اَلْحَمْدُ لِلّه الذِيْ عَافَانِيْ مِمَّا ابْتَلاَكَ بِه وَفَضَّلَنِيْ عَلى كَثِيْرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيْلاً.

কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখে নিঃশব্দে একবার পড়া।

যীলত:

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখে এ দো‘আ পড়বে-

اَلْحَمْدُ لِلّه الّذِيْ عَافَانِيْ مِمَّا ابْتَلاَكَ بِه وَفَضَّلَنِيْ عَلى آكثِيْرٍ مِّمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيْلاً.

সে সারা জীবন ঐ বিপদ থেকে নিরাপদের থাকবে।[1]

ো‘আর অর্থ: সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর নিমিত্তে, যিনি আমাকে সেই অবস্থা হতে নিরাপত্তা দান করেছেন, যেই অবস্থায় তোমাকে লিপ্ত করেছেন এবং তিনি আমাকে তাঁর অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন।

এ সংরক্ষণ সকল বিপদের বেলায় প্রযোজ্য। আপনি কোনো পীড়িত ব্যক্তিকে দেখলে এ দো‘আ পড়ে নিন, যাতে দয়াময় আল্লাহ আপনাকে উক্ত পীড়া থেকে নিরাপদে রাখেন। যদি দেখেন কারো সন্তান বিপথে চলে গেছে তাহলে উপহাস-তিরস্কারের ক্লেদাক্ত পথে না চলে, আপনি বরং এ দো‘আ পড়ুন, যেনো আপনার সন্তানকে মহান আল্লাহ সু-পথে পরিচালিত করেন। অনুরূপভাবে যদি কোনো সড়ক দূর্ঘটনা দেখেন বা শুনতে পান যে, অমুকে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলেও এ দো‘আ পড়ুন। এভাবে সর্বক্ষেত্রে পড়া বিধেয়।

কোনো বিপদগ্রস্তকে দেখে মূর্খ লোকদের মতো ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও সমালোচনার ভ্রান্ত পথ না মাড়িয়ে এ দো‘আ পড়ার সাথে সাথে তার থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজে সতর্ক হয়ে চলা, যাতে সে রকম ভুল তার দ্বারা সংঘটিত না হয়। পাশাপাশি তাকে উপদেশ দেওয়া ও সাধ্যনুযায়ী তার সাহায্য-সহযোগিতা করা। কেননা যেমনিভাবে দো‘আ পড়লে বিপদ থেকে রক্ষা হয়, তেমনিভাবে বিপদগ্রস্তদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলে অনেক সময় সে বিপদে নিজেকেই নিপতিত হতে হয়। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি আপন ভাইয়ের কোনো বিপদের ওপর আনন্দ প্রকাশ করো না। কারণ, হতে পারে আল্লাহ তা‘আলা দয়াপরবশ হয়ে তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিয়ে দিবেন, আর তোমাকে সে বিপদে ফেলে দিবেন।[2]

হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘শামাতা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ হলো কাউকে এমন গুনাহের কথা বলে লজ্জা দেওয়া, যে গুনাহ থেকে সে তওবা করে ফেলেছে অথবা কারো দৈহিক গঠন বা কথা বলা ও চলার ধরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রেুাপ করা। এটা খুবই মারাত্মক অপরাধ, যা থেকে কেবল বুদ্ধিমানেরাই বাঁচতে পারে।


[1]  মুসনাদে আহমাদ ২/৪০৩

[2]  মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৫৬০৫