ফিকহী গবেষণা সেন্টার, আল-ইমাম ইউনিভার্সিটি

অনুবাদ: আব্দুল আলীম ইবন কাওসার

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বিবরণ: রোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু কিছু রোগীর রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু কখনও কখনও দেখা যায় যে, রোগী সাওম রেখেছে। এক্ষণে, রক্ত পরীক্ষা করালে কি তা তার সাওমে কোনো প্রভাব ফেলবে?

হুকুম: পরীক্ষার জন্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সামান্য পরিমাণ রক্ত নিলে তা শিঙ্গা লাগানোর মত বিবেচিত হবে না। কেননা কোনো কোনো হাদীসে শিঙ্গা লাগালে কেন সাওম নষ্ট হবে, তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর তা হচ্ছে, রোগীর দুর্বলতা বোধ। কিন্তু সামান্য রক্ত নিলে সেই দুর্বলতা সৃষ্টি হয় না। শাইখ মুহাম্মাদ উসাইমীন রহ. এই মতের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে ফাতওয়া দিয়েছেন। সাওম নষ্ট না হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, রোগীর দেহ থেকে সংগৃহীত রক্ত অবশ্যই খুব সামান্য হতে হবে। উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো সময় এক সাথে কয়েক রকম পরীক্ষার জন্য বেশি পরিমাণ রক্ত নেওয়া হয়। আর সংগৃহীত রক্তের পরিমাণ যদি বেশি হয়, তাহলে আগের মাসআলার মতভেদ এখানেও প্রযোজ্য হবে। সঊদী আরবের ‘আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ লিল-বুহূছ আল-ইলমিইয়া ওয়াল-ইফতা’-এর ফাতওয়ায় এসেছে, ‘সংগৃহীত রক্ত যদি সামান্য পরিমাণ হয়, তাহলে তাকে ঐ দিনের ক্বাযা আদায় করতে হবে না। পক্ষান্তরে সংগৃহীত রক্ত বেশি হলে ঐ দিনের ক্বাযা আদায় করতে হবে। তাহলে একদিকে যেমন মতানৈক্যের ঊর্ধ্বে থাকা যাবে, অন্যদিকে তেমনি সাবধানতা অবলম্বন করা হবে’।[1]


[1] ফাতওয়া নং ৫৬।