মূল:ইসলামের রুকনসমূহ

অনুবাদ: মোহাম্মাদ ইবরাহীম আবদুল হালীম  সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সালাত ইবাদাতসমূহের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। এর ফরয হওয়ার দলীল অত্যন্ত সুস্পষ্ট, ইসলাম এ বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে। সুতরাং ইবাদাতসমূহে সালাতের ফযীলত ও তাৎপর্য কতটুকু তা বর্ণনা করেছে। আর তা বান্দা ও তার প্রভুর মাঝে সম্পর্কসৃষ্টিকারী, এর প্রতিষ্ঠার দ্বারা বান্দা তার প্রভুর আনুগত্য প্রকাশ করে।

১- সালাতের সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থ: সালাতের শাব্দিক অর্থ দো‘আ, এ অর্থ কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَصَلِّ عَلَيۡهِمۡۖ إِنَّ صَلَوٰتَكَ سَكَنٞ لَّهُمۡۗ ١٠٣﴾ [التوبة: ١٠٣]

“তুমি তাদের জন্য দো‘আ কর, তোমার দো‘আ তাদের জন্য চিত্তস্বস্তিকর”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৩]

পারিভাষিক অর্থ: এটি এমন এক ইবাদাত যা বিশেষ কিছু কথা ও কর্মকে শামিল করে, ‘আল্লাহু আকবার’ দ্বারা শুরু হয়, ‘আসসালামু আলাইকুম’ দ্বারা শেষ হয়।

কথা থেকে উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহু আকবার বলা, ক্বিরাত, তাসবীহ ও দো‘আ ইত্যাদি পাঠ করা।

কর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য, ক্বিয়াম-দাঁড়ানো, রুকু করা, সাজদাহ করা ও বসা ইত্যাদি।

২- নবী ও রাসূলগণের নিকট এর গুরুত্ব:

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের পূর্বের আসমানী দীনসমূহে সালাত বিধিবদ্ধ ছিল। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর প্রভুর কাছে নিজের ও স্বীয় বংশধরের সালাত প্রতিষ্ঠার দো‘আ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿رَبِّ ٱجۡعَلۡنِي مُقِيمَ ٱلصَّلَوٰةِ وَمِن ذُرِّيَّتِيۚ ٤٠﴾ [ابراهيم: ٤٠]

“হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী কর এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও।” [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৪০]

আর ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর পরিবারকে সালাত প্রতিষ্ঠার আদেশ করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَكَانَ يَأۡمُرُ أَهۡلَهُۥ بِٱلصَّلَوٰةِوَٱلزَّكَوٰةِ ٥٥﴾ [مريم: ٥٥]

“সে তাঁর পরিজনবর্গকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিত”। [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৫]

আল্লাহ তা‘আলা মূসা আলাইহিস সালামকে সম্বোধন করে বলেন,

﴿إِنَّنِيٓ أَنَا ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدۡنِي وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِذِكۡرِيٓ ١٤﴾ [طه: ١٤]

“আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ্ নেই। অতএব, আমার ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর”। [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ১৪]

আল্লাহ তা‘আলা সালাত আদায়ের ব্যাপারে তাঁর নবী ঈসা আলাইহিস সালামকে আদেশ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيۡنَ مَا كُنتُ وَأَوۡصَٰنِي بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ مَا دُمۡتُ حَيّٗا ٣١﴾ [مريم: ٣١]

“যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে”। [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩১]

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মি‘রাজ ও ইসরার রাত্রিতে আসমানে সালাত ফরয করেছেন। আর সালাত ফরয কালে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা হালকা করে পাঁচ ওয়াক্ত করেছেন। যা আদায়ে পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু সাওয়াবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তা হলো, ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা, এর ওপর সকল মুসলিমদের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৩- সালাত শরী‘আতসম্মত হওয়ার দলীল:

সালাতের শরী‘আতসম্মত হওয়া প্রমাণিত হয়েছে একাধিক দলীল দ্বারা। নিম্নে তার কিছু বর্ণনা করা হলো:

প্রথমত: কুরআন থেকে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ ٤٣﴾ [البقرة: ٤٣]

“তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত প্রদান কর”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪৩]

তিনি আরো বলেন,

﴿إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا ١٠٣﴾ [النساء : ١٠٣]

“নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩]

তিনি আরো বলেন,

﴿وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ ٥﴾ [البينة: ٥]

“তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্টভাবে তাঁর ইবাদাত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও যাকাত দিতে”। [সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫]

দ্বিতীয়ত: হাদীস থেকে,

(১) ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«بني الإسلام على خمس، شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان».

“ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দান করা। সালাত প্রতিষ্ঠা করা। যাকাত প্রদান করা। বায়তুল্লাহর হজ করা। রামাদানের সাওম পালন করা”।[1]

(২) উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله  r، وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً».

“ইসলাম হলো, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মা‘বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রামাদান মাসের সাওম পালন করা, সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহ-এর হজ করা”।[2]

(৩) ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদীস,

«أن النبي -r – بعث معاذاً إلى اليمن فقال: ادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة» [متفق عليه].

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন এবং (তাঁকে) বললেন, যে, তুমি তাদেরকে (আহলে কিতাবদেরকে) (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু) আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দানের দিকে আহ্বান কর। যদি তারা এ দাওয়াত গ্রহণ করে তোমার আনুগত্য করে তবে তুমি তাদেরকে জানাও যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন”।[3]

তৃতীয়ত: ইজমা

সকল মুসলিম পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হওয়ার ওপর একমত হয়েছেন। আর তা ইসলামের ফরযসমূহের অন্যতম একটি ফরয।

৪- সালাত প্রবর্তনের হিকমাত:

একাধিক হিকমাত ও রহস্যকে সামনে রেখে সালাত প্রবর্তন করা হয়েছে। নিম্নে তার কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করা হলো,

(১) আল্লাহ তা‘আলার জন্য বান্দার দাসত্ব প্রকাশ করার লক্ষ্যে, সে তাঁর দাস, এ সালাত আদায়ের দ্বারা মানুষ ‘উবূদিয়াত’ বা দাসত্বের অনুভূতি লাভ করে এবং সে সর্বদা তাঁর সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে।

(২) এ সালাত তার প্রতিষ্ঠাকারীকে আল্লাহর সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনকারী ও সর্বদা স্বরণকারী করে রাখে।

(৩) সালাত তার আদায়কারীকে নির্লজ্জ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে আর তা বান্দাকে পাপ ভুল-ত্রুটি থেকে পবিত্র করার মাধ্যম।

জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসই তার প্রমাণ। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مثل الصلوات كمثل نهر جار يمر على باب أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات».

“পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উপমা ঐ প্রবাহমান নদীর ন্যায় যা তোমাদের কারো দরজার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, তথায় সে প্রতি দিন পাঁচ বার গোসল করে”।[4]

(৪) সালাত অন্তরের তৃপ্তি, আত্মার শান্তি, ও মুক্তিদানকারী ঐ বিপদ-আপদ থেকে যা তাকে কলুষিত করে। এ জন্যই তা রাসূলের নয়ন সিক্তকারী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কঠিন কাজের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি সালাত আদায়ের দিকে ছুটে যেতেন। এমনকি তিনি বলতে থাকতেন,

«يا بلال أرحنا بالصلاة».

“হে বিলাল! সালাতের দ্বারা তুমি আমাকে শান্তি দাও”।[5]

৫- কাদের ওপর সালাত ফরয?

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক জ্ঞানী মুসলিম ব্যক্তির ওপর সালাত ফরয। চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক। কাফিরের ওপর সালাত ফরয নয়। এর অর্থ- দুনিয়াতে সে এর আদিষ্ট নয়। কারণ, তার কুফুরী অবস্থায় তার পক্ষ থেকে তা শুদ্ধ হবে না। তবে তা ছেড়ে দেওয়ার কারণে আখিরাতে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ, ইসলাম গ্রহণ করে তা আদায় করা তার জন্য সম্ভব ছিল, কিন্তু সে তা করে নি।

এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী,

﴿مَا سَلَكَكُمۡ فِي سَقَرَ ٤٢ قَالُواْ لَمۡ نَكُ مِنَ ٱلۡمُصَلِّينَ ٤٣ وَلَمۡ نَكُ نُطۡعِمُ ٱلۡمِسۡكِينَ ٤٤ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلۡخَآئِضِينَ ٤٥ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوۡمِ ٱلدِّينِ ٤٦ حَتَّىٰٓ أَتَىٰنَا ٱلۡيَقِينُ ٤٧﴾ [المدثر: ٤٢، ٤٧]

“তোমাদেরকে কিসে সাকার নামক জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা মুসল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করতাম না এবং আমরা অযথা আলোচনাকারীদের সহিত আলোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করতাম, আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমণ পর্যন্ত”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪২-৪৭]

আর বাচ্চাদের ওপরও ফরয নয়। কারণ, সে মুকাল্লাফ-প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পাগলের ওপরও ফরয নয়। ঋতু ও নিফাসগ্রস্ত মহিলাদের ওপরও ফরয নয়। কারণ, শরী‘আত তাদের থেকে এর বিধান তুলে নিয়েছে, তা আদায়ে বাধাপ্রদানকারী নাপাকির কারণে।

বাচ্চা সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক তার বয়স যখন সাত বছর হবে তখন তার অভিভাবকের ওপর তাকে সালাতের আদেশ দেওয়া আবশ্যক। আর যখন তার বয়স দশ বছর হবে তখন সালাত আদায় না করলে তার অভিভাবকের ওপর তাকে প্রহার করা আবশ্যক। হাদীসে এর বর্ণনা এসেছে। যাতে সে তা আদায়ে অভ্যস্ত ও আগ্রহী হয়।

৬- সালাত ত্যাগকারীর বিধান:

যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিল সে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গেল এবং কুফুরী করলো। ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধান থেকে মুর্তাদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তার ওপর যে বিধি-বিধান ফরয করেছেন তা ছেড়ে দিয়ে সে তাঁর নাফরমানী করেছে। তাই তাকে তাওবার আদেশ দেওয়া হবে। যদি তাওবা করে ও সালাত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় সে ইসলাম থেকে মুর্তাদ হয়ে যাবে। তার গোসল, কাফন, জানাযার সালাত পড়া, মুসলিমদের কবরে দাফন করা নিষেধ। কারণ, সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

৭ – সালাতের শর্তসমূহ:

  • ইসলাম তথা মুসলিম হওয়া।
  • জ্ঞানবান হওয়া।
  • ভালো-মন্দ পার্থক্যের জ্ঞান থাকা।
  • সালাতের সময় উপস্থিত হওয়া।
  • নিয়াত করা।
  • ক্বিবলামুখী হওয়া।
  • সতর ঢাকা, পুরুষের সতর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত। আর মহিলা তার সম্পূর্ণ শরীরই সালাতে সতর, তার মুখ ও হাতের তালুদ্বয় ছাড়া।
  • মুসল্লির কাপড়, শরীর ও সালাত পড়ার স্থান থেকে নাপাকি দূর করা।
  • হাদছ দূর করা আর তা-নাপাকি থেকে অযু গোসল করে পবিত্র হওয়াকে বুঝায়।

৮ – সালাতের সময়:

(১) যোহর সালাতের সময়: সূর্য ঢলে যাওয়া থেকে, অর্থাৎ মধ্য আকাশ থেকে সূর্যের পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়া থেকে নিয়ে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত।

(২) আসর সালাতের সময়: যোহর সালাতের সময় চলে যাওয়া থেকে নিয়ে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত। আর তা হলো সূর্য হলোদে হওয়া সময় পর্যন্ত।

(৩) মাগরিব সালাতের সময়: সূর্য ডুবা থেকে নিয়ে লালিমা দূরীভূত হওয়া পর্যন্ত। আর তা হলো ঐ লালচে ভাব যা পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবার পর প্রকাশিত হয়।

(৪) ঈশার সালাতের সময়: মাগরিবের সালাতের সময় চলে যাওয়া থেকে অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত।

(৫) ফজর সালাতের সময়: ফজরে সানী প্রকাশ হওয়া থেকে নিয়ে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত।

এর প্রমাণ আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«وقت الظهر إذا زالت الشمس وكان ظل الرجل كطوله مالم يحضر العصر، ووقت صلاة المغرب مالم يغب الشفق، ووقت صلاة العشاء إلى نصف الليل الأوسط، ووقت صلاة الصبح من طلوع الفجر مالم تطلع الشمس، فإذا طلعت الشمس فأمسك عن الصلاة—».

“যোহরের সময়: যখন সূর্য ঢলে যাবে, মানুষের ছায়া তার সমপরিমাণ হবে। আসরের সালাতের সময় হওয়া পর্যন্ত থাকবে। আর মাগরিবের সালাতের সময় সূর্য ডুবা থেকে নিয়ে লালিমা পর্যন্ত। আর ইশার সালাতের সময় মাগরিবের সালাতের সময় চলে যাওয়া থেকে মধ্য রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় ফজর প্রকাশিত হওয়া থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত আর তখন (সূর্য উদয়ের সময়) সালাত পড়া থেকে বিরত থাক”।[6]

৯- ফরয সালাতের রাকাতের সংখ্যা:

ফরয সালাতের রাকাতের সংখ্যা, সর্বমোট সতের রাকাতনিম্নে তার তালিকা দেওয়া হলো:

  • যোহর: চার রাকাত।
  • আসর: চার রাকাত।
  • মাগরিব: তিন রাকাত।
  • ঈশা: চার রাকাত।
  • ফজর: দু’ রাকাত।

যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এ রাকাতের সংখ্যায় বাড়ায় বা কমায়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি তা ভুলবশতঃ হয়, তবে তা সাজদাহ সাহুর দ্বারা পূর্ণ করবে। এ সংখ্যা মুসাফির ব্যক্তির জন্য নয়। তার জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতগুলো দু’ রাকাতে কছর করে পড়া মুস্তাহাব। এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তার নির্ধারিত সময়ে পড়া মুসলিম ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব, যদি কোনো শার‘ঈ ওযর (যেমন, নিদ্রা, ভুলে যাওয়া, ভ্রমণে যাওয়া) না থাকে। যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে যাবে বা ভুলে যাবে সে তা পড়ে নিবে যখন স্মরণ হবে।

১০- সালাতের ফরযসমূহ:

  • সামর্থ্য থাকলে দাঁড়ানো।
  • তাকবীরে তাহরীমাহ।
  • সূরা ফাতিহা পাঠ করা।
  • রুকু‘ করা।
  • রুকু‘ থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
  • সাত অঙ্গের উপর সাজদাহ করা।
  • সাজদাহ থেকে উঠা।
  • শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া।
  • তাশাহহুদকালে বসা।
  • সালাতের এ রুকনগুলো সম্পাদনে স্থিরতা বজায় রাখা।
  • এ রুকনগুলো ধারাবাহিকভাবে আদায় করা।
  • ডানে ও বামে দুই সালাম প্রদান করা বা সালাম ফিরানো।

১১- সালাতের ওয়াজিবসমূহ:

সালাতের ওয়াজিব আটটি যথা-

প্রথম: তাকবীরে তাহরীমাহ’র তাকবীর ছাড়া সালাতে অন্যান্য তাকবীরসমূহ।

দ্বিতীয়:

«سمع الله لمن حمده»

(সামি‘য়াল্লাহু লিমান হামিদা) বলা।

আর তা ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য ওয়াজিব। তবে মুক্তাদী তা পাঠ করবে না।

তৃতীয়: ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী সালাত আদায়কারী সকলের ওপর

«ربناولك الحمد«

(রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ) বলা ওয়াজিব।

চতুর্থ: রুকুতে

«سبحان ربي العظيم»

(সুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীম) বলা।

পঞ্চম: সাজদায়

«سبحان ربي الأعلى»

(সুবহা-না রাব্বিয়াল আ‘লা) বলা।

ষষ্ঠ: দু’ সাজদাহ’র মাঝে

«رب غفر لي»

(রাব্বিগফিরলী) বলা।

সপ্তম: প্রথম বৈঠকে আত-তাহিয়্যাত পড়া, আর তা হলো,

«التحيّات لله والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله»

উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালা-ওয়া-তু ওয়াত্ তাইয়্যেবা-তু, আস্সালা-মু আলাইকা আইউ হান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আসসসালা-মু আলাইনা-ওয়া আ‘লা-ইবাদিল্লা-হিস্ স্ব-লিহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াশ্ হাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহ।

বা অনুরূপ প্রমাণিত তাহিয়্যাত পাঠ করা।

অষ্টম: প্রথম বৈঠকের জন্য বসা।

আর যারাই ইচ্ছাকৃতভাবে এ ওয়াজিবসমূহের কোনো একটি ওয়াজিব ছেড়ে দিবে তাদেরই সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

আর যে ব্যক্তি তা ছেড়ে দিবে অজ্ঞতা বা ভুলবশতঃ সে সাহু সাজদাহ দিবে।

১২- জামা‘আতে সালাত:

মাসজিদে জামা‘আতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়া মুসলিম ব্যক্তির ওপর আবশ্যক। এতে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ছাওয়াব অর্জন করতে পারবে।

একা সালাত পড়ার চাইতে জামা‘আতে সালাত পড়ার ছাওয়াব সাতাশ গুণ বেশি। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বর্ণিত হাদীসে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«صلاة الجماعة أفضل من صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة».

“জামা‘আতে সালাত পড়া, একা সালাত পড়ার চাইতে সাতাশ গুণ (সাওয়াব) বেশি”।[7]

তবে মুসলিম নারীর নিজ বাড়ীতে সালাত পড়া জামা‘আতে সালাত পড়ার চাইতে উত্তম।

১৩- সালাত বাতিল (নষ্ট)-কারী বিষয়সমূহ:

নিম্নেবর্ণিত কর্মসমূহের যে কোনো একটি কর্ম সম্পাদনের দ্বারা সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

(১) ইচ্ছাকৃত পানাহার করা।

যে ব্যক্তি সালাত অবস্থায় পানাহার করবে তার ওপর ঐ সালাত পুনরায় পড়া আবশ্যক হওয়ার ওপর আলিমগণের ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে।

(২) সালাতের স্বার্থ বহির্ভূত এমন বিষয়ে ইচ্ছাকৃত কথা বলা। এ ব্যাপারে যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«كنا نتكلم في الصلاة»

“আমরা সালাতে কথা বলতাম, আমাদের কেউ কেহ সালাতে তার পাশের সাথীর সাথে কথা বলতো। এমতাবস্থায় নিম্নের আয়াত অবতীর্ণ হলো,

﴿وَقُومُواْ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ ٢٣٨﴾ [البقرة: ٢٣٨]

“আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াও”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৮]

«فأمرنا بالسكوت ونهينا عن الكلام».

“অতঃপর আমরা চুপ থাকার আদেশ প্রাপ্ত হলাম। আর কথা বলা হতে নিষেধপ্রাপ্ত হলাম”।[8]

এমনিভাবে ইজমা সংঘটিত হয়েছে ঐ ব্যক্তির সালাত ফাসেদ হওয়ার ব্যাপারে যে, সালাতের স্বার্থ বহির্ভূত ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত কথা বলবে।

(৩) ইচ্ছাকৃত অনেক বেশি কাজ করা। আর অধিক কাজের পরিমাণ নির্ণয় করার মানদণ্ড হলো, সালাত আদায়কারীর দিকে দৃষ্টিপাতকারীর নিকট মনে হবে যে, সে সালাতের মাঝে নয়।

(৪) বিনা ওযরে ইচ্ছাকৃত সালাতের কোনো রুকন বা শর্ত ছেড়ে দেওয়া। যেমন বিনা অযুতে সালাত পড়া, বা ক্বিবলামুখী না হয়ে সালাত পড়া। অর্থাৎ ক্বিবলা ছেড়ে অন্য দিক হয়ে সালাত পড়া।

এ ব্যাপারে ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদীস বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ বেদুঈনকে বলেছেন, যে তার সালাত সুন্দর করে পড়তে পারে নি,

«ارجع فصل فإنك لم تصلّ»

“ফিরে যাও সালাত পড়, কেননা তুমি সালাত পড় নি”।

(৫) সালাতে হাসা। কারণ, হাসি দ্বারা সালাত বাতিল হয়ে যাওয়ার ওপর ইজমা সংঘটিত হয়েছে।

১৪- সালাতের নিষিদ্ধ সময়সমূহ:

  • ফজর সালাতের পর হতে নিয়ে সূর্য উঠা পর্যন্ত।
  • ঠিক দুপুর সময়।
  • আসর সালাতের পর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত।

এ সময়সমূহে সালাত পড়া মাকরূহ হওয়ার ওপর দলীল হলো উক্ববা ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, তিনি বলেন,

«ثلاث ساعات كان رسول الله- r- ينهانا أن نصلي فيهن وأن نقبر فيهن موتانا، حين تطلع الشمس بازغة حتى ترتفع، وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تميل الشمس، وحين تضَّف الشمس للغروب حتى تغرب».

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন সময়ে সালাত পড়তে ও আমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে দাফন করতে নিষেধ করতেন:

(১) সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত হওয়ার শুরুর সময় থেকে নিয়ে তা (উর্ধ্বে উঠা) পর্যন্ত।

(২) ঠিক দুপুরে সূর্য উঁচুতে থাকা থেকে নিয়ে সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত।

(৩) সুর্য অস্তমুখী হওয়া থেকে নিয়ে তা ডুবা পর্যন্ত।[9]

আরো দলীল হলো, আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لا صلاة بعد صلاة العصر حتى تغرب الشمس، ولا صلاة بعد صلاة الفجر حتى تطلع الشمس».

“আসরের সালাতের পর থেকে নিয়ে সূর্য ডুবা পর্যন্ত কোনো সালাত নেই, অনুরূপ ফজরের সালাতের পর থেকে নিয়ে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই”।[10]

১৫- সালাতের পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

মুসলিম ব্যক্তির ওপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। সালাত পড়ার পদ্ধতিও তাঁর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, তিনি বলেছেন,

«صلوا كما رأيتموني أصلي».

“তোমরা সালাত পড়, যেভাবে আমাকে সালাত পড়তে দেখেছ”।[11]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত পড়ার ইচ্ছা করতেন, আল্লাহ তা‘আলার সামনে দাঁড়াতেন। অন্তরে সালাতের নিয়্যাত করতেন, নিয়্যাত মুখে উচ্চারণ করার ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো হাদীস বর্ণিত হয় নি।

আর «الله أكبر» ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলে তাকবীর দিতেন। এ তাকবীরের সাথে তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন দুই কাঁধ সমপরিমাণ, আবার কখনো কখনো দুই কানের লতি পর্যন্ত। তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপর রেখে বুকের উপর ধারণ করতেন।

সালাত আরম্ভ করার দো‘আসমূহের যে কোনো একটি দো‘আ দিয়ে সালাত শুরু করতেন তন্মধ্যে এটি:

«سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك»

উচ্চারণ: সুবহা-নাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকাস্মুকা ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা ওয়ালা-ইলা-হা গাইরুকা।

“হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনার নাম মহিমান্বিত, আপনার সত্তা অতি উচ্চে প্রতিষ্ঠিত আর আপনি ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই”।

এ দো‘আটি সালাত আরম্ভ করার দো‘আসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তার পর সূরা ফাতিহা পড়তেন, তারপর সেটার সাথে আরো একটি সূরা পড়তেন। তার পর হস্তদ্বয় (প্রথম বারের ন্যায়) উত্তোলন করে তাকবীর দিয়ে রুকুতে যেতেন আর রুকুতে পিঠ সোজা করে রাখতেন, এমনকি যদি নিজের পিঠের উপর পানির পাত্র রাখা হত, তবে তা স্থীর থাকতো। সেখানে «سبحان ربي العظيم» ‘‘সুবহা-না রাবিবয়াল আযীম’’ তিনবার পড়তেন। অতঃপর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে মুখে

«سمع الله لمن حمده، ربنا ولك الحمد»

‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রাব্বানা ওয়া-লাকাল হামদ’’ বলে রুকু থেকে উঠে স্থির হয়ে দাঁড়াতেন।

অতঃপর তাকবীর বলে সাজদাহ করতেন, সাজদাহ অবস্থায় নিজ হস্তদ্বয় নিজ বক্ষের পার্শ্ব দ্বয় থেকে দূরে রাখতেন, এতে বগলের শুভ্র প্রকাশিত হয়ে যেত। তাঁর সাত অঙ্গ, নাক সহ কপাল, তালুদ্বয়, হাঁটুদ্বয়, পাদ্বয়ের মাথা, মাটিতে রেখে সাজদাহ করতেন, সেখানে «سبحان ربي الأعلى» ‘‘সুবহা-না রাবিবয়াল আ‘লা’’ তিনবার বলতেন।

অতঃপর ডান পা খাড়া রেখে সকল আঙ্গুলের মাথা ক্বিবলামুখী করে আল্লাহু আকবার বলে বাম পায়ের উপর বসতেন। আর এ বৈঠকে,

«رب اغفرلي وارحمني واجبرني وارفعني واهدني وعافني وارفعني»

উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়ারহাম্নী ওয়াজাবুরনী ওয়ারফা‘নী ওয়াহদিনী ওয়া ‘আফিনী ওয়ারফা‘নী।- এ দো‘আ তিনবার পড়তেন।

অতঃপর আল্লাহু আকবার বলতেন ও সাজদাহ করতেন।

অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য তাকবীর দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রাকাতে অনুরূপ করতেন।

অতঃপর দু’ রাকাতের পর যখন প্রথম বৈঠকের জন্য বসতেন তখন বলতেন,

«التحيّات لله والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله»

উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালা-ওয়া-তু ওয়াত্ তাইয়্যেবা-তু, আস্সালা-মু আলাইকা আইউ হান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আসসালা-মু আলাইনা-ওয়া আ‘লা-ইবাদিল্লা-হিস্ স-লিহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াশ্ হাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহ।

তারপর তাকবীর দিয়ে দণ্ডায়মান হয়ে দু’ হাত উত্তোলন করতেন। (তৃতীয় রাকাতের জন্য) আর তা হচ্ছে সালাতের চতুর্থ স্থান যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তদ্বয় উত্তোলন করেছেন।

তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ বৈঠকে অর্থাৎ মাগরিবের তৃতীয় রাক‘আতের শেষে অথবা যোহর, আসর ও ‘ঈশার চতুর্থ রাকাতের শেষে বসতেন তখন তাওয়াররুক করে বসতেন। অর্থাৎ বাম পা ডান পায়ের নলীর নিচ দিয়ে বের করে দিয়ে ডান পা কিবলামুখী অবস্থায় খাড়া রেখে নিতম্বের ওপর বসতেন। হাতের সমস্ত আঙ্গুল বন্ধ রাখতেন, শুধু শাহাদাত আঙ্গুল তার প্রতি দৃষ্টি রেখে ইশারা বা নাড়ানোর জন্য খোলা রাখতেন।

অতঃপর যখন তাশাহহুদ শেষ করতেন তখন ডান দিকে আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ও বাম দিকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে সালাম ফিরাতেন। এমনকি তাঁর গালের শুভ্রতা প্রকাশ পেয়ে যেতো।

সালাতের এ পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

এ হচ্ছে সালাতের বিধানসমূহের কিছু বিধান, যার ওপর কর্মের সঠিকতা নির্ভর করে, আর যদি বান্দার সালাত ঠিক হয়ে যায় তবে তার সকল কর্ম ঠিক হয়ে যাবে। আর যদি সালাত নষ্ট-ফাসেদ হয়ে যায় তবে তার সকল কর্ম নষ্ট-ফাসেদ হয়ে যাবে। আর কিয়ামাত দিবসে সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে যদি সে তা পুরোপুরিভাবে আদায় করে তবে সে আল্লাহর সন্তষ্টি লাভের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হবে। আর যদি সে তা থেকে কিছু ছেড়ে দেয় তবে সে ধ্বংস হবে। আর সালাত মানুষকে বেহায়াপানা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তা মানব আত্মার রোগের চিকিৎসা, যাতে তা (আত্মা) হীনস্বভাব থেকে পরিস্কার পরিছন্ন হতে পারে।

[1] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

[2] সহীহ মুসলিম।

[3] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

[4] সহীহ মুসলিম।

[5] আহমদ।

[6] সহীহ মুসলিম

[7] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[8] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম

[9] সহীহ মুসলিম।

[10] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[11] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন