শেষ দিবসের ওপর ঈমান

ড. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালেহ আস-সুহাইম

অনুবাদক : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের  সম্পাদনা : প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

ঈমানের রুকন বা স্তম্ভ ছয়টি। যথা- আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস ও তাকদীরের প্রতি ঈমান আনয়ন করা।

প্রথমত: আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়ন করা

আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) প্রতি এ ঈমান আনয়ন করবে যে, তিনি হচ্ছেন সমস্ত জিনিসের রব, সৃষ্টিকর্তা, অধিপতি ও পরিচালক এবং তাঁর উলুহিয়্যাতের (ইবাদাতের) প্রতি ঈমান আনয়ন করবে যে, তিনিই সত্য উপাস্য, তিনি ব্যতীত আর সব উপাস্য বাতিল বা অসত্য। তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনয়ন করবে যে, তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম এবং পরিপূর্ণ ও সুউচ্চ গুণাবলি রয়েছে।

আর এ সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করবে যে, তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাত (ইবাদাত) এবং নাম ও গুণাবলির ব্যাপারে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا فَٱعۡبُدۡهُ وَٱصۡطَبِرۡ لِعِبَٰدَتِهِۦۚ هَلۡ تَعۡلَمُ لَهُۥ سَمِيّٗا ٦٥﴾ [مريم: ٦٥]

“তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এতোদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে, সবারই রব। সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদাত করো এবং তাঁরই ইবাদাতে প্রতিষ্ঠিত থাকো; তুমি কি তাঁর সমতুল্য আর কাউকে জান?” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৬৫]

আরও ঈমান আনয়ন করবে যে, তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তিনি প্রকাশ্য ও অদৃশ্যের সকল বিষয়ের জ্ঞান রাখেন এবং তিনি হচ্ছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَعِندَهُۥ مَفَاتِحُ ٱلۡغَيۡبِ لَا يَعۡلَمُهَآ إِلَّا هُوَۚ وَيَعۡلَمُ مَا فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِۚ وَمَا تَسۡقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعۡلَمُهَا وَلَا حَبَّةٖ فِي ظُلُمَٰتِ ٱلۡأَرۡضِ وَلَا رَطۡبٖ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٖ ٥٩﴾ [الانعام:٥٩]

“অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই নিকট রয়েছে; তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। আর স্থল ও জলভাগে যা কিছু রয়েছে তাও তিনি অবগত রয়েছেন, তাঁর অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ থেকে একটি পাতাও ঝরে না এবং ভূ-পৃষ্ঠের অন্ধকারের মধ্যে একটি দানাও পড়ে না। এমনিভাবে যেকোনো সিক্ত ও শুষ্ক বস্তুও পতিত হয় না কেন, সমস্ত বস্তুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৫৯]

আরও ঈমান আনয়ন করবে যে, তিনি সুউচ্চ ‘আরশের উপরে, সকল সৃষ্টিকুলের উপরে রয়েছেন। তবে তিনি তাঁর সৃষ্টজীবের সাথে রয়েছেন এভাবে যে, তিনি তাদের সর্বাবস্থা অবগত রয়েছেন, তাদের সব ধরনের কথাবার্তা শ্রবণ করেন, তাদের অবস্থানসমূহ দেখেন, তাদের যাবতীয় কর্মসমূহ পরিচালনা করেন, দরিদ্রকে আহার দেন, ব্যর্থকে আশ্রয় দেন, যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দেন, যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন, আর তিনি প্রত্যেক বস্তুর ওপর সর্বশক্তিমান।[1]

আল্লাহর প্রতি ঈমান স্থাপনের কতিপয় ফলাফল:

(১) আল্লাহর ভালোবাসা ও সম্মান এমন বান্দার উপকারে আসবে যারা তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনে সাড়া দানকারী। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি এগুলো পালন করে, তবে সে এর কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে পূর্ণ সৌভাগ্য ও কল্যাণ অর্জন করবে।

(২) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন অন্তরে সম্মান ও গৌরব সৃষ্টি করে। কারণ সে জানে যে, এই বিশ্বজাহানে যা কিছু রয়েছে তার সব কিছুর প্রকৃত মালিক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। তিনি ব্যতীত আর কোনো উপকারকারী ও অপকারকারী নেই।

এই জ্ঞান তাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের হতে অমুখাপেক্ষী করবে এবং তিনি ছাড়া অন্যের ভয়কে তার অন্তর হতে দূর করবে। ফলে সে তখন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নিকট আশা করবে না এবং তিনি ছাড়া আর কাউকে ভয়ও করবে না।

(৩) আল্লাহর প্রতি ঈমান তার অন্তরে বিনয়-নম্রতা সৃষ্টি করবে। কারণ সে জানে যে, সে যেসব নি‘আমত ভোগ করছে তা সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং শয়তান তাকে ধোঁকায় ফেলতে পারে না, তাই সে অহংকার ও গর্ব করে না এবং সে তার শক্তি ও অর্থের বড়াইও করে না।

(৪) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নকারী এটা দৃঢ়ভাবে অবগত রয়েছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা রাযী ও খুশি হন এমন সৎ আমল ছাড়া সাফল্য ও মুক্তি অর্জনের আর কোন পথ নেই। অথচ অন্যরা বিভিন্ন ধরনের বাতিল বিশ্বাস পোষণ করে যেমন, আল্লাহ তা‘আলা মানুষের অপরাধ মার্জনা করার জন্য তার ছেলেকে শূলের আদেশ দেন (নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক)। অথবা আল্লাহ ছাড়া এমন উপাস্যের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং এই মত পোষণ করে যে, সে তার চাহিদা পূরণ করে দিবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কোনোই উপকার ও অপকার করবে না অথবা নাস্তিক (অবিশ্বাসী) হবে; ফলে সে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের স্বীকৃতি দিবে না। এগুলো সবই হলো ভ্রান্তদের ধারণা মাত্র। অবশেষে যখন কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে এবং প্রকৃত অবস্থা প্রত্যক্ষ করবে, তখন বুঝতে পারবে যে, তারা স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে ছিল।

(৫) আল্লাহর প্রতি ঈমান মানুষের অন্তরে সিদ্ধান্ত, সাহসিকতা, ধৈর্য, অবিচলতা, ও তাওয়াককুলের মহান শক্তি তখনই বৃদ্ধি করবে, যখন সে দুনিয়াতে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এসব মহান কাজের দায়িত্ব পালন করবে এবং তার পূর্ণ বিশ্বাস থাকবে যে, সে আসমান ও যমীনের একচ্ছত্র মালিকের ওপর নির্ভরশীল। তিনিই তাকে সাহায্য করবেন ও তার হাতকে শক্তিশালী করবেন। সুতরাং সে তার ধৈর্য, অবিচলতা ও তাওয়াককুলের ক্ষেত্রে শক্ত পাহাড়ের মতো মজবুত হবে।[2]

দ্বিতীয়ত: ফিরিশতাগণের ওপর ঈমান

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আনুগত্য করার জন্য তাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন যে তারা হচ্ছে:

﴿وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۚ بَلۡ عِبَادٞ مُّكۡرَمُونَ ٢٦ لَا يَسۡبِقُونَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ وَهُم بِأَمۡرِهِۦ يَعۡمَلُونَ ٢٧ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ ٢٨﴾ [الانبياء: ٢٦،  ٢٨]

“আর তারা বলে, ‘দয়াময় (আল্লাহ্) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা সবই তিনি জানেন। আর তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্যই যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৬-২৮]

আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে আরও বলেন,

﴿لَا يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِهِۦ وَلَا يَسۡتَحۡسِرُونَ ١٩ يُسَبِّحُونَ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ لَا يَفۡتُرُونَ ٢٠ ﴾ [الانبياء: ١٩،  ٢٠]

“তারা অহংকার বশে তাঁর ইবাদাত করা হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিবোধ করে না, রাতদিন ইবাদাত করে সামান্যও ক্লান্ত হয় না।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৯-২০] আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আমাদের দর্শন থেকে আড়াল করে রেখেছেন। যার ফলে আমরা তাদেরকে দেখতে পায় না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা কখনও কখনও আবার কিছু নবী ও রাসূলদের জন্য তাদের কাউকে (স্ব-আকৃতিতে) প্রকাশ করেছেন।

ফিরিশতাদেরকে বিভিন্ন প্রকার কর্মের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন অহী অবতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম, তিনি আল্লাহর নিকট হতে অহী নিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে রাসূল নিযুক্ত করেছেন তার নিকট অবতরণ করেন। কেউ সমস্ত জান কবজ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিছু ফিরিশতা মাতৃগর্ভের সন্তান বা ভ্রূণের কাজে নিয়োজিত। কেউ আদম সন্তানের হিফাযতের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আবার কেউ তাদের সকল প্রকার কর্ম লেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য দু’জন ফিরিশতা নিয়োজিত রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿عَنِ ٱلۡيَمِينِ وَعَنِ ٱلشِّمَالِ قَعِيدٞ ١٧ مَّا يَلۡفِظُ مِن قَوۡلٍ إِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيبٌ عَتِيدٞ ١٨﴾ [ق: ١٧،  ١٨]

“তার ডানে ও বামে বসে তার কর্ম লিপিবদ্ধ করে। মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।” [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ১৭, ১৮][3]

ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান স্থাপনের কিছু উপকারিতা:

(১) শির্ক ও তার কলঙ্কের কালিমা হতে মুসলিমের আকীদাহ-বিশ্বাস পবিত্র হয়। কারণ মুসলিম যদি ফিরিশতাদের অস্তিত্বে ঈমান আনয়ন করে তবে সে এ বিশ্বাস থেকে বেঁচে যাবে যে, এমন কিছু কাল্পনিক (ওলী-আউলিয়া) সৃষ্টজীব বিদ্যমান রয়েছে যারা এই বিশ্ব পরিচালনায় (আল্লাহর) অংশীদার ।

(২) মুসলিম এটা জানবে যে, ফিরিশতারা উপকারও করে না, অপকারও করে না। বরং তারা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা, আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন তারা তা অমান্য করেন না এবং তাদেরকে যা করার আদেশ দেয়া হয় তারা তাই করেন। সুতরাং তাদের ইবাদাত করা যাবে না, তাদের অভিমুখী (বিপদে-আপদে) হওয়া যাবে না, তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।

তৃতীয়: আল্লাহ প্রদত্ত ঐশী কিতাবসমূহের ওপর ঈমান

তা এই যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্যতা বর্ণনা করার জন্য ও তাঁর দিকে মানুষকে আহ্বানের জন্যে স্বীয় নবী ও রাসূলগণের প্রতি অসংখ্য কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلۡنَا مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلۡقِسۡطِۖ ٢٥﴾ [الحديد: ٢٥]

“নিশ্চয় আমরা আমাদের রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও তুলাদণ্ড যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ২৫]

এ সমস্ত কিতাবের সংখ্যা অনেক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের সহীফা, মূসা ‘আলাইহিস সালামকে দেয়া হয়েছিল তাওরাত, দাউদ ‘আলাইহিস সালামের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল যাবূর এবং ‘ঈসা ‘আলাইহিস সালামের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল ইঞ্জিল। সুতরাং এসব পূর্ববর্তী কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়ন দ্বারা এটা সাব্যস্ত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলগণের প্রতি এগুলো অবতীর্ণ করেছেন আপনি তা বিশ্বাস করেছেন। আর শরী‘আত এগুলোকে ঐসব জিনিসের অন্তর্ভুক্ত করেছে যা আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট পৌঁছে দেয়ার ইচ্ছা সেই সময়ে করেছিলেন। আর যে সমস্ত কিতাবের সংবাদ আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন তার সবই (কালের পরিবর্তনে) নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যেমন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের সহীফার কোনো অস্তিত্ব পৃথিবীতে আর অবশিষ্ট নেই। পক্ষান্তরে তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবূর ইত্যাদি, নামে মাত্র ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের নিকট পাওয়া গেলেও এগুলো বিকৃত ও পরিবর্তন করা হয়েছে, এর অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে, এর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করেছে যা আদৌ তাতে ছিল না, বরং তা এমন ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত যার প্রকৃত অধিকারী সে নয়। যেমন- “আহদুল ক্বাদীম” (বাইবেলের পুরাতন টেস্টামেন্ট) এর মধ্যে চল্লিশটিরও বেশি ‘সিফর’ রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি মূসা ‘আলাইহিস সালাম এ দিকে সম্বন্ধযুক্ত। পক্ষান্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশেষ যে কিতাব অবতীর্ণ হয়, তা হলো, মহাগ্রন্থ “আল-কুরআন” যা তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। যা আজও স্বয়ং আল্লাহর হিফাযতে সু-সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। (আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হওয়ার পর হতে) আজ পর্যন্ত এর একটি অক্ষর, বা একটি শব্দ, বা একটি হরকত অথবা এর অর্থের মাঝে কোন পরিবর্তন বা বিকৃত হয়নি।

আল-কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের মাঝে পার্থক্যের অনেক কারণ রয়েছে! এর কিছু নিম্নে আলোকপাত করা হল:

(১) পূর্ববর্তী এই কিতাবসমূহ মূলত বিলীন হয়ে গেছে ও এর মাঝে পরিবর্তন হয়েছে, এগুলোকে প্রকৃত অধিকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করে অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর সাথে অনেক মনগড়া ব্যাখ্যা, টিকা বা মন্তব্য ও তাফসীরকে সংযোজিত করে দেয়া হয়েছে এবং এমন সব (অহেতুক) বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা আল্লাহ প্রদত্ত অহী, যুক্তি এবং অনেক জিনিসের প্রকৃতির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে মহাগ্রন্থ “আল-কুরআন” ঠিক ঐভাবেই স্বয়ং আল্লাহর হিফাযতে সু-সংরক্ষিত রয়েছে, যে অক্ষর ও শব্দের সাথে আল্লাহ তাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ করেছিলেন। যাতে কোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সংযোজিত হয়নি। বরং মুসলিমগণও চান যে, কুরআন সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে বিশুদ্ধভাবে অবশিষ্ট থাক। ফলে তারা একে অন্য কিছুর সাথে কখনও মিলিয়ে ফেলেননি। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন-চরিত, সাহাবীগণের জীবন-চরিত, কুরআনের তাফসীর অথবা ইবাদাত ও লেনদেনের হুকুম-আহকাম ইত্যাদি (কোনো কিছুর সাথেই কুরআনকে মিলিয়ে দেননি)।

(২) বর্তমানে পুরাতন কিতাবসমূহের কোনো ঐতিহাসিক সনদ (সূত্র বা প্রমাণপত্র) জানা যায় না। বরং কিছুতো এমন রয়েছে, যা কার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং কোন ভাষায় লেখা হয়েছে তাও জানা যায় না। উপরন্তু এর কিছু প্রকার এমনও রয়েছে যেগুলোর সম্পর্ক করা হয় ঐ ব্যক্তির সাথে, যার প্রতি তা অবতীর্ণ হয়নি।[4]

কিন্তু কুরআনে কারীম, মুসলিমরা তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে মুতাওয়াতির “অবিচ্ছিন্ন সূত্র অগণিত অসংখ্য মাধ্যমে” মৌখিক ও লিখিত উভয় পদ্ধতিতে লাভ করেছে”। মুসলিমদের মাঝে প্রত্যেক যুগে, প্রত্যেক নগরে এই মহাগ্রন্থ “আল-কুরআনের হাজার হাজার হাফিয এবং হাজার হাজার এর লিখিত কপি বিদ্যমান ছিল। এর মধ্যে লিখিত কপির সাথে যদি মৌখিক অনুলিপির মিল না হয়, তাহলে বিপরীত বা ভিন্ন কপিটিকে গণ্য করা হয় না। সুতরাং লেখার আকৃতিতে (মাসহাফে) যা রয়েছে তার সাথে মানুষের সীনাতে যা মুখস্থ আছে তার হুবহু মিল অবশ্যই থাকতে হবে। এর চেয়ে বড় কথা হলো যে, কুরআনকে মৌখিকভাবে (মুখস্থ করে) যেমন বর্ণনা করা হয়েছে, পৃথিবীর আর কোনো কিতাবের সৌভাগ্য এমন হয়নি। বরং উম্মতে মুহাম্মাদী ছাড়া আর কোনো জাতির মাঝে এই নকল বা বর্ণনা পদ্ধতির দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।

কুরআন পাঠ-পঠন ও বর্ণনার নিয়ম-পদ্ধতি: ছাত্র শিক্ষককে না দেখে মুখস্থ পাঠ করে শুনাবে। শিক্ষক মহোদয় তাঁর শিক্ষকের নিকট এমনিভাবে মুখস্থ শুনিয়েছিলেন। এভাবে শিক্ষককে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ শুনানোর শেষে, শিক্ষক তাঁর ছাত্রকে যে সার্টিফিকেট প্রদান করেন তাকে “ইজাযাহ” বলা হয়। এই সার্টিফিকেটের মধ্যে শিক্ষক যে প্রত্যায়ন করেন তা হচ্ছে: তার ছাত্র তাঁকে ঠিক ঐ ভাবেই কুরআন মুখস্থ শোনায়, যেভাবে তিনি তাঁর শিক্ষককে শুনিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সূত্র পৌঁছা পর্যন্ত তারা প্রত্যেকেই তাদের স্বীয় শাইখ বা শিক্ষক মহোদয়ের নাম উল্লেখ করেন। এভাবে একজন ছাত্র থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মৌখিক সূত্রের ধারাবাহিকতা বর্ণিত হয়। তেমনিভাবে কুরআনের প্রত্যেকটি আয়াত ও সূরা, কোথায় এবং কখন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে? এর পরিচয়ের জন্য সূত্রের সাথে অনেক ধারাবাহিক ঐতিহাসিক সাক্ষ্য এবং শক্তিশালী প্রমাণ পরস্পর সহযোগিতা করেছে।

(৩) পূর্ববর্তী কিতাবগুলো যে ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল তা বহু যুগ পূর্বেই বিলীন হয়ে যায়। ফলে সেই ভাষায় কথা বলার মত লোক পাওয়া যায় না। আর বর্তমান সময়ে খুব কমই লোক আছে যারা ঐ ভাষা বুঝে। পক্ষান্তরে মহাগ্রন্থ “আল-কুরআন” যে ভাষায় অবতীর্ণ হয়, তা এক জীবন্ত ভাষা, যে ভাষায় এখন কোটি কোটি মানুষ কথা বলছে। আর যদিও কেউ ঐ ভাষা শিক্ষাগ্রহণ না করে, তবুও কুরআনের অর্থ বুঝে এ ধরনের লোক আপনি প্রত্যেক জায়গায় পাবেন।

(৪) পুরাতন কিতাবগুলো নির্দিষ্ট একটি যুগের জন্য ছিল। আর তা সকল মানুষ নয় বরং একটি নির্দিষ্ট জাতির জন্য প্রেরিত ছিল। এই কারণে কিছু বিধি-বিধানকে সেই যুগে, ঐ জাতির জন্য নির্ধারিতভাবে শামিল করা হয়েছিল। যদি এমনই হয় তাহলে তা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য উপযোগী হবে না। অপরদিকে মহাগ্রন্থ “আল-কুরআন” এমন একটি কিতাব যা সর্বযুগে, সকল জায়গার মানুষের জন্য উপযোগী। আর তা এমন বিধিবিধান, লেনদেন ও আখলাক বা শিষ্টাচারকে শামিল করেছে, যা সর্বযুগে, সকল জাতির জন্য উপযুক্ত। কারণ এর সকল বক্তব্য সকল মানুষের জন্য নির্দেশিত।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট হচ্ছে, যে সমস্ত কিতাবের মূল কপি পাওয়া যায় না, ঐ সমস্ত কিতাবের মাধ্যমে মানুষের ওপর আল্লাহর প্রমাণ সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়। আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যে ভাষায় লেখা হয়েছিল তা বিকৃতি হওয়ার পর, ঐ ভাষায় কেউ কথা বলবে এমন কোনো লোকও পৃথিবীর বুকে পাওয়া যাবে না। প্রকৃতপক্ষে মানুষের ওপর আল্লাহর প্রমাণ সাব্যস্ত হবে এমন কিতাবের মাধ্যমে, যে কিতাব সু-সংরক্ষিত এবং সকল প্রকার বিকৃতি, ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অতিরিক্ত কোনো কিছু হতে মুক্ত। যার কপি সকল জায়গায় ছড়ানো (অর্থাৎ যেকোনো জায়গায় তা পাওয়া যায়)। যা এমন এক জীবন্ত ভাষায় লিখিত, কোটি কোটি মানুষ তা পাঠ করে এবং মানুষের নিকট আল্লাহর বার্তা প্রচার করে। এই কিতাবটি হলো: মহাগ্রন্থ “আল-কুরআনুল আযীম” যা আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেন। তা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সংরক্ষক এবং বিকৃতি হওয়ার পূর্বে এগুলোর সত্যায়নকারী ও সাক্ষী। অতএব সমগ্র মানবজাতির এরই অনুসরণ করা ওয়াজিব। যাতে করে তা তাদের জন্য আলোকবর্তিকা, যাবতীয় ব্যাধির প্রতিকার, হিদায়াত ও রহমত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَهَٰذَا كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ مُبَارَكٞ فَٱتَّبِعُوهُ وَٱتَّقُواْ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ ١٥٥ ﴾ [الانعام: ١٥٥]

“আর আমরা এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা বরকতময় ও কল্যাণময়! সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ কর আর (আল্লাহকে) ভয় কর, যেন তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৫৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ١٥٨﴾ [الاعراف: ١٥٧]

“(হে রাসূল!) আপনি বলে দিন: হে মানব! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৮]

চতুর্থত: নবী-রাসূলগণের ওপর ঈমান

আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে তাঁর সৃষ্টজীব (জিন্ন ও ইনসানের নিকট) অসংখ্য নবী-রাসূল বা দূত প্রেরণ করেছেন। যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে ও রাসূলগণকে সত্য মনে করে, তাদেরকে তারা জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সু-সংবাদ দেন, আর যদি অবাধ্য হয় তবে তাদেরকে তারা জাহান্নামের শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ ٣٦﴾ [النحل: ٣٦]

“আর নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি এই আদেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাগুতের পূজা বর্জন করবে।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿رُّسُلٗا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى ٱللَّهِ حُجَّةُۢ بَعۡدَ ٱلرُّسُلِۚ﴾ [النساء : ١٦٥]

“এই রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে যেন এই রাসূলগণের পরে লোকদের জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ না থাকে।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫]

এই রাসূলদের সংখ্যা অনেক। প্রথম রাসূল নূহ ‘আলাইহিস সালাম এবং সর্বশেষ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাদের কারোও কারোও সংবাদ আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন যেমন- ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম, মূসা ‘আলাইহিস সালাম, ‘ঈসা ‘আলাইহিস সালাম, দাউদ ‘আলাইহিস সালাম, ইয়াহইয়া ‘আলাইহিস সালাম, যাকারিয়া ‘আলাইহিস সালাম এবং সালিহ ‘আলাইহিস সালাম। আবার কারোও সম্পর্কে কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَرُسُلٗا قَدۡ قَصَصۡنَٰهُمۡ عَلَيۡكَ مِن قَبۡلُ وَرُسُلٗا لَّمۡ نَقۡصُصۡهُمۡ عَلَيۡكَۚ﴾ [النساء: ١٦٤]

“আর অনেক রাসূল, যাদের বর্ণনা আমরা আপনাকে পূর্বে দিয়েছি এবং অনেক রাসূল, যাদের বর্ণনা আমরা আপনাকে দেইনি।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত:১৬৪]

রাসুলগণ সবাই আল্লাহর সৃজিত মানুষ। তাদের কারোও মধ্যে রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) এবং উলুহিয়্যাতের (উপাস্যের) কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। সুতরাং ইবাদাতের কোনো কিছুই তাদের জন্য করা যাবে না। তারা তাদের নিজেদের কোন উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা প্রথম রাসূল নূহ ‘আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তার জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

﴿وَلَآ أَقُولُ لَكُمۡ عِندِي خَزَآئِنُ ٱللَّهِ وَلَآ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ وَلَآ أَقُولُ إِنِّي مَلَكٞ﴾ [هود: ٣١]

“আর আমি তোমাদেরকে একথা বলছি না যে, আমার নিকট আল্লাহর সকল ধন-ভাণ্ডার রয়েছে এবং আমি (একথা বলছি না যে আমি) অদৃশ্যের কথা জানি। আর আমি এটাও বলি না যে, আমি ফিরিশতা।” [সূরা হূদ, আয়াত:৩১]

আর আল্লাহ তা‘আলা সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে একথা বলার জন্য আদেশ করেন যে,

﴿قُل لَّآ أَقُولُ لَكُمۡ عِندِي خَزَآئِنُ ٱللَّهِ وَلَآ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ وَلَآ أَقُولُ لَكُمۡ إِنِّي مَلَكٌۖ ٥٠﴾ [الانعام: ٥٠]

“আমি তোমাদেরকে একথা বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহর সকল ধন-ভাণ্ডার রয়েছে, আর আমি অদৃশ্যের কোনো জ্ঞানও রাখি না এবং আমি তোমাদেরকে একথা বলি না যে, আমি একজন ফিরিশতা।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৫০]

আর তিনি আরও বলেন,

﴿قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِي نَفۡعٗا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ ١٨٨﴾ [الاعراف: ١٨٧]

“(হে মুহাম্মাদ) আপনি বলুন- আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে আমার কোনো ক্ষমতা নেই। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮৭]

সুতরাং নবীগণ হলেন আল্লাহর সম্মানিত বান্দা। আল্লাহ তাদেরকে নির্বাচন করেছেন এবং রিসালাতের মহান দায়িত্ব দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করেছেন। আর দাসত্ব বা আনুগত্যের গুণে তাদেরকে গুণান্বিত করেছেন। তাদের সবার দীন হলো ইসলাম। ইসলাম ব্যতীত আর কোনো দীনই আল্লাহ তা‘আলা কবুল করবেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ﴾ [ال عمران: ١٩]

“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন হলো ইসলাম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯]

মৌলিকভাবে তাদের সবার রিসালাত ছিল এক ও অভিন্ন কিন্তু তাদের শরী‘আত ছিল আলাদা আলাদা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لِكُلّٖ جَعَلۡنَا مِنكُمۡ شِرۡعَةٗ وَمِنۡهَاجٗاۚ﴾ [المائ‍دة: ٤٨]

“তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমরা নির্দিষ্ট শরী‘আত এবং নির্দিষ্ট পন্থা নির্ধারণ করেছি।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৮]

আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আতের মাধ্যমে পূর্ববতী সকল শরী‘আতের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে তা পূর্ববর্তী সকল শরী‘আতের রহিতকারী। আর তাঁর রিসালাতও সকল রিসালাতের পরিসমাপ্তকারী। আর তিনি হচ্ছেন খাতামুল আম্বিয়া বা রাসূলগণের পরিসমাপ্তিকারী।

সুতরাং যে ব্যক্তি একজন নবীর প্রতি ঈমান আনয়ন করে, তার ওপর সকল নবীদের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি একজন নবীকে মিথ্যা মনে করে, সে যেন সকল নবী ও রাসূলকেই মিথ্যা মনে করল। কারণ, সকল নবী ও রাসূলগণই আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান স্থাপনের দিকে মানুষকে আহ্বান করেন। আরও কারণ হলো তাদের সবার দীন এক। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের মাঝে পার্থক্য করবে অথবা তাদের কারোও প্রতি ঈমান আনবে আর কাউকে অস্বীকার করবে, সে যেন তাদের সবাইকে অস্বীকার করল। কারণ তাদের প্রত্যেকেই সমস্ত নবী ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান স্থাপনের আহ্বান করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ﴾ [البقرة: ٢٨٥]

“(আল্লাহর) রাসূল তাঁর রব হতে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও; তারা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তার ফিরিশতাগণের ওপর, তার কিতাবসমূহের ওপর এবং তার রাসুলগণের ওপর। আমরা তার রাসুলগণের মধ্যে কাউকেও পার্থক্য করি না।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكۡفُرُونَ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيُرِيدُونَ أَن يُفَرِّقُواْ بَيۡنَ ٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيَقُولُونَ نُؤۡمِنُ بِبَعۡضٖ وَنَكۡفُرُ بِبَعۡضٖ وَيُرِيدُونَ أَن يَتَّخِذُواْ بَيۡنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا ١٥٠ ﴾ [النساء : ١٥٠]

“নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে ইচ্ছা করে এবং বলে যে, আমরা কতিপয়কে বিশ্বাস করি আর কতিপয়কে অস্বীকার করি এবং তারা এর মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করতে ইচ্ছা পোষণ করে।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫০]

পঞ্চমত: কিয়ামত বা শেষ দিবসের ওপর ঈমান

দুনিয়ার সকল সৃষ্টজীবের শেষ খেলা মৃত্যু। সুতরাং মৃত্যুর পরে মানুষের গন্তব্য কোথায়? পৃথিবীতে শাস্তি পাওয়া থেকে যারা বেঁচে গেছে তার অত্যাচারের পরিণাম কী? তারা কি তাদের যুলুম নির্যাতনের শাস্তি ভোগ করা হতে রক্ষা পেয়ে যাবে? নেককারগণের (সাওয়াবের) যে অংশ ছুটে গেছে এবং দুনিয়ায় তাদের ইহসানের প্রতিদান অর্থাৎ নেকী কি বিনষ্ট হয়ে যাবে? মানবজাতির এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম পর্যায়ক্রমে মারা যাচ্ছে। অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা যখন পৃথিবী ধ্বংসের আদেশ দিবেন এবং পৃথিবীর বুক থেকে সকল সৃষ্টিকুল ধ্বংস হয়ে যাবে তখন তিনি সমস্ত সৃষ্টিকুলকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করবেন এবং তাদের পূর্বের ও পরের সকলকে একত্রিত করবেন। অতঃপর ভালো ও মন্দ যে কর্মই বান্দাগণ দুনিয়াতে করেছে তার হিসাব নিবেন। তারপর মুমিনগণকে (সসম্মানে) জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে, আর কাফিরদেরকে জাহান্নামে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

জান্নাত হলো সেই পরম সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা, যাকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। সেখানে যে সমস্ত বিভিন্ন প্রকার নি‘আমত রয়েছে তার বর্ণনা কেউ দিতে সক্ষম হবে না। সেখানে একশত স্তর রয়েছে। আল্লাহর প্রতি তাদের বিশ্বাস ও তাদের আনুগত্যের মান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরের অধিকারী যেখানে অবস্থান করবে। আর জান্নাতের সর্বনিম্ন স্তরের অধিবাসীকে ঐ নি‘আমত দেয়া হবে যেমন দুনিয়ার কোনো বাদশাহ উপভোগ করে; বরং তার চেয়ে দশগুণ বেশি।

আর জাহান্নাম সেই শাস্তির জায়গা, যা আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেখানে বিভিন্ন প্রকারের কষ্ট ও শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে; তার আলোচনা অন্তরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। আখেরাতে আল্লাহ যদি কাউকে মৃত্যুবরণ করার অনুমতি দিতেন, তাহলে জাহান্নামীরা শুধুমাত্র এর অবস্থা দেখেই মারা যেত। প্রতিটি মানুষ যা বলবে বা করবে, তা ভালো হোক, মন্দ হোক, প্রকাশ্য হোক, অপ্রকাশ্য হোক; সবকিছুই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পূর্ববর্তী জ্ঞান থেকেই জানেন। তারপরেও তিনি প্রতিটি মানুষের জন্য দু‘জন ফিরিশতাকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যাদের একজন ভালো আমল আর অন্যজন খারাপ আমল লিখবেন। তাদের থেকে কোনো কিছুই বাদ পড়ে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَّا يَلۡفِظُ مِن قَوۡلٍ إِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيبٌ عَتِيدٞ﴾ [ق: ١٨]

“মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী (ফিরিশতা) তার নিকটেই রয়েছে।” [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ১৮]

আর এই সব আমল বা কৃতকর্ম যে দফতরে লেখা হচ্ছে, কিয়ামতের দিন মানুষকে তা দেয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَوُضِعَ ٱلۡكِتَٰبُ فَتَرَى ٱلۡمُجۡرِمِينَ مُشۡفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَٰوَيۡلَتَنَا مَالِ هَٰذَا ٱلۡكِتَٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةٗ وَلَا كَبِيرَةً إِلَّآ أَحۡصَىٰهَاۚ وَوَجَدُواْ مَا عَمِلُواْ حَاضِرٗاۗ وَلَا يَظۡلِمُ رَبُّكَ أَحَدٗا ٤٩﴾ [الكهف: ٤٩]

“আর সেদিন উপস্থিত করা হবে আমলনামা এবং তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে আপনি অপরাধীদের দেখবেন আতঙ্কগ্রস্ত, আর তারা বলবে! হায়, আমাদের আফসোস! এটা কেমন গ্রন্থ! এটা তো ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ দেয়নি বরং সমস্ত কিছু হিসাব (লিপিবদ্ধ করে) রেখেছে; তারা তাদের কৃতকর্ম সম্মুখেই উপস্থিত পাবে; আর আপনার রব কারো প্রতি যুলুম করেন না।” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ৪৯]

অতঃপর তারা তা পড়বে, কিন্তু এ থেকে কোনো কিছুকে অস্বীকার করবে না। যদি কেউ কোনো কিছু অস্বীকার করে, তাহলে তার কান, চক্ষু, দুই হাত ও পা এবং চামড়া যা যা করেছে, আল্লাহ সেসব কর্ম সম্পর্কে সকল কথা বলাবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَيَوۡمَ يُحۡشَرُ أَعۡدَآءُ ٱللَّهِ إِلَى ٱلنَّارِ فَهُمۡ يُوزَعُونَ ١٩ حَتَّىٰٓ إِذَا مَا جَآءُوهَا شَهِدَ عَلَيۡهِمۡ سَمۡعُهُمۡ وَأَبۡصَٰرُهُمۡ وَجُلُودُهُم بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٢٠ وَقَالُواْ لِجُلُودِهِمۡ لِمَ شَهِدتُّمۡ عَلَيۡنَاۖ قَالُوٓاْ أَنطَقَنَا ٱللَّهُ ٱلَّذِيٓ أَنطَقَ كُلَّ شَيۡءٖۚ وَهُوَ خَلَقَكُمۡ أَوَّلَ مَرَّةٖ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٢١ وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَتِرُونَ أَن يَشۡهَدَ عَلَيۡكُمۡ سَمۡعُكُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُكُمۡ وَلَا جُلُودُكُمۡ وَلَٰكِن ظَنَنتُمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَا يَعۡلَمُ كَثِيرٗا مِّمَّا تَعۡمَلُونَ ٢٢ ﴾ [فصلت: ١٩،  ٢٢]

“আর যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে আগুনের দিকে সমবেত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের সন্নিকটে পৌঁছবে, তখন তাদের কান, চোখ ও ত্বক তাদের বিরুদ্ধে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিবে। আর তারা (জাহান্নামীরা) তাদের ত্বককে বলবে, ‘কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ্ আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ ‘আর তোমরা কিছুই গোপন করতে না এ বিশ্বাসে যে, তোমাদের কান, চোখ ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না— বরং তোমরা মনে করেছিলে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না।” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ১৯-২২]

শেষ দিবসের প্রতি ঈমান তথা কিয়ামত, পুনরুত্থান ও পুনর্জীবন দিবসের প্রতি ঈমান রাখার নির্দেশনা সকল নবী ও রাসূল নিয়ে এসেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنَّكَ تَرَى ٱلۡأَرۡضَ خَٰشِعَةٗ فَإِذَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡهَا ٱلۡمَآءَ ٱهۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡۚ إِنَّ ٱلَّذِيٓ أَحۡيَاهَا لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰٓۚ إِنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ ٣٩﴾ [فصلت: ٣٩]

“আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে দেখতে পান শুষ্ক, অতঃপর আমি তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়; যিনি ভূমিকে জীবিত করেন তিনিই মৃতের জীবন দানকারী। নিশ্চয় তিনি প্রত্যেক বস্তুর ওপর ক্ষমতাবান।” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৯]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿أَوَ لَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَلَمۡ يَعۡيَ بِخَلۡقِهِنَّ بِقَٰدِرٍ عَلَىٰٓ أَن يُحۡـِۧيَ ٱلۡمَوۡتَىٰۚ﴾ [الاحقاف: ٣٣]

“তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে কোনো ক্লান্তিবোধ করেননি, তিনি মৃতের জীবন দান করতেও সক্ষম।” [সূরা আল-আহক্বাফ, আয়াত: ৩৩]

আর এগুলোর মধ্যে আল্লাহর হিকমত যে দাবী করে, তা হলো: আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টজীবকে নিরর্থক সৃষ্টি করেননি এবং তাদেরকে নিরর্থক ছেড়েও দেননি। বরং সবচেয়ে কম বুদ্ধির মানুষটির পক্ষেও সম্ভব নয় যে, সে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ও তার বিনা ইচ্ছায় কোনো কাজ করবে। সুতরাং মানুষ এই জিনিসটি কেন খেয়াল করে না যে, এই অবস্থা যদি মানুষের ক্ষেত্রে হয়, তাহলে তারা তার প্রভু সম্পর্কে এ ধারণা কীভাবে করে যে, তিনি সৃষ্টজীবকে অনর্থক সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে অনর্থক ছেড়ে দিয়েছেন? আল্লাহ সম্পর্কে তারা যা বলে, তা হতে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে ও মহান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿أَفَحَسِبۡتُمۡ أَنَّمَا خَلَقۡنَٰكُمۡ عَبَثٗا وَأَنَّكُمۡ إِلَيۡنَا لَا تُرۡجَعُونَ ١١٥﴾ [المؤمنون : ١١٥]

“তোমরা কি ধারণা করেছ যে, আমরা তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমাদের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?” [সূরা মুমিনূন, আয়াত: ১১৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿وَمَا خَلَقۡنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا بَٰطِلٗاۚ ذَٰلِكَ ظَنُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۚ فَوَيۡلٞ لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنَ ٱلنَّارِ ٢٧﴾ [ص : ٢٧]

“আমরা আসমানসমূহও পৃথিবী এবং এতোদুভয়ের মধ্যে অবস্থিত কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি, যদিও কাফিরদের ধারণা তাই। সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।” [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৭]

সকল জ্ঞানবান মানুষই কিয়ামত দিবসের বিশ্বাসের প্রতি সাক্ষ্য দেয়। আর এটা যুক্তিরও দাবী এবং সঠিক ফিতরাত বা স্বভাবও তা মেনে নেয়। কারণ মানুষ যখন কিয়ামত দিবসের ওপর ঈমান রাখে তখন মানুষ যা ছেড়ে দেয় তা কেন ছেড়ে দেয় এবং যা আমল করে তা যে কেবল আল্লাহর নিকট থেকে নি‘আমত পাওয়ার আশায় করে, তা সে বুঝতে পারবে। আরও বুঝতে পারব যে, যখন কেউ মানুষের ওপর যুলুম করে, সে অবশ্যই তার প্রতিফল পাবে, আর তার থেকে কিয়ামতের দিন সেটার বদলা নিবে। আর যদি সে ভাল আমল করে, তবে ভালো প্রতিদান পাবে। আর যদি খারাপ আমল করে, তবে প্রতিদানও খারাপ পাবে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাই পুরষ্কার দেয়া হবে, যা সে চেষ্টা করেছে এবং এভাবেই আল্লাহর আদল ও ইনসাফ বাস্তবায়িত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 ﴿فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨  ﴾ [الزلزلة: ٧،٩]

“সুতরাং যে ব্যক্তি বিন্দু পরিমাণ সৎ আমল করবে সে তা দেখবে এবং যে বিন্দু পরিমাণ অসৎ আমল করবে সে তাই দেখবে।” [সূরা যিলযাল, আয়াত: ৭,৯][5]

আর কিয়ামত কবে হবে তা আল্লাহর সৃষ্টজীবের কেউ জানে না। সুতরাং তা এমন একটি দিন, যা আল্লাহর কোনো প্রেরিত নবী ও রাসূল এবং কোনো সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফিরিশতাও সেদিন সম্পর্কে কিছুই জানে না। বরং তা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জ্ঞানের সাথেই নির্দিষ্ট করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ يَسۡ‍َٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّيۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقۡتِهَآ إِلَّا هُوَۚ ١٨٧ ﴾ [الاعراف: ١٨٦]

“(হে মুহাম্মাদ)! তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে যে, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? আপনি বলে দিন: এ বিষয়ের জ্ঞান একমাত্র আমার রবের নিকটেই রয়েছে। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করবেন।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৮৭]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلسَّاعَةِ﴾ [لقمان: ٣٤]

“নিশ্চয় কিয়ামতের জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহর নিকটেই রয়েছে।” [সূরা লুকমান, আয়াত: ৩৪ ]

ষষ্ঠত: তাকদীর বা ভাগ্যের ওপর ঈমান

এ স্বীকৃতি প্রদান করবেন যে, অতীতে যা কিছু ছিল এবং বর্তমান বা ভবিষ্যতে যা কিছু হচ্ছে বা হবে, তার সবকিছুই আল্লাহ তা‘আলার জানা আছে। তিনি তাঁর বান্দাদের যাবতীয় অবস্থা, কর্মকাণ্ড, মৃত্যু, সময় এবং রিযিক সম্পর্কে সবকিছু জানেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ﴾ [العنكبوت: ٦٢]

“নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেকটি বস্তু সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।” [সূরা আল-‘আনকাবূত, আয়াত: ৬২]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿وَعِندَهُۥ مَفَاتِحُ ٱلۡغَيۡبِ لَا يَعۡلَمُهَآ إِلَّا هُوَۚ وَيَعۡلَمُ مَا فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِۚ وَمَا تَسۡقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعۡلَمُهَا وَلَا حَبَّةٖ فِي ظُلُمَٰتِ ٱلۡأَرۡضِ وَلَا رَطۡبٖ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٖ٥٩﴾ [الانعام:٥٩]

“অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই নিকট রয়েছে; তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। আর স্থল ও জলভাগে যা কিছু রয়েছে তাও তিনি অবগত রয়েছেন, তাঁর অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ হতে একটি পাতাও ঝরে না এবং ভূ-পৃষ্ঠের অন্ধকারের মধ্যে একটি দানাও পড়ে না। এমনি ভাবে যেকোনো সিক্ত ও শুষ্ক বস্তুও পতিত হয় না কেন, সমস্ত বস্তুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৫৯]

আর এই জানা জিনিসকে তিনি তাঁর নিকট লাওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

  ﴿وَكُلَّ شَيۡءٍ أَحۡصَيۡنَٰهُ فِيٓ إِمَامٖ مُّبِينٖ﴾ [يس: ١٢]

“আর আমরা প্রতিটি বস্তু একটি স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ১২]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَٰبٍۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ ٧٠﴾ [الحج : ٧٠]

“আপনি কি জানেন না যে, নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তার সবকিছুই জানেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। আর এটি আল্লাহর কাছে খুবই সহজ।” [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭০]

ফলে আল্লাহ তা‘আলা যখনই কোনো কিছু করার ইচ্ছা করেন, তখন শুধু তার জন্য বলেন, হও, আর তা হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّمَآ أَمۡرُهُۥٓ إِذَآ أَرَادَ شَيۡ‍ًٔا أَن يَقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ﴾ [يس: ٨٢]

“নিশ্চয় তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন, হও, ফলে তা হয়ে যায়।” [সূরা ইয়সীন, আয়াত: ৮২]

আল্লাহ তা‘আলা যেমন প্রত্যেকটি জিনিসের (তাকদীর) নির্ধারণ করেছেন, তেমনি প্রত্যেক জিনিসের স্রষ্টাও তিনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 ﴿ إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ﴾ [القمر: ٤٩]

“নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক জিনিস সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।” [সূরা আল-ক্বামার, আয়াত: ৪৯]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

﴿ ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ﴾ [الزمر: ٦١]

“আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টিকর্তা।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬২]

তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাঁরই আনুগত্য করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আনুগত্য কী তাদেরকে তাও বর্ণনা করেছেন। এই আনুগত্য করতে তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেছেন। অবাধ্যতা কী তাও তাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদেরকে সামর্থ্য ও ইচ্ছা শক্তি দিয়েছেন, যাতে করে তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশিত কাজ আঞ্জাম দিয়ে সাওয়াবের অধিকারী হতে পারে। আর যে ব্যক্তি গুনাহের কাজ করবে,সে শাস্তির উপযোগী হবে।

মানুষ আল্লাহর ফায়সালা ও তকদীরের প্রতি ঈমান আনয়ন করলে যে উপকার লাভ করবে তা নিম্নরূপ:

(১) কারণ বা উদ্দেশ্য নির্বাচন করার সময় আল্লাহর ওপর তার আস্থা হবে। কেননা সে জানে যে, উদ্দেশ্য ও ফলাফল উভয়ই আল্লাহর হুকুম ও তকদীর অনুযায়ী হয়।

(২) মানসিক শান্তি ও আত্মতৃপ্তি লাভ হবে। কারণ যখনই সে জানবে যে, এসব আল্লাহর হুকুম ও তাকদীর অনুযায়ী এবং নিয়তি-নির্ধারিত অ-পছন্দনীয় যা নিশ্চিতরূপে হবেই, তখন তার আত্মতৃপ্তি হবে এবং আল্লাহর ফায়সালার (তাকদীরের) প্রতি সন্তুষ্ট হবে। সুতরাং যে তাকদীরের ওপর ঈমান রাখে, তার চাইতে সর্বোত্তম জীবন-যাপনকারী, সুখকর মন ও অধিক শক্তিশালী শান্ত ব্যক্তি আর কেউ নেই।

(৩) উদ্দিষ্ট বস্তু অর্জনের সময় মনের অহমিকামূলক আনন্দ দূর করবে। কেননা তা অর্জন কল্যাণ ও সফলতা লাভের উপায়সমূহের অন্তর্গত আল্লাহর এমন একটি নি‘আমত যা তিনি তার জন্য নির্ধারণ করেছেন। ফলে সে এই ব্যাপারে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে।

(৪) উদ্দিষ্ট বস্তু হাত ছাড়া হওয়া অথবা অ-পছন্দনীয় বস্তুতে পতিত হওয়ার সময় অসন্তোষ ও মনঃকষ্টকে বিদূরিত করবে। কারণ এসব কিছু আল্লাহর হুকুমে হয়, যার হুকুমের কেউ বাধাদানকারী ও নিবারণকারী নেই। তাতো নিশ্চিতরূপে হবেই। অতএব, সে ধৈর্যধারণ করে ও আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مِّن قَبۡلِ أَن نَّبۡرَأَهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ ٢٢ لِّكَيۡلَا تَأۡسَوۡاْ عَلَىٰ مَا فَاتَكُمۡ وَلَا تَفۡرَحُواْ بِمَآ ءَاتَىٰكُمۡۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخۡتَالٖ فَخُورٍ ٢٣﴾ [الحديد: ٢٢،  ٢٣]

“পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপদই আসে আমরা তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকে, আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ। এটা এজন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা হতাশাগ্রস্ত না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্যে গৌরবে ফেটে না পড়। আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” [সূরা হাদীদ, আয়াত: ২২, ২৩][6]

(৫) আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা স্থাপিত হবে। কারণ মুসলিম জানে যে, উপকার ও ক্ষতি করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে রয়েছে। সুতরাং সে কোনো শক্তিধর ব্যক্তিকে ভয় করবে না এবং কোনো মানুষের ভয়ে কোনো মঙ্গলজনক কর্ম করতে অবহেলাও করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে লক্ষ্য করে বলেন:

«وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ، لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ، وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ، لَمْ يَضُرُّوكَ إِلا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ»

“জেনে রাখবে যে, সমস্ত মানুষ যদি তোমার কোনো উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত আর কোনো উপকার করতে পারবে না; আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায় তবে আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”[7]

[1] দেখুন: আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ, পৃ. ৭, ১১।

[2] দেখুন: আকীদাতু আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, পৃ. ৪৪ এবং মাবাদিউল ইসলাম, পৃ. ৮০, ৮৪।

[3]  বিস্তারিত দেখুন, আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, পৃ. ১৯।

[4] [যেমন বলা হয়, লুকের ইঞ্জীল, মথির ইঞ্জীল ইত্যাদি]

[5] দেখুন: দীন আল-হক্ব, পৃ. ১৯।

[6] দেখুন: আল-আক্বীদাতুস সহীহাহ ওয়ামা ইউযাদ্দুহা, পৃ. ১৯; আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ওয়াল্ জামাআহ, পৃ. ৩৯ এবং দীনুল হক, পৃ. ১৮।

[7] মুসনাদে আহমাদ, ১ম খণ্ড; পৃ. ২৯৩; তিরমিযী, কিয়ামত অধ্যায়, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৭৬।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন