মূল:সৎ মানুষের হৃদয়ে শয়তান প্রবেশের ধরণ ও প্রকৃতি

ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-খাতির

অনুবাদ :আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

সম্পাদনা : নুমান আবুল বাশার

  ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অসংখ্য অগনিত প্রবেশ পথ রয়েছে শয়তানের, যার কয়েকটি উল্লেখ করছি।

এক :

মুসলিমদের পরস্পরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া এবং অন্যের সম্পর্কে কু-ধারণা সৃষ্টি করা।

ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণিত পবিত্র হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

«إنَّ إبْلِيْسَ قَدْ يَئِسَ أنْ يَعْبُدُهُ الصَّالِحُوْنَ… وَلَكِن يَسْعَى بَيْنَهُمْ فِي التَّحْرِيشِ».  مسلم ২৮১৬

‘‘আল্লাহ ওয়ালারা ইবলীসের বন্দেগী করবে এর থেকে সে নিরাশ হয়ে গেছে, তবে সে তাদের পরস্পরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে।’ (বর্ণনায় মুসলিম : ২৮১৬)

অর্থাৎ পরস্পরের মাঝে কলহ-বিদ্বেষ- গোলযোগ সৃষ্টির প্রয়াস চালায় এবং পরস্পরকে পরস্পরের পিছনে লাগায়।

ভিন্নসূত্রে বণিত হয়েছে

«أنه قد يئس الشيطان أن يعبده المصلون في جزيرة العرب. . .»

‘‘আরব উপদ্বীপে ইবাদত গুজার ব্যক্তিরা শয়তানের উপাসনা করবে, এ থেকে সে নিরাশ হয়ে গেছে।’’

কু ধারণার উৎস মূলত শয়তান।

উম্মুল মু’মিনীন সফিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এতেকাফরত ছিলেন। রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাতে এলাম। কথা বললাম। বাড়ি ফেরার জন্য উঠলাম, তিনিও বিদায় দেবার জন্য আমার সাথে উঠলেন। দু’জন আনসারী সাহাবী রা. তখন আমাদেরকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন, চলার গতি দ্রুত করলেন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাললাম বললেন,

«على رسلكما، إنها صفية بنت حيي».

‘‘আরে তোমরা থাম! সে তো (আমার স্ত্রী) সফিয়্যা বিনতে হুয়াই।’’

ছাহাবাদ্বয় (সসংকোচে) বললেন, ছুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!!

-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

«إن الشيطان يجري من بني آدم مجرى الدم، وإني خفت أن يقذف في قلوبكما شرا، فيقال شيئا»

‘শয়তান মানবদেহে রক্ত প্রবাহের ন্যায় শিরা-উপশিরায় চলাচল করে। তাই আশংকা করলাম যে, তোমাদের অন্তরে সে কু-ধারণা ঢেলে দিতে পারে, যার ফলে কোন কিছু বলা হতে পারে।

(বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম)

রাতে একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে চলছে, স্বভাবতই এখানে সন্দেহ ও কুধারণার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ ধারণার সম্ভাবনা দূর করার জন্য বললেন- তোমরা থাম, ইনিতো (আমার স্ত্রী) সফিয়্যা রা.। এ কারণেই সন্দেহের সম্ভাবনা আছে, এমন অবস্থার সম্মুখীন হলে, দর্শন শ্রোতাদের কাছে অবস্থান এমনভাবে সুস্পষ্ট করা আবশ্যক, যাতে কু-ধারণার কোনো অবকাশই না থাকে।

মন্দ ধারণা শয়তানের অন্যতম প্রবেশপথ। তাই সর্বদা সে আপনাকে এ মনোভাবাপন্ন করবে যে, কোন কথা শুনলেই যেন  আপনি তার নেতিবাচক ব্যাখ্যা করেন।

শয়তান মানুষের মাঝে উস্কানিও দেয়। সুলাইমান ইবন সরদ রা. বর্ণিত হাদীস এর প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.) এর সাথে বসা ছিলাম। দু’ব্যক্তি পরস্পরে গালাগালি করছিল। ইতোমধ্যে একজনের মুখমন্ডল ক্রোধে রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন- ‘আমি এমন একটা কালেমা জানি, যদি সে তা বলত, তাহলে তার ক্রোধ দূরীভূত হয়ে যেত। যদি সে বলত

«أعوذ بالله من الشيطان الرجيم».

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি।

 

দুই :

বিদ‘আতকে মানুষের জন্য সুসজ্জিত করা। বিদ‘আতকে সুসজ্জিত করে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে শয়তান মানুষের কাছে এসে বলে, আজকাল লোকেরা দ্বীন-ধর্ম পরিত্যাগ করেছে। তাদেরকে দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তন করানো দুস্কর। তাই কোনো কোনো ‘ইবাদত যদি আমরা বাড়িয়ে করতাম, তাহলে হয়ত লোকেরা পূণরায় ‘ইবাদতে লিপ্ত হত।

কখনো আবার সে হাদীসে বর্ণিত ‘ইবাদাতের উপর বর্ধিত কোনো পদ্ধতি নিয়ে এসে বলে, ‘ভালোর বৃদ্ধিও ভাল’, তাই বাড়িয়ে কর। এ বৃদ্ধি তখন এ ‘ইবাদতের আদলেই বা নয়া সংযোজন রূপে অস্তিত্ব লাভ করে।

আবার কেউ কেউ বলে, লোকেরা দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছে তাই ভীতি সঞ্চারক[1] কিছু হাদীস সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এই বলে মনগড়া হাদীস তৈরী করে রাসূলের নামে বর্ণনা করে। আর বলে, আমরা মিথ্যা বলি, তবে রাসূলের বিরুদ্ধে নয়; পক্ষে।

অদ্ভুত যুক্তি! রাসূলের পক্ষে (?) মিথ্যা বলে! তাই মনগড়া হাদীস তৈরী করে তা দ্বারা লোকদেরকে জাহান্নামের ভয় দেখায়। অভিনব পন্থায় জাহান্নামের চিত্রায়ন করে; আমরা জানি যে, ইবাদাতসমূহ শরী‘আত নির্ধারিত। অর্থাৎ আল্লাহর থেকে রাসূলের কাছে যেভাবে এসেছে, রাসূলের থেকে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, আমরা হুবহু সেভাবেই  গ্রহণ করব। কোনো বৃদ্ধি-সংযোজন ইচ্ছামাফিক পরিবর্তনের অবকাশ নেই। যদি করি, তবে সেটাই বিদ‘আত যা শয়তানের কাজ। অনেক লোক এমন আছেন স্বীকার করেন কাজটি বিদ‘আত।

তারপরও করেন এ যুক্তি দিয়ে যে এর দ্বারা আল্লাহ মানুষকে হেদায়েত করতে পারেন। এর দ্বারা মানুষকে ডেকে কিছু ভাল কথা শুনানো যায়। এতে মন্দের কি আছে?

তিন :

এক দিককে অন্যদিকের তুলনায় অধিক প্রাধান্য দেয়া, এটা দু’ভাবে হতে পারে; সামাজিক পর্যায়ে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে।

(ক) সামাজিক পর্যায়

কোনো ব্যক্তি অসংখ্য পাপাচার ও নাফরমানী করে, পাশাপাশি নামাযও পড়ে। গুনাহসমূহের ব্যাপারে মনকে এই বলে প্রবোধ দেয় যে, নামায দ্বীনের স্তম্ভ; কেয়ামতের দিন মানুষের আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম দৃষ্টি দেয়া হবে নামাযের প্রতি। আর তুমি তো নামায পড়ছই, তাই সামান্য কিছু পাপাচার নাফরমানিতে কোনো অসুবিধা নেই ।

তখন সে অন্যান্য ইবাদতের ত্রুটিগুলোর বৈধতা দানের জন্য নামাযকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় এবং অন্য বিষয়সমূহের হিসাবের তুলনায় নামাযকেই বড় করে দেখে।

নামাযই দ্বীনের স্তম্ভ, কথা সত্য, তবে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন নয়। তাই শয়তান তার ত্রুটিসমূহের বৈধতা দানের জন্য এ পথ অবলম্বন করে, যাতে সে বিভ্রান্ত হয়।

অন্য এক ব্যক্তি এসে বলে, ইসলাম হল ‘মু‘আমালা’ বা ভাল আচরণের নাম। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়তো এটাই যে, তুমি লোকদের সাথে সদাচারী হবে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করবে না, তাদেরকে ধোকা দেবে না। নামায না পড়, না পড়, কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ‘‘দ্বীন হল ভাল আচার-আচরণ’’ অর্থাৎ নামাযের তুলনায় মু‘আমালাত বা ভাল আচার-ব্যবহার অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাই নামাযের উদাসীন হলেও মু‘আমালার ব্যাপারে সচেতন থেকো।

এমনিভাবে পাবেন অনেক এমন ব্যক্তিকে, যে মনে করে নামায-রোযা করলে নিজের উপকার। আর মানব সেবা করলে মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়। আল্লাহও খুশী হন। আল্লাহ নিজেও মানুষের কল্যাণের জন্য সব কিছু করেছেন। তাই সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মানব কল্যাণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো বলেছেনঃ ‘‘দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা।’’ এটা মনে করে সে নামায-রোযার গুরুত্ব দেয় না। মানব কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে ব্যস্ত। এটাও শয়তানের একটি প্রবেশ পথ।

অপর এক ব্যক্তি নেক আমলসমূহ বর্জন করে শুধু সুন্দর নিয়্যতের উপর নির্ভর করে এবং বলে, ‘দ্বীনের জরুরী বিষয়তো পরিশুদ্ধ নিয়্যত’। তাই তো আমি হিংসা বিদ্বেষমুক্ত পরিচ্ছন্ন অন্তরে রাত যাপন করি।

অনেকে কুরআন শিক্ষাদান, কিরাত ও তাজভীদে গুরুত্ব দেন। তাই অন্য বিষয়ের তুলনায় এ বিষয়টিকে তারা শ্রেষ্ঠত্ব দেন। আর একটি বিষয় তাদের কাছে গুরুত্ব পাওয়ায় অন্য অনেক বিষয় তারা পরিত্যাগ করেন। সন্দেহ নেই যে, এটাই ইসলামের একমাত্র বিষয় নয়। আবার এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়াও ভুল নয়; বরং ভুল তো হল, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তুলনায় একটি বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা।

(খ) সামাজিক পর্যায়

সামাজিকভাবেও বিশেষ একটি দিককে প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। তাই সমাজে এ কথা বলার একটা ‘হুজুগ’ প্রত্যক্ষ করবেন যে, সবচে’ বেশী গুরুত্বের বিষয় তো মুসলিম ও মুসলিমদের দুশমনদের অবস্থা অবহিত হওয়া। আর রাজনৈতিক বিষয়াবলীতো আরো গুরুত্বের। কারণ, বর্তমানে আমরা যে যুগে বাস করছি তা শুধু সুফি দরবেশদের যুগ নয়।

এ ধরনের হুজুগ প্রবণদের দেখবেন, তারা সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, মাসুনিয়াহ, বাহাই ও কাদিয়ানী সব মতবাদ আত্মস্থ করেছে। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করুন, দেখবেন, ঠুটো জগন্নাথ’ কিছু জানে না। এরা সমকালীন বিষয়কে অধিক প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে একপক্ষ ‘ইবাদতকেই অধিক প্রাধান্য দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর সাথে সম্পর্কই চূড়ান্ত বিষয়; নামায, দুনিয়া বিমুখতা ও তাকওয়াই মূখ্য এবং আত্মিক বিষয় ছাড়া অন্যসব বিষয় মূল্যহীন।

অপর একদল পাবেন, যারা  বলে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই আসল বিষয়। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  

﴿ وَٱعۡتَصِمُواْ بِحَبۡلِ ٱللَّهِ جَمِيعٗا وَلَا تَفَرَّقُواْۚ ﴾ [ال عمران: ١٠٣]

‘‘এবং তোমরা সবে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর, আর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’’ [সূরা আলে ইমরান: ১০৩]

এ মতকেই তারা প্রতিপাদ্য বিষয় সাব্যস্ত করে, এমনকি আক্বীদার ওপরও! তাই তারা বিপরীত আক্বীদা পোষণকারীদের সাথেও আলাপ-আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়, এ দাবী তুলে যে, যখন শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে কুকুরের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে এমন মুহুর্তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হব, এটাই সময়ের প্রধান দাবী। অথচ সঠিক ছিল তো বুনিয়াদের ওপর, দ্বীনের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া। নৈরাজ্য ও আক্বীদা বিশ্বাসে ভিন্নতার ওপরে নয়।

অতএব আলোচ্যবিষয়গুলো ও অন্যান্য বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। মোটকথা, বিশেষ কোনো দিককে ভিন্ন দিকের তুলনায় প্রাধান্য প্রদান, এটাই শয়তানের বহুল ব্যবহৃত পথ।

চার :

করব-করছি, এরকম কাল বিলম্ব করা

করব-করছি, কাল বিলম্ব করা, প্রলম্বিত আশা, বা অনেকে যে বলে, ‘কঠিন সমস্যায় আছি’ ইত্যাদি সবই শয়তানের প্রবেশ পথ।

অনেকেই সাধারণ কোনো একটা বিষয়কে ‘প্রতিবন্ধক’ সাব্যস্ত করে। যেমন বলে, ‘পড়া-লেখা শেষ করে ইনশাআল্লাহ’ তাওবা করব। এটা পড়া লেখার প্রতিবন্ধকতা। পড়া-লেখার পাঠ চুকিয়ে বলে, ঐ চাকরিটা পেলে ‘তাওবা’ করব, যখন ‘বিবাহ’ করব, যখন… যখন… আর যখন! এ যখন শেষ হয় না কখনো।

মানুষ সর্বদা সামনে একটা কল্পিত বাঁধা দাঁড় করিয়ে রাখে। করব- করছি, ধীর-সুস্থে করে-করে প্রলম্বিত আশা নিয়ে জীবন যাপন করে। এভাবেই বেঁচে থাকে। অতঃপর মৃত্যুবরণ করে। কিছুই করতে পারে না। প্রকৃত জীবন শুরুই করে না।

আপনার কাছে শয়তানের চূড়ান্ত প্রত্যাশা, আপনাকে আমল থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা কিংবা আমল বিলম্বিত করা। আর এটা আল্লাহ ওয়ালাদের জন্য শয়তানের অবলম্বিত ভয়ংকর পথ।

শয়তান এসে আপনাকে কু-মন্ত্রণা দেবে যে, তুমি এখনও অন্যকে শিক্ষা দেয়া বা দাওয়াত দেয়ার মত উপযুক্ত নও, তাই নিজে শেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। অথচ একটি আয়াত জানলেও তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা আদিষ্ট। তাই যখনই কিছু শিখবেন অন্যকে তা শেখান! হোক তা একটি আয়াত!!

ইবনুল জাওযী রহ. ‘তালবীসে ইবলীস’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘শয়তান প্রচেষ্টায় দৃঢ় সংকল্প কত ব্যক্তিকে করব-করছির টালবাহানায় ফেলেছে! অর্থাৎ এই তো করব বলিয়েছে। উৎকর্ষের পথে ধাবমান কত ব্যক্তির সময় ক্ষেপন করিয়েছে! অনেক সময় বিদ্যান ব্যক্তি পাঠ পূর্ণ অধ্যয়নের ইচ্ছা করেন, তখন শয়তান বলে, ‘খানিক বিশ্রাম নিন’ এভাবেই সে অলসতাকে বানাচ্ছে প্রিয়, আর কাল ক্ষেপন করাচ্ছে বিরামহীনভাবে।

অনেক সময় রাতে নামাযে অভ্যস্ত ‘আবেদের কাছে এসে শয়তান বলে, রাত এখনও অনেক বাকী! এভাবেই সকাল হয়ে যায়, কিন্তু ‘আবেদের আর নামায আদায় করা হয় না।

পাঁচ :

কৃত্রিম পূর্ণতা

‘তুমি পরিপূর্ণ’- মানুষের সমাজে এ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে শয়তান। বলে, তুমি অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। তুমি নামায পড়, অন্যরা অনেকেই নামায পড়ে না। তুমি রোযা রাখ, অন্যরা অনেকেই রোযা রাখে না। এভাবে নেক আমলের ক্ষেত্রে সে আপনাকে অধস্তনদের প্রতি তাকাতে শেখায়। এ সব কিছু সে আপনাকে আমল থেকে দূরে সরানোর জন্য করে, যখন আপনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবেন, তখন বিভ্রান্ত হয়ে অনেক আমল-ভালকাজ থেকে দূরে সরে যাবেন।

তোমার আমলই তোমার জন্য সুপারিশ করবে বলে ব্যক্তিকে শয়তান মুবাহ আমলে লিপ্ত রাখে। তারপর বলে খানিক বিশ্রাম নিন; আপনিতো ব্যস্ত, আপনি তো অন্যদের তুলনায় ভালো। এসব বলে কালক্ষেপণ করায় এবং ভালকাজ ও আমল থেকে তাকে বিরত রাখে।

উচিততো ছিল উল্টোটা, নেক আমলের ক্ষেত্রে যারা অগ্রগামী তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, অর্থাৎ এক ব্যক্তি সোম-বৃহঃ- রোজা রাখে, কিন্তু আপনি রাখেন না; এক ব্যক্তি তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে, আপনি করেন না। এক ব্যক্তি অধিক নফল আমল করে, কিন্তু আপনি করেন না… তার প্রতি দৃষ্টিপাত করা আপনার কর্তব্য ছিল। 

ছয় :

নিজের সত্ত্বা ও তার সামর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন না করা।

সত্ত্বার মূল্যানের ক্ষেত্রে শয়তানের দু’টো দৃষ্টিভঙ্গি আছে

দৃষ্টিভঙ্গি-১. আত্মতুষ্টি ও অহমিকাঃ

প্রথমত শয়তান মানুষকে নিজ সত্ত্বার প্রতি বিমুগ্ধদৃষ্টি প্রদানে প্রবৃত্ত করে। তুমি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ, কত কী-ই না করেছ। তখন ঐ ব্যক্তির (মনস্তাত্তিক) পরিবর্তন ঘটে; ক্রমশ সে অহংকারী হয়, অহমিকা তাকে আচ্ছন্ন করে। অন্যদের সে তখন অবজ্ঞা করে, সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং ভুল করলে সংশোধনে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদের থেকে শিখতে, ইলমের আলোচনায় বসতে অনীহা প্রদর্শন করে। এ জাতীয় কোনো কোনো হালকায় (আলোচনা সভায়) আমি প্রত্যক্ষ করেছি যে, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে যখন কোনো ব্যক্তি ভুল করে, তখন ভুল শুদ্ধ হওয়া পর্যন্ত হালকাগুলো অবধারিত করে নেয়ার পরিবর্তে সে তৎক্ষনাৎ হালকাগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। জন সমক্ষে লজ্জিত হবে, এ ভয়ে গোটা জিন্দেগী সে শেখে না।

একটু চিন্তা করলেই সে বুঝত, যে ভালভাবে পড়তে সক্ষম সে ব্যক্তিও কোনো একদিন তার মতই ছিল। (পড়তে জানতো না) তারপর শিখেছে। ঐ ব্যক্তির এ গুণটি যতদিন রইবে ততদিন তার সঙ্গ দেবে। তার উপকারে আসবে। কবি বলেন- যখনই তুমি কোন রাজপুরুষের সঙ্গ পাবে, তার লোকসমাজে গুপ্ত দোষগুলোও তুমি জানবে।

এ জন্য মন্দ স্বভাব লুকানো নয় বরং এর থেকে নিস্কৃতি পেতে আত্ম প্রশিক্ষণে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক।

 

দৃষ্টিভঙ্গি-২. বিনয় ও হীনমন্যতা

শয়তান আপনাকে বলবে বিনয় অবলম্বন অত্যন্ত জরুরী। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করবে আল্লাহ তার মর্যাদা সমুন্নত করবেন।

আর তুমি এ বিষয়ের যোগ্যও নও। এটাতো মনীষীদের কাজ। এর দ্বারা শয়তানের উদ্দেশ্য, আপনাকে আপনার মিশনচ্যুত করা। আর এটা হবে বিনয়ের মাধ্যমে।

শয়তান আপনাকে হীনমন্যতার এমন পর্যায়ে ঠেলে দেবে, যেন আপনার ধারণা জন্মে যে, আত্মশক্তির উৎকর্ষ সাধনে সত্ত্বাগত শক্তি দিয়ে আপনি কোনরূপ উপকৃত হতে পারবেন না। তাই আত্মশক্তির উন্মেষ ঘটাতে আপনি সচেষ্ট হবেন না। অথচ আমরা প্রত্যেকেই নিজ-নিজ শক্তি ও সামর্থ্যের ব্যাপারে দায়িত্বশীল; এর উৎকর্ষ সাধন অত্যাবশ্যক। যদি উৎকর্ষ সাধন না করা হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে এর জন্য জওয়াবদিহি হতে হবে। দিতে হবে হিসাব।

এটা মূলতঃ বিনয় নয়, দায়িত্ব হতে পলায়ন, কর্তব্যে ফাঁকি। কিন্তু শয়তান তাকে বলে, তোমার তুলনায় শ্রেষ্ঠ যারা, তাদের জন্য এ অঙ্গন ছেড়ে দাও। দাওয়াত তো উঁচু কাজ; অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিদের কাজ। কখনও শয়তান এর সহায়ক ভাবনা নিয়েও আসে। দায়িত্ব পালনে কোন ব্যক্তি কখনও ভুল করে। তখন শয়তান তার মনে ভুলের ব্যাপকতার ধারণা সৃষ্টি করে যে, এমন ভুলতো সবাই করে ব্যাপকতার এ ধারণাটাও শয়তানের পথ এবং কাজ।

কখনও সে মানুষকে সত্ত্বাগতভাবে হীনমন্যতায় ভোগায়। তখন মানুষ নিজ বিবেককে এমন ভাবে নিস্ক্রিয় করে যে, নিজে আর চিন্তা-ভাবনা করে না। এ প্রশ্ন তুলে আমি কোথায়, আর পীর সাহেব কোথায়? আলেমদের সামনে আমি কে? নিজের বোধ-বুদ্ধি নিস্ক্রিয় করে পীরের বোধ বুদ্ধিতেই ভাবতে থাকে। পীরের কথা ছাড়া কিছুই করে না। পীরই ঠিক বাকি সবকিছু  ভুল, এ প্রবণতা থেকেই শুরু হয় ‘ব্যক্তি পূজা’ আর ‘ব্যক্তিবন্দনা’।

আমাদের মূলনীতি শরীয়তের আশ্রয় গ্রহণ। আপনার সম্মুখস্থ এ ব্যক্তির পক্ষে ভুল করা সম্ভব। তাই ব্যক্তির মতামত ও কথাগুলো আল্লাহ ও রাসূলের কথা দ্বারা পরিমাপ করতে হবে, যা আল্লাহ ও রাসুলের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তা গ্রহণ করব। আর যা সমাঞ্জস্যপূর্ণ হবে না তা প্রত্যাখান করব।

সাত :

সন্দেহ সৃষ্টি

‘সন্দেহ সৃষ্টি’ শয়তানের ভয়ঙ্কর পথসমূহের অন্যতম। যে পথে শয়তান মানুষের অভ্যন্তরে, আবির্ভূত হয়। কিন্তু কীভাবে তা করে?

নিষিদ্ধকৃত বস্তু থেকে দূরে, আল্লাহর নির্দেশের অনুগামী, নিষ্ঠাবান এমন এক ব্যক্তির অনুসৃত জীবন পদ্ধতির শুদ্ধতার ব্যাপারে শয়তান সন্দেহের সৃষ্টি করে।

কিভাবে?

শয়তান প্রথমে তার কাছে আসে। তারপর তার অনুসৃত পথের শুদ্ধতার ব্যাপারে তাকে সন্দিহান করে। বিশেষ করে যখন অসৎ মানুষটি মন্দলোকদের যারা আল্লাহর নির্দেশ মানে না তাদের সাথে মেশে, তখন শয়তান তাঁকে কু-মন্ত্রণা দেয় ‘এত মানুষ! সবাই জাহান্নামী!! আর তুমি একা জান্নাতী?!

সঠিক কথা হল, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যা লঘিষ্টতাকে মাপকাঠি না বানানো। বরং আল্লাহ ও রাসূলের কথানুযায়ী হলে সেটাই হক।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাপকাঠি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়; সত্যানুবর্তিতা। তাই আপনি যদি একাই সত্যানুবর্তী হন, তবুও আপনিই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত। আল্লাহ তা‘আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন-

﴿ وَمَآ أَكۡثَرُ ٱلنَّاسِ وَلَوۡ حَرَصۡتَ بِمُؤۡمِنِينَ ١٠٣ ﴾ [يوسف: ١٠٣] 

‘‘আপনি যতই কামনা করেন না কেন, অধিকাংশ লোকই ঈমান আনবার নয়।’’ (অর্থাৎ কম সংখ্যক লোকই ঈমানের দৌলত পেয়ে থাকে।)

তাবেয়ী নু‘আইম ইবন হাম্মাদ রহ. বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত তাই, যা আল্লাহর আনুগত্য মোতাবেক চলে। জামা‘আত যদি পথচ্যুত হয়, তাহলে আপনার কর্তব্য, জামা‘আত পথচ্যুত হওয়ার পূর্বে পোষিত আকীদাকেই আঁকড়ে থাকা। এ ক্ষেত্রে যদি আপনি একাও হন তবুও আপনিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত।’

নিয়্যতে সন্দেহ সৃষ্টি শয়তানের প্রবেশ পথের অন্যতম। তাই নিয়্যাতে সন্দেহ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লোকদেরকে সে বলে, আপনি রিয়াকার (লোক দেখানো ভাবনা পোষণকারী) আপনি প্রদর্শন প্রিয়, আপনি কপট। আপনি নেক আমল বা সৎকর্ম করেছেন মানুষের কারণে। ব্যক্তিকে আমল পরিত্যাগী করাতে সে এসব বলে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে।

এর একটা উদাহরণ :

এক ব্যক্তি সাদকা করার ইচ্ছা পোষণ করল। অন্য এক ব্যক্তি তাকে দেখে ফেললো। তখন সে মনে মনে বললো, যদি সে আমাকে দেখে তাহলে রিয়াকার ভাববে। তারচে’ সাদকা না করাই ভাল। (এভাবে নিয়্যাতে সন্দেহ সৃষ্টি করে নেক আমল পরিত্যাগ করায় শয়তান।)

নিয়্যতের ক্ষেত্রে আমরা আত্ম-সমালোচনা ও আত্ম যাচাইয়ের প্রতি আদিষ্ট, যাতে নিয়্যতটা একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।

বিখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম ইবন আদহাম রহ. বলেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে ইখলাসহীন আমলের আশঙ্কা করেছেন।

আত্মযাচাই ও আত্নসমালোচনা কাম্য। তবে এমন আত্মযাচাই নয়, যা আপনাকে আমল পরিত্যাগকারীতে পরিণত করবে। বরং আমলের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করবে এমন আত্মযাচাই ও আত্ম-সমালোচনাই কাম্য।

হারেস ইবন কায়েস রা. বলেন- ‘‘আপনি নামাযরত এ অবস্থায় শয়তান এসে যদি আপনাকে বলে ‘তুমি তো মানুষকে দেখানোর জন্য নামায পড়ছো’ তাহলে নামায আরো দীর্ঘ করুন।’’

আট :

ভীতি প্রদর্শন

মানুষকে দু’পন্থায় শয়তান ভীতি প্রদর্শন করে।

ভীতি প্রদর্শনের প্রথম পন্থাঃ

শয়তানের বন্ধুদের ভয়

শয়তান লোকদেরকে তার সেনা ও সাঙ্গপাঙ্গ, পাপী-ফাসিকদের সম্পর্কে ভয় দেখিয়ে বলে, এদের থেকে সাবধান! এরা সুবিপুল শক্তির অধিকারী। তখন ভয়ে লোকেরা আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করে আমল ছেড়ে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

﴿ إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ يُخَوِّفُ أَوۡلِيَآءَهُۥ فَلَا تَخَافُوهُمۡ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ١٧٥ ﴾ [ال عمران: ١٧٥]

‘‘শয়তানই তোমাদের তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। সুতরাং যদি তোমরা মু’মিন হও, তবে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না। কেবলমাত্র আমাকেই ভয় কর।’’ (সূরা আলে ইমরান : ১৭৫)

অর্থাৎ শয়তান আপনাদেরকে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ভয় দেখায়। কাফের, মুশরিক, মুনাফিক শক্তির ভয় দেখিয়ে আপনাকে দুর্বল করতে চায়।

ভীতি প্রদর্শনের দ্বিতীয় পন্থাঃ

দারিদ্রের ভয়

আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

﴿ ٱلشَّيۡطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلۡفَقۡرَ وَيَأۡمُرُكُم بِٱلۡفَحۡشَآءِۖ ﴾ [البقرة: ٢٦٨] 

‘‘শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়।’’ [সূরা আল-বাকারাহ: ২৬৮]

শয়তান লোকদেরকে বলে, এ চাকরিটা ছেড়ে দিলে আরেকটা চাকরি কোথায় পাবে?

তুমি তো নিতন্ত দরিদ্র হয়ে যাবে। তখন লোকেরা দারিদ্রের ভয় করে এবং হারামে লিপ্ত হয়। যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মদের কেনা-বেচা, সূদী লেন-দেন, মুসলিমদের শত্রুদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যবসা ও বিপনন বৈধ মনে করে এটা তার উদাহরণ। আল্লাহর আশ্বাসে আস্থা না রেখে মুক্তির আশা নিয়ে রিযকের জন্য আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ায় শয়তান তাকে নিয়ে হাসে। কারণ, রিযকের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং বলেন-

﴿وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ﴾ [الطلاق: ٢،  ٣] 

‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিযক দান করবেন।’’ (সূরা আত-তালাক : ২-৩)

আমরা সুদ গৃহীতাকে দারিদ্র শঙ্কায় শঙ্কিত হতে দেখি। সে বলে, কীভাবে বাঁচব? মানুষ তো স্বচ্ছল হয়ে গেল। আর আমি আজো নিঃস্ব!

কখনও শয়তান বাতিলকে ইসলামের দাওয়াতকর্মীদের সামনে সজ্জিত করে উপস্থাপন করে। তখন সে যুক্তির আশ্রয় নিয়ে হারামকে হালাল করে।

‘দাওয়াতের স্বার্থেই তো মিথ্যা বলা’ এ যুক্তিতে সে দাওয়াতকর্মীকে মিথ্যায় লিপ্ত করে।

‘দাওয়াতের স্বার্থই এ বিষয়ের দাবী করে’ – এ ব্যাখ্যা করে শয়তান বাতিলকে এমনভাবে শোভিত করে, যেন মনে হয় সেটাই প্রকৃত হক।

কখনও মুসলিম সমাজে আমরা এ মুসলিম কর্তৃক অপর মুসলিমকে, এক দাওয়াতকর্মী কর্তৃক অপর দাওয়াতকর্মীকে, এক আলেম কর্তৃক আরেকজন আলেমকে কোনঠাসা করতে দেখি, অবমুল্যায়ন করতে দেখি। একজন অন্যজনকে কোনঠাসা করছে, দোষ চর্চা করছে। একজন কাফের, ফাসিক, ফাজিরের সাথে যতনা মন্দ আচরণ করা উচিত, তার চেয়ে অধিক মন্দ আচরণ করে তারা একে অপরের  সাথে।


[1] অথবা আগ্রহ ও উৎসাহব্যঞ্জক, অথবা ফযিলত বিষয়ক কিছু হাদিস বানিয়ে বলা বা বর্ণনা করা। [২য় সম্পাদক]