রাসূলের একাধিক বিবাহ

কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি,  তিনি বলেন, « إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا ». “আল্লাহ তা‘আলা প্রতি শতাব্দির শুরুতে এ উম্মতের মধ্যে এমন একজনকে প্রেরণ করবেন, যিনি দীনের বিধানগুলো সংস্কার করবেন।” হাদীসটির বিশুদ্ধ সনদ, মতন কি এবং  বর্ণনাকারী কে? আর দীনের বিধানগুলো সংস্কার করবেন” এ কথার অর্থ কি? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সু-স্পষ্ট ও অকাট্য দলীল প্রমাণের ওপর রেখে গেছেন। এ ধরনের প্রশ্ন যারা করে আমরা তাদের কিভাবে জাওয়াব দেবো?

উত্তর: প্রথমত: ইমাম আবূ দাউদ স্বীয় সুনানে সালমান ইবন দাউদ আল-মাহরী থেকে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ওহাব, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সা‘ঈদ ইবন আবু আইউব এবং তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শারাহীল ইবন ইয়াযীদ আল-মু‘আফিরী থেকে এবং তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আলকামা থেকে আর তিনি বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তিনি বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনি বলেন, « إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا ». “আল্লাহ তা‘আলা প্রতি শতাব্দির শুরুতে এ উম্মতের মধ্যে এমন একজনকে প্রেরণ করবেন, যিনি দীনের বিধানগুলো সংস্কার করবেন।”[1]

দ্বিতীয়ত: হাদীসটি বিশুদ্ধ এবং হাদীসটির প্রত্যেক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।

তৃতীয় ও চতুর্থত: “দীনকে সংস্কার করবেন” এ বাণীর অর্থ, যখন অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত দীন যে দীনকে আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের জন্য পরিপূর্ণ করেছেন, যে দীনের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপর তার নি‘আমতকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং তাদের জন্যে ইসলামকে দীন হিসেবে মনোনিত করেছেন, সে দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের নিকট ইসলাম বিষয়ে একজন বিচক্ষন আলেম বা দা‘ঈ প্রেরণ করবেন যিনি মানুষকে আল্লাহর কিতাব এবং রাসূল থেকে প্রমাণিত সুন্নাতের প্রতি পথ দেখাবেন এবং বিদ‘আত থেকে দূরে সরাবেন এবং নব আবিষ্কৃত বস্তু থেকে তাদের সতর্ক করবেন। সঠিক পথ—আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত থেকে যারা বিচ্যুত হবেন তাদেরকে তাদের বিচ্যুতি থেকে ফিরিয়ে রাখবেন। উম্মতের অবস্থার সংস্কার ও সংশোধন হিসেবে একে তাজদীদ বা সংস্কার বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের জন্য যে দীনকে চালু করেছেন এবং পরিপূর্ণ করেছেন, সে দীনের সংস্কার বা সংশোধন হিসেবে একে সংস্কার বলে আখ্যায়িত করা হয়নি। কারণ, একের একের পর পরিবর্তন, দূর্বলতা ও বিকৃতি উম্মাতের ওপরই চেপে বসে। অন্যথায় ইসলামের সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহর হাতেই। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন ও সুন্নাতের হিফাযতের দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে ইসলামকে হিফাযত করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ٩﴾ [الحجر: ٩] “নিশ্চয় আমি কুরআন[2] নাযিল করেছি, আর আমিই তার হেফাযতকারী।” [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]

পঞ্চমত: সংস্কারকগণ বারো বছরের মাথায় আসবেন এ কথাটি হাদীসে নেই। রবং হাদীসে এসেছে আল্লাহর আদেশে এবং তার প্রজ্ঞা অনুযায়ী তারা আসবেন প্রতি হিজরী শতাব্দির মাথায়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া এবং তাদের বিপক্ষে সু-স্পষ্ট দলীল ও প্রমাণ, যাতে তাদের নিকট দলীল প্রমাণ স্পষ্ট হওয়ার পর অপারগতা প্রকাশ করার কোন সুযোগ না থাকে। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

[1] আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪২৯৩

[2] الذكر দ্বারা উদ্দেশ্য কুরআন।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন