মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

আল কুরআনে মুসা (আ.) এর ঘটনায় মিসরের ফিরআউনের (Pharaoh) সাথে সাথে আরও একজন মন্দ ব্যক্তির কথা উল্লেখ আছে। আর সে হচ্ছে হামান। (Haman)। সে ছিল ফিরআউনের সহযোগী। কুরআনের ৩টি সূরায়[৫৬] হামানের কথা উল্লেখ আছে। আল কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ফিরআউন তামাশাচ্ছলে হামানকে এক সুউচ্চ ইমারত (tower) নির্মাণের নির্দেশ দেয়, যাতে করে সে আকাশে উকি দিয়ে মুসা(আ.) এর উপাস্য প্রভুকে দেখতে পায়।
ফিরআউন আরও বলল, “হে হামান, আমার জন্য একটি উঁচু ইমারত বানাও যাতে আমি অবলম্বন পাই।।
আসমানে আরোহণের অবলম্বন, যাতে আমি মুসার ইলাহ [উপাস্য প্রভু] কে দেখতে পাই, আর আমি কেবল তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি”।[৫৭]
খ্রিষ্টান মিশনারি ও নাস্তিক মুক্তমনাদের দাবি-কুরআনের এই বিবরণে ভুল আছে।
কেন?
কারণ, বাইবেলে মুসা(আ.) এর ঘটনায় হামান নামে ফিরআউনের কোনো সহচরের বিবরণ নেই। তা ছাড়া বাইবেলেও একজন হামানের কথা উল্লেখ আছে, সেও একটি উঁচু ইমারত নির্মাণ করে। [৫৮] কিন্তু বাইবেলের এই হামান মুসা (আ.) ও ফিরআউনের সময়ে বাস করত না; বরং এর থেকে প্রায় হাজার বছর পরে পারস্যের রাজা অহশ্বেরশ (Xerxes) এর সময়ে বাস করত। এ কারণে তাদের দাবি হচ্ছে কুরআন হামান বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছে, মুসা(আ.) ও ফিরআউনের সময়ে কোনো হামান মিসরে ছিল না এবং হামান মুসা(আ.) এর হাজার বছর পরের মানুষ।
প্রথম কথা : খ্রিষ্টান মিশনারিদের দাবির না হয় একটা হেতু পাওয়া গেল, তাদের ধর্মগ্রন্থের ঘটনার সাথে সাংঘর্ষিক তথ্য কুরআনে আছে।কিন্তু নাস্তিক-মুক্তমনারা কি কোনো ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে? তারা কেন সব সময়ে বাইবেলের ঘটনাকেই সঠিক ধরে নিয়ে কুরআনকে বিবেচনা করে? সাধারণ যুক্তি তো এটাই বলে যে—দুটি গ্রন্থে যদি বিপরীত তথ্য থাকে, তাহলে এর যেকোনো একটি সঠিক ও অন্যটি ভুল হতে পারে। যেকোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তির এভাবেই বিষয়টা দেখা উচিত। কিন্তু নাস্তিক-মুক্তমনারা কেন ইহুদি-খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থকে প্রথমে সঠিক ধরে নেয় আর এর সাথে কুরআনের তথ্যে বৈপরীত্য থাকলে সেটাকে ভুল বলে ধরে নেয়? এর উল্টোটা হবারও তো সম্ভাবনা থাকে। নাস্তিক-মুক্তমনাদের এই একচোখা দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, তারা আসলে ধর্মনিরপেক্ষ না, তারা আসলে ইসলামবিদ্বেষী।
দ্বিতীয় কথা : কুরআন আর বাইবেলের কোনো  তথ্যে মিল থাকলেই খ্রিষ্টান মিশনারি আর নাস্তিক-মুক্তমনারা হইচই করে বলতে থাকে যে, কুরআন আসলে বাইবেল থেকে কপি করা! হামান-বিষয়ক এই ঘটনায় যেহেতু বাইবেলের তথ্যের সাথে কুরআনের ঘটনার কোনো মিল নেই, কাজেই এখানে তাদের এই অভিযোগ আনবার কোনো সুযোগ নেই। ।
কাজেই এখানে হয় বাইবেল সত্য, না হলে কুরআন সত্য। অথবা উভয় গ্রন্থই ভুল।
চলুন এবার আমরা ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণাদির আলোকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে দেখি, এখানে কোন গ্রন্থ সঠিক তথ্য দিয়েছে—বাইবেল নাকি কুরআন।
বাইবেলের Esther(বাংলা বাইবেলে ‘ইষ্টেরের বিবরণ’) নামক গ্রন্থে হামানের কথা উল্লেখ আছে। এটি বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old testament) অংশের একটি গ্রন্থ। ইহুদিদের যে সকল কিতাবকে খ্রিষ্টানরা ঈশ্বরের বাণী হিসাবে বিশ্বাস করে, সেগুলোকে তারা বাইবেলের Old testament অংশে রেখেছে। এই অংশের গ্রন্থগুলো মূলত প্রাচীন ইহুদিদের লেখা। ইহুদিরা তাদের নিজেদের এ কিতাবকে কতটুকু বিশুদ্ধ বলে মনে করে Jewish Encyclopedia তে Esther গ্রন্থ-বিষয়ক আলোচনায়
Critical view অংশে বলা হয়েছে:
The vast majority of modern expositors have reached the conclusion that the book is a piece of pure fiction, although me writers qualify their criticism by an attempt to treat it as historical romance. The following are the chief arguments song the impossibility of the story of Esther”?[৫৯] ,
অর্থাৎ,বেশিরভাগ আধুনিক ব্যাখ্যাকার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই বই টি নিখাদভাবে একটি কল্পিত গল্প (fiction)।
শুধু তা-ই না, এ আর্টিকেলের Improbabilities of the Story অংশে দেখানো হয়েছে,বাইবেলের অন্য বইগুলোর তথ্যের সাথে Esther গ্রন্থের তথ্য কতটা সাংঘর্ষিক।

