিছু নির্ধারণ। আর তা আল্লাহর কুদরতের ওপর নির্ভরশীল, কারণ তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল, তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন।

আর তাকদীরের ওপর ঈমান আনা আল্লাহ তা‘আলার রবুবিয়াত বা প্রভুত্তের ওপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঈমানের ছয়টি রুকনের অন্যতম একটি রুকন। এর ওপর ঈমান আনা ছাড়া এই ছয়টি রুকনের ওপর ঈমান আনা পরিপূর্ণ হবে না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ ٤٩﴾ [القمر: ٤٩]

“নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি।” [সূরা আল-ক্বামার, আয়াত: ৪৯]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«كل شيء بقدر حتى العجز والكيس، أوالكيس والعجز».

“প্রত্যেক জিনিসই পরিমিত, এমনকি অপারগতা ও অলসতা অথবা অলসতা ও অপারগতাও।” (সহীহ মুসলিম)

(২) তাকদীরের স্তর:

চারটি স্তর বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাকদীরের ওপর ঈমান আনা পরিপূর্ণ হবে:

প্রথমতঃ আল্লাহর অনন্ত জ্ঞানের ওপর ঈমান আনা, যা সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ ٧٠﴾ [الحج: ٧٠]

“তুমি কি জাননা যে, নিশ্চয় আল্লাহ অবগত যা কিছু আসমান ও জমিনে রয়েছে, নিশ্চয় তা কিতাবে লিখিত আছে আর নিশ্চয় তা আল্লাহর নিকট সহজ।” [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৭০]

দ্বিতীয়তঃ লাওহে মাহফুযে আল্লাহর জানা মোতাবেক ভাগ্যসমূহ লিখে রাখার ওপর ঈমান আনা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَّا فَرَّطۡنَا فِي ٱلۡكِتَٰبِ مِن شَيۡءٖۚ﴾ [الانعام: ٣٨]

“আমরা কিতাবে কোনো কিছু লিখতে ছাড়ি নি।” [সূরা আন‘আম আয়াত: ৩৮]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«كتب الله مقادير الخلائق قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة».

“আসমান-যমীন সৃষ্টির ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি জীবের তাকদীরসমূহ লিখে রেখেছেন।” (সহীহ মুসলিম)

তৃতীয়ত: আল্লাহর কার্যকরী ইচ্ছা ও তাঁর ব্যাপক শক্তির ওপর ঈমান আনা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٢٩﴾ [التكوير: ٢٩]

“সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে অন্য কিছুই তোমরা ইচ্ছা করতে পার না।” [সূরা আত-তাকওয়ীর, আয়াত: ২৯]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করে বলেছিলেন,

«ما شاء الله وشئت»

আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন (‘এবং’ সংযুক্ত করে)।

«أجعلتني لله نداً بل ما شاء الله وحده».

“তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে দিলে? বরং তিনি একাই চেয়েছেন।” (আহমদ)

চতুর্থত: নিশ্চয় আল্লাহ সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা; এর ওপর ঈমান আনা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ وَكِيلٞ ٦٢﴾ [الزمر: ٦٢]

“আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর অভিভাবক।” [সূরা-আয-যুমার, আয়াত: ৬২]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَٱللَّهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُونَ ٩٦﴾ [الصافات: ٩٦]

“আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের কর্মকে সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা আস-সাফফাত আয়াত: ৯৬]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إن الله يصنع كل صانع وصنعته».

“নিশ্চয় আল্লাহ সকল আবিস্কারক ও তার আবিস্কারকে সৃষ্টি করেন।” (সহীহ বুখারী)

(৩) তাকদীরের প্রকার:

(ক) সকল সৃষ্টজীবের সাধারণ তাকদীর লিপিবদ্ধকরণ। আর সেটাই আসমান জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর আগে লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

(খ) সারা জীবনের তাকদীর লিপিবদ্ধকরণ। আর তা হলো বান্দার মাঝে রুহ্ বা আত্মা ফুঁকে দেওয়ার সময় থেকে তার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যা কিছু সংঘটিত হবে তা নির্ধারণ করা।

(গ) বাৎসরিক তাকদীর নির্ধারণ। আর তা হলো, প্রত্যেক বৎসর যা কিছু সংঘটিত হবে তা নির্ধারণ করা। সেটা প্রত্যেক বৎসরের লাইলাতুল কদর তথা মহিমান্বিত রজনীতে হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ ٤﴾ [الدخان: ٤]

“এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।” [সূরা-আদ-দুখান আয়াত: ৪]

(ঘ) দৈনন্দিন তাকদীর নির্ধারণ, আর তা হলো সম্মান, অপমান, (কিছু) দেওয়া না দেওয়া জীবিত করা, মৃত্যু দান ইত্যাদি যা দৈনন্দিন সংঘটিত হবে, তা নির্ধারণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَسۡ‍َٔلُهُۥ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ كُلَّ يَوۡمٍ هُوَ فِي شَأۡنٖ ٢٩﴾ [الرحمن: ٢٩]

“আসমান ও জমিনে বিচরণশীল সকলেই তাঁর কাছে প্রার্থী, প্রত্যেক দিন কোনো না কোনো মহৎকর্মে রত রয়েছেন।” [সূরা আর-রহমান আয়াত: ২৯]

(৪) তাকদীরের ব্যাপারে সালাফদের আকদা বা বিশ্বাস হলো:

নিশ্চয় আল্লাহ সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা, প্রভু, তার মালিক বা অধিকারী। নিশ্চয় আল্লাহ সকল সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টির পূর্বে সেগুলোর তাকদীর লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাদের বয়স, রুযী, কর্মসমূহ নির্ধারণ করে রেখেছেন। আরো লিখে রেখেছেন যে সৌভাগ্যশালী অথবা দুর্ভাগ্যবান হওয়ার দিকে তারা ধাবিত হবে।

প্রত্যেক জিনিসই স্পষ্ট কিতাবে হিসাব করে রেখেছেন। অতঃপর আল্লাহ যা চান তা হয়, আর যা চান না তা হয় না। আর যা হয়েছে ও হবে তা সবই জানেন। আর যা হয় নি যদি তা হতো কীভাবে হতো তাও জানেন। আর তিনি প্রত্যেক বস্তুর ওপর ক্ষমতাশীল। যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তাকে পথভ্রষ্ট করেন।

আর নিশ্চয় বান্দার ইচ্ছা ও শক্তি রয়েছে, যা দ্বারা তাদেরকে যে সকল কাজের সমর্থ্যবান করেছেন তা সম্পাদন করে এই বিশ্বাস রেখে যে আল্লাহ যা চান শুধুমাত্র তাই হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ﴾ [العنكبوت: ٦٩]

“আর যারা আমাদের পথে সংগ্রাম করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথসমূহে পরিচালিত করি।” [সূরা আল-‘আনকাবূত, আয়াত: ৬৯]

আর নিশ্চয় আল্লাহ বান্দার ও তার কর্মের সৃষ্টিকর্তা, আর তারাই এই কর্মগুলো প্রকৃতপক্ষে সম্পাদনকারী। ওয়াজেব ছেড়ে দেওয়া কিংবা হারাম কাজ করাতে আল্লাহর বিরুদ্ধে কারো কোনো হুজ্জাত বা দলীল দাঁড় করানোর সুযোগ নেই, বরং বান্দাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পূর্ণ দলীল রয়েছে। বিপদ-আপদে তাকদীরকে কারণ হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হলেও নিন্দনীয় ও পাপের কাজে তাকদীরের অযুহাত দেওয়া বৈধ নয়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদম ও মূসা আলাইহিমাস সালামের পরস্পর বিতর্কের ব্যাপারে বলেন,

«تحاج آدم وموسى، فقال موسى: أنت آدم الذي أخرجتك خطيئتك من الجنة، فقال له آدم: أنت موسى الذي اصتفاك الله برسالاته وبكلامه ثم تلومني على أمر قد قدّر عليّ قبل أن أخلق فحج آدم موسى».

“আদম ও মূসা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, অতঃপর মূসা বললেন, হে আদম তোমাকেই তো তোমার পাপ জান্নাত থেকে বহিষ্কার করেছিল। তারপর আদম তাঁকে বললেন, হে মূসা! তোমাকেই তো আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও কথাপকোথনের জন্য নির্বাচন করে নিয়েছিলেন? তারপরও তুমি আমাকে এমন বিষয়ের ওপর দোষারোপ করছ যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার ওপর নির্ধারণ করে রেখেছেন। এভাবে আদম মূসার ওপর জয়ী হলেন[1]। (সহীহ মুসলিম)

(৫) বান্দাদের কর্মসমূহ

যে সকল কাজ আল্লাহ তা‘আলা এই নিখিল বিশ্বে পরিচালনা করেন তা দু’ভাগে বিভক্ত:

এক: আল্লাহ তা‘আলার কর্মসমূহের মধ্যে যে সকল কর্ম তাঁর সৃষ্টি জীবের মাঝে পরিচালনা করেন, তাতে কারো কোনো প্রকার ইচ্ছা ও ইখতিয়ার নেই। বস্তুর সকল ইচ্ছা আল্লাহর জন্য। যেমন জীবিত করা মৃত্যু দান করা সুস্থ ও অসুস্থ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱللَّهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُونَ ٩٦﴾ [الصافات: ٩٦]

“আর আল্লাহই তোমাদের ও তোমাদের কর্মকে সৃষ্টি করেছেন। [সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ৯৬]

তিনি আরো বলেন,

﴿ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلۡمَوۡتَ وَٱلۡحَيَوٰةَ لِيَبۡلُوَكُمۡ أَيُّكُمۡ أَحۡسَنُ عَمَلٗا﴾ [الملك: ٢]

“যিনি জীবন ও মরণ সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন- কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ২]

দুই: আর যে সকল কর্ম সৃষ্টিজীব সম্পাদন করে থাকে, তা সবই ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত। আর তা সম্পাদনকারীর ইখতিয়ার ও ইচ্ছায় সংঘটিত হয়, কারণ আল্লাহ তাদের ওপর সেটা করার ক্ষমতা অর্পণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لِمَن شَآءَ مِنكُمۡ أَن يَسۡتَقِيمَ ٢٨﴾ [التكوير: ٢٨]

“যে তোমাদের মধ্যে সোজা পথে চলতে চায়।” [সূরা আল-তাকওয়ীর, আয়াত: ২৫]

তিনি আরো বলেন,

﴿فَمَن شَآءَ فَلۡيُؤۡمِن وَمَن شَآءَ فَلۡيَكۡفُرۡۚ ﴾ [الكهف: ٢٩]

“অতএব যার ইচ্ছা হয় ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা কুফরী করুক।” [সূরা আল-ক্বাহাফ, আয়াত: ২৯]

ভাল কাজ সম্পাদনের জন্য তারা প্রশংসার হক্বদার, আর খারাপ কাজ করার জন্য তারা অপমানের হক্বদার। আল্লাহ শুধুমাত্র ঐ কাজ করার জন্য শাস্তি দিবেন, যাতে বান্দার পূর্ণ ইখতিয়ার রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَآ أَنَا۠ بِظَلَّٰمٖ لِّلۡعَبِيدِ ٢٩﴾ [ق: ٢٩]

“আর না আমি বান্দাদের ওপর যুলুমকারী।” [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ২৯]

আর মানুষ ইচ্ছা ও নিরুপায়ের পার্থক্য জানে। যেরূপ কেউ ছাদ থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিজ ইচ্ছায় অবতরণ করেন, আর কখনো কেউ তাকে ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে। প্রথম উদাহরণ হলো ইচ্ছার, আর দ্বিতীয় উদাহরণ হলো নিরুপায়ের।

(৬) আল্লাহর সৃষ্টি ও বান্দার কর্মের মাঝে সমন্বয়:

আল্লাহ বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন ও তার (বান্দার) কর্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন ও তাকে ইচ্ছা ও শক্তি দিয়েছেন। তাই বান্দাই প্রকৃতপক্ষে তার কর্মের সম্পাদনকারী, সারাসরি তা আদায়কারী। কারণ, তার ইচ্ছা ও শক্তি রয়েছে।

অতঃপর সে যদি ঈমান আনে, তবে সে তার ইচ্ছায় ও ইরাদায় ঈমান আনলো। আর সে যদি কুফুরী করে তবে সে তার ইচ্ছায় ও পূর্ণ ইরাদায় কাফির হলো। যেমন, আমরা বলে থাকি যে, এই ফল এই গাছের আর এই ফসল এই ক্ষেতের। অর্থ হলো, নিশ্চয় তা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। আর আল্লাহর দিক থেকে এর অর্থ হবে, নিশ্চয় আল্লাহ এটাকে তা থেকে সৃষ্টি করেছেন। এই দুইয়ের মাঝে কোনো প্রকারের বিরোধ নেই।

আর এর দ্বারা (শার‘উল্লাহ) আল্লাহর প্রণয়ন ও তাঁর নির্ধারণ এক বলে বিবেচিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱللَّهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُونَ ٩٦﴾ [الصافات: ٩٦]

“অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমাদের কর্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ৯৬]

তিনি আরো বলেন,

﴿فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ٧ وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسۡتَغۡنَىٰ ٨ وَكَذَّبَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡعُسۡرَىٰ ١٠﴾ [الليل: ٥، ١٠]

“অতএব, যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমরা তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব, আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, আমরা তাকে কষ্টের জন্যে সহজ পথ দান করব।” [সূরা আল-লাইল, আয়াত: ৫-১০]

(৭) তাকদীরের ব্যাপারে বান্দার করণীয়:

তাকদীরের ব্যাপারে বান্দার করণীয় কাজ হলো দু’টি:

প্রথম: সম্ভাব্য কাজ সম্পাদন ও সতর্ককৃত কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। আল্লাহর কাছে আরো চাইতে হবে যেন তিনি তার জন্য সহজ কাজকে করার তাওফীক দেন, আর কঠিন সাধ্য কাজ থেকে তাকে বিরত রাখেন। আর তাঁর ওপর ভরসা করা ও তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়া। অতঃপর কল্যাণ অর্জনের জন্য ও অকল্যাণ বর্জনের জন্য তাঁরই মুখাপেক্ষী হওয়া। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«احرص على ما ينفعك واستعن بالله ولا تعجز وإن أصابك شيء فلا تقل لو أني فعلت كذا لكان كذا ولكن قل قدر الله وما شاء فعل، فإن لو تفتح عمل الشيطان».

“তোমার জন্য কল্যাণকর কাজের প্রতি যত্নবান হও, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর, আর অপারগতা প্রকাশ করিও না। আর তুমি যদি কোনো কষ্টের সম্মুখীন হও তবে এইরূপ বলিও না যে আমি যদি এ কাজ করতাম তাহলে এই হত; বরং বল যে, ‘এটা আল্লাহর নির্ধারণ, আর তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন’। কারণ, ‘যদি’ কথাটি শয়তানের কর্ম খুলে দেয়।

দ্বিতীয়: বান্দা তার ওপর নির্ধারিত বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করবে, ঘাবড়াবে না। অতঃপর জানবে যে, নিশ্চয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং সন্তুষ্টচিত্তে তা মেনে নিবে। আরো জ্ঞাত হবে- যে বিপদ তাকে আক্রমন করেছে তা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে চলে যাবার নয়। আর যে বিপদ তাকে আক্রমণ করে নি তা তাকে কোনো ভাবেই স্পর্শ করার ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«واعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وأن ما أخطأك لم يكن ليصيبك».

“আরো জ্ঞাত হবে- যে বিপদ তোমাকে আক্রমণ করেছে তা তোমাকে ভুল করে অতিক্রম করে চলে যাবার নয়। আর যে বিপদ তোমাকে আক্রমণ করেনি তা তোমাকে স্পর্শ করার ছিল না”।

(৮) তাকদীর ও ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা:

তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা অপরিহার্য; কেননা তা আল্লাহর রুবুবিয়াত বা প্রভুত্বের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার অন্তর্ভুক্ত। তাই সকল মুমিনের পক্ষে আল্লাহর ফায়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা অপরিহার্য।

কারণ, আল্লাহর সকল কর্ম ও ফায়সালাই ভালো (ন্যায়পূর্ণ) ইনসাফভিত্তিক, হিকমাতপূর্ণ। সুতরাং যার আস্থা থাকবে যে, নিশ্চয় যে সুখ বা দুঃখ তাকে স্পর্শ করেছে তা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে চলে যাবার ছিল না আর যা তাকে ছেড়ে গেছে বা স্পর্শ করে নি তা তার নিকট পৌঁছার ছিল না, সে ব্যক্তি পেরেশানী ও সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকতে সক্ষম হবে। আর তার জীবন হতে ব্যাকুলতা ও দোদুল্যমানতা দূর হবে। চলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া বস্তুর ওপর চিন্তিত হবে না। আর তার ভবিষ্যৎকে ভয় পাবে না। আর এর মাধ্যমে সে সব চাইতে সৌভাগ্যপূর্ণ হবে, আত্মার দিক দিয়ে সব চেয়ে পবিত্র হবে, আর সব চেয়ে প্রশান্ত হৃদয় হবে।

আর যে জানতে পারবে যে, তার বয়স সীমিত, রুযী পরিমিত, সে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবে যে, কাপুরুষতা বয়স বাড়াতে পারে না, কার্পণ্যতা রুযী বাড়াতে পারে না, সবই লিখিত রয়েছে, তখন সে বিপদের ওপর ধৈর্য ধারণ করবে, পাপ ও ত্রুটিপূর্ণ কর্ম সম্পাদন করার কারণে ক্ষমা চাইবে। আর আল্লাহ যা (তার জন্য) নির্ধারণ করেছেন তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। তবেই আদেশের আনুগত্য আর বিপদের ওপর ধৈর্য ধারণের মাঝে সমন্বয় গড়তে সক্ষম হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذۡنِ ٱللَّهِۗ وَمَن يُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ يَهۡدِ قَلۡبَهُۥۚ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ ١١﴾ [التغابن: ١١]

“আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো প্রকার বিপদ আসে না এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে, আল্লাহ তার অন্তরকে পথ প্রদর্শন করাবেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।” [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১১]

তিনি আরো বলেন,

﴿فَٱصۡبِرۡ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞ وَٱسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۢبِكَ﴾ [غافر: ٥٥]

“অতএব, আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আপনি আপনার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৫৫]

(৯) হিদায়াত দু’ প্রকার: (হিদায়াতের দু’টি অর্থ)

প্রথম: হিদায়াত অর্থ, সত্যের সন্ধান দেওয়া, সৎপথ প্রদর্শন করা। আর সকল সৃষ্টজীবই এর মালিক। আর সকল রাসূল ও তাদের অনুসারীগণ এরই মালিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَإِنَّكَ لَتَهۡدِيٓ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٥٢ ﴾ [الشورى: ٥٢]

“নিশ্চয় আপনি সরলপথ প্রদর্শন করেন।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫২]

দ্বিতীয়: হিদায়াত এর অর্থ, আল্লাহ কর্তৃক বান্দাদেরকে (ভালো কাজের) তাওফীক প্রদান করা ও সঠিক পথে প্রতিষ্ঠা বা অটল রাখা, (আর তা) তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের জন্য দয়া ও অনুগ্রহস্বরূপ। আর এ হিদায়াতের একমাত্র মালিক হলেন আল্লাহ।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّكَ لَا تَهۡدِي مَنۡ أَحۡبَبۡتَ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يَشَآءُ﴾ [القصص: ٥٦]

“আপনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা‘আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন।” [সূরা আল-ক্বাসাস, আয়াত: ৫৬]

(১০) (আল্লাহর) কুরআনে বর্ণিত ইরাদা দু’ প্রকার:

প্রথম: ইরাদা কাউনিয়া ক্বাদারিয়া বা সৃষ্টিগত ও প্রাকৃতিক ইচ্ছা, আর তা হচ্ছে, সকল সৃষ্টিকূলের জন্য নির্ধারিত ইচ্ছা। সুতরাং আল্লাহ যা চান তা হয়, আর যা চান না তা হয় না। এ সৃষ্টিগত ও প্রাকৃতিক ইচ্ছা বা ইরাদা (কাউনিয়া ও ক্বাদারিয়া) অবশ্যই সংঘটিত হবে; কিন্তু শরী‘আতগত ইচ্ছা বা ইরাদা শর‘ঈয়াহ’র সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত সেটাকে তার পক্ষ থেকে ভালোবাসা কিংবা সেটার প্রতি তাঁর সন্তুষ্ট হওয়া জরুরি নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَمَن يُرِدِ ٱللَّهُ أَن يَهۡدِيَهُۥ يَشۡرَحۡ صَدۡرَهُۥ لِلۡإِسۡلَٰمِۖ ﴾ [الانعام: ١٢٥]

“আল্লাহ যাকে হিদায়াত করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১২৫]

দ্বিতীয়: ইরাদা দীনিয়া শর‘ঈয়াহ, (দীন হিসেবে আল্লাহর ইচ্ছা) তা হল, দীনী নির্দেশ বা উদ্দেশ্য, আর তার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে সেটার অনুসারীকে ভালোবাসা ও তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। তবে ইরাদা দীনিয়া শর‘ঈয়াহ ততক্ষণ বাস্তবায়িত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার সাথে ইরাদা কাউনিয়া (সৃষ্টিগত ইচ্ছা) সংযুক্ত না হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ﴾ [البقرة: ١٨٥]

“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, তোমাদের জন্য কঠিনতা চান না।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫]

আর ‘ইরাদা কাউনিয়া’ অধিক ব্যাপক, কারণ সকল ‘শারয়ী ইরাদা’ যা বাস্তবায়িত হয় তা সৃষ্টিগত দিক হতেও বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য উদ্দেশ্য। পক্ষান্তরে ঘটে যাওয়া সকল ‘ইরাদা কাওনীয়া’ (সৃষ্টিগত ইচ্ছা) তা শরী‘আতে উদ্দেশ্য নয়।

সুতরাং কখনও আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা ও শর‘ঈ উভয়টিই বাস্তবায়িত হয়। যেমন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঈমানের মাঝে উভয় প্রকার ইরাদা বা ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়েছিল।

আবার কখনও কখনও কেবল আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়, সেখানে শরী‘আতগত ইচ্ছা থাকে না। যেমন, আবু জাহল এর কুফুরী। তাতে শুধুমাত্র আল্লাহর ইরাদা কাওনিয়া বা সৃষ্টিগত ইচ্ছা ছিল।

আবার কখনও কখনও কোনো কিছুতে আল্লাহর ইরাদা কাউনিয়া বা সৃষ্টিগত ইচ্ছা থাকে না, যদিও তা ইরাদা শর‘ইয়াহ বা শারী‘আতের দিক থেকে প্রত্যাশিত ছিল। যেমন, আবু জাহেলের ঈমান।

সুতরাং যদিও আল্লাহ নাফরমানী সংঘটিত হওয়ার ইচ্ছা করেন ঘটে যাওয়ার দিক থেকে এবং সৃষ্টিগত দিক থেকে তা চান কিন্তু তিনি তা দীন হিসাবে পছন্দ করেন না, ভালোবাসেন না ও তার প্রতি নির্দেশও দেন না। বরং তার প্রতি বিদ্বেষ রাখেন, অপছন্দ করেন, তা থেকে বান্দাদেরকে নিষেধ করেন ও তা সম্পাদনকারীকে সাবধান করেন। যদিও আর এসব কিছু তাঁরই নির্ধারণ। পক্ষান্তরে আনুগত্যপূর্ণ কর্ম ও ঈমান আনয়ন করাকে আল্লাহ তা‘আলা ভালোবাসেন, সেটার নির্দেশ দিয়েছেন, তার সম্পাদনকারীকে নেকী ও সুন্দর প্রতিদানের ওয়াদা দিয়েছেন। যদিও তাঁর ইরাদা ছাড়া তাঁর নাফরমানী করা যায় না। আর আল্লাহ তা‘আলা যা চান শুধু তাই সংঘটিত হয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا يَرۡضَىٰ لِعِبَادِهِ ٱلۡكُفۡرَۖ ﴾ [الزمر: ٧]

“আর (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের কুফুরী পছন্দ করেন না।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلۡفَسَادَ ٢٠٥﴾ [البقرة: ٢٠٥]

“আল্লাহ ফাসাদ (অশান্তি) পছন্দ করেন না।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২০৫]

(১১) ঐ সকল আসবাব বা কারণসমূহ যা তাকদীর পরিবর্তন করে[2]:

আল্লাহ কিছু কারণ তৈরি করে রেখেছেন যা তকদীরকে পরিবর্তন ও প্রতিরোধ করে। যেমন, দো‘আ, সাদাকাহ্, ঔষধ, সতর্কতা অবলম্বন, (নিজের) কর্মদক্ষতা ব্যবহার করা; কেননা, বিষয় ও কারণ সবই আল্লাহর ফায়সালা ও তাঁরই নির্ধারণ, এমনকি অপারগতা- অক্ষমতা ও বিজ্ঞতা-বুদ্ধিমত্তা।

(১২) তাকদীরের মাসআলা বা বিষয়টি আল্লাহর সৃষ্টি জীবের মাঝে তাঁর একটি রহস্যময় বিষয়:

তাকদীর নির্ধারণ আল্লাহর গোপন রহস্য, তাঁর সৃষ্টজীবের মাঝে এ কথাটি শুধুমাত্র তাকদীরের গোপন দিকের জন্য প্রযোজ্য। কারণ সকল জিনিসের হাকীকত শুধুমাত্র আল্লাহ জানেন। মানুষ তা অবগত হতে পারে না। যেমন, আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন, হিদায়াত করেন, মৃত্যু দান করেন, জীবিত করেন, নিষেধ করেন ও কিছু প্রদান করেন। তাই তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إذا ذكر القدر فأمسكوا».

“যখন তাকদীরের কথা স্মরণ হবে তখন তোমরা তা নিয়ে তর্ক বির্তকে লিপ্ত না হয়ে চুপ থাকবে।” (সহীহ মুসলিম)

তবে তাকদীরের অন্যান্য দিক ও তাঁর মহা হিকমাত স্তর, মর্যাদা ও তাঁর প্রভাব মানুষের নিকট বর্ণনা করা ও তা মানুষদেরকে জানানো বৈধ রয়েছে। কারণ তাকদীরের ওপর ঈমান আনা ঈমানের রুকনসমূহের একটি অন্যতম রুকন, যা শিক্ষা করাও জানা একান্ত কর্তব্য। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিবরীল আলাইহিস সালামের নিকট ঈমানের রুকনসমূহ উল্লেখ করেন, তখন বলেন,

«هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم».

“উনি হলেন জিবরীল, তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য আগমন করেছেন”।

(১৩) তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া:

ভবিষ্যতে কি হবে বা না হবে এই সম্পর্কে আল্লাহর পূর্ব জ্ঞান, যা গায়েবী বিষয় তা তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। যা মানুষ ও জিন্নদের অজানা। এতে কোনো ব্যক্তিরই স্বীয় পক্ষ গ্রহণের দলীল নেই। আর যে বিষয় ফায়সালা হয়ে গেছে তার ওপর ভরসা করে কর্ম ত্যাগ করা ঠিক নয়। সুতরাং তাকদীরকে আল্লাহর বিরুদ্ধে ও তাঁর সৃষ্টির কারো জন্য দলীল বা হুজ্জাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

যদি খারাপ কাজ করার ওপর তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া বৈধ হতো তাহলে অত্যাচারী শাস্তিপ্রাপ্ত হতো না, মুশরিক ব্যক্তির হত্যা হতো না, হদ বা বিধান প্রতিষ্ঠিত হতো না, আর কেউ অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকতো না। আর তা দীন ও দুনিয়াতে অশান্তি সৃষ্টি করার মাধ্যম হত, যার ভয়াবহতা সকলের জানা।

আর যারা ভাগ্য দ্বারা দলীল দেয়, তাদেরকে আমরা বলবো তুমি জান্নাতী না জাহান্নামী এ ব্যাপারে তোমার নিকট তো নিশ্চিত জ্ঞান নেই। আর যদি তোমার নিকট এ ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান থাকত অবশ্যই আমরা তোমাকে সৎকাজের আদেশ দিতাম না ও অন্যায় থেকে নিষেধও করতাম না; বরং তুমি কর্ম সম্পাদন কর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাওফীক প্রদান করবেন, আর তুমি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

কিছু কিছু সাহাবী যখন তাকদীরের হাদীসসমূহ শুনতেন তখন বলতেন, এখন তুমি আমার চাইতে বেশি প্রচেষ্টাকারী নও। (অর্থাৎ আমি বেশি প্রচেষ্টাকারী, আমি তাকদীরের ওপর নির্ভর করে বসে থাকার মত লোক নই, তাকদীরকে বাহানা করে আমল ছেড়ে দেওয়ার লোক আমি নই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আত্মপক্ষ সমর্থনে তাকদীরের দ্বারা দলীল দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

«اعملوا فكل ميسر لما خلق له فمن كان من أهل السعادة فسييسر لعمل أهل السعادة، ومن كان من أهل الشقاوة فسييسر لعمل أهل الشقاوة»

“তোমরা কর্ম সম্পাদন করতে থাকো, যাকে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজসাধ্য হবে। সুতরাং যে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত তার জন্য সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের যে কাজ সেটা করা সহজ করে দেওয়া হবে। আর যে দূর্ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তার জন্য দূর্ভাগ্যবান ব্যক্তিদের যে কাজ সে কাজ সহজ করে দেওয়া হবে। অতঃপর নিম্নের আয়াত পাঠ করলেন,

﴿فَأَمَّا مَنۡ أَعۡطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥ وَصَدَّقَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٦ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡيُسۡرَىٰ ٧ وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسۡتَغۡنَىٰ ٨ وَكَذَّبَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡعُسۡرَىٰ ١٠﴾ [الليل: ٥، ١٠]

“অতএব, যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমরা তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করব। আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, আমরা তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করব।” [সূরা আল-লাইল, আয়াত: ৫-১০]

(১৪) আসবাব বা (মাধ্যমসমূহ) গ্রহণ করা

বান্দার নিকট দু’ প্রকার কাজ উপস্থিত হয়:

(১) এমন কর্ম যাতে বাহানা বা অজুহাত রয়েছে, তবে তা সম্পাদনে সে অপারগ নয়।

(২) এমন কর্ম যাতে বাহানা ও অজুহাতের অবকাশ নেই, আর তা পালনে সে ধৈর্য ধারণ করে না।

বান্দা কোনো বিপদ পড়ার পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা সে বিপদ সম্পর্কে জানেন। ‘আল্লাহর বিপদ সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে’ এর অর্থ এই নয় যে, তিনিই বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিপদে পতিত করেছেন, বরং এ বিপদ পতিত হয়েছে এর নির্ধারিত কারণসমূহের দ্বারাই।

যদি বিপদ থেকে রক্ষাকারী মাধ্যম যা ব্যবহার ও গ্রহণ করার জন্য ইসলামী শরী‘আত অনুমতি দিয়েছেন তা পরিত্যাগ করার কারণে সে বিপদে পতিত হয়, তবে সে নিজেকে হিফাযত না করার কারণে ও তাঁকে বিপদ থেকে রক্ষাকারী মাধ্যম গ্রহণ না করার কারণে দোষী হবে।

আর যদি এই বিপদ প্রতিরোধ করার তার ক্ষমতা না থাকে তবে সে সাওয়াবের অধিকারী হবে।

সুতরাং মাধ্যম গ্রহণ করা তাকদীর ও তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয় বরং তা (মাধ্যম) গ্রহণ করা এরই (তাকদীর ও তাওয়াক্কুলেরই) অন্তর্ভুক্ত।

আর যখন তাকদীর অনুযায়ী কর্ম শুরু হয়ে যায়, তখন তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা ও তা মেনে নেওয়া কর্তব্য হয়ে যায় ও নিম্নের কথার দ্বারা আশ্রয় গ্রহণ করবে। (قدّر الله وما شاء فعل) “আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছেন আর তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন। তবে ভাগ্য পতিত হওয়ার পূর্বে মানুষের দায়িত্ব হলো বৈধ মাধ্যম গ্রহণ করা ও তাকদীরের দ্বারা তাকদীরকে প্রতিরোধ করা। নবীগণ নিজেদেরকে নিজেদের শত্রু থেকে হিফাযত করার জন্য বিবিধ পদ্ধতি ও মাধ্যম গ্রহণ করেছিলেন, অথচ তারা আল্লাহর অহী ও নিরাপত্তা দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত ছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ভরসাকারীদের নেতা ছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি মাধ্যম গ্রহণ করতেন, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা থাকার পরও। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَعِدُّواْ لَهُم مَّا ٱسۡتَطَعۡتُم مِّن قُوَّةٖ وَمِن رِّبَاطِ ٱلۡخَيۡلِ تُرۡهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمۡ﴾ [الانفال: ٦٠]

“আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য, যা-ই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্য থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শত্রুদের ওপর এবং তোমাদের শত্রুদের ওপর।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৬০]

তিনি আরো বলেন,

﴿هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ ذَلُولٗا فَٱمۡشُواْ فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُواْ مِن رِّزۡقِهِۦۖ وَإِلَيۡهِ ٱلنُّشُورُ ١٥﴾ [الملك: ١٥]

“তিনি তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করেছেন, অতএব তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেওয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।” [সূরা-আল-মূলক, আয়াত: ১৫]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف وفي كل خير، احرص على ما ينفعك واستعن بالله ولا تعجز وإن أصابك شيء فلا تقل لو أني فعلت كذا لكان كذا وكذا، ولكن قل قدر الله ما شاء فعل فإن لو تفتح عمل الشيطان».

“দুর্বল মুমিন অপেক্ষা সবল মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম ও প্রিয়, তবে উভয়ের মাঝে কল্যাণ নিহিত রয়েছে। যা তোমাকে উপকার করবে তা আদায়ে তুমি যত্নবান হও। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর অপারগতা প্রকাশ করিও না। তোমাকে কোনো বিপদ র্স্পশ করলে তুমি বলিও না যে নিশ্চয় যদি আমি এই কাজ করতাম তবে এই এই হতো বরং তুমি বল, আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছেন আর তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কারণ ‘যদি’ (لو) বর্ণটি শায়তানের কর্মকে খুলে দেয়।” (সহীহ মুসলিম)

(১৫) তাকদীরকে অস্বীকারকারীর বিধান:

যে ব্যক্তি তাকদীরকে অস্বীকার করল সে ইসলামী শরী‘আতের মূলনীতিসমূহের একটি অন্যতম মূলনীতিকে অস্বীকার করলো। আর এর মাধ্যমে সে কুফুরী করলো। কিছু কিছু উত্তম পূর্বসূরী (সালাফে সালেহ্) বলেন,

«ناظروا القدرية بالعلم، فإن جحدوه كفروا، وإن أقروابه خصموا».

“তোমরা কাদরীয়াহ সম্প্রদায়ের সাথে (আল্লাহর) সর্বব্যাপী জ্ঞান (সাব্যস্ত করা) দ্বারা বিতর্ক কর, তারা যদি তা (আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান) অস্বীকার করে তাহলে তারা কাফির হয়ে গেলো, আর যদি তারা (সর্বব্যাপী জ্ঞান) স্বীকার করে, তাহলে তারা (তোমাদের সাথে) ঝগড়ায় হেরে গেলো।[3]

(১৬) তাকদীরের ওপর ঈমান আনার ফলাফল:

ফায়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান আনার অনেক শুভ-পরিণাম, সুন্দর প্রভাব রয়েছে যা জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসে:

(ক) তাকদীরের ওপর ঈমান বিভিন্ন প্রকার নেক আমল ও ভাল গুণ অর্জন করার সুযোগ তৈরি করে। যেমন, আল্লাহর ইখলাস বা একনিষ্ঠতা, তাঁর ওপর ভরসা করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর কাছে কিছু পাওয়ার আশা করা, তাঁর প্রতি ভালো ধারণা রাখা, ধৈর্য ধারণ করা, প্রখর সহনশীলতা, নৈরাশ্য দূর করা, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, একমাত্র আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া পেয়ে খুশী হওয়া। একমাত্র আল্লাহর জন্য বিনয়, নম্রতা প্রকাশ করা, উদাসীনতা ও অহংকার ত্যাগ করা। আল্লাহর প্রতি ভরসা করে ভালো পথে ব্যয় করার মন মানষিকতাও সৃষ্টি করে। বীরত্ব সৃষ্টি করে, ভালো কাজ করার দিকে অগ্রসর করে, অল্পে তুষ্ট থাকার গুণ তৈরী করে, আত্মসম্মানী করে, উচ্চাভিলাষী করে, কর্ম দক্ষতা সৃষ্টি করে, কর্ম সম্পাদনের প্রচেষ্টা তৈরী করে সুখে-দুখে মধ্য পথ অবলম্বনকারী তৈরি করে, হিংসা ও প্রতিবাদ করা থেকে নিরাপদে রাখে। বাজে গাল-গল্প, বাতিল কাজ থেকে বিবেককে মূক্ত রাখে। আত্মার প্রশান্তি ও তৃপ্তির ব্যবস্থা করে।

(খ) তাকদীরের ওপর ঈমান ওয়ালা ব্যক্তি তার জীবনে সঠিক ও সরল পথে পরিচালিত হয়।

অধিক নি‘আমত তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর বিপদে নিরাশ হয় না। আর সে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে যে, তাকে যে বিপদ র্স্পশ করেছে তা (তার জন্য) আল্লাহর নির্ধারণ মাত্র, তার পরীক্ষাস্বরূপ। ঘাবড়ায় না, বিচলিত হয় না; বরং ধৈর্য ধারণ করে ও সওয়াবের আশা রাখে।

(গ) তাকদীরের ওপর ঈমান তার লোককে পথভ্রষ্টতার কারণসমূহ ও জীবনের অশুভ সমাপনী থেকে হিফাযত করে। এটি মুমিনের জন্য সঠিক পথে প্রতিষ্ঠা থাকার স্থায়ী প্রচেষ্টা, নেক কাজ বেশি বেশি করার সুযোগ, নাফরমানীপূর্ণ ও ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ করে দেয়।

(ঘ) তাকদীরের ওপর ঈমান মুমিনদের জন্য সুদৃঢ় অন্তর ও পূর্ণ বিশ্বাসের দ্বারা ভয়ানক ও কঠিন কর্মকে প্রতিহত করার মনোভাব তৈরি করে দেয়, মাধ্যম বা উপকরণ গ্রহণ করার দ্বারা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«عجبا لأمر المؤمن إن أمره كله له خير وليس ذلك إلا للمؤمن، إن أصابته سراء شكر فكان خيرا له، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيرا له».

“কি আর্শ্চয্য! নিশ্চয় মুমিনের সকল কর্মই ভালো, আর তা শুধু মুমিনের জন্য খাস, যদি তাকে কোনো আনন্দ স্পর্শ করে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তাঁর জন্য কল্যাণ হয়। আর যদি তাকে কোনো বিপদ র্স্পশ করে তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণ হয়।” (সহীহ মুসলিম)

সমাপ্ত

মুসলিম হিসেবে একজন ব্যক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়, সে মুমিন বান্দা। আত্মায়-ক্বলবে, মানবীয় আচরণের যাবতীয় অনুষঙ্গে যে ব্যক্তি ঈমান আনয়ন ও রূপায়নে অভিলাষী, তার প্রথমে ঈমানের যাবতীয় দিক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ অবগতি প্রয়োজন। বইটি এমন অনুসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য।

[1] এখানে অবশ্যই এটা বুঝা উচিৎ যে, আদম আলাইহিস সালাম এখানে বুঝাতে চেয়েছেন, জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া বিপদ ও মুসীবত। যা আমার ওপর পূর্ব নির্ধারিত। জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া পাপ ও অপরাধ নয়, যদি তা হতো তবে আদম আলাইহিস সালাম পূর্ব নির্ধারিত তাকদীর দিয়ে দলীল পেশ করতেন না। সুতরাং এটা প্রমাণিত হলো যে বিপদাপদে পূর্ব নির্ধারিত তাকদীরের দোহাই দেওয়া যাবে, কিন্তু পাপ ও অপরাধমূলক কাজে তাকদীরের দোহাই দেওয়া যাবে না। [সম্পাদক]

[2] এ পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে এটা আল্লাহর পূর্বজ্ঞান বা পূর্বলিখনকে পরিবর্তন করে। বরং এর দু’টি অর্থ হতে পারে।

এক. এ কারণগুলো তাকদীরেই উল্লেখ করা আছে, সেখানে আছে যে, সে অমুক কাজটি করবে, সে কারণে তাকে এ জিনিসটি দেওয়া হলো।

দুই. ফিরেশতাদের কাগজে যা লিখা হয় তাতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়, সেটাতেই পরিবর্তন করা হয়। এর সমর্থনে সূরা আর-রা‘দ এর নিম্নোক্ত আয়াতটি পেশ করা যায়,

﴿يَمۡحُواْ ٱللَّهُ مَا يَشَآءُ وَيُثۡبِتُۖ وَعِندَهُۥٓ أُمُّ ٱلۡكِتَٰبِ ٣٩﴾ [الرعد: ٣٩]

“আল্লাহ যা ইচ্ছে তা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছে তা ঠিক রাখেন, আর তার কাছেই রয়েছে মূল কিতাব (লাওহে মাহফুয) (অর্থাৎ সেখানে কোনো পরিবর্তন পরিবর্ধন হয় না)। [সম্পাদক]

[3] কারণ, আল্লাহ যদি আগে থেকেই সবকিছু জানেন তবে সে জ্ঞান অনুসারে তিনি তা তাকদীর বা নির্ধারণ করতে বাধা কোথায়? সে হিসেবে তাকদীর অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এভাবেই তাকদীর অস্বীকারকারী কাদারীয়া ফেরকার লোকেরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের লোকদের সাথে তর্কে হেরে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। [সম্পাদক]

আরকানুল ঈমান বা ঈমানের মৌলিক অঙ্গসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন:

প্রথম রুকন: মহান আল্লাহর ওপর ঈমান
দ্বিতীয় রুকন: ফিরিশতাদের ওপর ঈমান
তৃতীয় রুকন: আসমানী গ্রন্থসমূহের ওপর ঈমান
চতুর্থ রুকন: রাসূলদের ওপর ঈমান
পঞ্চম রুকন: শেষ দিবসের ওপর ঈমান
ষষ্ঠ রুকন: তাকদীরের ওপর ঈমান

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন