মূল:অন্ধকার থেকে আলোতে। লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। ওয়েব সম্পাদনা:আবু বক্কার ওয়াইস বিন আমর

শারঈ সম্পাদকের বাণী
শয়তান মানবগোষ্ঠীকে দুটি মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করে থাকে। একটি হচ্ছে লাগামহীন প্রবৃত্তির পেছনে লাগিয়ে রাখা, অপরটি হচ্ছে সন্দেহ-সংশয় নিয়ে মানুষের কাছে উপস্থিত হওয়া। এ-জাতীয় শয়তান জিন থেকে যেমন হতে পারে, তেমনই তা হতে পারে মানবরূপী। জিন শয়তানগুলো তাদের ক্ষতি অধিকাংশ সময় ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণার মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে, কিন্তু মানবরূপী শয়তানগুলো তাদের কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত বেপরোয়া। তারা কোনো সন্দেহ কেবল কুমন্ত্রণার মাধ্যমেই প্রবিষ্ট করার চিন্তা করে না; বরং কথা, কাজ, লেখনী, প্রেসার ইত্যাদি সার্বিকভাবেই তারা তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় মুসলিম উম্মাত নিপতিত হয়েছে তা হলো, তাদেরকে তাদের দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান করে তোলার জন্য তাবৎ নাস্তিক, ইহুদি, নাসারা, মুনাফিক প্রকৃতির মুসলিম নামধারী অমুসলিমরা নিয়োজিত রয়েছে। নিজেদের কাচের ঘরের দিকে দৃষ্টিপাত না করে অপরের সিসাঢালা প্রাচীরের প্রতি ঢিল ছুড়তে তারা অভ্যস্ত। তারা ইসলাম সম্পর্কে এমন সব মন্তব্য ও আচরণ করে আসছে, যার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তারপরও একটি মিথ্যা যখন বহু মানুষের মাধ্যমে প্রচারিত হয় তখন তা অনেকের মনে গেঁথে যায়। বিশেষ করে যারা নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে সচেতন নয়। তারা ইসলামের শাশ্বত বিধি-বিধান যেমন হজ, হাজরে আসওয়াদ, কা’বা, উত্তরাধিকার নীতি ইত্যাদি নিয়ে এমন সব কথা বলে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা আর মিথ্যায় ভরা। তাদের সেসব মিথ্যা দাবী ও অসার সন্দেহ-সংশয় নিরসনে এগিয়ে এসেছে আমাদের ভাই মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার। আমি তাঁর এ গ্রন্থটি আদ্যোপান্ত পড়েছি। আমার কাছে তাঁর বিশুদ্ধ আকীদা ও মানহাজের দিকটি অত্যন্ত চমৎকার মনে হয়েছে। সংশয় নিরসনের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিটি অত্যন্ত চমৎকার। তাতে আমাদের পূর্বসূরিদের দেওয়া উত্তর যেমন স্থান পেয়েছে তেমনই তাতে রয়েছে বাস্তব উদাহরণ ও আধুনিক প্রমাণাদি। তাঁর এ গ্রন্থখানি আমার দৃষ্টিতে প্রতিটি উদীয়মান যুবক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও পাশ্চাত্য শিক্ষা ও দর্শন দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তির জন্যই অতীব প্রয়োজনীয়। এ গ্রন্থটি তাদের অনেকের জীবনের গতি ও মতি পরিবর্তন করে সরল ও সঠিক দ্বীন ইসলামের ওপর রাখতে তাদের সাহায্য করবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে।
আমি আল্লাহর কাছে মুশফিকুর রহমান মিনার ও তাঁর কর্মের গ্রহণযোগ্যতা কামনা করছি।
ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া
আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ

লেখকের কথা
যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। সলাত ও সালাম। তাঁর বান্দা ও রাসুল, তাঁর প্রিয়তম মুহাম্মাদ , তাঁর পরিজন, সহচর ও অনুসারীদের ওপর।
তখন আমার বয়স ৩ কী ৪। আমাদের ২ ভাইয়ের আরবি ও কুরআন পড়া শিক্ষার জন্য একজন হুজুর ঠিক করে দেন আব্দু। যে হুজুর আমাদের কুরআন পড়াতে আসতেন, তিনি প্রতিটা সূরা পড়ানোর আগে ওই সূরার ওপর একটা দারস দিতেন। সেই দারসে মোটামুটি ওই সূরার শানে নুজুল কিংবা শিক্ষা উল্লেখ থাকত। সূরা আলি ইমরানের ওপর ওনার দারসটা আজও কানে বাজে, যেটা আমার জীবনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তিনি বলছিলেন, এই সূরায় ঈসা(আ.) নামে আল্লাহর এক নবীর কথা আছে। তাঁর জন্ম হয়েছিল অলৌকিক উপায়ে, তাঁর কোনো বাবা ছিল না। অনেক মুজিজা ছিল তাঁর। তিনি মৃত মানুষকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করতে পারতেন, মাটি দিয়ে পাখি বানিয়ে ফু দিলে সেটা জীবন্ত পাখি হয়ে যেত। তিনি আল্লাহর হুকুমে অন্ধ আর কুষ্ঠ রোগীদের সারিয়ে দিতেন। তিনি সবাইকে একঅদ্বিতীয় আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেন। ঈসা(আ.) নামক এই মানুষটার কাহিনি এবং তাঁর দাওয়াতকে আমার অসম্ভব ভালো লেগে গেল। হুজুর আরও বললেন, কেউ কেউ ঈসা(আ.) এর কথা মেনে নিল, কিন্তু খারাপ মানুষেরা তাঁকে বিশ্বাস করল না। তাঁকে মেরে ফেলতে চাইল। আল্লাহ সেই দুষ্টু লোকদের সফল হতে দিলেন না, তাঁকে উপরে উঠিয়ে নিলেন। বরং একটা দুষ্টু লোকের চেহারা ঈসা(আ.) এর মতো হয়ে গেল, সবাই তাকেই ঈসা(আ.) ভেবে মেরে ফেলল।যি দুষ্টু লোকগুলোর ওপর আমার অনেক রাগ হতো শুনে! আরও জানলাম, ঈসা(আ.) আসমানে চলে যাবার পর ওনার অনুসারীদের একটা দল তাঁকেই আল্লাহ বানিয়ে উপাসনা শুরু করে, তাঁর বাবা ছিল না বলে তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলা শুরু করে। তাঁর এই পথভ্রান্ত অনুসারীদের বলা হয় খ্রিষ্টান। অথচ ঈসা(আ.) কখনো কাউকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা করার কথা বলেননি। যারা আল্লাহ ব্যতীত আর কারও উপাসনা করবে, আল্লাহ তাদের পরকালে কঠিন শাস্তি দেবেন। হুজুরের কাছ থেকে এমন অনেক কিছুই জানতাম। আমার শিশুমনে খ্রিষ্টানদের কথা ভেবে খুব আফসোস হতো। ইশ, লোকগুলো তো একটুর জন্য বিপথগামী হয়ে গেল; কী দরকার ছিল ঈসা(আ.) কে আল্লাহ বানিয়ে উপসনা করার? তখন ঠিক করলাম, বড় হয়ে খ্রিষ্টানদের বুঝিয়ে বলব, “তোমরা ভুল করছ। ঈসা(আ.) তোমাদের বলেননি তাঁর উপাসনা করতে; বরং তিনি তোমাদেরকে আল্লাহর উপাসনা করতে বলেছেন।”এভাবেই আমার ভেতরে দাওয়াত বা দাওয়াহর একটা আগ্রহ তৈরি করে দেন শৈশবের সেই কুরআন-শিক্ষক। আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করে দিন।‘দাওয়াত’ শব্দটা বরাবরই আমার খুব প্রিয় একটা শব্দ। শব্দটা শুনলেই পোলাওকোরমা খাওয়ার কথা মনে আসত! শৈশবে কুরআন-শিক্ষক যখন বলতেন, রাসুলুল্লাহ স্ট্র মুশরিকদের ইসলামের দাওয়াত দিতেন, শুনে খুব ভালো লাগত। পরে অবশ্য ইসলামের দাওয়াত কী এর মানে বুঝতে পারি। এর মানে হচ্ছে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। আমারও ইচ্ছা করত মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করব। স্কুলে দেখতাম কিছু সহপাঠী হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আমার তাদের খুব দাওয়াত দিতে ইচ্ছা করত। খুব বলতে ইচ্ছা করত, “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা কোরো না। এমনটা করলে আল্লাহ তোমাদের আখিরাতে কঠিন শাস্তি দেবেন।” কিন্তু ওরা কী মনে করবে। ভেবে কাউকেই আর বলতে পারিনি। দাঈ হবার সুপ্ত ইচ্ছা মনের ভেতরেই রয়ে গেল। আরেকটু বড় হয়ে শুনতে পেলাম, খ্রিষ্টান মিশনারিরা সারা পৃথিবীতে তাদের ধর্ম প্রচার করে। আফ্রিকার গহীন অরণ্য, আমাজন অববাহিকার দুর্গম এলাকা থেকে শুরু করে। পৃথিবীর হেন জায়গা নেই যেখানে তারা খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার করে না। খ্রিষ্টান তো তারা, যারা ঈসা(আ.) এর শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে তাঁকেই উপাস্য প্রভু সাব্যস্ত করেছে, আল্লাহর সাথে শরীক করেছে। মনের কোণে ভাবনা চলে আসত, ইসলাম তো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। খ্রিষ্টানরা একটা ভুল ধর্মের জন্য এত কষ্ট করছে, আমরা আমাদের সত্য ধর্মের জন্য কী করছি? স্কুলে সহপাঠীরা যখন জিজ্ঞাসা করত বড় হয়ে কী হব, আমি কিছুটা ভেবে বলতাম, “মুসলিম মিশনারি [৪]  হব”। অবশ্য তখন কোনোরূপ ধারণা ছিল না, কীভাবে ‘মিশনারি’ হব। স্কুল জীবনের শেষ দিকে মরিস বুকাইলীর বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান এবং মানুষের আদি উৎস বই দুটি পড়ে এ ব্যাপারে কিছুটা ভরসা পাই।।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরু করলাম। ফেসবুকে বিভিন্ন ইসলামি পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করলাম। একদিন হঠাৎ এক বন্ধু মেসেজ দিয়ে বাংলাদেশের একজন কুখ্যাত নাস্তিকের লেখার লিঙ্ক দিল। জানাল, তার লেখা পড়ে নাকি তার সব বন্ধুরা নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে! ব্যাপারটা খতিয়ে দেখার জন্য লিঙ্কটায় ঢুকলাম। ঢুকে তো মাথায় রীতিমতো বাজ পড়ল—এসব কী লিখেছে লোকটা! প্রচলিত সব ধর্মবিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করে, সমালোচনা করে, নিন্দা করে, বিশেষত ইসলাম ধর্মকে অবমূল্যায়ন করে একের পর এক লেখা। আল্লাহ তা’আলাকে, নবী করিমকে, ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোকে নিয়ে জঘন্য গালি, একই সাথে দলিল-প্রমাণ ও যুক্তি দিয়ে ইসলামকে ভুল প্রমাণের প্রাণান্তকর চেষ্টায় ভরা ছিল ব্লগের সেই লেখাগুলো। নাস্তিক ব্লগারদের কথা আগেও একটু-আধটু শুনেছি। কিন্তু অবস্থা যে এত ভয়াবহ তা ঘুণাক্ষরেও জানতাম না। প্রায় একই সময়ে ফেসবুকে নাস্তিকদের একটা স্পন্সর্ড আন্তর্জাতিক পেইজ চোখে পড়ে। আস্তে আস্তে ফেসবুক ও ব্লগে ইসলামবিরোধী নাস্তিকচক্রের সাথে পরিচিত হতে থাকি। তাদের দাবিগুলো, বিশেষত আল কুরআন নিয়ে তাদের অভিযোগগুলো খুঁটিয়ে দেখা শুরু করি। একদম নির্মোহ পর্যবেক্ষণ দ্বারা লক্ষ করলাম, এগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ। শুরু হলো তাদের জবাব দেবার পর্ব, বিতর্ক। কিন্তু এই পর্ব যে খুব সুখপ্রদ ছিল তা বলা যাবে না। সুস্থ আলোচনা আর যুক্তির বিপরীতে তাদের পক্ষ থেকে জঘন্য ভাষা, গালি আর আল্লাহ ও রাসুল * কে অপমান করার প্রবণতাই ছিল বেশি। নাস্তিকদের ফেসবুক পেইজগুলোতে দেখতাম খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক আনাগোনা, যারা খুব মধুর ভাষায় নাস্তিকদের তাদের ধর্মের দাওয়াত দিত। তাদের মধুর ভাষা দেখে মনে করলাম—এরা নিশ্চয়ই নাস্তিকদের তুলনায় কম উগ্র। কিন্তু বিদেশি খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় বিতর্কের পেইজগুলোতে গিয়ে সেই ভুল ভাঙল। উগ্রতা ও ইসলাম বিদ্বেষে তারা নাস্তিকদের চেয়ে কিছুমাত্র কম নয়। বরং পড়াশুনা ও অনুসন্ধানের পর ধীরে ধীরে আবিষ্কার করলাম, ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিকদের দাবিগুলো মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিদের গবেষণা থেকে নেওয়া। অর্থাৎ ইসলাম বিরোধিতার শেকড় যেন একসূত্রে গাঁথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কিছু আগে থেকেই অন্য ধর্মগুলোকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির অভ্যাস ছিল। বিশেষত ইহুদি ও খ্রিষ্ট ধর্ম। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবার আগেই ডাউনলোড করে ফেলেছিলাম বাইবেল, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির অনুবাদ। অন্য ধর্মগুলোর ব্যাপারে পড়াশুনা করে ও ইসলামের সাথে সেগুলোর তুলনা করে বহু আগেই উপলব্ধি হয়েছে যে, ইসলাম অন্য সকল ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কাজেই তাদের জবাব দেবার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। স্টাডি করে গবেষণা করে সেই সাথে অনলাইনে নাস্তিক ও খ্রিষ্টানদের সাথে বিতর্ক করতে করতে তাদের দাবির সিংহভাগেরই স্বরূপ জানা হয়ে গিয়েছিল এবং জবাবগুলোও মোটামুটি নখদর্পণে চলে এসেছিল।বেশ কিছুক্ষণ ধরে শুরুর গল্প বললাম। অনলাইনে এ যাত্রার শুরু হয়েছিল বাংলাদেশি এক কুখত নাস্তিকের ব্লগ পোস্ট পড়ে। ক্রমান্বয়ে এ যাত্রায় আরও এক ভাল ধাপ যুক্ত হয় যখন বাংলাদেশে অনলাইনে নাস্তিক ও ইসলামবিরোধী এক্টিভিস্টদের তৎপরতা ব্যপকভাবে পরিলক্ষিত হওয়া শুরু করে। দেশবাসীর কাছে নাস্তিক ব্লগারদের কুৎসিত মুখোশ উম্মোচিত হতে শুরু করে। ইসলামবিরোধীদের ব্যাপারে অনলাইনে আমার আর্ত্তমেন্টগুলো এবং নিজস্ব গবেষণাগুলো নোট করে রাখার অভ্যাস ছিল। কিন্তু গুছিয়ে লেখা হয়ে উঠত না। শ্রদ্ধেয় শরীফ আবু হায়াত অপু ভাইয়ের পরামর্শে কেন ও উত্তরগুলো গুছিয়ে লিখতে শুরু করি। নিকটজন ও শুভানুধ্যায়ীরা অনেক দিন থেকেই বলছিলেন লেখাগুলোকে ছাপার অক্ষরে নিয়ে আসতে। অবশেষে সমর্পণ প্রকাশনের রোকন ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় প্রায় ২ বছর ধরে চলা সেই লেখাগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটিকে মলাটবদ্ধ করছি। লেখাগুলো দ্বারা যদি একজন মানুষও ইসলামের ব্যাপারে সৃষ্ট সংশয় বা প্রশ্নের উত্তর পান অথবা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে পারেন, তাহলেই এ প্রচেষ্টা সার্থক। প্রথম প্রয়াস, তবে আশা করছি এটাই শেষ নয়। অন্য লেখাগুলোও ভবিষ্যতে মলাটবদ্ধ করবার ইচ্ছা আছে। আল্লাহই সাহায্যস্থল।বইটিতে আল কুরআন, হাদিস, সিরাত, তারিখ ইত্যাদি বিভিন্ন ইসলামী সূত্র ছাড়াও বিভিন্ন অমুসলিম সূত্র থেকে রেফারেন্স নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থও রয়েছে যেমন : বাইবেল, তানাখ( Tanakh), মিদরাস ইত্যাদি। একটা জিনিস এখানে না উল্লেখ করলেই নয় আর তা হচ্ছে, মুসলিমদের নিকট ইহুদি-খ্রিষ্টানদের এইসব ধর্মগ্রন্থ কোনো দলিল নয়। আল্লাহ তা’আলা পূর্ববর্তী নবীদের নিকট তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল এই গ্রন্থগুলাে অবতীর্ণ করেছিলেন। কিন্তু আল কুরআন এবং হাদিস দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, এই গ্রন্থগুলো মানুষের দ্বারা। বিকৃত হয়ে গেছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে :“এবং তাদের মধ্যে অনেক অশিক্ষিত লোক আছে তারা মিথ্যা আকাঙক্ষা ছাড়া কিতাবের কোনো জ্ঞান রাখে না এবং তারা শুধুই ধারণা করে থাকে। অতএব তাদের জন্য আফসোস! যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং বলে, “এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ” যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্য।”[৫]
আল কুরআনে আরও বলা হয়েছে,
“বস্তুত শুধু তাদের [ইহুদি] প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই আমি তাদের অভিশপ্ত করলাম এবং অন্তরকে কঠোর করে দিলাম। তারা কালামকে (তাওরাত) ওর স্থানসমূহ হতে পরিবর্তন করে দেয় এবং তাদের যা কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা তার মধ্য হতে এক বড় অংশকে বিস্মৃত হতে বসেছে, আর ভবিষ্যতেও ( অবিরত) সর্বদা তাদের কোনো না-কোনো প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হতে থাকবে; তাদের অল্প কয়েকজনের ছাড়া। অতএব তুমি তাদের ক্ষমা করতে থাকো এবং তাদের মার্জনা করতে থাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাচারী লোকদের ভালোবাসেন। আর যারা বলে, “আমরা খ্রিষ্টান”, আমি তাদের নিকট থেকেও ওয়াদা নিয়েছিলাম, অনন্তর তাদেরও যা কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছিল (ইঞ্জিল) তার মধ্য হতে তারা। নিজেদের এক বড় অংশ বিস্মৃত হয়েছে। সুতরাং আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা ও শক্রতা সঞ্চার করে দিলাম কিয়ামতের দিন পর্যন্ত এবং অচিরেই আল্লাহ। তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সংবাদ দেবেন।”[৬]মুসলিম উলামায়ে কিরামগণ এ ব্যাপারে একমত যে, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় কিতাবগুলো বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে গেছে।[৭] |এমনকি অমুসলিম সেকুলার গবেষকরাও বাইবেলের বিকৃতির ব্যাপারে নিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন।[৮]এ বইতে এসব উৎস থেকে রেফারেন্স নেওয়া হয়েছে এই কারণে যে, এগুলো দেখে ইসলামবিরোধীরা আর প্রশ্ন তুলবার সুযোগ পাবে না। ইসলামবিরোধী প্রশ্নগুলোর মূল কারিগর হচ্ছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা। ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিকদের অধিকাংশ অভিযোগই খ্রিষ্টান মিশনারিদের উত্থাপিত অভিযোগের অনুগামী হয়।বিভিন্ন নাস্তিক্যবাদী ব্লগেও[৯] দেখা যায় যে, তথাকথিত মুক্তচিন্তার ধারক-বাহকেরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ ও ইতিহাস উল্লেখ করে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করবার চেষ্টা চালাচ্ছে।তাদের রদ করবার জন্য এ বইতে ব্যাপকভাবে ইহুদি ও খ্রিষ্ট ধর্মীয় উৎস থেকে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এই রেফারেন্সগুলো দেখে কেউ যেন এগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর ন্যায় দলিল মনে না করেন। আল কুরআন হচ্ছে পূর্বের কিতাবগুলোর ওপর তদারককারী বা watcher। কাজেই পূর্ববর্তী বিকৃত ততকদের যে অংশগুলো কুরআনের তথ্যের অনুরূপ, আমি শুধু সেগুলোকেই ব্যবহার করেছি।
“আর আমি তোমার [মুহাম্মাদ] প্রতি কিতাব [কুরআন] নাযিল করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও এর ওপর তদারককারী রূপে। সুতরাং আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তুমি তার মাধ্যমে ফয়সালা করো এবং তোমার নিকট যে সত্য এসেছে, তা ত্যাগ করে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরো না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরীআত ও স্পষ্ট পন্থা এবং আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তোমাদের এক উম্মত বানাতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহরই দিকে তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তনস্থল। অতঃপর তিনি তোমাদের অবহিত করবেন, যা নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে।”[১০]
উলামায়ে কিরামদের মতে,কিছু কিছু শর্তসাপেক্ষে আহলে কিতাবদের (ইহুদিখ্রিষ্টান] গ্রন্থ অধ্যয়ন করা জায়েজ এবং এর উদ্দেশ্য হবে তা থেকে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস খণ্ডন করা, ইসলামের শত্রুদের জবাব দেওয়া ও ইসলামের সত্যতা তুলে। ধরা।[১] আমিও এই শর্তগুলাের মধ্যে থেকে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে উদ্ধৃত করবার চেষ্টা করেছি।অন্ধকার থেকে আলোতে বইয়ের নামকরণ নিয়ে কিছু কথা বলি।অন্ধকার কী? যা আলোকে দেখতে দেয় না। সত্যটাকে চিনতে দেয় না। অন্ধকার মানে হচ্ছে অজ্ঞতা। আর সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা হচ্ছে নিজের স্রষ্টাকে চিনতে না পারা। আসমান ও জমিনের প্রভু মহান আল্লাহ তা’আলার বিরুদ্ধাচরণ করা। যিনি আমাদেরকে আমাদের মায়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, তাঁর ব্যাপারে মিথ্যা বলা। অন্ধকারের পেঁচারা আলোকে সইতে পারে না। আঁধারের নোংরা জীবনই তাদের কাছে বেশি পছন্দের। শয়তান তাদের সামনে কুফর ও শিরককে মোহনীয় করে তোলে। মহান আল্লাহ এদের ব্যাপারে বলেন: “আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত (মিথ্যা উপাস্য)। তারা তাদের আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।”[১২]
মহান আল্লাহ এ আয়াতে নুর বা ‘আলো’ শব্দটি একবচনে ব্যবহার করেছেন। আর ‘যুলুমাত’ বা অন্ধকার শব্দটির বহুবচন উল্লেখ করেছেন। কেন জানেন? কারণ, মিথ্যার অনেক পথ রয়েছে। আর প্রতিটা পথই বাতিল। নাস্তিকতা, সংশয়বাদ, অজ্ঞেয়বাদ, ইহুদিবাদ, খ্রিষ্টবাদ, হিন্দুবাদ—যে নামেই ডাকা হোক না কেন। প্রতিটা পথ কেবল অন্ধকারেই নিয়ে যাবে। সত্য থেকে দূরে সরে নিয়ে যাবে। আর নুর বা আলোর পথ? তা তো একটিই।[১৩]
তবে আলোর পথ বা সত্যটাকে চিনতে পারাই শেষ কথা না। অনেকেই সত্যটাকে চিনতে পারে। কিন্তু তার ওপর ঈমান আনতে পারে না। আবার ঈমান আনলেও তার ওপর অটল থাকতে পারে না। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের ব্যাপারে কী বলেছেন লক্ষ করেছেন? শয়তান তাদের আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। আচ্ছা, যারা কাফির তারা তো এমনিতেই অন্ধকারে রয়েছে। তাহলে, কীভাবে তারা আলো থেকে অন্ধকারে যাবে? কুরআনের তাফসীরকারকেরা এর উত্তর দিয়েছেন। এ আয়াতে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের কথা বলা হয়েছে। যাদের কিতাবে বেশ ভালো মতোই মুহাম্মাদ -এর কথা উল্লেখ ছিল। তাই মুহাম্মাদ এ যে আসবেন, এ ব্যাপারে তারা ঈমান এনেছিল। কিন্তু শেষ নবী মুহাম্মাদ -এর আবির্ভাবের পর তারা জেদ ও হঠকারিতাবশত সে ঈমান থেকে ফিরে যায়। ঠিক যেন আলো থেকে অন্ধকারে ফিরে যায়।[১৪]তাই আমাদের স্রষ্টার দেখানো নুর বা আলোর পথের ওপর ঈমান আনতে হবে।তবে ঈমান আনাই যথেষ্ট না। সে ঈমানের ওপর অটল থেকে ভালালো ভালো কাজ করতে হবে। শয়তান আর তার অনুসারীরা তো আমাদের মনে সংশয়ের বীজ বপনের চেষ্টা করবেই। ওরা চাইবে, আমরাও যাতে ওদের মতাে অন্ধকারে শামিল হই। নর্দমার জনকে বেছে নিই। কিন্তু আমাদের সন্দিহান হওয়া চলবে না। নিজ বিশ্বাসে স্থির থাকতে হবে। তবেই মহান আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং আমাদের অভিভাবক হয়ে যাবেন। তিনিই আমাদের অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যাবেন। এ প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলাই দিয়েছেন:
“যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদের তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।”[১৫]
বইটির জন্য একটি সুন্দর নাম ঠিক করে দিয়েছে অনুজপ্রতিম শিহাব আহমেদ তুহিন। ভাষাবিন্যাসের জন্যও অনেক সাহায্য করেছে সে। “ড্যান গিবসনের সেই পবিত্র শহর’ নামক প্রোপাগান্ডা ভিডিও ও এর জবাব” প্রবন্ধটির জন্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আবু সাদ ভাই। “রাসুলুল্লাহ -এর মৃত্যু নিয়ে ইসলাম বিরোধীদের অপপ্রচার এবং এর জবাব’ প্রবন্ধটিতে ‘আবহার’ ও ‘ওয়াতিন’-বিষয়ক তথ্য ও ছবি দিয়ে সহায়তা করেছেন অ্যান্টিডোট বইয়ের লেখক, যশোর মেডিকেল কলেজের ছাত্র আশরাফুল আলম সাকিফ। এই প্রবন্ধে ‘তাজুল আরুস’গ্রন্থের রেফারেন্সের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি হোসাইন মুহাম্মাদ নাইমুল হক ভাইয়ের। আরেকজনের কথা না উল্লেখ করলেই নয়, তিনি বাংলাদেশের কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া (হাফিজাহুল্লাহ)। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সময় বের করে বইটির আদ্যোপান্ত পড়ে শরয়ী দিকগুলো যাচাই করে দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।বেশ কবছর আগে অনলাইনে নাস্তিকদের লেখা একটি পিডিএফ ফাইল আমার চোখে পড়ে। বাংলাদেশের একটি কুখ্যাত নাস্তিক্যবাদী ব্লগের লেখকদের তৈরি করা প্রশ্নের একটি আর্কাইভ। এখানে তারা ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে শত শত প্রশ্ন তুলেছে। প্রথমে আমি আঁতকে উঠলেও পরবর্তী সময়ে মনে হলো এর দ্বারা ভালোই হয়েছে। ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলাম নিয়ে যত প্রকার প্রশ্ন তুলতে পারে তার প্রায় সবই ওই পিডিএফে ছিল। তাই আমাদের কষ্ট অনেক কমে গেল, বহু জায়গা থেকে না ঘেঁটে বরং এক জায়গাতেই ওদের সিংহভাগ প্রশ্নের ভাণ্ডার পেয়ে গেলাম! যারা অন্ধকারের পূজারি না, তারা এমনিতেই সত্যটাকে চিনে নিতে পারবে। নিশ্চয়ই হেদায়েতের মালিক কেবল আল্লাহ তা’আলাই। বাংলাদেশের নাস্তিক্যবাদী আরও বেশ কয়েকটি ব্লগ আছে, যারা নিয়মিতই ইসলামকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্য লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে, লিখছে। দেশি-বিদেশি নাস্তিক এক্টিভিস্ট এবং খ্রিষ্টান প্রচারকরা বহু আগে থেকেই ইসলামের বিরুদ্ধে অগণিত প্রশ্ন আর অভিযোগের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে রেখেছে। উদাসীন মুসলিমদের সাথে সাথে সচেতন এবং ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈমানের ওপরেও যেগুলো কখনো কখনো আঘাত হেনে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগের জবাব ও তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ খণ্ডন করে আমি এবং কয়েকজন দ্বীনি ভাই লেখালেখির চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের লেখাগুলোর একত্র করে সম্প্রতি একটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে।ওয়েবসাইটটির লিঙ্ক : www.response-to-anti-islam.com
ওয়েবসাইটটি নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে এবং নতুন নতুন লেখা আপলোড করা হচ্ছে ইন শা আল্লাহ। ইসলামবিরোধীদের জবাব ও খণ্ডনের ব্যাপারে এটি একটি তথ্যভাণ্ডার। এখানে ক্রমে তাদের সকল অপপ্রচারের জবাব আপলোড করা হবে ইন শা আল্লাহ। আগ্রহীদের ভিজিট করবার আমন্ত্রণ রইল।আমার মতো একজন নগণ্য মানুষকে ইসলাম নিয়ে কিছু লিখবার তাওফিক দিয়েছেন বলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ বইটিতে যা কিছু ভালো ও কল্যাণকর জিনিস আছে, তা একমাত্র মহান আল্লাহর রহমত ও তাওফিকের কারণে। আর যা কিছু ভুল-ভ্রান্তি আছে, তা আমার অযোগ্যতা ও শয়তানের কারণে। মহান আল্লাহর নিকট আকুল প্রার্থনা তিনি যেন দয়া করে আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করে নেন, ইসলামের ব্যাপারে মানুষের সংশয় ও সন্দেহ দূর করার উপায় করে দেন, এর ভুল ভ্রান্তিগুলো ক্ষমা করে একে আমার, আমার পরিবার-পরিজনের, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ও সকল পাঠকের নাজাতের মাধ্যম করে দেন। আমিন। সলাত ও সালাম আমাদের নেতা আল্লাহর খলিল মুহাম্মাদ -এর ওপর।প্রথম ও শেষে সর্বদা সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার।
লেখক:মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার।

রিফারেন্সঃ

[১] নবীদের আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা
[২] তাফসির ইবন কাসির, সূরা আন নিসার ১৫৭ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য
[৩] যারা আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে; বহু ঈশ্বরবাদী, মূর্তিপূজারি
[৪] অর্থাৎ মুসলিম দাঈ বা ধর্ম প্রচারক। মিশনারি’কথাটি সচরাচর মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। আসলে সেটি ছিল ছোটবেলার উক্তি।
[৫] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ৭৮-৭৯
[৬] আল কুরআন, মায়িদাহ ৫: ১৩-১৪
[৭] “The Gospels that are extant nowadays were written after the time of ‘Eesa (peace be upon him) and have been tampered with a great deal” – islamQA(Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid) https://islamqa.info/en/47516″Corruption of the Tawraat (Torah) and Injeel (Gospel)” – islamQA(Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid) https://islamqa.info/en/2001
[৮] Biblical literature-The Christian canon-Encyclopedia Britannica’ [Textual criticism: manuscript problems অংশ থেকে।]. https://www.britannica.com/topic/biblical literature/The-Christian-canon অথবা শর্ট লিঙ্কঃ https://goo.gl/ZSV6DU Biblical literature – New Testament canon, texts, and versions Encyclopedia Britannica’ https://www.britannica.com/topic/biblical literature/New Testament-canon-texts-andversions অথবা শট লিঙ্কঃ https://goo.gl/62EFhL
[৯] তাদের বিজ্ঞাপন হবার আশঙ্কা না থাকলে এখানে এমন কিছু ব্লগের নাম উল্লেখ করা যেত
[১০] আল কুরআন, মায়িদাহ ৫ : ৪
[১১] “Ruling on studying the books of the People of the Book for the purpose of da’wah (calling them to Islam), and the ruling on studying comparative religion” islamQA(Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid) https://islamqa.info/en/209007
“A Muslim studying other religions – Islam web” https://goo.gl/L9H07e
[১২] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৫৭
[১৩] তাফসির ইবন কাসির, ২য় খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সূরা বাকারাহর ২৫৭ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৩৫৬।
[১৪] তাফসিরে জালালাঈন, ১ম খণ্ড, সূরা বাকারাহর ২৫৭ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৪০
[১৫] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৫৭

অন্ধকার থেকে আলোতে – বইটির সকল লেখনী পড়তে নিন্মের লিঙ্ক সমূহে ভিজিট করুনঃ

এই ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ একে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন