মূল:সৎ মানুষের হৃদয়ে শয়তান প্রবেশের ধরণ ও প্রকৃতি

ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-খাতির

অনুবাদ :আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

সম্পাদনা : নুমান আবুল বাশার

  ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আক্বীদার ক্ষেত্রে এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন যে, শয়তান মূলত কী? বাস্তব কোনো বস্তু না রূপক কিছু? না মন্দ চিন্তা আর কুমন্ত্রণাই শুধু। যেমন অনেকের ধারণা। না জীবানু, যেমন অন্য অনেকের ধারণা। না মন্দের প্রতীকী চরিত্র? আলোচনার স্বার্থে আমরা একে মন্দের প্রতীকই ধরে নেব।

এ ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা কী?

আমাদের আক্বীদা, শয়তান (বাস্তব) ও সে জিন-জাতির অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেনঃ

﴿ وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ كَانَ مِنَ ٱلۡجِنِّ فَفَسَقَ عَنۡ أَمۡرِ رَبِّهِۦٓۗ﴾ [الكهف: ٥٠] 

‘‘আর স্মরণ কর, আমি যখন ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তখন সকলেই সিজদা করল ইবলীস ব্যতীত; সে জিনদেরই একজন। সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল।’’

(সূরা আল-কাহাফ : ৫০)

তাই, আমরা জিন-ইনসানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করি। আর শয়তান জিনের প্রকারভুক্ত এবং তারা প্রত্যেকটি মানুষের সাথে রয়েছে।

ইমাম মুসলিম রহ. সূত্রে ইবনে মাসউদ রা. বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র বাণী একথার স্বপক্ষে প্রমাণ-

«وَمَامِنْكُمْ مِنْ أحَدٍ إلاَّ وَقَدْ وُكِلَ قَرِيْنُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِيْنُهُ مِنَ الملَائِكَةِ، قالوا: وإياك يا رسول الله؟ قال: وَإيّاي، ولكِنَّ الله َ عز و جل- أَعَانَنِيْ  عَلَيْهِ، فَلَا يَأمُرُنِي إلا بِحَقٍّ». (رواه مسلم في صفات المنافقين، برقم : ২৮১৪)

‘‘তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই জিন ও ফিরিশতাদের মধ্য হতে একজন একজন করে সঙ্গী নির্ধারণ করা হয়েছে’’। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার সাথেও কী?

বললেন, ‘‘হাঁ আমার সাথেও। তবে মহান আল্লাহ আমাকে তার বিরুদ্ধে জয়ী করেছেন। তাই সে আমাকে কেবল হকেরই নির্দেশ দেয়।’’ (বর্ণনায়ঃ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৪)

তাহলে বোঝা গেল, প্রত্যেকের সাথেই একজন করে জিন সঙ্গী রয়েছে। (যে তাকে কুমন্ত্রণা দেয়) এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথেও। তবে তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে জয়ী করেছেন। তাই সে তাঁকে একমাত্র হকের নির্দেশ দেয়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-

﴿ قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ مَلِكِ ٱلنَّاسِ ٢ إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ٣ مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ ٤ ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ لنَّاسِ ٥ مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ 6 ﴾ [الناس: ١،  ٦] 

‘‘বল, আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের মাবুদের কাছে; আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য হতে কিংবা মানুষের মধ্য হতে।’’ [সূরা আন-নাছ ১-৬]

কুমন্ত্রণা কখনো মন্দমানুষের থেকে, কখনো জীনের থেকে হয়। ‘জিন শয়তান’ ও মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়।

শয়তানের সন্তান-সন্ততিও আছে এরা বংশ বিস্তার করে।

﴿أَفَتَتَّخِذُونَهُۥ وَذُرِّيَّتَهُۥٓ أَوۡلِيَآءَ﴾ [الكهف: ٥٠] 

‘‘তবে কি তোমরা শয়তানকে এবং তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করছ?’’ (সূরা আল-কাহাফ : ৫০)

পার্থিব জগতে মানুষকে ভ্রষ্ট করতে শয়তানের বংশধর ও অনুসারীরা অবিরাম প্রয়াস চালাচ্ছে।