কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:  الذي يأتي بالشهادة قبل أن يسألها “সে সাক্ষ্য প্রদান করে তার কাছে সাক্ষ্য প্রদান তলব করার পূর্বে।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ “তোমাদের এমন এক সম্প্রদায়ের লোকদের আগমন ঘটবে যারা তাদের কাছে সাক্ষ্য তলব করার পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করবে।”

প্রশ্ন: হাফেয আল-মুনযিরী রহ. সংক্ষিপ্ত সহীহ মুসলিমে পৃষ্ঠা নং ২৮১, হাদীস নং ১০৫৯ যায়েদ ইবন খালেদ আল-জুহানী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  قال ألا أخبركم بخير الشهداء ؟ الذي يأتي بالشهادة قبل أن يسألها “আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম সাক্ষ্যগণ কারা সে বিষয়ে সংবাদ দেব? তারা হলো, যারা তাদের নিকট সাক্ষ্য তলব করার পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করে।”[1] এ হাদীসটির মাঝে এবং পরবর্তী হাদীস— إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ  “তোমাদের পর এমন এক সম্প্রদায়ে আগমন ঘটবে তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হয়নি।”[2] এর মধ্যে বিরোধ নিরসন কীভাবে?

উত্তর: যে সব হাদীসে আগে আগে সাক্ষ্য প্রদানকে নিন্দা করা হয়েছে, ঐ হাদীসগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সব যারা সাক্ষ্য প্রদানকে হালকা করে দেখে। তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই এবং ঈমানের দুর্বলতার কারণে যারা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা বজায় রাখে না।

আর যে সব হাদীসে আগ বাড়িয়ে সাক্ষ্য প্রদানকে প্রশংসা করা হয়েছে তারা হলো ঐ সব লোক যারা সাক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছেন। তারা ছাড়া আর কেউ সাক্ষ্য দেয়ার নেই এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো সত্যকে প্রমাণ করা যাতে সত্য চাপা পড়ে না যায়। এ বিষয়ে আরো জানার জন্য দেখুন—ফাতহুল বারী এবং ফাতহুল মাজীদ। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৯; তিরমিযি, হাদীস নং ২২৯৫

[2] বর্ণনায় সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৬৫০, মুসলিম, তিরমিযি, ইবনু মাযাহ, মুয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমদেও হাদীসটি রয়েছে। যেমনটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় মিফতাহু কুনূযুস সূন্নাহ কিতাবে।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন