মূল:বিশ্বনবী প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের আদর্শ

সিরাজুল ইসলাম আলী আকবর

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ

যাকারিয়া আলী হাসান তৈয়ব

ইসলামী রাষ্ট্রে আরব ছাড়াও ইরানি, রোমক, আবিসিনীয় এবং ইয়াহূদীরা বসবাস করত। তাদের সংখ্যা ছিল খুবই অল্প। তাদের খুব কমসংখ্যক লোকই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। ইরানিদের মধ্য থেকে সালমান ফারসী এবং ইয়ামেনে বসবাসকারী আবনা নামে পরিচিত কিছু সংখ্যক ইরানী ইসলাম কবুল করেছিলেন।

ইসলাম এই সব লোকের সঙ্গে পূর্ণ সাম্যের নীতি ও আচরণ প্রদর্শন করেছে। আরবগণ সংখ্যাগুরু হওয়া সত্বেও বহিরাগত এইসব মুসলমানদের ওপর কোনোরূপ শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য ছিল না। শুধু তাই নয়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে কে দেশি, কে বিদেশি, কে স্থানীয়, কে বহিরাগত, কে দেশ মাতৃকার আর কে তা নয়, এ পার্থক্য কোনো দিনই করা হয় নি। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্বমানবতার হিদায়াতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কেবল আরবদের নিকট সত্য দীনের দাওয়াত দেওয়াই তার দায়িত্ব ছিল না। দল মত গোত্র বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকেই দীন ইসলামের দাওয়াত দেওয়া ছিল তাঁর প্রধান কর্তব্য। ফলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অতি স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত  মুসলমানকে সমান ও অভিন্ন মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হল। এই সমাজে মর্যাদাগত অবস্থান পার্থক্যের একটি মাত্র মানদন্ডই স্বীকৃত ছিল, আর তা হচ্ছে তাকওয়া  ও আল্লাহভীরুতা। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে এ কথাই স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقۡنَٰكُم مِّن ذَكَرٖ وَأُنثَىٰ وَجَعَلۡنَٰكُمۡ شُعُوبٗا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓاْۚ إِنَّ أَكۡرَمَكُمۡ عِندَ ٱللَّهِ أَتۡقَىٰكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٞ ١٣﴾ [الحجرات: ١٣] 

“হে মানুষ, আমরা তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সে-ই অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ সম্যক অবহিত”। [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩]

স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, “মুসলিমদের সকলে চিরুনীর কাটাসমূহের মতো সমান। কোনো আরবের অনারবের ওপর এবং কোনো অনারবের আরবের ওপর তাকওয়া ভিন্ন অন্য কোনো দিক দিয়েই শ্রেষ্ঠত্ব নেই”।