মূল:ইসলামের রুকনসমূহ

অনুবাদ: মোহাম্মাদ ইবরাহীম আবদুল হালীম  সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সিয়াম পালনকারীদেরকে অনর্থক কথা, বাজে কাজ ও তার আনুসাঙ্গিক কর্ম থেকে পবিত্র করার জন্য যাকাতুল ফিত্বর প্রবর্তন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও মিসকীনদের খাদ্য হিসাবে ও তাদেরকে ঈদের দিন মানুষের কাছে চাওয়া থেকে মুক্ত রাখার জন্যও তা চালু করা হয়েছে।

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন,

«فرض رسول الله r زكاة الفطر طهرة للصائم من اللغو والرفث وطعمة للمساكين».

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিত্বর ফরয করেছেন, সিয়াম পালনকারীদেরকে অনর্থক কথা বা বাজে কাজ ও তার আনুসাঙ্গিক কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য ও মিসকীনদের খাদ্য হিসাবে”।[11]

(খ) যাকাতুল ফিতর-এর বিধান:

যাকাতুল ফিত্বর প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারী, ছোট বড়, স্বাধীন-ও দাস দাসীর ওপর ফরয।

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন,

«فرض رسول الله r زكاة الفطر من رمضان صاعاً من تمر أو صاعاً من شعير على العبد والحرّ، والذكر والأنثى، والصغير والكبير من المسلمين، وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة».

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাদান মাসের যাকাতুল ফিত্বর ফরয করেছেন, খেজুর বা যবের এক স্বা‘আ, দাসের, স্বাধীন ব্যক্তির, পুরুষের, নারীর ছোটদের ও বড়দের ওপর এবং তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন ঈদের সালাতের জন্য মানুষের বের হওয়ার পূর্বে”।[12]

যে শিশুর জন্ম হয় নি, পেটে রয়েছে, তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা মুস্তাহাব। নিজের, নিজ স্ত্রী ও নিকটবর্তী আত্মীয় যাদের ভরণ পোষণ করা তার দায়িত্ব রয়েছে তাদের পক্ষ থেকে ফিৎরা আদায় করা ফরয।

ফিৎরা শুধুমাত্র তার ওপর ফরয যার খাদ্য ও ভরণ পোষণ করা তার ওপর দায়িত্ব তাদের খাদ্য ঈদের দিন ও রাত্রির জন্য যথেষ্ট হয়ে বেশি হবে।

(গ) ফিৎরার পরিমাণ:

শহরের প্রধান খাদ্য যেমন, গম, যব, খেজুর, কিসমিস-মুনাক্কা, পনির, চাল ও ভুট্টা থেকে যাকাতুল ফিতরের নির্ধারিত পরিমাণ হলো এক স্বা‘আ। আর এক স্বা‘আ প্রায় দু’ কিলো একশত ছিয়াত্তর গ্রাম এর সমান।

আর অধিকাংশ ফকীহগণের নিকট ফিৎরার মূল্য দেওয়া জায়েয নয়। কারণ, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আদেশ দিয়েছেন তার বিপরীত এবং সাহাবাদের আমলের পরিপন্থী।

(ঘ) ফিৎরা আদায় করার সময়:

ফিৎরা আদায় করার দু’টি সময় রয়েছে

(ক) জায়েয সময়: আর তা হলো, ঈদের একদিন বা দু’ দিন আগে আদায় করা।

(খ) উত্তম সময়: আর তা হলো, ঈদের দিনের ফজর উদিত হওয়া থেকে ঈদের সালাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত ফিৎরা আদায় করা।

কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের ঈদের সালাতের জন্য বের হয়ে যাওয়ার আগেই যাকাতুল ফিতর আদায় করার আদেশ দিয়েছিলেন। যাকাতুল ফিতর ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত বিলম্ব করা বৈধ নয়।

কেউ যদি তা ঈদের সালাতের পরে আদায় করে তবে তা সাধারণ সাদকা (দান) হিসাবে গণ্য হবে। আর সে এ বিলম্বের কারণে গুনাহগার হবে।

(ঙ) যাকাতুল ফিতর বিতরণের খাত:

যাকাতুল ফিত্বর ফকীর ও মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কারণ, অন্যদের চাইতে এরাই এর অধিক হক্বদার।

[12] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন