মূল:বিশ্বনবী প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের আদর্শ

সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ

যাকারিয়া আলী হাসান তৈয়ব

ইসলামের যাবতীয় হুকুম-আহকাম এবং ইলম ও আমল সংক্রান্ত যাবতীয় বিধি-বিধান মানব প্রকৃতির ভিত্তিতে রচিত। সে প্রকৃতিতে সকল দেশের ও সকল কালের মানুষই সর্বতোভাবে সমান। তওহীদী আক্বীদা, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব, গণঅধিকারের স্বীকৃতি, জ্ঞান বিজ্ঞানের ব্যাপক বিস্তৃতি, সকল প্রকার হীনতা-নীচতা ও জঘন্য কার্যাদি পরিহার, হিংস্রতা, লালসা, জিঘাংসা, পুরাতনের নির্বিচার অনুসরণ, মিথ্যাচার, কুসংস্কার, বৈরাগ্যবাদ  ও সংসার জীবন পরিহার- প্রভৃতি পর্যায়ের শত সহস্র নিষেধ সূচক বিধি বিধান সর্ব মানুষের জন্য প্রভূত কল্যাণকর। তা সবই নির্বিশেষে সকল মানুষেরই স্বভাব প্রকৃতির চাহিদা বা দাবী।

সমস্ত মানুষের প্রকৃতি এক, তার দাবিও অভিন্ন আর ইসলামের বিধান তারই প্রেক্ষিতে তার সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রক্ষা করেই রচিত। ফলে তা বিশেষ কোনো জাতি বা লোক সমষ্টির জন্য কল্যাণবহ হবে এবং অন্যদের জন্য হবে ক্ষতিকর এমনটা কখনই হতে পারে না। একথাও বলা সঙ্গত হতে পারে না, ইসলামের বিধান কুরআন ও সুন্নাতের সীমিত পরিবেষ্টনিতে আবদ্ধ আর মানবীয় সমস্যা পরিবর্তনশীল, নিত্য নতুন সঙ্ঘটিত ও উদ্ভুত। ফলে ইসলাম মানবীয় সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। পারলেও এক অঞ্চলে বা এক সময়ে পেরেছিল, অন্য অঞ্চলে বা অন্য সময় তা পারে না। ইসলামের সার্বজনীন ও সর্বকালীন বিশেষত্ব সম্পর্কে যাদের এক বিন্দু ধারণা নেই, কেবল তাদের মনেই এ ধরনের কথা বাসা বাঁধতে পারে কিংবা যারা এককালে ইসলামের মহাকল্যাণ ও অবদানের কথা স্বীকার করে মুসলিম যুবকদের নতুন ও ভিন্নতর কোনো মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারাই এ ধরনের কথা বলতে পারে। প্রকারান্তরে এটাও ইসলামের সঙ্গে এক মহা শত্রুতা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা সাধারণভাবেই প্রশ্ন তোলা যায়, ইসলাম যদি অতীতের কোনো এক সমাজে বা এককালে মানবতার কল্যাণ সাধন করেই থাকে, তাহলে বর্তমানেও দুনিয়ার সকল দেশে সেই ইসলামই কেন প্রযোজ্য হবে না, কেন কল্যাণ করতে পারবে না? দীন ইসলামে যেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, তেমনি একবিন্দু পার্থক্য তো দেখা দেয় নি বিশ্ব প্রকৃতিতে ও মানুষের মৌলিক স্বভাবে?