কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا﴾ “বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাই আমাদের পৌঁছবে।” আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿وَمَآ أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٖ فَمِن نَّفۡسِكَۚ ٧٩﴾ [النساء : ٧٩]আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।”

প্রশ্ন: আল্লাহর তা‘আলা বলেন, ﴿قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا﴾ “বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাই আমাদের পৌঁছবে।” যে সব বিপদ-আপদ আসে তা কি আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী— ﴿مَّآ أَصَابَكَ مِنۡ حَسَنَةٖ فَمِنَ ٱللَّهِۖ وَمَآ أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٖ فَمِن نَّفۡسِكَۚ ٧٩﴾ [النساء : ٧٩] “তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।” [সূরা নিসা, আয়াত: ৭৯] —এর অর্থ কি?

উত্তর: বান্দা যে সব নেক ও বদ আমল করে থাকে সবই আল্লাহর কুদরতে হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ ٤٩﴾ [القمر: ٤٩] “নিশ্চয় আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী।” [সূরা আল-কামার, আয়াত: ৪৯]  আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, ﴿مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مِّن قَبۡلِ أَن نَّبۡرَأَهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٞ ٢٢﴾ [الحديد: ٢٢] “জমিনে এবং তোমাদের নিজদের মধ্যে এমন কোন মুসীবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।”  [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ২২] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا﴾ তারপরও নেক আমলসমূহ আল্লাহর করুণা। কারণ, আল্লাহই তা লিপিবদ্ধ করেছে এবং বান্দাকে তা করার তাওফীক দিয়েছেন। তাই এ সবের ওপর সকল প্রশংসা আল্লাহরই।

আর বদ আমলসমূহ আল্লাহরই নির্ধারণ। তবে তা সংঘটিত হওয়ার কারণ, বান্দার কর্ম ও গুনাহসমূহ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَمَآ أَصَٰبَكُم مِّن مُّصِيبَةٖ فَبِمَا كَسَبَتۡ أَيۡدِيكُمۡ وَيَعۡفُواْ عَن كَثِيرٖ ٣٠﴾ [الشورى: ٣٠]  “আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, ﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ ١١﴾ [الرعد: ١١] “নিশ্চয় আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” [সূরা আর-রা‘আদ, আয়াত: ১১]

নেক আমল ও বদ আমল আল্লাহ তা‘আলারই নির্ধারণ। ভালো বান্দাদের ভালো কর্ম করার তাওফীক দিয়ে থাকেন। আর বিভিন্ন কারণ যে গুলো বান্দা নিজেই সৃষ্টি করেছেন এবং বিশেষ কোন হিকমতের কারণে অপরাধীদের অসৎ কর্ম ছাড়ার তাওফীক তিনি দেননি। আল্লাহ তা‘আলা তার পরিপূর্ণ ইলম, স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মহা প্রজ্ঞা-হিকমত ও ইনসাফের কারণে সর্বাবস্থায় প্রশংসিত। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন