কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

 প্রশ্ন: হাদীস—« اثْنَتَانِ فِى النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ الطَّعْنُ فِى النَّسَبِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ ». “মানুষের মধ্যে দুইটি বিষয় যা তাদের সাথে কুফর। এক, বংশ সম্পর্কে কটাক্ষ করা এবং মৃত ব্যক্তির ওপর উচ্চ স্বরে কান্নাকাটি করা।”[1] হাদীসে কুফরের অর্থ কি?

উত্তর: হাদীসটি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বংশ সম্পর্কে কটাক্ষ করার অর্থ, কাউকে ছোট করা বা তিরস্কার করার উদ্দেশ্যে কারো বংশের দোষ ধরা ও দুর্ণাম করা। আর তা যদি সংবাদ অধ্যায়ের হয়, যেমন বলল, অমুক তামীম গোত্রের লোক তারপর সে তাদের প্রকৃতি ও ধরনের বর্ণনা তুলে ধরল। অথবা বলল, অমুক কাহতান গোত্রের বা কুরাইশ গোত্রের বা বনী হাশেম গোত্রের লোক। তারপর সে তাদের হেয় বা খাট করার উদ্দেশ্য ছাড়া তাদের বংশের বাস্তব কোন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরল, তাতে সে বংশ সম্পর্কে কটাক্ষাকারী বলে পরিগণিত হবে না।

আর মৃত ব্যক্তির ওপর কান্নাকাটি করার অর্থ হলো, মৃত ব্যক্তির ওপর উচ্চ আওয়াজে কান্না করা। এটি সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ।

এখানে কুফর দ্বারা উদ্দেশ্য ছোট কুফর। এখানে কুফর দ্বারা সে কুফর উদ্দেশ্য নয় যার দ্বারা একজন মুসলিম ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সত্যিকার কুফর ও বড় কুফরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلاَةِ ». “একজন মানুষ ও কুফর-শির্কের মাঝে প্রার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা।”[2] আলেমদের বিশুদ্ধ মতামত অনুযায়ী এটিই হলো বড় কুফর যা একজন মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আলেমগণ বলেছেন, কুফর দুই প্রকার, যুলুম দুই প্রকার ফিস্‌ক দুই প্রকার। অনুরূপভাবে শির্ক দুই প্রকার—বড় শির্ক এবং ছোট শির্ক।

বড় শির্ক হলো, মৃত ব্যক্তির নিকট চাওয়া, তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া, তাদের জন্য মান্নত করা এবং মুর্তি, গাছপালা, পাথর, চন্দ্র সুর্য্য গ্রহ নক্ষত্র ইত্যাদির জন্য মান্নত করা।

আর ছোট শির্ক যেমন, এ ধরনের কথা বলা, যদি আল্লাহ না হতো এবং অমুক না হতো। আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছেন ইত্যাদি। বলা উচিত হলো, যদি আল্লাহ না হতো অতঃপর অমুক এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক যা চেয়েছেন।

অনুরূপভাবে গাইরুল্লাহর নামে সপথ করা। যেমন, নবী রাসূলের নামে কসম করা অথবা কারো হায়াতের কসম করা অথবা আমানতের কসম করা ইত্যাদি। এ ধরনের কসম শির্কে আসগর বা ছোট শির্কের অর্ন্তভুক্ত। অনুরূপভাবে রিয়া বা লোকিকতা। যেমন, ক্ষমা চাইল মানুষকে শুনানো উদ্দেশ্যে অথবা কুরআন পড়লো যাতে মানুষ তাকে কারী বলে। যুলুম দুই প্রকার—বড় যুলুম, আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿وَٱلۡكَٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٥٤﴾ [البقرة: ٢٥٤] “আর কাফিররাই যালিম।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৪৫] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ ٨٢﴾ [الانعام: ٨٢]  “যারা ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে যুলমের সাথে সংমিশ্রণ করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৮২] ছোট যুলম হলো, একজন মানুষ অপর মানুষের জান ও মালের ক্ষেত্রে যুলুম—অত্যাচার করা এবং আল্লাহর নাফরমানী ও গুনাহ করার মাধ্যমে বান্দা তার নিজের ওপর যুলম করা। যেমন যিনা—ব্যভিচার করা, মদ পান করা ইত্যাদি। আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় কামনা করি। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা। শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৬

[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৬

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন