কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: فَلاَ يَقُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى إِنْ شِئْتَ  “হে আল্লাহ যদি তুমি চাও আমাকে ক্ষমা কর” এবং অপর বাণী- «وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ » “যদি আল্লাহ চান বিনিময় মিলবে”

প্রশ্ন: একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—« إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلاَ يَقُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى إِنْ شِئْتَ وَلَكِنْ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ وَلْيُعَظِّمِ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَتَعَاظَمُهُ شَىْءٌ أَعْطَاهُ ».  “যখন তোমাদের কেউ দো‘য়া করে সে যেন এ কথা না বলে, হে আল্লাহ যদি চাও তুমি ক্ষমা কর। যদি তুমি চাও দয়া কর। তবে যখন আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে তখন দৃঢ়তার সাথে চাইবে এবং বড় গলায় চাইবে। কারণ, আল্লাহর নিকট কোন কিছুই মহান নয়।”[1] এবং হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন— «ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ». “তৃষ্ণা দূরীভুত হয়ে গেছে এবং রগগুলো শুকিয়ে গেছে এবং বিনিময়ও সাব্যস্ত হয়ে গেছে ইনশা আল্লাহ।”[2] উভয় হাদীসের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি কীভাবে?

উত্তর: প্রথম হাদীসটি বিশুদ্ধ। যে শব্দটি বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, তার কারণ, তাতে একাধিক ত্রুটি রয়েছে যা আকীদা ও বিশ্বাসের পরিপন্থী। যেমন—

১— কেই এমন আছে যে, আল্লাহকে বাধ্য করেন।

২— আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত এতো মহান যা তুমি পেতেই পারো না। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘লাআ যে জিনিষটি দিয়ে থাকেন তাকে মহান ভাবা যাবে না। যখন তুমি কোন মানুষকে বললে যদি চাও আমাকে এক মিলিয়ন ডলার দাও। সে একে বড় মনে করছ বলেই, তুমি বলছ, إِنْ شِئْتَ ‘যদি চাও’। আর অনুরূপভাবে তুমি তাকে এ কথাও জানিয়ে দিচ্ছ যে, তুমি তার অনুদানের প্রতি অমুখাপেক্ষি। যদি সে দেয় তাহলে ভালো আর যদি না দেয় তাতেও কোন অসুবিধা নেই। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট কোন কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে إِنْ شِئْتَ ‘যদি চাও’ এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।

আর দ্বিতীয় হাদীসে إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‘যদি আল্লাহ চান’ বলা আর প্রথম হাদীসের إِنْ شِئْتَ ‘যদি তুমি চাও’ উভয়টি এক নয়। কারণ, দ্বিতীয় হাদীসে إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‘যদি আল্লাহ চান’ এ কথাটি প্রথমটি তুলনায় অনেকটা সহনীয় ও হালকা। আর এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য বরকত হাসিল করা, শর্ত যুক্ত করা নয়। সুতরাং উভয় হাদীসের বিরোধ নিরসন এভাবে করা যাবে যে, প্রথম হাদীসের তুলনায় দ্বিতীয় হাদীসের বিষয় সহনীয় পর্যায়ের।

এর ওপর প্রশ্ন হয় যে, যদি তিনি চান এ কথাটি বলাও নিষিদ্ধ। إِنْ شِئْتَ  ‘যদি তুমি চাও’ এ কথার মতো এতটা জঘন্য নয়। তাহলে প্রশ্নকারী প্রশ্নে যে হাদীস উল্লেখ করেছেন, সে হাদীসে একটি নিষিদ্ধ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে বললেন?

হাদীসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কিন্তু বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন, তখন তিনি বলতেন, قَالَ لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ “কোন অসুবিধা নেই ‘যদি আল্লাহ চান’ গুণাহ থেকে পবিত্রতা।”[3] এ বাক্যটি নিয়মনীতি অনুযায়ী যদিও সংবাদ সুচক বাক্য কিন্তু মুলত বাক্যটি চাওয়া ও আকাঙ্খার অর্থে। এ কথাটির ভিত্তি হলো আল্লাহর নিকট আশা করা। অর্থাৎ এ আশা করা যে, তার অসুস্থতা যেন, গুনাহ থেকে তার পবিত্রতার কারণ হয়। একই অর্থ দ্বিতীয় হাদীসের মধেও যাতে বলা হয়েছে—তা আশা করার ওপর ভিত্তি করেই বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ সালেহ আল-উসাইমীন

[1] মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৮৮

[2] আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৩৫৯

[3] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৬১৬

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন