ড. আব্দুল কারীম যাইদান

অনুবাদক: মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন

সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

৫২. অভিযোগকারীদের তৃতীয় আপত্তি মদ্যপানের শাস্তি সম্পর্কে। তারা বলেন মদ্যপান করা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। একজন লোক যেমন কমলার রস পান করতে পারে তেমন আঙ্গুরের রসে তৈরি মদ পান করার অধিকারও তার আছে, যদিও তা নেশা সৃষ্টি করে। এ অধিকার ভোগ করা থেকে তাকে নিষেধ করা এবং নিষেধ না শুনলে তাকে শাস্তি দেওয়া এবং সে শাস্তি বেত্রাঘাতের দ্বারা হওয়া -সবই ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করার শামিল এবং মানবতার বিরুদ্ধে অহেতুক-অযৌক্তিক বাড়াবাড়ি।

৫৩. এ হলো তাদের বক্তব্য। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন যে, ইসলামী শরী‘আত মানুষের সামগ্রিক সুস্থ্যতার প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং যে জিনিসে তার ক্ষতি হয় তা থেকে নিবৃত রাখে, যদিও সে ঐ ক্ষতি স্বেচ্ছায় নিজের ওপর বরণ করে নেয়। কারণ, তার এ ক্ষতির প্রভাব গোটা সমাজের ওপর পতিত হয়। নেশাপানে মানুষের যত ক্ষতি হয় তন্মধ্যে একটি ক্ষতি হলো -এর দ্বারা জ্ঞান নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। জ্ঞান অতি মূল্যবান একটি জওহর (মৌলিক উপাদান) যা আল্লাহ মানুষের মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন নেশাপানের পথ থেকে ফিরে থাকার জন্য। ঘুমের মধ্যে মানুষের জ্ঞান নিষ্ক্রিয় থাকে। বিশ্রামের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। এরপর নেশাপান করে জ্ঞান ও দেহকে নিষ্ক্রিয় রাখার কি কোনো প্রয়োজন আছে? তাছাড়া মদ্যপায়ী নেশাগ্রস্তের সামনে অপরাধের বিভিন্ন পথ সুগম হয়ে যায়, অর্থের অপচয় হয়, পরিবারবর্গের প্রতি অসৌজন্য আচরণ করা হয় এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা দেখা দেয়। নেশা পরিহার করতে শরী‘আতের পক্ষে এ ক্ষতিগুলো কি কারণ হিসেবে যথেষ্ট নয়? মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞা প্রণীত হয়েছে নেশাকারীকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে ও অপর মানুষের কল্যাণ কামনার্থে। এখন যদি এর সাথে কোনো শাস্তির সংশ্লিষ্টতা না থাকে তাহলে এই নিষেধাজ্ঞার কি মূল্য আছে?

এরপর থাকে বেত্রাঘাতের শাস্তি নির্ধারণের বিষয়। এর কারণ এই যে, সু-পরামর্শ যখন ব্যর্থ হয় ও উপদেশ যখন বিফলে যায় এবং নেশার ঘোরে নিজের ওপর ক্ষতি টেনে আনতে দেখা যায় তখন তাকে ভালো করতে ও আলোর পথে আনতে যন্ত্রণা ও বেদনাদায়ক কোনো ব্যবস্থা থাকা জরুরী। এ উদ্দেশ্যেই বেত্রাঘাতকে শাস্তিরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অবশেষে বলতে হয়, ব্যক্তি স্বাধীনতার ধুঁয়া তুলে মানুষকে খেল তামাশায় নিমগ্ন রাখা এবং তাকে নিজের ও অন্যের ক্ষতি করতে মুক্ত ছেড়ে দেওয়ার দাবী করাটা নিতান্তই শিশুসুলভ কথা, যাদেরকে আগুন নিয়ে খেলতে বা ক্ষতিকর কিছু হাতে নিতে দেখে নিষেধ করা হলে চিৎকার ও হৈ-চৈ শুরু করে দেয়। বলুন, এই পথ উত্তম, না শাস্তি দিয়ে তাদেরকে ঐ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা উত্তম?