আর্টিকেলের Probable Date অংশে বলা হয়েছে :
In view of all the evidence the authority of the Book of Esther as a historical record must be definitely rejected. Its position the canon among the Hagiographa or “Ketubim” is the m ong which has induced Orthodox scholars to defend its historical character at all. Even the Jews of the first and second centuries of the common era questioned its right to be included among the canonical books of the Bible (compare Meg. 7a).
অর্থাৎ,সকল প্রমাণের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, ঐতিহাসিক রেকর্ড হিসাবে Esther এর গ্রহণযোগ্যতা বাতিল হিসাবে গণ্য হবে। এমনকি ১ম ও ২য় শতাব্দীর ইহুদিরাও বাইবেলের অনুমোদিত বই হিসাবে Esther এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলত।[৬০] খোদ Jewish Encyclopedia তে বাইবেলের গ্রন্থ Esther এর ঐতিহাসিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এইসব মন্তব্য করা হয়েছে। যে ইহুদিরা এই গ্রন্থের লেখক, ধারক ও বাহক, তারাই এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এ রকম প্রশ্ন তুলেছে। এ তো গেল ইহুদি গবেষকদের কথা। সেকুলার গবেষকগণও এই গ্রন্থ নিয়ে অনেক যৌক্তিক অভিযোগ এনেছেন, যেগুলো আর এখানে উল্লেখ করে লেখার কলেবর বৃদ্ধি করলাম না। এমনই একটি নির্ভরযোগ্য’ (!) ঐতিহাসিক ডকুমেন্টের সহায়তা নিয়ে ইসলামবিরোধীরা কুরআনের ঐতিহাসিক তথ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। সুবহানাল্লাহ!
এবারে আমরা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য-প্রমাণের আলোকে বিশ্লেষণ করে দেখি, হামানের ব্যাপারে কুরআনে উল্লেখিত তথ্য কতটা সঠিক বা নির্ভরযোগ্য।
১৭৯৯ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মিসর অভিযানের সময়ে তার একজন সৈন্য Rosetta Stone আবিষ্কার করে। Rosetta Stone এ প্রাচীন মিসরীয় লিপি এবং তার তুলনামূলক গ্রিক বর্ণমালার বিবরণ ছিল, যার সাহায্যে গবেষকগণ প্রাচীন মিসরীয় লিপির (hieroglyphics) পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হন।[৬১] প্রাচীন মিসরীয় লিপির মর্মোদ্ধারের ওপর ভিত্তি করে মিসরবিদগণ[৬২] সে সময়কার বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক তথ্য জানতে পেরেছেন। এ জাতীয় গবেষণার জন্য অগ্রগামী হচ্ছেন ফ্রান্স এবং জার্মানির মিসরবিদগণ।।
আল কুরআনে হামান-বিষয়ক তথ্যের সত্যতা নিরূপণের জন্য ড. মরিস বুকাইলি ফ্রান্সের একজন মিসরবিদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি মিসরবিদকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হামান’ বলে কোনো নাম তিনি তার প্রাচীন মিসর-বিষয়ক রেকর্ডে দেখেছেন কিনা। মিসরবিদ কিছুটা অবাক হলেন। ড. মরিস বুকাইলি ‘হামান’ নামটি কোথায় পেয়েছেন তা জানতে চাইলেন। জবাবে ড. মরিস বুকাইলি রাসুল ﷺ এর কথা বলেন। তখন মিসরবিদ তাঁকে বলেন যে, এমন নামের সন্ধান পাওয়া তো  তাঁর পক্ষে অসম্ভব কেননা রাসুল ﷺ এর হাজার বছর আগে প্রাচীন মিসরীয় ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি তাঁকে আরও বলেন যে, এইসব নামের রেকর্ডের জন্য তাঁকে জার্মানি যেতে হবে। ড. মরিস বুকাইলি সে অনুযায়ী জার্মানি যান। সেখানে গিয়ে প্রাচীন মিসরে মুসা(আ.) এর সময়কালে [৬৩] ফিরআউনদের অধীনে নির্মাতা এবং স্থপতিদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে থাকেন। এবং সুবহানাল্লাহ, তিনি Ranke এর Die Agyptischen Personennamen গ্রন্থে[৬৪] ‘হামান’ নামটি পেয়ে যান! এটি মূলত প্রাচীন মিসরীয় ভাষার একট অভিধান। সেখানে তিনি দেখেন যে,পাথর আহরণ স্থানের নির্মাণ কর্মিদের নেতার উপাধি ‘হামান’। ফ্রান্সে ফিরে মরিস বুকাইলি সেই মিসরবিদকে অভিধানটির ফটোকপি দেখান, যাতে তিনি ‘হামান’ এর সন্ধান পেয়েছেন। এরপর তিনি তাকে কুরআন থেকে হামানের আয়াত দেখান। এটা দেখে সেই ফরাসি মিসরবিদ বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান।[৬৫]

মরিস বুকাইলি যে অভিধানটি থেকে ফিরআউনের সময়কালে ‘হামান’ এর সন্ধান পান তার স্ক্রিনশট।[৬৬]
মরিস বুকাইলি যে অভিধানটি থেকে ফিরআউনের সময়কালে ‘হামান’ এর সন্ধান পান তার স্ক্রিনশট।[৬৬]
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার Kunsthistorisches জাদুঘরে রক্ষিত একটি প্রাচীন মিসরীয় লিপির (hieroglyphics) নমুনা যাতে ফিরআউনের (pharoh) যুগের ‘হামান’ এর উল্লেখ আছে।[৬৭]
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার Kunsthistorisches জাদুঘরে রক্ষিত একটি প্রাচীন মিসরীয় লিপির (hieroglyphics) নমুনা যাতে ফিরআউনের (pharoh) যুগের ‘হামান’ এর উল্লেখ আছে।[৬৭]
মিসরীয় লিপির অনুবাদ যাতে ‘হামান এর পেশার উল্লেখ আছে ‘Vorsteher der Steinbrucharbeiter (জার্মান) যার মানে হচ্ছে, ‘পাথর আহরণস্থানের কর্মীদের নেতা’ |[৬৮] লিপিটি প্রাচীন মিসরের New Kingdom রাজত্বকালের।
মিসরীয় লিপির অনুবাদ যাতে ‘হামান এর পেশার উল্লেখ আছে ‘Vorsteher der Steinbrucharbeiter (জার্মান) যার মানে হচ্ছে, ‘পাথর আহরণস্থানের কর্মীদের নেতা’ |[৬৮] লিপিটি প্রাচীন মিসরের New Kingdom রাজত্বকালের।

কোরআনমাজিদের বিবরণে আমরা দেখছি যে, মিসরের ফিরআউন ‘হামান’ বলে একজনকে ডেকে সুউচ্চ ইমারত বানাবার আদেশ দিচ্ছে; আর প্রাচীন মিসরীয় ভাষায় পাঁথরের নির্মানকর্মীদের নেতাকে ডাকা হতো  হামান বলে। আল কুরআনে সূরা কাসাসের ৩৮ নং আয়াতে এটাও বলা আছে ফিরআউন হামানকে ইট পুড়িয়ে ইমারত বানাতে বলেছিল।
“আর ফিরআউন বলল, “হে পারিষদবর্গ, আমি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ (উপাস্য) আছে বলে আমি জানি না। অতএব হে হামান, আমার জন্য তুমি ইট পোড়াও, তারপর আমার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করো। যাতে আমি এর ইলাহকে দেখতে পাই। আর নিশ্চয়ই আমি মনে করি, সে মিথ্যাবাদীদের অন্তুরভুক্ত।[৬৯]

আধুনিককালে মিসরবিদগণ (Egyptologists) জানতে পেরেছেন যে, প্রাচীন মিশরে কাদা পুড়িয়ে ইট বানানোর প্রচলন ছিল। মিসরের পোড়ানো ইট ব্যবহারের সর্বপ্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায় Middle Kingdom রাজত্বকালে।[৭০] পরবর্তী সময়ে New Kingdom রাজত্বকালেও (১৫৫০-১০৭০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) থেবেস (Thebes) এর সমাধিক্ষেত্রে পোড়ানো ইট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।[৭১] ঐতিহাসিকদের মতে মিসরের New Kingdom রাজত্বকালেই আবির্ভাব হয়েছিল নবী মুসা(আ.) এর।[৭২] কাদা পুড়িয়ে মজবুত ইট বানানোর জ্ঞান—প্রাচীন একটি সভ্যতার জন্য এটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য একটা ব্যাপার। আর এই তথ্যটি আল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘Die Sprache Der Pharaonen Gro Bes Handwörterbuch Ägyptisch', প্রাচীন মিসরীয়-জার্মান অভিধান থেকে প্রাচীন মিসরে নির্মাণ কাজে ইট পোড়ানোর (ZiegelBrennen) উল্লেখ [৭৩]
‘Die Sprache Der Pharaonen Gro Bes Handwörterbuch Ägyptisch’, প্রাচীন মিসরীয়-জার্মান অভিধান থেকে প্রাচীন মিসরে নির্মাণ কাজে ইট পোড়ানোর (ZiegelBrennen) উল্লেখ [৭৩]
যে কুরআনকে খ্রিষ্টান মিশনারি আর নাস্তিকরা অভিযুক্ত করে “বাইবেল থেকে কপি” করা বলে, সেই কুরআনেই আমরা দেখছি এমন ঐতিহাসিক তথ্য আছে, যা কোনো ইহুদি বা খ্রিষ্টান পণ্ডিতের সেই যুগে জানা ছিল না। ঐতিহাসিক তথ্যে ভুল থাকা তো দূরের কথা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ দ্বারা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কুরআনে বিস্ময়করভাবে সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য আছে। ইসলামবিদ্বেষীদের অভিযোগ আর সত্যের মাঝে সবসময়েই বিশাল ব্যবধান লক্ষ করা যায়।মুসা

প্রাচীন মিসরীয় ভাষা তো  মুহাম্মাদ ﷺ -এর শত শত বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। মুহাম্মাদ ﷺ -এর যুগ ৭ম শতাব্দীতে পৃথিবীতে কেউ প্রাচীন মিসরীয় ভাষা জানত না, কোনো  মিসরবিদও সে যুগে ছিল না। প্রাচীন মিসরীয় ভাষার পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় মুহাম্মাদ ﷺ -এর সময় থেকে এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় পরে, ১৮ শতকে। আজ থেকে ১৪শ বছর আগে এমন কে ছিল, যে জানত যে প্রাচীন মিসরে পাথরের নির্মাণ শ্রমিকদের নেতার টাইটেল ছিল ‘হামান’ কিংবা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মানুষেরা পোড়ানো ইট দিয়ে ইমারত নির্মাণ করত? ৭ম শতাব্দীতে কে মুহাম্মাদ কে বলে দিলো, প্রাচীন মিসরীয় লিপির মর্ম? কে তাঁকে নিখুঁতভাবে ঐতিহাসিক তথ্য বলে দিলো? একমাত্র মহান স্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া?

“তুমি [মুহাম্মাদ ﷺ ] তো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করোনি এবং স্বহস্তে কোনোদিন কিতাব লেখোনি৷ এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।
বরং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটা (কুরআন) তো  স্পষ্ট নিদর্শন। একমাত্র জালিম ছাড়া আমার নিদর্শন কেউ অস্বীকার করে না।”[৭৪] “তারা কেন কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি ওটা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট হতে হতো, তবে তারা ওতে বহু গরমিল পেত।”[৭৫]

রিফারেন্সঃ

[৫৬] সূরা কাসাস ২৮ : ৬-৮, ৩৮; সূরা আনকাবুত ২৯ ; ৩৯; সূরা মু’মিন (গাফির) ৪০; ২৪, ৩৬ দ্রষ্টব্য
[৫৭] আল কুরআন, মু’মিন (গাফির) ৪০ : ৩৬-৩৭
[৫৮] বাইবেল, ইষ্টেরের বিবরণ (Book of Esther) ৫: ১৪ দ্রষ্টব্য
[৬৯] Jewish Encyclopedia; Vol. 5, page 232-237; Article: Esther http://www. jewishencyclopedia.com/articles/5872-esther
[৬০] প্রাগুক্ত
[৬১] “1799: Rosetta Stone found” । http://www.history.com/this-day-in-history/rosetta-stone-found
[৬২] Egyptologist’; প্রাচীন মিসর নিয়ে গবেষণা করেন যারা
[৬৩] খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ থেকে ত্রয়ো দশ  শতক, প্রাচীন মিসরের New Kingdom রাজত্বকাল; “Moses [Encyclopedia]” http://www.encyclopedia.com/people/philosophy-and-religion/judaism-biographies/moses
[৬৪] অভিধানটি পাওয়া যাবে এখানে:https://goo.gl/YQ4dRx
[৬৫]Moses and Pharaoh: The Hebrews In Egypt, by Dr. Maurice Bucaille, NTT Mediascope Inc.: Tokyo, 1995, pp. 192-193
Egyptology In The Qur’an – Exhibition Islam https://goo.gl/SPbHiL
[৬৬] Die Ägyptischen Personennamen, by Hermann Ranke, 1935, Volume I (Verzeichnis der Namen), page 240, Nos. 24-26 and page 241, No. 1
[৬৭] Die aegyptischen Denkmaeler in Miramar by von Leo Reinisch; page 399; গুগল বুক লিঙ্ক : https://goo.gl/9aqUCH
[৬৮] Aegyptische Inschriften Aus Dem K.K. Hof Museum In Wien, by Walter Wreszinski. 1906, J. C. Hinrichs’sche Buchhandlung: Leipzig, I 34, page 130 archive 1191% :https://goo.gl/VuRVOU
[৬৯] আল কুরআন, কাসাস ২৮ : ৩৮
[৭০] G.A. Reisner, N.F. Wheeler & D.Dunham, Uronarti Shalfak Mirgissa, 1967, Second Cataract Forts: Volume II, Museum of Fine Arts: Boston (USA), pp. 118-119 and Plate XLIX B:A. J. Spencer, Brick Architecture In Ancient Egypt, 1979, page 140;
“Brick Construction” in D. Arnold (S. H. Gardiner and H. Strudwick [Trans. ). The Encyclopaedia of Ancient Egyptian Architecture, 2003, I. B. Tauris: London, page 34
[৭১] L. Borchardt, O. Königsberger & H. Ricke, “Friesziegel in Grabbauten”, Zeitschrift Für Agyptische Sprache Und Altertumskunde, 1934, Volume 70, pp. 25-35; 1198 F A. J. Spencer, Brick Architecture In Ancient Egypt, 1979, page 140
[৭২] The New Kingdom – Part Two and the Age of Decline http://www.penfield.edu/webpages/jgiotto/onlinetextbook.cfm?subpage=1617942 1 17 লিঙ্কঃ https://goo.gl/TouXW5
[৭৩] R.Hannig, Die Sprache Der Pharaonen Gro Bes Handwörterbuch Ägyptisch Deutsch (2800-950 v. Chr), 2000, Verlag Philipp Von Zabern: Mainz, page 1570; আরও দেখুন এই বইটিরই পুরোনো সংস্করণ: R. Hannig, Die Sprache Der Pharaonen Gro Bes Handworterbuch Agyptisch-Deutsch (2800-950 v. Chr.), 1995, Verlag Philipp Von Zabern: Mainz, page 895
[৭৪] আল কুরআন, আনকাবুত ২৯ : ৪৮-৪৯
[৭৫] আল কুরআন, নিসা ৪: ৮২

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন