কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নবীগণের শির্ক থেকে পবিত্র হওয়া ও আল্লাহ তা‘আলার বাণী—﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ ١٠٦﴾ [يونس : ١٠٦] ‘‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬]

প্রশ্ন: আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে এ কথা— ﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ ١٠٦﴾ [يونس : ١٠٦]  ‘‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬] কেন বলেছেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্ক থেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ এবং তার থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া অসম্ভব?

উত্তর: আয়াতের বাহ্যিক বর্ণনা ভঙ্গি দ্বারা বুঝা যায় যে, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই সম্বোধন করা হয়েছে। কোন কোন আলেম বলেন, রাসূলকে সম্বোধন করা হয়েছে, এ কথা বলা সঠিক নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শির্ক প্রকাশ পাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। আয়াতের শুরুতে قل শব্দটি উহ্য আছে। (তখন অর্থ হবে হে রাসূল! আপনি বলুন)। এ ব্যাখ্যাটি দুর্বল কারণ, এ দ্বারা আয়াতকে তার বর্ণনা ভঙ্গি থেকে দূরে সরানো হয়।

সঠিক উত্তর: সম্বোধনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস। কিন্তু বিধানটি তার জন্য ও অন্যদের জন্য ব্যাপক। অথবা সম্বোধনটি যাদের সম্বোধন করা যায় তাদের সবার জন্য ব্যাপক। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সম্বোধন রাসূলুল্লাহের প্রতি নির্দেশিত হওয়া এ কথাকে বাধ্য করে না যে, তার থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥﴾ [الزمر: ٦٤]   “আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই।” [সূরা আয-যুমার আয়াত: ৬৪] ফলে সম্বোধনটি তার জন্য এবং সব নবী ও রাসূলদের জন্য যাদের থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া অসম্ভব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার অবস্থান বিবেচনায় শির্ক পাওয়া যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। তারপরও তাকে নিষেধ করার হিকমত হলো, যাতে অন্যরা এ কথা দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করে এবং সতর্ক হয়, যাদের থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া তার অবস্থান বিবেচনায় অসম্ভব তার জন্য যদি এত বড় কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা হয়, তাহলে যারা তাদের মানের লোক নয়-নবী বা রাসূল নয়- তাদের জন্য কি ধরনের কড়াকড়ি হতে পারে?। ফলে তাদের সাবধান ও সতর্ক হওয়া তাদের তুলনায় আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেয়। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দেওয়ার মালিক এবং তিনিই অভিবাবক।

শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন রহ.

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন