মূল: ড. মাজহার কাজি । অনুবাদ: মাওলানা ফয়জুলাহ− মুজহিরী। সম্পাদনা: এম মুসলেহ উদ্দিন

আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসমানি অহি হওয়ার কারণে কুরআন মাজিদ সর্বযুগের মানুষের জন্য সর্বাধিক নিখুঁত, অধিক সার্বজনীন ও সর্বাপেক্ষা প্রাগ্রসর জ্ঞান ধারণ করে। এটা স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে সকল পর্যায়ের মানবিক জ্ঞান থেকে শ্রেষ্ঠ ও সমুন্নত মর্যাদা রাখে। প্রত্যেক যুগের মানুষই প্রকৃতিতে নতুন যত তত্ত্ব আবিষ্কার করেছে, পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে তা পূর্ব থেকেই কুরআন মাজিদে বিদ্যমান। আমাদের মনে রাখতে হবে, কুরআন মাজিদ কোনো বিজ্ঞান গ্রন্থ নয়, আবার কোনো রহস্য গ্রন্থও নয়। প্রকৃতির রহস্যসমূহের সমাধান দেয়া এর উদ্দেশ্য নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হল মানব জাতির জন্য অনুপ্রেরণা, দিক-নির্দেশনা ও সমস্যাসমূহের সমাধানের উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করা।
মানবিক জীববিজ্ঞান, যেমন- শরীর বিদ্যা, ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা, ভ্রুণবিদ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক গবেষণায় মানব-শরীর সম্পর্কিত অসংখ্য তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব আবিষ্কারের কোনোটিই একটি সাধারণ আয়াতের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক নয়। বিস্ময়করভাবে এসব আবিষ্কার কুরআন মাজিদের প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। অধিকন্তু কুরআন মাজিদ এসব তথ্য বর্ণনার জন্যে যেসকল পরিভাষা ব্যবহার করেছে সেগুলি সেসব পরিভাষা থেকে অধিক বেশি সুনির্দিষ্ট ও যথার্থ যা বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন। আরও লক্ষণীয় বিষয় হল, বিজ্ঞানীরা অনেক সময় একই তথ্য বর্ণনার জন্য বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করে থাকেন। এভাবে এই পরিভাষাগুলো মানুষের জ্ঞান সমৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে থাকে। কুরআন মাজিদের এটিও একটি মুজিজা যে, কুরআন মাজিদ যেসব পরিভাষা ব্যবহার করেছে তা সার্বজনীন এবং সকল মানবিক ঘটনার অধিক যথার্থ  ও সর্বগ্রাহ্য বর্ণনা ধারন করে। এই বাস্তবতার পক্ষে একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত হল, কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ‘কিথ ম্যুর’ (keith Moore) রচিত The  text  book  of  human  embryology (মানবিক ভ্রুণতত্ত্বের পাঠ্যপুস্তক)। তিনি এর পরবর্তী সংস্করণে কুরআন মাজিদের পরিভাষা অনুসারে তার পাঠ্যের পরিভাষায় পরিবর্তন সাধন করেছেন।
বলার অপেক্ষা রাখে না, পূর্বেকার মুসলমানরা এসব পরিভাষা ও আয়াতসমূহকে কুরআন মাজিদের রহস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল। বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রত্যেক পরবর্তী মুসলিম প্রজন্ম এসব পরিভাষা ও আয়াতের কিছু কিছু অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। এভাবে কুরআন মাজিদের রহস্যসমূহ জ্ঞানের বাস্তবতায় পরিবর্তিত হচ্ছে। আর এসবই পূর্ববর্তী চৌদ্দশ শতাব্দীর যাচৎ আল কুরআনের জীবন্ত মুজিজা হয়ে চলে আসছে। আগত কিছু আয়াত মানবদেহ সম্পর্কিত কুরআনি মুজিজার সাক্ষ্য বহন করে।

মুজিজা নং– ৫৫
অধিক উচ্চতায় শ্বাস-প্রশ্বাস

অতঃপর আল্লাহ তাআলা যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান তার বক্ষকে সংকীর্ণ-অত্যধিক সংকীর্ণ- করে দেন। যেন সে সবেগে আকাশে (অধিক উচ্চতায়) আরোহণ করছে। (আনআম, ০৬ : ১২৫)

বায়ু চাপ সংক্রান্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা এখন এই আয়াতের ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। এটি বর্তমানে একটি সাধারণ জ্ঞান যে, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অধিক উচ্চতায় বায়ু চাপ তুলনামূলক কম। পৃথিবী একটি বায়ু চাদর দ্বারা পরিবেষ্টিত। মানুষের ফুসফুস সক্রিয় হয় একটি তারতম্যপূর্ণ চাপের কারণে। অর্থাৎ ফুসফুসের আভ্যন্তরীণ চাপ ও বাহ্যিক চাপের একটি ভিন্নতার কারণে। যখন এই ভিন্নতার মাত্রা হ্রাস পায়, যেমন, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় গেলে, তখন শ্বাস নেয়া অধিক কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। যার ফলে কুরআন মাজিদে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, বক্ষ সংকোচন অনুভব হয়। যেহেতু আরব উপদ্বীপে কোনো সুউচ্চ পর্বত নেই, তাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সংক্রান্ত এই অভিজ্ঞতা কখনো লাভ করেন নি, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কুরআন মাজিদ এই রহস্যের বর্ণনা দেয় যদিও, না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর না যারা তার আশপাশে বসবাস করেছে এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার পর্যায়ে ছিলেন।

মুজিজা নং– ৫৬
আঙ্গুল ছাপের বিশেষত্ব

মানুষ কি মনে করে যে, আমি (আল্লাহ) তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? কেবল এই নয়, আমি তার আঙ্গুলের ডগা (আঙ্গুলের ছাপ) পর্যন্ত সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। (কিয়ামা, ০৩ : ০৪)

১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট আবিষ্কার করেন, পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যার আঙ্গুলে ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে হুবহু মিলে যাবে। তখন থেকেই দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আঙ্গুলের ছাপ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। এ-কারণেই বিভিন্ন দেশ যেমন, রাশিয়া তার দেশের সকল নাগরিকের আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করে থাকে। দুই ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপের পার্থক্য এতই আপেক্ষিক ও সূক্ষ্ম যে, কেবল অভিজ্ঞ ব্যক্তিই উপযুক্ত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তা শনাক্ত করতে পারে। এটি কুরআন মাজিদের অপর এক মুজিজা যে তা এই বাস্তবতার বর্ণনা দিয়েছে মানুষ তা ধারণা করারও বহু আগে।

মুজিজা-৫৭
চামড়ায় সংবেদনশীল স্নায়ুকোষের অস্তিত্ব

এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয় আল্লাহ মহা পরাগমশালী, হেকমতের অধিকারী। (নিসা, ০৪ : ৫৬)

এই আয়াত বলে, আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের অধিবাসীদের চামড়া পাল্টে দেবেন যেন তারা বারবার আগুনের শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। আর এ থেকে বুঝা যায়, শাস্তি আস্বাদন ও অনুভব চামড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানব শরীর বিশ্লেষকরা সম্প্রতি দেখিয়েছেন, ব্যথার অনুভূতি গ্রাহক (স্নায়ু) চামড়ার সঙ্গেই সন্নিবেশিত। ফলে আংশিক চামড়া পুড়ে যাওয়া বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে, যেহেতু গভীর চামড়ার গ্রাহকসমূহ (স্নায়ুসমূহ) তখনো অক্ষত থাকে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ চামড়া পুড়ে যাওয়াটা যন্ত্রণাহীন হয়ে থাকে। কেননা তা গ্রাহক স্নায়ুগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়। এটি কুরআন মাজিদের একটি সমুজ্জ্বল মুজিজা যে, তা চামড়া সংক্রান্ত এত সূক্ষ্ম শরীর তত্ত্বেরও বর্ণনা দেয়। যখন তা বলে,

‘তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে।’

থাইল্যান্ড চিয়াংমাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ‘তাগাতাত তাজাসেন’ (Tagatat Tajasen) প্রথম দিকে একথা বিশ্বাস করতেন না যে, কুরআন মাজিদে এ বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি কুরআন মাজিদের এই আয়াতটি যাচাই করেন। তিনি কুরআন মাজিদের বৈজ্ঞানিক যথার্থতা দেখে এত বেশি প্রভাবিত হন যে, সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অষ্টম মেডিকেল কনফারেন্সের একটি সাধারণ অধিবেশনে তিনি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।

মুজিজা-৫৮
সংবেদনশীল স্নায়ু ও অন্ত্র

খোদাভীরুদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হল, তাতে আছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের নহরসমূহ, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তাতে তাদের জন্য আছে রকমারী ফলমূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদের পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, অতঃপর তা তাদের নাড়ি-ভুঁড়ি (ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন করে দেবে) কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে? (মুহাম্মদ, ৪৭ : ১৫)

অধ্যাপক কিথ ম্যুর তার পাঠ্য বই ‘The Developing Human’- এ এই আয়াতের ব্যাখ্যা দেন এভাবে, ‘অন্ত্র বা নাড়ি-ভুঁড়ি কর্তনের মাধ্যমে আজাব দেওয়াও আমাদের জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা অন্ত্রের মধ্যে কোনো সংবেদন বা অনুভূতি নেই। অন্ত্রে উত্তাপগ্রাহী স্নায়ু নেই। এভাবে তা কেবল ফুটন্ত পানিই নয় যা এই আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে। এটাও জ্ঞাত বিষয় যে, যদি অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যায়, তবে অন্ত্রস্থ পদার্থসমূহ উচ্চ সংবেদনশীল (Peritoneal) গহ্বরের ভেতর দিয়ে নির্গত হবে। তখন Peritoneal গহ্বরে বিদ্যমান দৈহিক স্নায়ুগুলো উদ্দীপ্ত হবে। এটি মানব শরীরে তীব্রতর ব্যাথার অনুভূতি সঞ্চার করবে। এ কারণে কুরআন মাজিদ বলে, ফুটন্ত পানি তাদের অন্ত্র বিদীর্ণ করে দিবে। একথা বলাবাহুল্য যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সময়কালে মানব-শরীর সম্পর্কে এমন সুনির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনে সক্ষম ছিলেন না।

মুজিজা-৫৯
রজঃস্রাব চক্র

আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা বহন করে (গর্ভধারণ করে) এবং গর্ভাশয় কি পরিমাণ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত হয়। এবং তার কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটা পরিমাণ রয়েছে। (রা’দ, ১৩ : ০৮)

রজঃস্রাব হল, প্রতি মাসে একবার একজন মহিলা থেকে রক্ত ও টিস্যুর নির্গমন। কেবল একজন শরীরবিদ্যা বিশারদ কিংবা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞই বলতে পারে, একজন মহিলার জরায়ুগ্রন্থিতে কী ঘটে থাকে। তারা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছে, uterus  undergoes এর endometrial স্তর প্রতি মাসচক্রে পরিবর্তিত হয়, যা রজঃস্রাব বা ঋতুচক্রের জন্য দায়ী। ঋতুচক্রের শুরুতে এর পুরুত্ব থাকে ০.৫ মিলিমিটার।
ডিম্বাশয়ে সংগুপ্ত হরমোনের প্রতিক্রিয়ার ফলে endometrial বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং ৫-৬ মিলিমিটারের পুরুত্বে পৌঁছে যায়। যখন এটি তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায় অথচ গর্ভ সঞ্চারিত না হয়, তখন basal layer ত্যাগ করতে পুরো endometriu ঝরে যায়। endometriu এর পুরুত্বে সংকোচন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া রজঃস্রাবের রক্তপাতের সঙ্গে সংগঠিত হয়। এটি হুবহু তা-ই যা কুরআন মাজিদ বর্ণিত আয়াতে ‘গর্ভাশয়ের সংকোচন ও সম্প্রসারণ’ করার মাধ্যমে বর্ণনা দিয়েছে। আল্লাহতাআলা ব্যাতীত আর কে কুরআন মাজিদে এমন বিস্ময়কর তথ্য সংস্থাপন করতে পারেন?

মুজিজা : ৬০
মানব অণ্ডকোষ গঠনের স্থান

অতএব মানুষের চিন্তা করে দেখা উচিত, তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে দ্রুতবেগে নির্গত পানি থেকে। যা বের হয় মেরুদণ্ড ও বুকের হাড়ের মধ্য থেকে। নিশ্চয় তিনি (আল্লাহ) তাকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয় প্রকাশ করা হবে। (তারিক, ৮৬ : ০৫-০৯)

কুরআন মাজিদের পূর্বেকার ভাষ্যকারগণ এসব আয়াতের বিষয়বস্তু পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারেন নি। এখন এটি ভালভাবে জ্ঞাত যে, gonad  বা প্রজননগ্রন্থী সেখানেই প্রকাশ পায় যেখানে Loins  (কোমরের সর্বনিম্নাংশ) পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়।
এটি এখন ভালভাবে জ্ঞাত যে, ভ্রুণ বেড়ে ওঠার সময় যেখানে কোমর (Loins) তৈরি হয় সেখানেই প্রজননগ্রন্থী (gonads) তৈরি হয়। ভ্রুণের মধ্যে Genital  ridges  নামক অংশটি চার সপ্তাহ বয়সে (ভ্রুণের) মধ্য লাইনের দুইদিকে Mesonephros ও dorsal mesentery এর মাঝখানে তৈরি হয়। সপ্তম কিংবা অষ্টম সপ্তাহে প্রজননগ্রন্থী স্ত্রী কিংবা পুংলিঙ্গে বিভক্ত হয়। প্রজননগ্রন্থী তখন ক্রমাগত নিচের দিকে নামতে থাকে। স্ত্রী প্রজননগ্রন্থী তথা ovaries  (ডিম্বাশয়) কোমরের ভেতরেই থেমে যায়। পক্ষান্তরে পুং প্রজননগ্রন্থী আগ পর্যন্ত আরও নিচের দিকে নামতে থাকে; অবশেষে তা Inguinal  canal দিয়ে শরীরের বাইরে এসে অণ্ড থলিতে প্রবেশ করে। যা হোক, মূত্র উৎপাদন পদ্ধতি, রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি, লসিক নিঃসরণ পদ্ধতি, এমনকি যা পূর্ণ বয়স্ক মানুষের শরীরে বিদ্যমান থাকে কুরআন মাজিদে উল্লিখিত দু’টি স্থান (মেরুদণ্ড ও পাঁজর)-কে সংযুক্ত করে। অধিকন্তু, অণ্ডকোষের রক্তনালী (ধমনি) abdominal orta নামক পেটের ভেতরের সর্ববৃহৎ রক্তনালী, যা দ্বিতীয় lumber  vertebra এর সমান্তরালে অবস্থিত থেকে উৎপন্ন হয়। আবার ডানদিকের দূষিত রক্তগুলো শিরা দিয়ে পেটের অন্তঃস্থ বৃহৎ শিরা-‘interior  vena  cava’য় গিয়ে পতিত হয়। অন্যদিকে বাম দিকের অণ্ডকোষ থেকে দূষিত রক্তগুলো বাম পাশের কিডনি হয়ে পূর্বে উল্লিখিত শিরায় গিয়ে পতিত হয়। উপরোক্ত স্থানগুলো কুরআন মাজিদে উল্লিখিত স্থান নির্দেশ করে। ভ্রুণ বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিককালে এই সূক্ষ্ম উপাত্তগুলো আবিষ্কার করেছেন, যেগুলো হাজার বছর আগে কুরআন মাজিদে উল্লিখিত হয়েছে। (শেষ প্যারাটি অনুবাদে সাহায্য করেছেন ডা. আবুল মঞ্জুর (রাসেল) এমবিবিএস, এফআরসিএস (প্রশিক্ষণরত) মিডফোর্ট, ঢাকা)

মুজিজা : ৬১
লিঙ্গ নির্ধারণে পুরুষের ভূমিকা

আর তিনিই (আল্লাহ) সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী। শুক্রবিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়। (নাজম, ৫৩ : ৪৫-৪৬)

অতঃপর তিনি (আল্লাহ) তা থেকে সৃষ্টি করেন উভয় লিঙ্গ, পুরুষ ও নারী। তিনি (আল্লাহ) কি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন? (কিয়ামাহ, ৭৫ : ৩৯-৪০)

এই আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, নবজাত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারিত হয় পুরুষের মাধ্যমে। এটি সাধারণ জ্ঞাত বিষয় যে, শুক্রবিন্দু হল সেই তরল পদার্থ  যা যৌনক্রিয়ার সময় পুরুষ থেকে দ্রুতবেগে নির্গত হয়।
কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এমন প্রকৃতির বীর্যপাত হয় না। পুরুষের শুক্রাণু X কিংবা Yক্রোমোজম বহন করে। পক্ষান্তরে মহিলাদের ডিম্বাণু দু’টি অভিন্ন XX ক্রোমোজম বহন করে। যদি পুরুষের শুক্রাণুর X ক্রোমোজমের সঙ্গে মহিলা X ক্রোমোজমের মিলন ঘটে তবে তা একজোড়া ‘XX’ক্রোমোজম গঠন করে, যা পরিণতিতে একটি মেয়ে শিশুর আকৃতি তৈরি করে। পক্ষান্তরে যদি পুরুষের শুক্রাণুর Yক্রোমোজমের সঙ্গে মহিলার ডিম্বানুর X ক্রোমোজমের মিলন ঘটে তবে তা একজোড়া XY ক্রোমোজমের আকৃতি তৈরি করে। অবশেষে যা একটি পুরুষ শিশুর আকৃতি তৈরি কর। অতএব নবজাত শিশুর লিঙ্গ সর্বদা পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নির্ধারিত হয়। কুরআন মাজিদ এই বিষয়টিকে সবেগে নির্গত পানি (Ejaculation) কথার দ্বারা ব্যক্ত করেছে, যা কেবল পুরুষের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।

মুজিজা : ৬২
শ্রবণেন্দ্রীয়ের রহস্য

বল, আসমান ও জমিন থেকে কে তোমাদের রিযক দেন? অথবা কে তোমাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিসমূহের মালিক? (ইউনুস, ১০ : ৩১)

আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ কর না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে। (ইসরা, ১৭ : ৩৬)

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব, ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তিসম্পন্ন। (ইনসান, ৭৬ : ০২)

উল্লেখ্য যে, এসব আয়াত ও অন্যান্য আয়াতে যেখানেই কুরআন মাজিদে শ্রবণ, দর্শন ও অন্তকরণের উল্লেখ উল্লেখ হয়েছে, শ্রবণেন্দীয়কে অন্যান্য ইন্দ্রীয়ের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি একটি জ্ঞাত বিষয় যে, মানুষের জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় শ্রবণ ইন্দ্রীয়ের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। একজন শিশু অন্ধ হয়ে জন্ম নিলে তাকে অনেক বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু অল্প আয়াসেই সে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারে। পক্ষান্তরে, যে শিশু বধির হয়ে জন্ম নেয়, যে কোনো বস্তু সম্পর্কে জানতে তার অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। কুরআন মাজিদ এভাবে অন্যান্য ইন্দ্রীয়ের ওপর শ্রবণেন্দ্রীয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অধিকন্তু আরো উল্লেখ থাকে যে, ভ্রুণে শ্রবণেন্দ্রীয় বিকশিত হয় গর্ভধারণের কেবল বাইশদিনের মধ্যেই এবং গর্ভধারণের চতুর্থ  মাসে তা পুরোপুরি কাজ করতে শুরু করে। তখন ভ্রুণ মায়ের পাকস্থলীর গুড়গুড় শব্দ শুনতে পায় এবং সে শব্দও শুনতে পায় যা সে (মা) আহার ও পান করার সময় সৃষ্টি করে। এমন কি মায়ের চারপাশের শব্দও ভ্রুণটি শুনতে পায়। এভাবে শ্রবণেন্দ্রীয় বিকশিত হয় এবং জীবনের অন্যান্য ইন্দ্রীয়ের অনেক আগেই একজন নবজাতকের মধ্যে তা কাজ করতে শুরু করে। কুরআন মাজিদ মানুষের অন্যান্য অঙ্গের পূর্বে শ্রবণেন্দ্রীয়ের কথা উল্লেখ করার পেছনে এটিকে একটি কারণ বলা যেতে পারে। রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাতও এই বিষয়টিকে সমর্থন করে। তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নত আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, যখনই কোনো নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করে আমরা যেন তার উভয় কানে আজান ও ইকামাতের বাক্যগুলি বলে শুনাই।
এটি অত্যন্ত লক্ষণীয় বিষয় যে, কুরআন মাজিদ শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা এক বচনের শব্দ (সামআ) ব্যবহার করেছে, পক্ষান্তরে দর্শন ইন্দ্রিয়ের জন্যে বহুবচনের শব্দ (বাসারা) ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেইনে যে ভিজুয়েল সেন্টার (দর্শন কেন্দ্র) রয়েছে যাকে Occipital lobe বলা হয়, তা দুইটি সমজাতীয় অংশে বিভক্ত। পক্ষান্তরে, হিয়ারিং সেন্টার (শ্রবণ কেন্দ্র) হচ্ছে একটি। কুরআন মাজিদের এ ধরনের সুনির্দিষ্ট শব্দ চয়ন তার অন্য একটি মুজিজা।

মুজিজা : ৬৩
মানব অঙ্গ বিকাশের গমধারা

আপনি বলুন, (হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম),− তোমরা আমাকে বলতো দেখি, যদি আল্লাহ তোমাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিসমূহ কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে মোহর এঁটে দেন, কে আছে ইলাহ, আল্লাহ ছাড়া, যে তোমাদের এগুলো নিয়ে আসবে? দেখ আমি কিভাবে বিভিন্নরূপে নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করি, তারপরও তারা এড়িয়ে চলে। (আনআম, ০৬ : ৪৬)

আর আল্লাহ তোমাদেরকে বের করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, চক্ষু ও অন্তর। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর। (নাহল, ১৬ : ৭৮)

আর তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখসমূহ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা কমই (আলাহর)− কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (মুমিনুন, ২৩ : ৭৮)

এই আয়াতগুলি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কথা বলে, যা আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য যে, কুরআন মাজিদ এসব অঙ্গ বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বদা একটি ক্রমধারা অনুসরণ করে। প্রথমে তা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের কথা বলে, অতঃপর দর্শন ইন্দ্রিয়, তারপর অনুভূতি ও বোধশক্তি। একজন সাধারণ পাঠকের দৃষ্টিতে তাতে কোনো তাৎপর্য ধরা নাও পড়তে পারে। একজন ভ্রুণতত্ত্ববিদ ডা. কিথ মুর এই ক্রমধারাটি লক্ষ্য করেন। ইসলামিক মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাময়িকীতে একটি প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ভ্রুণগত বিকাশের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম শ্রবণেন্দ্রীয়ের অভ্যন্তরীণ Primordia (প্রাথমিক উপাদান) দৃষ্টিগোচর হয়, তারপর দর্শন ইন্দ্রীয়ের Primordia অতঃপর ব্রেইনের Primordia, অনুভূতি ও বোধশক্তির কেন্দ্র। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদেরকে এমন শাশ্বত ও চিরন্তন জ্ঞান ও বিস্ময়কর গ্রন্থ দান করেছেন।

মুজিজা : ৬৪
মিথ্যা বলার সঙ্গে কপালের সম্পর্ক

কখনো নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি তাকে নাসিয়া (কপালের সম্মুখভাগের চুল) ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাব, মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ কপাল। (আলাক, ৯৬ : ১৫-১৬)

এই আয়াতগুলিতে মক্কায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘোর শত্রু আবু জেহেলের কথা বলা হয়েছে। কুরআন মাজিদ বলে, সে মিথ্যা বলত এবং তাকে এমর্মে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, তাকে ‘নাসিয়া’ ধরে নিয়ে যাওয়া হবে, যার অর্থ  হল কপাল। চলুন আমরা মিথ্যা ও কপালের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।
মানুষের মাথার খুলির সম্মুখভাগ Cerebrum (মস্তিষ্কের যে ভাগ স্বেচ্ছাচালিত পেশীর আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করে)- এর সম্মুখপূর্ব অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা বিশারদ ও শরীয়ততত্ত্ববিদগণ বলেন, পরিকল্পনার প্ররোচনা ও দূরদৃষ্টি এবং প্রাথমিক আলোড়নের ঘটনা সংঘটিত হয় সম্মুখপূর্ব Cerebrum-এর সম্মুখস্ত (উপরের অংশের) লবের পেছনের অংশে। ডা. শিলি রড তার Essentials  of  Anatomy  and Physiology (Mosby Year book inc,p,112.st Louis 1966) নামক গ্রন্থে লিখেন, পরিকল্পনার প্ররোচনা ও দৃরদৃষ্টি এবং প্রাথমিক গতি সঞ্চারিত হয় সম্মুখস্ত লবের পেছনের অংশে, সম্মুখপূর্ব অঞ্চলে। প্ররোচনার ক্ষেত্রে জড়িত থাকার কারণে সম্মুখপূর্ব অঞ্চলকে আগ্রাসনের কার্যকরী কেন্দ্র বলেও বিবেচনা করা হয়।
এ থেকে প্রতীয়মান হয়, যখন একজন লোক সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে তখন কপালকে মিথ্যাবাদী ও পাপিষ্ঠ বলে আখ্যায়িত করা অধিক উপযুক্ত। কুরআন মাজিদ এটিকে নির্দেশ করে মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ ‘নাসিয়া’ বলে। প্রফেসর কিথ মুর-এর মতে, বিজ্ঞানীরা কেবল বিগত ষাট বছরেই এ বিষয়টি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন শত শত বছর পূর্বে।
এ অধ্যায়ে বর্ণিত মুজিজাসমূহ এ কথার আরো অধিক সাক্ষ্য বহন করে যে, কুরআন মাজিদ সর্বজ্ঞাতা সৃষ্টিকর্তা, বিশ্ববাসী ও মানব জাতির রিজিকদাতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ আসমানি গ্রন্থ। না মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আর না সে যুগের মানুষের এই জ্ঞান কিংবা এমন সুযোগ ছিল যে, তারা কুরআন মাজিদে বর্ণিত মানব জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে। বস্তুত কুরআন মাজিদে মানব জীব-বিজ্ঞান সংক্রান্ত যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান রয়েছে তা মানুষ কেবল সম্প্রতি আবিষ্কার করেছে। এভাবে এটি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি জীবন্ত মুজিজা যে, তাআলা আল্লাহ তার মাধ্যমে এমন একটি গ্রন্থ, কুরআন মাজিদ মানব জাতিকে দান করেছেন। যাতে মানবিক এমন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় যেমন, অধিক উচ্চতার শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া, আঙ্গুলের ছাপের বিশেষত্ব, চামড়ায় সংবেদনশীল স্নায়ুর উপস্থিতি, পাকস্থলীতে সংবেদনশীল স্নায়ুর অনুপস্থিতি, মানববীর্যের গঠন, পুরুষ কর্তকৃ লিঙ্গ নির্ধারণ এবং শ্রবণেন্দ্রীয়ের বিশেষত্ব ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। বিবেচক ও চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রেই কুরআন মাজিদকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ নির্দেশনা গ্রন্থ বলে স্বীকার করবে, গ্রহণ করবে এবং এর আদেশের সামনে মাথা নত করবে।

‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমরা মানুষ হয়ে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মাঝে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে, কওমের জন্য যারা চিন্তা করে। আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও তোমাদের বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য। আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা ও তার অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা শোনে। আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদেরকে ভয় ও ভরসা স্বরূপ বিদ্যুৎ দেখান, আর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে কওমের জন্য যারা অনুধাবন করে। (রুম, ৩০ : ২০-২৪)

আল কুরআনের ১৬০ মুজিজা ও রহস্য বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন