হোম হজ যদি কেউ নিষিদ্ধ বিষয়গুলো করে ফেলে তার কি করা উচিৎ?

যদি কেউ নিষিদ্ধ বিষয়গুলো করে ফেলে তার কি করা উচিৎ?

0

মূল:নারীর হজ ও উমরাহ

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

কোনো মহিলা যদি ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তুগুলো করে ফেলে তখন তার তিনটি অবস্থা থাকতে পারে:

সে তা ভুলে বা অসাবধানতাবশত. অথবা জোরকৃত হয়ে বা ঘুমন্ত অবস্থায় করে ফেলে তবে তার কিছুই করার নেই। সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। এ সব অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে যে দো‘আ শিখিয়ে দিয়েছেন তা হলো: দো‘আ

﴿رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ﴾ [البقرة: ٢٨٦]

“হে আমাদের রব! আমরা যদি বিস্মৃত হই বা ভুল করে বসি তবে সে জন্য আপনি আমাদের পাকড়াও করবে না” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬] কিন্তু যখনই সেই ওজর শেষ হয়ে যাবে তখন থেকে আর তা করা যাবে না। যেমন মূর্খ ব্যক্তি জানার পর, ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পর, বিস্মৃত ব্যক্তি মনে হওয়ার পর সে ধরনের গুনাহ আর করতে পারবে না।

আর যদি কেউ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো কোনো ওজর থাকার কারণে করে তবে সে গুনাহ থেকে মুক্তি পেলেও তাকে সেগুলোর জন্য ফিদিয়া দিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَلَا تَحۡلِقُواْ رُءُوسَكُمۡ حَتَّىٰ يَبۡلُغَ ٱلۡهَدۡيُ مَحِلَّهُۥۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ بِهِۦٓ أَذٗى مِّن رَّأۡسِهِۦ فَفِدۡيَةٞ مِّن صِيَامٍ أَوۡ صَدَقَةٍ أَوۡ نُسُكٖۚ فَإِذَآ أَمِنتُمۡ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلۡعُمۡرَةِ إِلَى ٱلۡحَجِّ فَمَا ٱسۡتَيۡسَرَ مِنَ ٱلۡهَدۡيِۚ فَمَن لَّمۡ يَجِدۡ فَصِيَامُ ثَلَٰثَةِ أَيَّامٖ فِي ٱلۡحَجِّ وَسَبۡعَةٍ إِذَا رَجَعۡتُمۡۗ تِلۡكَ عَشَرَةٞ كَامِلَةٞۗ﴾ [البقرة: ١٩٦]

“আর যে পর্যন্ত কুরবানীর পশু তার স্থানে না পৌঁছে তোমরা মাথা মুণ্ডন করো না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় বা মাথায় ব্যথা হয় তবে সিয়াম কিংবা সাদকা অথবা কুরবানীর দ্বারা ওটার ফিদিয়া দেবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজের পূর্বে ‘উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য ‘হাদী’ জবেহ করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায় তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং ঘরে ফেরার পর সাত দিন এ পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৬]

আর যদি কেউ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করে তবে সে গুনাহগার, হওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ফিদিয়া দিতে হবে। ফিদয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্ত্তগুলোকে আমরা চারভাগে ভাগ করতে পারি:

যে নিষিদ্ধ কাজ করলে শুধু গুনাহ হয় ফিদিয়া দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি এবং তা হলো, বিয়ে করা বা দেওয়া। এতে ব্যক্তি  গুনাহগার, হবে এবং সে বিয়ে বাতিল বা ফাসেদ হবে কিন্তু কোনো ফিদিয়া দিয়ে মুক্তি পাওয়ার বিধান রাখা হয় নি।

যে নিষিদ্ধ কাজ করলে একটি পূর্ণ উট, অথবা গরু ফিদয়া হিসেবে জবাই করতে হয় তা হলো, পাথর মেরে প্রাথমিক হালাল হওয়ার পূর্বে সহবাস করা। মূলত: এ ধরনের সহবাসের কারণে মোট চারটি কাজ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়:

এক. হজ বাতিল হয়ে যাবে।

দুই. ফিদিয়া দিতে হবে, আর তা হলো, একটি পূর্ণ উট, বা গরু।

তিন. যে হজটি করছে তা পূর্ণ করতে হবে।

চার. আগামীতে সে হজের কাজা করতে হবে।

যে নিষিদ্ধ কাজ করলে এর সমপরিমাণ প্রতিবিধান করতে হয়। আর তা হলো, কোনো স্থল প্রাণী শিকার করা। যেমন, হরিণ শিকার বা খরগোশ শিকার করা। এটা করলে শিকারকৃত প্রাণীর অনুপাতে জন্তু জবাই করতে হবে।

যে নিষিদ্ধ কাজ করলে সাওম (রোযা) বা সাদকা বা একটি ছাগল/দুম্বা জবাই করতে হবে। আর তা হলো, উল্লিখিত নিষিদ্ধ কাজগুলো ব্যতীত ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্যান্য কাজগুলোর কিছু করা। যেমন, বিনা ওজরে মাথা কামানো, আতর লাগানো। ইত্যাদি। রোজার পরিমাণ হলো, তিনদিন। আর সাদকার পরিমাণ হলো, ছয়জন মিসকিনকে তিন সা‘ পরিমাণ খাবার দেওয়া। (এক সা‘= কমপক্ষে ২০৪০ গ্রাম)।

pratyabartan
Exit mobile version