কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ তা‘আলার বাণী— إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجۡرَ مَنۡ أَحۡسَنَ عَمَلًاরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ “তার ওপর তার ভাগ্য জয়ী হয় ফলে সে জাহান্নামীদের আমল করে..।”

প্রশ্ন: শাইখ রহ. কে রাসূলের বাণী—

فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلاَّ ذِرَاعٌ أَوْ قِيدُ ذِرَاعٍ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلاَّ ذِرَاعٌ أَوْ قِيدُ ذِرَاعٍ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا ». “এক ব্যক্তি জান্নাতী মানুষের আমল করতে থাকে। এমনকি তার মাঝে ও জান্নাতে প্রবেশের মাঝে কেবল এ বিঘাত পরিমাণ ব্যবধান থাকে। তারপর তার ওপর তার ভাগ্য জয়ী হয় এবং সে জাহান্নামী লোকের মতো কর্ম করে ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। এক ব্যক্তি জাহান্নামী মানুষের আমল করতে থাকে। এমনকি তার মাঝে ও জাহান্নামে প্রবেশের মাঝে কেবল এ বিঘাত পরিমাণ ব্যবধান থাকে। তারপর তার ওপর তার ভাগ্য জয়ী হয় এবং সে জান্নাতী লোকের মতো আমল করে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।”[1] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, এ বাণীটি আল্লাহর বাণীর: ﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجۡرَ مَنۡ أَحۡسَنَ عَمَلًا ٣٠﴾ [الكهف: ٣٠] “নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করব না, যে সুকর্ম করেছে।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৩০] বিরোধী কিনা?

উত্তর: শাইখ রহ. উত্তর দেন যে, এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, এক ব্যক্তি জান্নাতী মানুষের আমল করতে থাকবে। তার সময় ফুরিয়ে যাওয়া ও মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। তারপর তার ওপর তার ভাগ্য যাতে তার জাহান্নামী হওয়ার কথা পূর্বেই লিপিবদ্ধ হয়েছিল জয়ী হয় এবং সে জাহান্নামী লোকের মতো কর্ম করে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে। এ হলো মানুষের নিকট যা প্রকাশ পায় যেমনটি বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে— إن الرجل ليعمل عمل أهل الجنة فيما يبدو للناس وهو من أهل النار“এক ব্যক্তি মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে জান্নাতী মানুষের আমল করতে থাকবে। অথচ সে জাহান্নামী।” -আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই- এ রকমভাবে দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তাই। একজন মানুষ জাহান্নামী মানুষের কর্ম করে। তারপর যখন তার মৃত্যু নিকটে এসে যায়, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাওবা করা ও ফিরে আসার সুযোগ দেন তখন সে জান্নাতীতের আমল করে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করে।

প্রশ্নকারী প্রশ্নে যে আয়াত উল্লেখ করেছে তা হাদীসের সাথে বিরোধপূর্ণ নয়। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, أَجۡرَ مَنۡ أَحۡسَنَ عَمَلًا  অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভালো কর্ম করে বাহ্যিক ও অভ্যন্তর উভয় অবস্থায়, অবশ্যই তার বিনিময়কে আল্লাহ তা‘আলা নষ্ট করবেন না। কিন্তু প্রথম ব্যক্তি যিনি জান্নাতী লোকের আমল করে অতঃপর তার ওপর পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্য জয়ী হয়, এ লোকটি মানুষের চোখে ও বাহ্যিক দৃষ্টিতে জান্নাতী লোকের আমল করত বাস্তবে নয়। ফলে তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত ছিল সেটাই বিজয়ী হয়। এরই ভিত্তিতে বলা বাহুল্য যে, তার আমল প্রকৃত নেক আমল নয়। তখন হাদীসটির মাঝে ও আয়াতের মাঝে কোন বিরোধ আছে বলে বিবেচিত হবে না। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন রহ.

[1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২০৮

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন