মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব রহ.

অনুবাদ ও সম্পাদনা:

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

ইহসান-এর স্তম্ভ মাত্র একটি, আর তা হচ্ছে,

‘আল্লাহর ইবাদত করার সময় তুমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছ এটা মনে করা, আর যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও তবে এ কথা মনে করে নেওয়া যে, নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন।’

ইহসানের প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَواْ وَّٱلَّذِينَ هُم مُّحۡسِنُونَ ١٢٨﴾ [النحل: ١٢٨] 

“নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও ইহসান অবলম্বন করে, আল্লাহ (জ্ঞানে এবং সাহায্য-সহযোগিতায়) তাদের সঙ্গে রয়েছেন।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৮]

অনুরূপ আল্লাহর বাণী,

﴿وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ ٢١٧ ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ٢١٨ وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّٰجِدِينَ ٢١٩ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ٢٢٠﴾ [الشعراء: ٢١٧،  ٢٢٠] 

“আর ভরসা কর সেই পরাক্রান্ত ও দয়াবানের ওপর, যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি সালাতে দাঁড়াও আর যখন তুমি সালাত আদায়কারীদের সঙ্গে উাঠাবসা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” [সূরা আশ-শু‘আরা, আয়াত: ২১৭-২২০]

তদ্রূপ আল্লাহর অপর বাণী,

﴿وَمَا تَكُونُ فِي شَأۡنٖ وَمَا تَتۡلُواْ مِنۡهُ مِن قُرۡءَانٖ وَلَا تَعۡمَلُونَ مِنۡ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيۡكُمۡ شُهُودًا إِذۡ تُفِيضُونَ فِيهِۚ﴾ [يونس: ٦١]

“এবং তুমি (হে রাসূল) যে কোনো পরিস্থিতির মধ্যে অবস্থান কর না কেন, আর তা সম্পর্কে কুরআন থেকে যা কিছু তিলাওয়াত কর না কেন এবং তোমরা যে কোনো কর্ম সম্পাদন কর না কেন আমরা সে সবের পূর্ণ পর্যবেক্ষক হয়ে থাকি; যখন তোমরা তাতে প্রবৃত্ত হও।” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬১]

  এ-সম্পর্কে হাদীসের প্রমাণ হচ্ছে, জিবরীল ‘আলাইহিস সালামের এ সুপ্রসিদ্ধ হাদীস যা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, “একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম এমতাবস্থায় সেখানে মিশমিশে কাল কেশ, ধবধবে সাদা পোষাক পরিহিত একজন মানুষ এসে উপস্থিত হলেন। ভ্রমণের কোনো নিদর্শনই তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল না, অথচ আমরা কেউ তাকে চিনতে পারি নি। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং হস্তদ্বয় তাঁর উরুদেশে রাখলেন, এরপর বললেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করুন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম হচ্ছে, এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার মা‘বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সালাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রাসূল। সালাত প্রতিষ্ঠা করা। যাকাত প্রদান করা রমযান মাসের সাওম পালন করা এবং সামর্থ্য

থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ করা।

আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন। এতে আমরা আশ্চর্য হলাম যে, তিনি নিজেই জিজ্ঞেস করছেন আবার নিজেই তার সত্যায়ন করছেন।

অতঃপর তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ঈমান হলো) আল্লাহ, ফিরিশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনয়ন করা।

এরপর আগন্তুক বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি ইবাদতে লিপ্ত হবে, তখন তুমি যেন আল্লাহকে দেখছ এ কথা মনে করতে হবে, আর যদি এটা সম্ভব নাও হয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।

অতঃপর আগন্তুক বললেন, “আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন” নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জানে না।

এরপর আগন্তুক বললেন, তাহলে আমাকে কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে জানান। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন,

যখন পরিচারিকা স্বীয় মালিকের জন্ম দেবে, নগ্নদেহ ও নগ্ন পদ বিশিষ্ট ও জীর্ণ-শীর্ণ পোষাক পরিহিত ছাগলের রাখালরা সুউচ্চ অট্টালিকায় বসবাস করবে। হাদীস বর্ণনাকারী বললেন, আগন্তুক পরক্ষণেই প্রস্থান করলেন। এরপর আমরা কিছুক্ষণ নীরব নিস্তব্ধ থাকলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উমার, তুমি কি জান প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি হচ্ছেন জিবরীল, তিনি তোমাদেরকে দীন শিক্ষা প্রদানার্থে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।’[1]


[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০।

এই বইটির সকল আর্টিকেল গুলো পড়তে নিচের লিংক ক্লিক করুন:

চারটি বিষয় জানা অবশ্য-কর্তব্যচারটি বিষয় জানা অবশ্য-কর্তব্য

তিনটি বিষয় জানা অবশ্য কর্তব্য

তিনটি মূলনীতি

মিল্লাতে ইবরাহীমের মূলকথা

প্রথম মূলনীতি: রব সম্পর্কে জানা

দ্বিতীয় মূলনীতি: প্রমাণাদিসহ ইসলাম সম্পর্কে জানা

প্রথম পর্যায়: ইসলাম

দ্বিতীয় পর্যায়: ঈমান

তৃতীয় পর্যায়: ইহসান

তৃতীয় মূলনীতি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা