কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আল্লাহ তা‘আলার বাণী:  ﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ ١١٦﴾ [النساء : ١١٦]“নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে…।” আল্লাহর বাণী: ﴿وَإِنِّي لَغَفَّارٞ لِّمَن تَابَ وَءَامَنَ ٨٢﴾ [طه: ٨٢] “আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে।”

প্রশ্ন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ ١١٦﴾ [النساء : ١١٦]  “নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন।” [সূরা নিসা, আয়াত: ১১৬]

তিনি আরও বলেন, ﴿وَإِنِّي لَغَفَّارٞ لِّمَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا ثُمَّ ٱهۡتَدَىٰ ٨٢﴾ [طه: ٨٢] “আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে।” [সূরা তা-হা, আয়াত: ৮২]

উভয় আয়াতের মাঝে কি কোন বিরোধ আছে? আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী:  ﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ ١١٦﴾ “নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তাঁর সাথে শরীক করাকে” দ্বারা কি উদ্দেশ্য? [সূরা নিসা, আয়াত: ১১৬]

উত্তর: উভয় আয়াতের মধ্যে পরস্পর কোন বিরোধ নেই। প্রথম আয়াত যে ব্যক্তি তাওবা না করে শির্ক অবস্থায় মারা যায় তার সম্পর্কে। কারণ, তাকে ক্ষমা করা হবে না এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ ٧٢﴾ [المائ‍دة: ٧٢] “নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৭২] আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, ﴿وَلَوۡ أَشۡرَكُواْ لَحَبِطَ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٨٨﴾ [الانعام: ٨٨] “আর যদি তারা শির্ক করত, তবে তারা যা আমল করছিল তা অবশ্যই বরবাদ হয়ে যেত।”  [সূরা আল-আন‘আম আয়াত: ৮৮] একই বিষয়ক আয়াত আরও অনেক রয়েছে।

আর দ্বিতীয় আয়াত যাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿وَإِنِّي لَغَفَّارٞ لِّمَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا ثُمَّ ٱهۡتَدَىٰ ٨٢﴾ [طه: ٨٢] “আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে।” [সূরা তা-হা, আয়াত: ৮২] এটি তাওবাকারীদের বিষয়ে। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٥٣﴾ [الزمر: ٥٢]  “বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫২]

উলামাগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এ আয়াতটি তাওবাকারীদের সম্পর্কে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ ١١٦﴾ [النساء : ١١٦] “এবং এ ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করেন” [সূরা নিসা, আয়াত: ১১৬]—এ আয়াতটি যারা শির্ক করা ছাড়া অন্য কোন গুনাহ করে তাওবা করা ছাড়া মারা গিয়েছে তাদের সম্পর্কে। তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ। তিনি যদি চান শাস্তি দেবেন যদি চান ক্ষমা করে দেবেন। যদি শাস্তি দেন তবে সে কাফিরদের মতো চির জাহান্নামী হবে না। যেমনটি বলে খারেজী, মু‘তাযিলা এবং তাদের অনুসারীরা। বরং গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়া ও শাস্তি ভোগ করার পর একদিন অবশ্যই সে জাহান্নাম থেকে বের হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতের হাদীস এবং উম্মতের সালাফদের ইজমা এ কথাটি প্রমাণ করে। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন