মুহাম্মাদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব রহ.

অনুবাদ ও সম্পাদনা:

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

ইসলামের রুকন বা স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি:

১) ‘আল্লাহ ব্যতীত নেই কোনো হক্ব মা‘বুদ এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রাসূল’- একথার সাক্ষ্য প্রদান করা।

২) সালাত সুপ্রতিষ্ঠিত করা।

৩) যাকাত প্রদান করা।

৪) রামাযান মাসের সাওম পালন করা।

৫) আল্লাহর ঘর হজ করা।

 

[ইসলামের রুকনসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা]

প্রথম রুকন: কালেমায়ে শাহাদাত এর পক্ষে প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী,

﴿شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١٨﴾ [ال عمران: ١٨] 

“আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, একমাত্র তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই। আর ফিরিশতাবৃন্দ এবং জ্ঞানবান ব্যক্তিগণও ন্যায়নিষ্ঠ হয়ে ঘোষণা করেন যে, মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮]

এর অর্থ হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে একমাত্র তিনি আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইবাদতের যোগ্য ইলাহ নেই।

এর দু’টি দিক রয়েছে, একটি নেতিবাচক, অপরটি ইতিবাচক। নেতিবাচক দিকটি হচ্ছে, ‘কোনোই মা‘বুদ নেই’ এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা সম্পূর্ণরূপে নাকচ করা হয়েছে। আর ইতিবাচক দিক হচ্ছে, ‘আল্লাহ ব্যতীত’ এর দ্বারা ইবাদত দৃঢ়তার সঙ্গে একমাত্র আল্লাহ’র জন্যই সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁর রাজত্বে যেমন কোনো অংশীদার নেই, তেমনি তাঁর ইবাদত ক্ষেত্রেও কোনো অংশীদার থাকতে পারে না।

এ তাওহীদ বা একত্ববাদের তাফসীর ও ব্যাখ্যা এসেছে আল্লাহর বাণী কুরআনে। যেমন, আল্লাহর বাণী,

﴿وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦٓ إِنَّنِي بَرَآءٞ مِّمَّا تَعۡبُدُونَ ٢٦ إِلَّا ٱلَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُۥ سَيَهۡدِينِ ٢٧ وَجَعَلَهَا كَلِمَةَۢ بَاقِيَةٗ فِي عَقِبِهِۦ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ ٢٨﴾ [الزخرف: ٢٦،  ٢٨] 

“আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম নিজ পিতা ও নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমরা যে সব মূর্তির পূজা অর্চনা করছ আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, আমি তাঁরই ইবাদত করি যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আর তিনিই আমাকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন এবং ইবরাহীম এক চিরন্তন কালেমারূপে রেখে গেছেন তাঁর পরবর্তীদের জন্যে, যাতে তারা সেই বাণীর পানে ফিরে যেতে পারে। [সূরা আয-যুখরূফ, আয়াত: ২৬-২৮]

অনুরূপ আল্লাহর অপর বাণী,

 ﴿قُلۡ يَٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ تَعَالَوۡاْ إِلَىٰ كَلِمَةٖ سَوَآءِۢ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمۡ أَلَّا نَعۡبُدَ إِلَّا ٱللَّهَ وَلَا نُشۡرِكَ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗا وَلَا يَتَّخِذَ بَعۡضُنَا بَعۡضًا أَرۡبَابٗا مِّن دُونِ ٱللَّهِۚ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَقُولُواْ ٱشۡهَدُواْ بِأَنَّا مُسۡلِمُونَ ٦٤﴾ [ال عمران: ٦٤] 

“বল, হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন এক বাণীর প্রতি আস যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে সমান। আর তা হচ্ছে, আমরা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো ইবাদত করবো না, আমরা কোনো কিছুই তাঁর শরীক করব না। আর আমরা আল্লাহকে ছেড়ে একে অপরকে কস্মিনকালেও রব বলে গ্রহণ করব না, কিন্তু তারা যদি এতে পরাম্মুখ হয়, তাহলে তোমরা (আহলে কিতাবদের) বলে দাও, জেনে রাখো, আমরা হচ্ছি আল্লাহতে আত্মসমর্পিত মুসলিম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬৪]

আর ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ এ সাক্ষ্যের স্বপক্ষে প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী,

﴿ لَقَدۡ جَآءَكُمۡ رَسُولٞ مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ عَزِيزٌ عَلَيۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِيصٌ عَلَيۡكُم بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ رَءُوفٞ رَّحِيمٞ ١٢٨﴾ [التوبة: ١٢٨] 

“অবশ্যই তোমাদের কাছে সমাগত হয়েছেন তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল যাঁর পক্ষে দূর্বহ ও অসহনীয় হয়ে থাকে তোমাদের দুঃখকষ্টগুলো, যিনি তোমাদের প্রতি সদা সচেতন। মুমিনদের প্রতি যিনি চির স্নেহশীল ও দয়াবান।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৮]

আর ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ এ কথার তাৎপর্য হচ্ছে,

১. তিনি যা আদেশ করেছেন তা অনূসরণ করা।

২. তিনি যে বিষয়ের সংবাদ প্রদান করেছেন তা সত্য বলে স্বীকার করা।

৩. তিনি যা থেকে নিষেধ করেন তা বর্জন করা এবং

৪. কেবল তাঁর প্রবর্তিত শরী‘আত অনুযায়ীই আল্লাহর ইবাদত করা।

 

[দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকন সালাত, যাকাত সম্পর্কে ব্যাখ্যা]

আর সালাত, যাকাতের প্রমাণ এবং তাওহীদের ব্যাখ্যা সম্পর্কে আল্লাহর বাণী,

﴿وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥﴾ [البينة: ٥] 

“আর তাদের তো কেবল এ আদেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে দীন ইসলামকে খালেস করে নিবে কেবল আল্লাহর জন্য। আর সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে। আর এটাই হচ্ছে সুদৃঢ় দীন।” [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫]

[চতুর্থ রুকন সাওমের ব্যাখ্যা]

সাওমের প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣﴾ [البقرة: ١٨٣]

“হে ঈমানদারগণ, সিয়াম সাধনা তোমাদের ওপর ফরয করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩]

[পঞ্চম রুকন সম্পর্কে ব্যাখ্যা]

হজের প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী,

﴿وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ﴾ [ال عمران: ٩٧] 

“আর আল্লাহর ঘরের উদ্দেশ্যে সফরের সামর্থ রাখে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে কা’বাগৃহের হজ করা ফরয, কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি এ আদেশ অমান্য করে তা হলে (জেনে রাখ) আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকেই অমুখাপেক্ষী।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]

এই বইটির সকল আর্টিকেল গুলো পড়তে নিচের লিংক ক্লিক করুন:

চারটি বিষয় জানা অবশ্য-কর্তব্যচারটি বিষয় জানা অবশ্য-কর্তব্য

তিনটি বিষয় জানা অবশ্য কর্তব্য

তিনটি মূলনীতি

মিল্লাতে ইবরাহীমের মূলকথা

প্রথম মূলনীতি: রব সম্পর্কে জানা

দ্বিতীয় মূলনীতি: প্রমাণাদিসহ ইসলাম সম্পর্কে জানা

প্রথম পর্যায়: ইসলাম

দ্বিতীয় পর্যায়: ঈমান

তৃতীয় পর্যায়: ইহসান

তৃতীয় মূলনীতি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা