মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব মহানবী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ ﷺ কে নিয়ে ইসলামবিরোধীদের অপপ্রচারের কোনো শেষ নেই। তাঁর প্রচারিত সত্য ধর্মের মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে খ্রিষ্টান মিশনারি ও নাস্তিক-মুক্তমনাচক্র বেছে নিয়েছে কুৎসিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের হীন পন্থা। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে খুবই বাজে এবং নোংরা একটি অভিযোগ। আর তা হচ্ছে—প্রিয় নবী ﷺ এর জন্ম নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন [নাউযুবিল্লাহ]। আমি লক্ষ করেছি যে, বিদেশি খ্রিষ্টান প্রচারক এবং এদেশীয় অনেকগুলো নাস্তিক্যবাদী ব্লগ এ নিয়ে জঘন্য সব লেখা লিখে যাচ্ছে। এই অভিযোগ এতই অশ্লীল যে, এটা নিয়ে লিখতে হাত চলছে না। কিন্তু অপপ্রচারকারীদের মিথ্যাচারের অপনোদনের জন্য লিখতে হচ্ছে। আল্লাহই সাহায্যস্থল।।
বিভিন্ন সিরাতগ্রন্থে উল্লেখ আছে, আব্দুল্লাহ [রাসুল ﷺ এর বাবা] যেদিন আমিনাকে বিয়ে করেন, সেই একই দিন তার বাবা আব্দুল মুত্তালিব [রাসুল ﷺ এর দাদা] হালা নামক এক নারীকে বিয়ে করেন। আমিনার গর্ভে রাসুল – জন্মগ্রহণ করেন এবং হালার গর্ভে হামজা(রা.) জন্মগ্রহণ করেন। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হামজা(রা.)রাসুল ﷺ এর চেয়ে ২ ৪ বছরের বড়। রাসুল ﷺ এর জন্মের আগেই আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।
ওই পাপিষ্ঠদের অভিযোগ হচ্ছে : আব্দুল্লাহ ও আব্দুল মুত্তালিব একসাথে বিয়ে হওয়ার কারণে হালা এবং আমিনা একই সময়ে গর্ভধারণ করার কথা অথবা যেকোনো একজন পরে। তাহলে হামজা(রা.) ও মুহাম্মাদ ﷺএর বয়স প্রায় সমান হবে। যদি আব্দুল্লাহ ও তার বাবা আব্দুল মুত্তালিব একই দিনে বিয়ে করে থাকেন এবং আব্দুল্লাহ বিয়ের কয়েক মাস পরে মারা যান তবে কীভাবে হামজা(রা.) মুহাম্মাদ ﷺ এর চাইতে চার বছরের বড়হন? তাদের কথা অনুযায়ী এর মানে দাঁড়াবে আব্দুল্লাহ মারা যাওয়ার চার বছর পরে আমিনা গর্ভধারণ করেন এবং মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেন এই কথা বলে তারা “রাসুল ﷺ এর পিতা কে” এই বলে প্রশ্ন তুলেছে [নাউযুবিল্লাহ]৷ কিছু বিবরনে দেখা যায় বলা হচ্ছে, রাসুল – আব্দুল মুত্তালিবের ‘পুত্র’। তিনি শিশু মুহাম্মাদ ই কে অনেক স্নেহ করতেন ও ভালোবাসতেন। কাজেই এ থেকে বোঝা যায় আব্দুল্লাহর মৃত্যর পরে আব্দুল মুত্তালিবের মাধ্যমে রাসুল -এর জন্ম হয়েছে। [নাউযুবিল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ, এ কথা লিখতে হাত সায় দিচ্ছিল না। আল্লাহ তাআলা এই নোংরা মিথ্যা অপবাদকারীদের হয় হেদায়েত দিন, না হয় নিপাত করুন।]

এই অভিযোগ খণ্ডনের জন্য আমরা নির্ভরযোগ্য সনদের বিবরণ ব্যবহার করব। আব্দুল্লাহ ও আব্দুল মুত্তালিবের একই দিনে বিবাহ করার ঘটনাটি বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়।[২২২] কিন্তু দুই জোড়া মানব-মানবী একই দিনে বিয়ে করলেই যে তাদের একই সময়ে সন্তান হবে এমন কোনো কথা নেই৷ অভিযোগকারীরা তাদের স্থূল বুদ্ধি দ্বারা ধারণা করেছে যে, একই দিনে বিয়ে করলেই বুঝি একই সময়ে সন্তান হয়। এমন হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে, দুই জোড়া মানব-মানবী একই দিনে বিয়ে করলেন, ১টি দম্পতি বিয়ের ১ বছরের মাথায় সন্তান লাভ করল এবং অন্য দম্পতি বিয়ের ৩ বা ৫ বছরের মাথায় সন্তান লাভ করল। কাজেই এই দুই দম্পতির ১ম সন্তানদের বয়সের ব্যবধান ২ বা ৪ বছর হতেই পারে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছে যে, বিয়ের কয়েক মাস পরেই আব্দুল্লাহ মারা যান। কিন্তু আব্দুল্লাহ কত সালে বিবাহ করেন সে ব্যাপারে কোনো সুনিশ্চিত বিবরণ নেই। মৃত্যুকালে আব্দুল্লাহর বয়স ৩০, ২৫, ২৮, ১৮ ছিল বলে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে।[২২৩] কাজেই বিবাহের কত দিন পরে তিনি মারা গিয়েছিলেন। তা কীভাবে অভিযোগকারীরা নিশ্চিত হয়ে বলে? তাদের এই নোংরা অভিযোগ একটি সহীহ বিবরণ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে খণ্ডন হয়ে যায়।।
“কায়স ইবন মাখরামা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী – মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায়ই আব্দুল্লাহ ইন্তিকাল করেন।”[২২৪] অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ মারা যাবার ৩-৪ বছর পর আমিনার গর্ভধারণের যে অশালীন গল্প ইসলামবিরোধীরা ফেঁদেছিল, তা যে নিদারুণ মিথ্যা তা এই বর্ণনায় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।
ইবন সা’দের বর্ণনা ব্যবহার করে এরা নবী -এর জন্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, অথচ সেই ইবন সা’দ কী বর্ণনা করেছেন?
ইবন সা’দ মুহাম্মাদ কালবীর পিতার সূত্রে বলেন, তিনি বলেছেন,
আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মায়ের বংশধারার ৫০০ মহিলার তালিকা সংকলন করেছি। তাঁদের কোনো একজনকে না ব্যভিচারী পেয়েছি, না জাহিলিয়াতের কোনো অনাচারে সম্পৃক্ত পেয়েছি।[২২৫] আরও বিবরণ রয়েছে,
আদম(আ.) থেকে মহানবী এর পিতামাতা পর্যন্ত বংশপরম্পরায় পিতামহ প্রপিতামহ কিংবা মাতামহী পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রত্যেকেই সৎ ও সাধ্বী তথা নেককার এবং পবিত্র ছিলেন, ব্যভিচারের দ্বারা কেউ কখনোই কলঙ্কিত হননি। [২২৬] এবার আসছি নবী ﷺ এর ‘আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র’ হওয়া শীর্ষক বর্ণনা প্রসঙ্গে।
আব্দুল মুত্তালিব স্বীয় নাতি মুহাম্মাদ শ কে অসম্ভব স্নেহ করতেন বলে সিরাতগ্রন্থগুলোতে বিবরণ রয়েছে। এমন কোনো দাদা আছে, যে তার নাতিকে স্নেহ করে না বা ভালোবাসে না? নাতির প্রতি দাদার ভালোবাসার বিবরণ থেকে যারা অন্য অর্থ বের করতে চায়, তারা যে কতটা বিকৃত রুচিসম্পন্ন লোক তা সহজেই বোঝা যায়। তারা তাদের বিকৃত দাবি প্রমাণের জন্য অন্য কিছু হাদিসও দেখানোর চেষ্টা করে।
আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসুল ﷺ এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকল। মসজিদে (প্রাঙ্গনে) সে তার উটটি বেঁধে রাখল তারপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল, তোমাদের মধ্যে রাসুল কে?’ রাসুল “ তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম, এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।
তারপর লোকটি তাঁকে লক্ষ্য করে বলল, “হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!”
রাসুল ﷺ তাকে বললেন,আমি তোমার জবাব দিচ্ছি|[২২৭]
বারা’ (রা.) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ তখন তাঁর সাদা খচ্চরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবু সুফইয়ান ইবনু হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন।
অতঃপর তিনি বলেন, “আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র।”
অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।”[২২৮]
এই অভিযোগ খণ্ডন করার আগে বলব : নিতান্ত গণ্ডমূর্খ না হলে কেউ এই বর্ণনাগুলো থেকে এমন অভিযোগ তুলতে পারে না।
কেন?
কারণ, কেউ যদি অবৈধ সন্তান হয়ে থাকে, তাহলে কি কেউ জনসমক্ষে সেটা বলে বেড়ায়?
উত্তর হচ্ছে : না।
এই বিবরণগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, প্রিয় নবী ও জনসমক্ষে, সাহাবায়ে কিরামগণের (রা.) সামনে নিজেকে “আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র” বলছেন, কেউ এ নামে ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন। আর এই বিবরণগুলো দেখিয়ে মূর্খের দল দাবি করেছে যে, তিনি নিজেকে নিজ মায়ের স্বামী বাদে অন্য কারোও সন্তান বলছেন! (নাউযুবিল্লাহ)
প্রকৃতপক্ষে, এই অভিযোগ উত্থাপনকারীদের সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকুও নেই৷ তাই যদি থাকত, তাহলে তারা এটুকু বুঝতো যে, আরবিসহ যেকোনো ভাষাতেই ‘পুত্র’ বলতে শুধু ঔরসজাত পুত্রকেই বোঝায় না; বরং বংশধরকেও বোঝায়। কোনো বিশেষ ব্যক্তির সাথে বা তার বংশের সাথে সংশ্লিষ্ট করবার জন্য কাউকে সেই ব্যক্তির ‘সন্তান’ বা ‘পুত্র’ বলা হয়। পৃথিবীর অনেক ভাষাতেই এটা একটা সাধারণ রীতি। যেমন: মানবজাতির আদি পিতা হচ্ছেন আদম(আ.)। আদম(আ.) এর সাথে সংশ্লিষ্ট করার জন্য যেকোনো মানুষকেই বলা হয় ‘আদম সন্তান। কুরাঈশদের মাঝে আব্দুলএলিবের ব্যাপক সম্মান ও মর্যাদা ছিল। কাজেই আব্দুল মুত্তালিবের সম্ভ্রান্ত বংশের সাথে সংশ্লিষ্ট করার জন্য তার বংশধরদের ‘আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র’ বলা হতো। বাইবেলেও এই ভাষারীতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার কিছু উদাহরণ একটু রই দেখানো হবে।
এমন অনেক হাদিস রয়েছে যাতে নবী ও নিজেকে ইব্রাহিম (আ.) এর ‘পুত্র’ বলছেন। যেমন :
আবদুল্লাহ(রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : প্রত্যেক নবীর জন্যই নবীদের থেকে একজন অভিভাবক থাকেন। আমার অভিভাবক হলেন। আমার পিতা এবং আমার প্রভুর খলিল (বন্ধু) ইব্রাহিম(আ.)।”[২২৯] |
আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, “রাত্রে আমার একটি সন্তান জন্মলাভ করে, আমি তার নাম আমার পিতা ইব্রাহিম(আ.) এর নামে রাখি।”[২৩০] “আমি আমার পিতা ইব্রাহিম (আ.) এর দোয়া [এর ফল] ও ঈসার(আ.)। সুসংবাদ।”[২৩১] পূর্ববর্তী যে নবীগণ মুহাম্মাদ -এর পূর্বপুরুষ, মিরাজের রাতে তাঁরা তাঁকে ‘পুত্র’ বলে ডেকেছেন।
আমি [মুহাম্মাদ ] জিব্রাঈল (আ.) সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হলো, এ কে? উত্তরে বলা হলো, জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেয়া হলো, মুহাম্মাদ । প্রশ্ন করা হলো, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁকে মারহাবা, তাঁর আগমন কতই-না উত্তম! অতঃপর আমি আদম(আ.) এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, “পুত্র ও নবী! তোমার প্রতি মারহাবা।” অতঃপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হলো, এ কে? বলা হলো, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞাসা করা। হলো, আপনার সঙ্গে কে? বলা হলো, মুহাম্মাদ ৷ বলা হলো, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা। তাঁর আগমন কতই-না উত্তম! অতঃপর।আমি ইব্রাহিম(আ.) এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, হে পুত্র ও নবী! তোমাকে মারহাবা।”[২৩২] নবী ও সাহাবীদেরকে ‘ইসমাঈলের সন্তান’ বলে ডেকেছেন, ইসমাঈল(আ.) কে তাঁদের ‘পিতা বলেছেন। কেননা, ইসমাঈল (আ.) ছিলেন কুরাঈশ আরবদের পূর্বপুরুষ।
সালামাহ ইবন আকওয়া (রা.)হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী এই তীর নিক্ষেপে রত একদল লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন, “হে ইসমাঈলের সন্তানেরা! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো। কারণ, তোমাদের পিতা [ইসমাঈল(আ.)] তীরন্দাজ ছিলেন।”[২৩৩] মূখ ইসলামবিদ্বেষীরা কি এবার এই বর্ণনা থেকে দাবি করতে শুরু করবে যে, ৭ম শতকে নবী মুহাম্মাদ -এর যুগের কুরাঈশ বংশের সবাই ইসমাঈল(আ.) এর ঔরসজাত সন্তান??
যে সকল খ্রিষ্টান মিশনারি অভিযোগ তোলেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলব, আমরা সবাই জানি যে যিশু ঈসা(আ.)], দাউদ(আ.) ও ইব্রাহিম (আ.) এঁদের পরস্পরের মাঝে শত শত বছরের ব্যবধান। বাইবেলে তো যিশুকে দাউদের পুত্র[২৩৪] বলা হয়েছে, দাউদ(আ.) কে আব্রাহাম [ইব্রাহিম(আ.)] এর পুত্র [২৩৫] বলা হয়েছে। এর মানে কি এই যে, যিশু দাউদ(আ.) এর ঔরসজাত পুত্র? বা দাউদ(আ.) ইব্রাহিম (আ.) এর ঔরসজাত পুত্র? নাকি বাইবেলের এ কথার দ্বারা আপনারা বোঝেন যে, তারা একে অন্যের বংশধর? তা-ই যদি বুঝে থাকেন, তাহলে হাদিসের বক্তব্যকে কেন বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর নামে মিথ্যা অপবাদ দেন? কেন এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড? মিথ্যাচার ছাড়া কি আপনাদের ধর্মের প্রচার হয় না?
আমি আরও একটি অভিযোগ দেখেছি যে, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে কিন্দাহ গোত্রের কিছু লোক নিজেদের বংশের সাথে নবী মুহাম্মাদ কে সংশ্লিষ্ট করেছে এমন বিবরণ আংশিকভাবে উল্লেখ করে এ থেকে তাঁর জন্ম নিয়ে এক অশালীন অভিযোগ এনেছে। আমি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে পূর্ণ বিবরণটি উল্লেখ করে দিচ্ছি।
এত পরিষ্কার বোঝা যাবে যে, অভিযোগটি কতটা মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ।
বায়হাকী আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী করীম ﷺ এর নিকট সংবাদ এল যে, কিন্দাহ গোত্রের কতিপয় লোক মনে করে যে, তারা আর নবী করীম ) একই বংশোদ্ভূত৷ এ সংবাদ শুনে নবী করীম এই বললেন, “আব্বাস এবং আবু সুফিয়ান ইবন হারবও এরূপ বলত এবং নিরাপত্তা লাভ করত। আর আমরা নিজেদের বংশধারা অস্বীকার করি না। আমরা নাযার ইবন কিনানা এর বংশধর।” এ বর্ণনার সনদে সন্দেহ আছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবী করীম টু খুতবা দান করেন। তাতে তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা’ব ইবন লুওয়াই ইবন গালিব ইবন ফিহর ইবন ন্যিার।[২৩৬] প্রথমত, ইমাম ইবন কাসির (র.) উল্লেখ করেছেন যে, এই বর্ণনাটির সনদে সন্দেহ আছে অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য নয়।
দ্বিতীয়ত, এখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, কিন্দাহ গোত্রের মানুষগুলো ধারণা করছিল যে, তারাও রাসুল ) একই বংশ থেকে উদ্ভূত। কোনো খারাপ কিছুর দাবি তারা করেনি। একই বংশ থেকে উদ্ভূত হওয়া আর অবৈধ সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত হওয়া মোটেও এক কথা নয়। সাধারণ কথা থেকে যারা অসাধারণ অশ্লীল অভিযোগ আনে, তাদের মানসিকতার নোংরামিই শুধু এখানে প্রকাশ পাচ্ছে। এ বর্ণনায় এটাও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, রাসুল ও তাঁর পিতা আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন যা আরো একবার অভিযোগকারীদের ভুল প্রমাণ করছে।
এই জঘন্য অপবাদ দিয়ে অভিযোগকারীরা বলতে চেয়েছে যে, মুহাম্মাদ এই বিশুদ্ধভাবে ইব্রাহিম (আ.) এর বংশ থেকে জাত নয়। তাদের এই অপচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিজ অজ্ঞতা থেকে এটাও বলতে চেয়েছে যে, ইসলাম বলে: ইব্রাহিমের(আ.) বংশের বাইরের কেউ নবী হতে পারবে না। অথচ এটাও একটা ভিত্তিহীন কথা। আল কুরআনে বারংবার বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর সব জাতির নিকট নবী-রাসুল প্রেরণ করা হয়েছে।[২৩৭] কিছু বিবরণ থেকে বিকৃত ব্যাখ্যা করে আব্দুল মুত্তালিবকে জড়িয়ে রাসুল ﷺ এর পিতৃপরিচয় নিয়ে অসভ্য মিথ্যাচার করেছে ইসলামবিরোধীরা। হাদিস ও সিরাহ-শাস্ত্রে সুস্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায় যে, নবী মুহাম্মাদ ﷺ ও নিজে তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি খোদ তাঁর শত্রুরা পর্যন্ত তা শুধু স্বীকারই করেনি; বরং দাবিও করেছে।

অতঃপর নবী করীম ﷺ –এর নির্দেশে আলী(রা.) লিখলেন, “এগুলো হচ্ছে সেসব কথা যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর রাসুল ﷺ সন্ধি করলেন।”
এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে সুহাইল বলল, “আমরা যদি জানতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসুল তাহলে আপনাকে আল্লাহর ঘর হতে বিরত রাখতাম না এবং আপনার সঙ্গে যুদ্ধও করতাম না। কাজেই আপনি লিখুন – “মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ।” [আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ ﷺ]।
নবী করীম ﷺ বললেন, “তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলেও [এটা এক মহাসত্য যে] আমি আল্লাহর রাসুল -”। অতঃপর রাসুলুল্লাহ’ কথাটি মুছে ফেলে তার পরিবর্তে ‘মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ’ লেখার জন্য তিনি আলী(রা.) কে নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আলী(রা.) রাসূলুল্লাহ’ কথাটি মুছে ফেলার ব্যাপারটিকে কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছিলেন না। আলী(রা.) এর মানসিক অবস্থা অনুধাবন করে নবী করীম এ স্বীয় মুবারক হাত দ্বারাই কথাটি মুছে ফেললেন। তারপর পুরো চুক্তিটি [হুদায়বিয়া] লিপিবদ্ধ করা হয়ে গেল।”[২৩৮] আমরা দেখলাম হুদায়বিয়া চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিলে বিরুদ্ধপক্ষ রাসুল ﷺ কে তাঁর পিতার নাম হিসাবে আব্দুল্লাহর নাম লিখতে বলছে। এটি একটি সহীহ বর্ণনা। তারা যদি তাঁর পিতৃপরিচয় নিয়ে সন্দিহানই থাকত (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে কি এটা বলত?
রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবারে ডাক পড়েছিল রাসুল -এর সে সময়কার শ্রেষ্ঠ শত্রু আবু সুফিয়ানের। সে সাক্ষাতের উল্লেখযোগ্য বিবরণ:
আবু সুফিয়ান বলেন, অতঃপর তিনি [হিরাক্লিয়াস] আমাকে ডেকে তার সামনে বসালেন এবং আমার সাথিদের পেছনে বসালেন। অতঃপর তিনি আমার সাথিদের বললেন, “আমি একে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব। মিথ্যা বললে, তোমরা ধরে দেবে”। আবু সুফিয়ান বলেন, “যদি আমাকে মিথ্যুক বলার ভয় না থাকত, তাহলে আমি অবশ্যই মুহাম্মাদ সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম।”
তোমাদের মধ্যে নবী দাবিকারী ব্যক্তির বংশ কেমন?
উত্তরে আবু সুফিয়ান বলেছিলেন, “তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়”।
হিরাক্লিয়াস বলেছিলেন, “এভাবেই নবী-রাসুলগণ তাঁর সম্প্রদায়ের সেরা বংশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন।”[২৩৯] এটিও একটি সহীহ বিবরণ। নবী -এর পিতৃপরিচয় নিয়ে যদি আসলেই কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকত, তাহলে সে সময়ে নবী ﷺ এর সেরা শত্রু আবু সুফিয়ানের জন্য সুবর্ণ সুযোগ ছিল পরাক্রান্ত রোম সম্রাটের সামনে সেটি তুলে ধরে ফায়দা হাসিল করা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা বলে ধরা পড়ে যাবার ভয়ে আবু সুফিয়ান সেখানে সত্য বলেছেন—নবী ও উচ্চ বংশের মানুষ। হিরাক্লিয়াসও একে নবী-রাসুলের আলামতের একটি হিসাবে শনাক্ত করেছেন।
খ্রিষ্টান মিশনারিদের নবী করিম (ﷺ)-এর নামে এমন জঘন্য ও মিথ্যা অপবাদ দেবার কারণ অনুসন্ধান করে দেখলে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে পড়ে। বাইবেলের নতুন নিয়মে (New Testament) যিশুখ্রিষ্টের বংশতালিকা দেওয়া আছে। ইহুদিরা সাধারণত বংশতালিকায় নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে না; বরং তাদের বংশতালিকায় শুধু পিতার নামই থাকে। কিন্তু অবাক ব্যাপার হচ্ছে, বাইবেলে মথিলিখিত সুসমাচারের (Gospel of Matthew) ১ম অধ্যায়ে যিশুর বংশতালিকায় ৪ জন নারীর উল্লেখ আছে। আরও অবাক ব্যাপার হচ্ছে, এ ৪ জন নারীর প্রত্যেকের জীবনেই বিবাহবহির্ভূত অশালীন কাজের বিবরণ রয়েছে বাইবেলে! মথির সুসমাচারের ১ম অধ্যায়টি হচ্ছে যিশুর বংশতালিকার অধ্যায়। এই অধ্যায়ের ৩ থেকে ৬ নং পদে ৪ জন নারীর উল্লেখ আছে—তামার, রাহাব, রুত ও বাথশেবা। বাইবেল বলছে, এই চারজন নারী যিশুর। পূর্বপুরুষদের মা ছিলেন। বাইবেলের বিবরণ অনুযায়ী তামার পতিতা সেজে নিজ শ্বশুরের সাথে যৌনকাজ করেন এবং এর ফলে অবৈধ সন্তান জন্ম হয়।[২৪০] রাহাব ছিলেন একজন পতিতা, যিনি কানানের জেরিকো শহরে বাস করতেন।[২৪১] রুত বিয়ের পূর্বেই গোপনে বোয়াজের সঙ্গে একই বিছানায় রাত কাটান।[২৪২] রাজা দাউদ প্রতিবেশী উরিয়ার স্ত্রীর বাথশেবার সাথে যৌনকাজ করেন (নাউযুবিল্লাহ) এবং কৌশলে তার স্বামীকে হত্যা করেন (নাউযুবিল্লাহ)। সেই যৌনকাজের দ্বারা বাথশেবা অন্তঃসত্ত্বা হন। রাজা দাউদ এরপর ওই মহিলাকে স্ত্রী বানিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসেন।[২৪৩] (বিকৃত) বাইবেল অনুযায়ী এই ৪ জন মহিলা যিশুখ্রিষ্টের পূর্বপুরুষদের মা। বাইবেলের তথ্য অনুযায়ী এদের প্রথম ৩ জন দাউদ(আ.) এরও পূর্বপুরুষদের মা। বাইবেল অনুযায়ী এই হচ্ছে নবীদের বংশধারার অবস্থা। বাইবেলের তাওরাত অংশের আইন মতে যদি কোনো লোকের মাতা-পিতা বৈধভাবে বিয়ে না করে থাকে, অর্থাৎ যে জেনা-ব্যভিচার করে, তবে সেই লোকটি ইস্রায়েলের লোকদের সাথে প্রভুর উপাসনালয়ে (বাইতুল মুকাদ্দাস) যোগ দিতে পারবে না এবং তার উত্তরপুরুষদের দশ পুরুষ পর্যন্ত কেউ উপাসনাকারীদের দলে যোগ দিতে পারবে না।[২৪৪] (বিকৃত) বাইবেলের বিবরণ অনুযায়ী দাউদ (আ.) ও যিশু [ঈসা(আ.)] উভয়ের ১০ম ঊর্ধ্বতন পুরুষের মধ্যে জেনা-ব্যভিচার রয়েছে, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে৷ অর্থাৎ বাইবেল অনুযায়ী দাউদ (আ.) ও যিশু [ঈসা(আ.)] উভয়ের কেউই বাইতুল মুকাদ্দাসে উপাসনাকারীদের দলে যোগ দেবার যোগ্যতা রাখেন না। ফলে তারা ভণ্ড নবী সাব্যস্ত হন [নাউযুবিল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ]।
দাউদ (আ.) ও ঈসা(আ.) আমাদের নবী। আমরা মুসলিমরা বাইবেলে আল্লাহর নবীদের শানে এইসব বেয়াদবি ও মিথ্যার নিন্দা জানাই। আল্লাহ বলেন:
“বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের দাউদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার মুখে লা’নত করা হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা। সীমালঙঘন করত।”[২৪৫] যাদের নিজ গ্রন্থে নবী-রাসুলদের বংশ নিয়ে এমন কথা আছে, তারা কোন মুখে আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ -এর জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে? নাকি তারা নিজ গ্রন্থের নোংরামি আড়াল করার জন্য মসলিমদের দিকে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের দেয়াল ঠেলে। দিচ্ছে? Attack is the best defense—এই মূলনীতি অনুসরণ করছে?
নবী ঈসা মাসিহ(আ.) আল্লাহর কুদরতে পিতা ছাড়াই অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইহুদিদের অনেকেই এই ঘটনার জন্য ঈসা(আ.) এর পবিত্র মা মরিয়ম(আ.) ক এক রোমান সৈন্যের সঙ্গে জড়িয়ে খারাপ কথা বলেছে,[২৪৬] তারা মরিয়ম(আ.) ক ব্যভিচারিণী বলে থাকে (নাউযুবিল্লাহ)।[২৪৭] আল কুরআন তাদের এই জঘন্য কথার প্রতিবাদ করেছে এবং মরিয়ম (আ.) এর পবিত্রতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছে।[২৪৮] শুধু মহানবী -এর ওপর নাজিলকৃত আল কুরআনের জন্য পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিম ঈসা(আ.) কে ভালোবাসে, তাঁর জন্ম নিয়ে অন্যদের মতো বাজে প্রশ্ন তোলে, ঈসা(আ.) এর মায়ের পবিত্রতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়। সেই মহানবী -কে নিয়ে আজ বিবেকহারা খ্রিষ্টান মিশনারিরা অশালীন মিথ্যাচার করছে। আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন।
আর নাস্তিক-মুক্তমনাদের ব্যাপারটি আরও স্ববিরোধী ও নোংরা। তারা নিজেরা সমকাম, উভকাম, অজাচার এই সমস্ত অশ্লীলতা ও বিকৃতির ধারক ও বাহক এবং তারা এগুলোকে ‘অধিকার’ বলে আন্দোলন পর্যন্ত করে। এইসব লোকেরা যখন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানবের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন বলতেই হয়: যার আপাদমস্তক মল-মূত্রে ঢেকে আছে, সে কোন মুখে অন্য কারও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মন্তব্য করে? সূর্যের দিকে থুতু দিলে ওই থুতু নিজের গায়েই পড়ে। সূর্যের তাতে কিছুই হয় না, সূর্য আপন মহিমায় উদ্ভাসিত থাকে।
“কিন্তু আমি [আল্লাহ] সত্য দ্বারা আঘাত হানি মিথ্যার ওপর; ফলে ওটা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা যা বলছ তার জন্য।”[২৪৯]

রিফারেন্সঃ
[২২২] তাবাকাতুল কুবরা – ইবন সা’দ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৮
[২২৩] যারকানী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৯
[২২৪] মুসতাদরাক হাকিম, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০৫। ইমাম হাকিম(র.) বলেন, ইমাম মুসলিমের(র.) শর্তানুযায়ী বর্ণনাটি সহীহ; ইমাম যাহাবী(র.)ও তা সমর্থন করেছেন।
[২২৫] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ইমাম ইবন কাসির(র.), ২য় খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ৪৭৬।
[২২৬] এটি একটি হাদিসের সারসংক্ষেপ, যেটি ইমাম তিরমিযী(র.) আলী(রা.) থেকে মারফুসূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাফিজ হায়সামী বলেন : ১ জন ছাড়া হাদিসটির সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। ইমাম হাকিম(র.) তাঁকেও নির্ভরযোগ্য বলেছেন। -যারকানী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭॥ সিরাতুল মুস্তফা(সা.) – ইদরিস কান্ধলভী (র.); ১ম খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ২৫
[২২৭] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৬২।
[২২৮] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ২৯৩০
[২২৯] সুনান তিরমিযী, হাদিস নং : ২৯৯৫ (সহীহ)
[২৩০] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ৫৮১৮
[২৩১] মুসনাদ আহমাদ; সহীহ ইবনু হিব্বান; সিলসিলা সহীহাহ, হাদিস নং : ১৫৪৫
[২৩২] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৬৪
[২৩৩] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ২৮৯৯, ৩৩৭৩, ৩৫০৭
[২৩৪] বাইবেল, মথি (Matthew) ১:১, লুক (Luke) ১৮ : ৩৮
[২৩৫] বাইবেল, মথি (Matthew) ১ : ১
[২৩৬] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ইমাম ইবন কাসির(র.), ২য় খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), পৃষ্ঠা ৪৭৫
[২৩৭] আল কুরআন, ইউনুস ১০ : ৪৭, রা’দ ১৩ : ৭, হিজর ১৫ : ১০, নাহল ১৬ : ৩৬
[২৩৮] সহীহ মুসলিম; আর রাহিকুল মাখতুম – শফিউর রহমান মুবারকপুরী (র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স], পৃষ্ঠা ৩৯৩
[২৩৯] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৪৫৫৩; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৭৭৩; মিশকাত, হাদিস নং : ৫৮৬১
[২৪০] বাইবেল, আদিপুস্তক (Genesis) ৩৮ : ১২-২৯ দ্রষ্টব্য
[২৪১] বাইবেল, যিহোশয় (Joshua) ২ : ১ দ্রষ্টব্য
[২৪২] বাইবেল, রুত (Ruth) ৩ : ১-১৪ দ্রষ্টব্য
[২৪৩] বাইবেল, ২ শামুয়েল (২ Samuel) ১১:২-২৭ দ্রষ্টব্য
[২৪৪] বাইবেল, দ্বিতীয় বিবরণ (Deuteronomy) ২৩ : ২ দ্রষ্টব্য
[২৪৫] আল কুরআন, মায়িদাহ ৫:৭৮
[২৪৬] “Like a Virgin_ The Secret and Controversial Account of Mary, Mother of Jesus Ancient Origins” http://www.ancient-origins.net/history/virgin-secret-and-controversial-account-marymother-jesus-006537 অথবা শর্ট লিঙ্ক : https://bit.ly/2HJmT9P
[২৪৭] “What are the implications of the New Testament claim that Jesus was born under law – Jews for Judaism” https://jewsforjudaism.org/knowledge/articles/what-are-the-implications-of-the-newtestament-claim-that-jesus-was-qborn-under-lawq/ operatū10* : https://goo.gl/nSmZRF
[২৪৮] আল কুরআন, আলি ইমরান ৩: ৪৫-৪৭ এবং নিসা ৪:১৫৬ দ্রষ্টব্য।
[২৪৯] আল কুরআন, আম্বিয়া ২১ : ১৮

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন