মূল: ড. মাজহার কাজি । অনুবাদ: মাওলানা ফয়জুলাহ− মুজহিরী। সম্পাদনা: এম মুসলেহ উদ্দিন

কুরআন মাজিদ প্রাণী জগৎ ও উদ্ভিদ রাজ্যের এমন অসংখ্য বাস্তব তথ্য প্রদান করে, কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হবার প্রাক্কালে যে সম্পর্কে মানবজাতি ছিল অনবহিত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক উন্নতি ও গবেষণা এসব তথ্যের সত্যতা সুনিশ্চিত করেছে। কুরআন মাজিদ বলে,

‘(হে মুহাম্মদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম)− আপনি (কুরআন নাজিল হওয়ার) পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতে সক্ষম ছিলেন না। আর না আপনি স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোনো কিতাব লিখতে সক্ষম ছিলেন। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই (কুরআন মাজিদ) সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করত।’ (আনকাবুত, ২৯ : ৪৮)
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুরআন মাজিদের এই ভাষ্যের ব্যাপারে কেউ কখনো সন্দেহ পোষণ করে নি। বিস্ময়করভাবে মুসলিম-অমুসলিম সকল ঐতিহাসিক স্বীকার করেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না পড়তে জানতেন, আর না লিখতে। এমতাবস্থায় আমাদের উচিত, প্রকৃতির রহস্য ও বিস্ময় সম্পর্কে তাঁর সুবিপুল ও যথার্থ জ্ঞানের উৎস খুঁজে বের করা। তিনি কি এসব জ্ঞান ব্যক্তিগত মেধা ও চিন্তা শক্তির মাধ্যমে অর্জন করেছেন? এমনটি হলে নিদেনপক্ষে কুরআন মাজিদের কিছু তথ্য হলেও প্রকতিৃ সম্পর্কিত সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি। প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের অতি-সাম্প্রতিক আবিষ্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সকল বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার কুরআন মাজিদে বর্ণিত তথ্যসমূহের সত্যতার সাক্ষ্য বহন করে।মানবজাতি
এমনকি প্রাণী জগত ও উদ্ভিদ রাজ্যের ক্ষুদ্রতম সদস্য যেমন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আলোচনা কুরআন মাজিদে রয়েছে। যখন কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হচ্ছিল তখন মানুষ এত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনাও করতে পারত না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে মানুষ কেবল তা-ই বুঝতে পারে নি, বরং কুরআন মাজিদে বর্ণিত বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেছে। অতএব এসবের প্রেক্ষিতে এই উপসংহারে আসাই অধিক যুক্তিযুক্ত যে, কুরআন মাজিদ সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ আসমানি গ্রন্থ। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এমন শাশ্বত সত্য এ জন্যে রেখেছেন যাতে বিবেচক লোকেরা সেসব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে এবং কুরআন মাজিদকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ আসমানি বার্তা হিসেবে গ্রহণ করে।মানবজাতি
নিম্নে প্রাণী জগত ও উদ্ভিদরাজ্যে আবিষ্কার সংক্রান্ত কুরআন মাজিদের কিছু প্রকাশ্য মুজিজা তুলে ধরা হল :

মুজিজা নং– ৪৪প্রাণী ও উদ্ভিদ
পানিতে জীবনের আদি উৎস

অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? (আম্বিয়া, ২১ : ৩০)

আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের কোনোটি পেটে ভর দিয়ে চলে, কোনোটি চলে দু’পায়ের ওপর, আবার কোনোটি চার পায়ের ওপর চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর শক্তিমান। অবশ্যই আমি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে সরল পথ দেখান। (আন নূর, ২৪ : ৪৫-৪৬)

আর তিনিই (আল্লাহ) পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে বংশগতি ও বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর তোমার রব (প্রত্যেক বস্তুর ওপর) প্রভূত ক্ষমতাবান। (ফুরকান, ২৫ : ৫৪)

পানি থেকে জীবনের উদ্ভব হওয়ার তথ্যটি বর্তমানে এমন একটি মৌলিক সত্য বিষয় যা, আমরা নসিংকোচে মেনে স্বীকার করি। বিষয়টির অতি উজ্বল্য দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ আয়াতগুলি সম্পর্কে আমাদের অনুভূতিকে হয়ত প্রাণিত করবে না, বরং তা স্বাভাবিক বলে মনে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মভূমি আরব উপদ্বীপ নিরেট মরুভূমি। এমনকি সেখানে নেই কোনো নদী বা হ্রদ। এসব আয়াত এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দেয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময় থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত আরব উপদ্বীপে অবর্তমান। তবু তা আমাদের সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

মুজিজা নং– ৪৫ প্রাণী ও উদ্ভিদমানবজাতি
সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জীবনের অস্তিত্ব

আর চতুষ্পদ জন্তুগুলো তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে উষ্ণতার উপকরণ ও বিবিধ উপকার। আর তা থেকে তোমরা (গোস্ত)— আহার কর। আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহন ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন (অন্য) এমন কিছু, যা তোমরা জান না। (নাহল, ১৬ : ৫-৮)

পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সকল জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)

উপরোক্ত আয়াতদ্বয় এমন আকারের জীবনের অস্তিত্ব নির্দেশ করে কুরআন অবতরণের প্রাক্কালে যা ছিল মানুষের অজানা। মাইক্রোসকোপ বা অনুবীক্ষণযন্ত্র আবিষ্কারের পর মানবচক্ষু নতুন আবিষ্কৃত জীবনের স্বরূপের রহস্য যেমন, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস অবলোকন করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ কুরআন মাজিদ তাদের অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করেছে মানুষ তাদের আবিষ্কার করার বহু পূর্বে।

মুজিজা নং– ৪৬প্রাণী ও উদ্ভিদ
প্রাণীদের মধ্যে জাতি-গোষ্ঠীর অস্তিত্ব

আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী এবং দু’ডানা দিয়ে ওঠে এমন প্রতিটি পাখি তোমাদের মত এক একটি উম্মত (জাতি)। আমি কোনো কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে। (আনআম, ০৬ : ৩৮)
আমাদের মনে রাখা উচিত, আরব উপদ্বীপ, যা কি-না একটি মরুভূমি, তাতে নেই কোনো সমৃদ্ধ প্রাণী কিংবা পাখির আবাস। বলাবাহুল্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির জীবন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের খুব সামান্য সুযোগ পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও কুরআন মাজিদ এমন একটি রহস্যের বর্ণনা দেয় যা সম্প্রতি প্রাণী ও পাখি বিজ্ঞানের গবেষণার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা হল প্রতিটি প্রাণী ও পাখি স্বতন্ত্র সমাজ ও গোত্রে বসবাস করে। আবার বলছি, আমাদের উচিত এ ধরনের জ্ঞানের উৎস খুঁজে বের করা, যা কুরআন মাজিদে অবতীর্ণ হয়েছে আজ থেকে চৌদ্দশ বছরের অধিককাল পূর্বে। এটা অচিন্তনীয় যে, কোনো মানুষ এমন বিষয়ে ধারণা করতে পারে যা সে জীবনে পর্যবেক্ষণ করে নি। এবং তার সেই ধারণা হবে সম্পূর্ণরূপে সঠিক। এভাবে এ থেকে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই জ্ঞানের উৎস।

মুজিজা নং– ৪৭প্রাণী ও উদ্ভিদ
অজানা জগতে বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব

পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সব কিছু জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)

কুরআন মাজিদ এই আয়াতে সব ধরনের জীবনের বিপরীত জোড়ার অস্তিত্ব ঘোষণা করে। এটি সেসব প্রজাতিসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে যা ছিল মানুষের অজানা। বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত একটি সামগ্রিক ক্ষুদ্র জীব-জগতের আবিষ্কার করেছে। এটি বিস্ময়কর ও লক্ষণীয় বিষয় যে, পুরো ব্যাকটেরিয়া জগত ‘গ্রাম পজিটিভ’ ও ‘গ্রাম নেগেটিভ’ (Gram  positive  and  gram negative) নামে পরিচিত দু’টি বিপরীতধর্মী জোড়ায় বিভক্ত। অনুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope) আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তা উদ্ঘাটন করার শত শত বছর আগে কুরআন মাজিদ এই তথ্য প্রদান করেছে।
বৃটিশ বিজ্ঞানী পল ডির‌্যাক (Paul  Dirac) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দেখান প্রত্যেক বস্তুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৩ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কুরআন মাজিদ এই আবিষ্কারের ওপর নোবেল পুরস্কার প্রদানের শত শত বছর পূর্বেই তার বর্ণনা দিয়েছে।

মুজিজা নং– ৪৮প্রাণী ও উদ্ভিদ
যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন

আর তিনিই (আল্লাহ) যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী। একটি (শুক্র) বিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়। (নাজম, ৫৩ : ৪৫-৪৬)

সকল প্রাণীর মধ্যে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজননের বিষয়টি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার আগে প্রাণীদের যৌনক্রিয়ার (Fertilization) প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই ছিল না। আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই তথ্য অবতীর্ণ করেন মানুষ তা আবিষ্কার করার বহু আগে।

মুজিজা নং– ৪৯প্রাণী ও উদ্ভিদ
দুধের উৎস

আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা। আমি তোমাদেরকে পান করাই তার পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে দুধ, যা খাঁটি ও স্বাচ্ছন্দকর পানকারীর জন্যে। (নাহল, ১৬ : ৬৬)

কুরআন এখানে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সেই জীববৃত্তীয় প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয় যা অন্ত্রপ্রাচীরের  স্তরে গোবর ও রক্তের নির্যাসকে একত্রে নিয়ে আসে এবং দুধ তৈরি করে। এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম (হজম-প্রক্রিয়া) সম্পর্কিত শরীর বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। যখন কুরআন অবতীর্ণ হয় তখন মানুষ এ ধরনের সূক্ষ্ম ও যথার্থ জ্ঞান সম্পর্কে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত।

মুজিজা নং– ৫০প্রাণী ও উদ্ভিদ
মধুর উৎস

আর তোমার রব মৌমাছিকে ইঙ্গিতে জানিয়েছেন, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও। অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চল।’ তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয় যার রং ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা চিন্তা করে। (নাহল, ১৬ : ৬৮-৬৯)
লক্ষণীয় যে, আরবি ভাষায় দুই প্রকার ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়। এক প্রকার পুংলিঙ্গের জন্য, অন্য প্রকার স্ত্রীলিঙ্গের জন্য। এই আয়াতে কুরআন মাজিদ স্ত্রীবাচক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছে। এভাবে কুরআন মাজিদ এ কথা পরিষ্কারভাবে বিবৃত করে যে, খাদ্য সংগ্রহ ও মধু তৈরির সঙ্গে স্ত্রী মৌমাছিই জড়িত।
আরো উল্লেখ্য যে, পুরুষ মৌমাছি ও স্ত্রী মৌমাছির মধ্যে পার্থক্য এত সূক্ষ্ম, কেবল একজন অভিজ্ঞ লোকই তা পার্থক্য করতে পারে। বলাবাহুল্য, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন দক্ষ পতঙ্গ বিজ্ঞানী ছিলেন না। তিনি পুরুষ মৌমাছি ও স্ত্রী মৌমাছির পার্থক্য নির্ণয়েও সক্ষম ছিলেন না। বহু শতাব্দী পর্যন্ত মৌমাছি সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, স্ত্রী মৌমাছিরা ঘোরাফেরা করে তাদের বাসায় গিয়ে একটি ‘রাজা মৌমাছির’ কাছে কৈফিয়ত প্রদান করে। সাম্প্রতিক পতঙ্গ বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী মৌমাছিরা চারপাশে ঘোরাফেরা করে এসে বাসায় গিয়ে একটি ‘রানী মৌমাছি’র কাছে কৈফিয়ত প্রদান করে। যা হোক, কুরআন মাজিদে এই তথ্য বর্ণিত হয়েছে চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল আগে।

মুজিজা নং– ৫১প্রাণী ও উদ্ভিদ
শূকরের মাংসের বিপত্তি

তিনি (আল্লাহ) তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমান ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্যে কোনো পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল ও দয়ালু।(বাকারা, ০২ : ১৭৩)
কুরআন মাজিদ কেন শূকরের মাংস ব্যবহার নিষেধ করে তা বহু শতাব্দী পর্যন্ত একটি রহস্য হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে, শূকরের মাংস মানুষের শরীরের জন্য অত্যধিক ক্ষতিকর। কিছুদিন পূর্বেও মনে করা হত শূকরের মাংসে Trichina  Parasite (একপ্রকার পরজীবি জীবাণু)-ই মানুষের শরীরের জন্য একমাত্র বিপত্তি। বৈজ্ঞানিকরা বর্তমানে শূকরের মাংসের আরও অনেক ক্ষতিকর দিক আবিষ্কার করেছেন। সেসব গবেষণার কিছু নিম্নে তুলে ধরা হল :
১) শূকরের মাংসে ‘Sutoxin’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রোটিন রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের এলার্জি সৃষ্টি করে। যেমন, হাঁপানি, খোস পাঁচড়া ও একজিমা ইত্যাদি।
২) শূকরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে Muco  polysaccharides (একপ্রকার শেষ্মা− জাতীয় পদার্থ) রয়েছে। এগুলি সালফারে সমৃদ্ধ এবং গিঁটসমূহে ও শরীরের জোড়াগুলিতে ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি করে।
৩) শূকরের মাংস রক্তের প্রবাহে চর্বিজাতীয় পদার্থের অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। প্রাণী মাংসে দু’ধরনের চর্বি থাকে। একটি হল বাহ্যিক যা মাংসকে ঢেকে রাখে। অপরটি হল অভ্যন্তরীণ, যা থাকে মাংসপেশীর তন্তুসমূহে। নিম্নে সাধারণ মাংসের আভ্যন্তরীণ পেশীতে চর্বির পরিমাণ দেখানো হল :
বাছুরের মাংস- ১০%, ভেড়া- ২০% মেষশাবক- ২৩% শূকরের মাংস- ৩৫%।
রক্তে চর্বির উচ্চমাত্রা কতিপয় স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন, বার্ধক্য, জ্বরাগ্রস্ততা, প্যারালাইসিস ও হৃদযন্ত্র সম্বন্ধীয় বিভিন্ন রোগ। শূকরের মাংসের উচ্চমাত্রার চর্বি মানব স্বাস্থের জন্য সর্বাধিক বিপজ্জনক।
৪) শূকরের মাংসের উচ্চমাত্রার চর্বির আরেকটি ক্ষতিকর দিক হল, তা ভিটামিন ‘ই’র অতিরিক্ত ক্ষয়সাধন করে। ভিটামিন ‘ই’র এই ক্ষয়সাধন বা ঘাটতি পরিণামে ভিটামিন ‘এ’র ক্ষয় সাধন করে। এভাবে শূকরের মাংস শরীরের ভিটামিন ‘ই’ ও ‘এ’র ক্ষয় সাধনের মাধ্যমে শরীরবৃত্তীয় কাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
৫) এও দেখা গেছে যে, শূকর নোংরা ও ঘৃণিত বস্তু ভোগ ও আহার করে থাকে। এজন্যে তার Lympatic system (লসিকা প্রণালী) সর্বদা সক্রিয় অবস্থায় থাকে। এটি albumens সহ বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণমূলক বস্তুতে পূর্ণ থাকে। শূকরের শরীরের এক অংশে albumens এর উপস্থিতি শরীরের অন্য অংশে Immune response সৃষ্টি করে। শূকরের মাংস ভক্ষণের ফলে এভাবে বিভিন্ন প্রকার এলার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া ও মানব দেহে লসিকা প্রণালীতে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
৬) শূকরের মাংসের কারণে অন্য একটি প্রাণঘাতি ব্যধি জন্ম নেয়, যা সঞ্চারিত হয় ‘ Trichina’ নামক জীবাণুর মাধ্যমে। যদিও পশ্চিমাদের সাম্প্রতিক উৎকর্ষের ফলে এই জীবাণু দূর করা যেতে পারে তথাপি ধারণা করা হয় পৃথিবীতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন এই ‘Trichina victims’ রয়েছে।
৭)  অনেক মুসলিম কর্মী চিহ্নিত করেছে, শূকরই একমাত্র প্রাণী যে তার স্ত্রী সঙ্গীর ব্যাপারে সজাগ নয় এবং তার জন্যে লড়াই করে না। এ এক অদ্ভুত সাজুয্য যে যেসব জাতি শূকরের মাংস ভক্ষণ করে তারাও একই ধরনের যৌনসংক্রান্ত মানসিকতা প্রদর্শন করে। এ থেকে বুঝা যায়, মানুষের ওপর শূকরের মাংসের একটি বিশেষ নৈতিক নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে।বলাবাহুল্য, যখন কুরআন শূকরের মাংসকে হারাম ঘোষণা করে তখন এসব তথ্য মানুষের জানা ছিল না।

মুজিজা নং– ৫২প্রাণী ও উদ্ভিদ
সকল বৃক্ষে বিপরীত লিঙ্গের অস্তিত্ব

আর তিনিই (আল্লাহ) যিনি ভূমণ্ডলকে বিস্ততৃ করেছেন ও তাতে পাহাড় -পর্বত ও প্রবাহমান নদ- নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকার ফলের মধ্যে দু’দু প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। এতে তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা চিন্তা করে। (রা’দ, ১৩ : ০৩)

তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার যুগল উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। (প্রত্যেকটি অপরটি থেকে স্বতন্ত্র।) (ত্বাহা, ২০ : ৫৩)

হে মানব সকল, যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট মাংসপিণ্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি একটি নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতগর্ভেৃ যা ইচ্ছা রেখে দেই। এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত ও নিষ্প্রাণ দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি তখন তা (প্রাণের প্রতি) আলোড়িত ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুন্দর (উদ্ভিদরাজি) জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন হয়। (হজ, ২২ : ০৫)

তিনি কোনো খুঁটি ব্যতীত আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন যা তোমরা দেখ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্ব প্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর তাতে উদ্গত করেছি সর্ব প্রকার কল্যাণকর প্রজাতির (উদ্ভিদের) জোড়াসমূহ। (লুকমান, ৩১ : ১০)

পবিত্র ও মহান সে সত্তা যিনি সকল জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, জমিন যা উৎপন্ন করেছে তা থেকে, মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে এবং সেসব থেকে যা তারা জানে না। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৬)

এসব আয়াত যা অবতীর্ণ হয়েছে চৌদ্দশ বছরেরও অধিককাল পূর্বে, উদ্ভিদরাজিতে লিঙ্গের উপস্থিতি পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করেছেন ১০০ বছর পূর্বে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো দক্ষ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ছিলেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এ তথ্য অবতীর্ণ করেছিলেন। অতএব সেসব লোক যারা বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার গুণে বিভূষিত তারা এসব বিষয়ের ওপর চিন্তা-ভাবনা করে কুরআন মাজিদকে মানব জাতির জন্যে আসমানি নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

মুজিজা নং– ৫৩প্রাণী ও উদ্ভিদ
বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন

আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি। অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি। এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুত তোমাদের কাছে এর ভাণ্ডার নেই। (হিজর, ১৫ : ২২)

বায়ু, ফুলের পরাগরেণু বিস্তারের একটি কার্যকরী মাধ্যম। তার মাধ্যমে গাছের পরাগায়ন সংঘটিত হয়। আর এটি উদ্ভিদবিদ্যার সাম্প্রতিক গবেষণার আবিষ্কৃত একটি বিষয়। যা হোক, আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞান তা আবিষ্কার করার বহু পূর্বে।

মুজিজা নং– ৫৪প্রাণী ও উদ্ভিদ
উদ্ভিদ থেকে অক্সিজেন উৎপাদন

যিনি সবুজ বৃক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও। (ইয়াসিন, ৩৬ : ৮০)

চৌদ্দশ বছর পূর্বে জ্বলনের প্রক্রিয়া জানতে পারা মানুষের জন্য ছিল অসম্ভব। তার বহু শতাব্দী পর আবিষ্কৃত হয় যে, দাহ্য পদাের্  কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলেই জ্বলন প্রক্রিয়া সংগঠিত হয়। কুরআন মাজিদ এই রহস্য উদঘাটন করেছে চৌদ্দশ বছর পূর্বে। পবিত্র আয়াতটি গাছের মধ্যে সালোকসংশেষণ− প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেয়। গাছের সবুজ উপাদান হল ক্লোরোফিল। এখন এটা অজানা নয় যে, ক্লোরোফিল বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বনডাই-অক্সাইড শুষে নেয় এবং পানির সহায়তায় তাকে কার্বোহাইড্রেডে রূপান্তরিত করে। ফলস্বরূপ অক্সিজেন নির্গত হয়। বস্তুত গাছের সবুজ অংশ বা ক্লোরোফিলই হল প্রধান এজেন্ট যা প্রকৃতিতে অক্সিজেন উৎপাদন ও তার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। বলা বাহুল্য, অক্সিজেন ছাড়া কোনো আগুন জ্বলতে পারে না। পাশাপাশি ক্লোরোফিল যে কার্বোহাইড্রেড উৎপাদন করে তা মৌলিক কার্বন উপাদানের যোগান দেয়- যা সব ধরনের দাহ্য ক্রিয়ার দ্বিতীয় উপাদানের ভূমিকা পালন করে। এটি হুবহু তা-ই যা এই আয়াত বর্ণনা দেয়- যে আগুন তোমরা প্রজ্বলিত কর তা উৎপন্ন হয় সবুজ বৃক্ষ থেকে।প্রাণী ও উদ্ভিদ
বিগত পৃষ্ঠাগুলিতে কুরআন মাজিদের সেসব আয়াত পেশ করা হয়েছে যেগুলি প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ আয়াতগুলি আলোচিত হয়েছে কিছু বিশেষ শিরোনামে, যেমন- ‘সকল প্রকার জীবনের আদি উৎস পানি’, ‘প্রাণীদের মধ্যে জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর অস্তিত্ব’, ‘জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণীদের প্রজনন’, ‘দুধের উৎস’, ‘মধুর উৎস’, ‘সবধরনের উ™িদে¢ বিপরীত লিঙ্গের উপস্থিতি’, বায়ুর মাধ্যমে উ™িদের¢ পরাগায়ন’, ইত্যাদি। বহু শতাব্দী পর্যন্ত মানুষ কুরআন মাজিদের এই আয়াতগুলি পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারে নি এবং এগুলিকে সাধারণভাবে কুরআন মাজিদের রহস্য বলে গ্রহণ করেছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি মানুষকে এই আয়াতগুলি ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম করেছে, তা আল্লাহ তাআলার নিরঙ্কুশ জ্ঞান ও ইচ্ছার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। বাস্তবতা হল এই আয়াতগুলি কুরআন মাজিদে বিদ্যমান ছিল মানুষ বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তা অনুধাবন ও ব্যাখ্যার ক্ষমতা অর্জন করার বহু পূর্বে- যা কুরআনের বিস্ময়কর প্রকতিকেৃ আরো বেশি সুনিশ্চিত করে। এ কথা অবশ্যম্ভাবী যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যার কাছে না ছিল আবিষ্কার সংক্রান্ত কোনো জ্ঞান, না ছিল এসব তথ্য উদঘাটনের উপায়-উপকরণ, তিনি কুরআন মাজিদে এ সকল আয়াত সন্নিবেশ করতে পারেন না। সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলাই এ ধরনের আয়াত কুরআন মাজিদে সন্নিবেশিত করেছেন। যাতে বুদ্ধিমান ও বিবেচক লোকেরা তাঁর এই কিতাবকে তাঁর আসমানি নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে এবং এর নির্দেশনাসমূহ মেনে চলে।

আর বলুন (হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুশরিক-পৌত্তলিক প্রমুখকে) সমস্ত প্রশংসা ও স্তুতিবাক্য আল্লাহর জন্য। তিনি (আল্লাহ) সত্বরই তাঁর নিদর্শনসমূহ (যা আছে তোমাদের মধ্যে এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে) তোমাদের দেখাবেন। অতঃপর তোমরা তা চিনতে পারবে এবং (মনে রেখ) তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আপনার পালনকর্তা অসতর্ক নন। (নামাল, ২৭ : ৯৩)

যদি আমি (আল্লাহ) এই কুরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে পেতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তাআলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। (হাশর, ৫৯ : ২১)

আল কুরআনের ১৬০ মুজিজা ও রহস্য বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন