রাসূল

মূল:ইসলামের রুকনসমূহ

অনুবাদ: মোহাম্মাদ ইবরাহীম আবদুল হালীম  সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

১- সিয়াম এর সংজ্ঞা:

সিয়ামের শাব্দিক অর্থ: বিরত থাকা।

পারিভাষিক অর্থ: সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার সাওম ভঙ্গের কারণ থেকে বিরত থাকা।

২- রামাদান মাসের সিয়াম পালনের বিধান:

ইসলামের রুকনসমূহের অন্যতম একটি রুকন ও তার মহান স্তম্ভ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ ﴾ [البقرة: ١٨٣]

“হে মুমিনগণ ! তোমাদের ওপর সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো”। [সূরা আল-বাক্বারাহ: আয়াত: ১৮৩]

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج بيت الله».

“ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দান করা। সালাত প্রতিষ্ঠা করা। যাকাত প্রদান করা। রামাদানের সাওম পালন করা। বায়তুল্লাহ শরীফের হজ করা”।[1]

হিজরী সনের দ্বিতীয় বর্ষে মুসলিম উম্মার ওপর রামাদানের সিয়াম পালন ফরয হয়েছে।

৩- সিয়াম পালনের ফযীলত ও তা প্রবর্তনের পিছনে হিকমাত:

রামাদান মাস মহান আল্লাহর আনুগত্য করার বিরাট মৌসুম আর তা বান্দার নিকট একটি বিরাট নি‘আমত ও মহান আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিরাট অনুগ্রহ। তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চান তার প্রতি এর দ্বারা অনুগ্রহ করেন; যাতে তাদের সৎকর্ম বৃদ্ধি পায়, তাদের মান মর্যাদা বেড়ে যায় এবং তাদের অসৎকর্ম কমে যায়; যাতে তাদের সম্পর্ক তাদের মহান সৃষ্টিকর্তার সাথে আরো শক্তিশালী হয়; যাতে তাদের জন্য লিখা হয় মহাপুরস্কার ও অধিক সাওয়াব; যাতে তারা তাঁর সন্তষ্টি অর্জন করতে পারে। তাঁর ভয়ে ও তাকওয়ায় তাদের অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে উঠে।

সাওমের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু নিম্নে বর্ণিত হলো,

(ক) আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ وَلِتُكۡمِلُواْ ٱلۡعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ ١٨٥﴾ [البقرة: ١٨٥]

“রামাদান মাস, যাতে বিশ্ব মানবের দিশারী এবং সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে সে যেন এ মাসের সিয়াম পালন করে। আর কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে বা ভ্রমণে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না, এ জন্য যে, তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]

(খ) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«من صام رمضان إيماناً واحتساباً غفرله ماتقدم من ذنبه»

“যে ব্যক্তি রামাদানের সিয়াম পালন করবে ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের উদ্দেশ্যে তার পূর্ববর্তী পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।[2]

(গ) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«يضاعف الحسنة عشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف، قال الله عزّ وجلّ: إلا الصوم، فإنه لي وأنا أجزي به، يدع شهوته وطعامه من أجلي، للصائم فرحتان، فرحة عند فطره وفرحة عند لقاء ربه، ولخلوف فيه أطيب عند الله من ريح المسك».

“প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন, তবে সাওম ছাড়া। কারণ, সাওম হলো আমার জন্য আর আমি তার প্রতিদান প্রদান করবো। কারণ, সে শুধুমাত্র আমার জন্যই তার প্রবৃত্তির অনুসরণ ও পানাহার বর্জন করেছে। সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে। একটি আনন্দ ইফতারের সময়, অপর আনন্দটি তার প্রভুর সাথে সাক্ষাতের সময়। আর সিয়াম পালনকারীর মুখের না খাওয়াজনিত গন্ধ আল্লাহর নিকট মেসকের সুগন্ধির চাইতেও অধিক উত্তম”।[3]

(ঘ) সিয়াম পালনকারীর দো‘আ কবুল করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ»

“নিশ্চয় সিয়াম পালনকারীর জন্য ইফতারের সময় একটি দো‘আ করার সুযোগ রয়েছে যা ফেরত দেওয়া হয় না।”[4]

তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উচিৎ হবে তার ইফতারের সময়টাকে গণীমত মনে করে তার প্রভুর কাছে চাওয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে আগ্রহী হওয়া। হতে পারে সে মহান আল্লাহর সুগন্ধির কিছু সুগন্ধি পেয়ে যাবে। অতঃপর দুনিয়া ও আখিরাতে তার সৌভাগ্যময় জীবন অর্জিত হবে।

(ঙ) আল্লাহ জান্নাতের দরজাসমূহের একটি দরজা সিয়াম পালনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এ দরজা দিয়ে শুধু সিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের সম্মানার্থে ও অন্যদের ওপর তাদের বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করণার্থে।

সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إن في الجنة باباً يقال له (الريان) فإذا كان يوم القيامة قيل: أين الصائمون، فإذا دخلوا أغلق عليهم فلم يدخل منه أحد».

“নিশ্চয় জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যার নাম হলো রাইয়্যান। অতএব, যেদিন কিয়ামাত সংঘটিত হবে সে দিন বলা হবে সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তাদের প্রবেশ শেষে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না”।[5]

(চ) কিয়ামত দিবসে সিয়াম পালনকারীর জন্য সিয়াম সুপারিশ করবে। আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة، يقول الصيام أي رب منعته من الطعام والشهوة فشفعني فيه، ويقول القرآن: منعته النوم بالليل فشفعني فيه، قال: فيشفعان».

“সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাত দিবসে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে, হে আমার প্রভু ! আমি তাকে পানাহার ও স্ত্রীসঙ্গম থেকে বিরত রেখেছিলাম। অতঃপর তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ কর। আর কুরআন বলবে, রাতে আমি তাকে ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। অতঃপর তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ কর। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে”।[6]

(ছ) সিয়াম মুসলিম ব্যক্তিকে ধৈর্য, কষ্ট, সাধনা ও কোনো কাজ মনোযোগ সহকারে পালন করার শিক্ষা দেয় বা অভ্যাস গড়ে তুলে। আর সিয়াম পালনকারীকে তার প্রিয় ও প্রসিদ্ধ বস্তু পরিত্যাগ করতে সাহায্য করে। আর তা অবাধ্য আত্মাকে বাধ্য করতেও সাহায্য করে, অথচ এতে বিরাট কষ্ট রয়েছে।

৪- সিয়াম ফরয হওয়ার শর্তসমূহ:

সিয়াম পালন প্রত্যেক বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) আকেল (বিবেকবান) সহীহ (সুস্থ্) মুকীম (অবস্থানকারী) মুসলিম ব্যক্তির ওপর ফরয হওয়ার ওপর সকল আলিমগণ একমত হয়েছেন।

হায়েয ও নিফাসরত মহিলা ছাড়া অন্যান্য মহিলাদের ওপরও সিয়াম পালন ফরয।

৫- সিয়াম পালনের আদাবসমূহ:

(ক) গীবাত করা, চুগলখোরী করা এবং এ দু’টি ছাড়াও অন্যান্য কর্ম যা আল্লাহ হারাম করেছেন তা থেকে সিয়াম পালনকারীর বিরত থাকা। তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির ওপর অপরিহার্য যে, সে তার জবানকে সকল হারাম কথাবার্তা থেকে ও অন্যদের চরিত্রতে আঘাত হানা থেকে বিরত রাখবে। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«من لم يدع قول الزور والعمل به فليس لله حاجة في أن يدع طعامه وشرابه».

“যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও মিথ্যার প্রতি আমল করা ছেড়ে দিল না সে ব্যক্তির পানাহার ছেড়ে দেওয়ায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই”।[7]

(খ) সিয়াম পালনকারী সাহরী খাওয়া ছাড়বে না। কারণ, তা তাকে তার সিয়াম পালনে সহযোগিতা করে। অতঃপর সে আরামে দিন অতিবাহিত করতে পারবে। কর্মচঞ্চলতা ও সজীবতার সাথে তার কর্ম আদায় করতে পারবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,

«السحور أكلة بركة، فلا تدعوه، ولو أن يخرج أحدكم جرعة من ماء فإن الله عزّ وجلّ وملائكته يصلون على المتسحرين».

“সাহরী বরকতের খাবার, তা ছেড়ে দিও না। যদিও তোমাদের কেউ এক ঢোক পানি পান দিয়েই তা সম্পন্ন করে, কারণ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফিরিশতারা সাহরীর খাবার গ্রহণকারীদের কথা আলোচনা করেন”।[8]

(গ) নিশ্চিতভাবে সূর্য ডুবার সাথে সাথেই ইফতার করা। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر».

“মানুষ যতক্ষণ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততক্ষণ তারা ভালো থাকবে”।[9]

(ঘ) রূত্বাব (অর্ধপক্ক খেজুর) বা খেজুর দিয়ে ইফতার করার চেষ্টা করবে। কারণ, তা সুন্নাত। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«كان رسول الله rيفطر قبل أن يصلي على رطبات، فإن لم تكن رطبات فتمرات، فإن لم تكن حسا حسوات من ماء».

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পূর্বে রূত্বাব দিয়ে ইফতার করতেন। আর রত্বাব না থাকলে খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন আর খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করতেন”।[10]

(ঙ) কুরআন পাঠ আল্লাহ তা‘আলার যিকির তাঁর প্রশংসা ও তাঁর শুকরিয়া, দান, দয়া, নফল ইবাদাত ও অন্যান্য সৎকাজ বেশি বেশি করা। কারণ, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,

«كان رسول الله r أجود النّاس بالخير، وكان أجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل، وكان جبريل يلقاه في كل ليلة من رمضان، فيدارسه القرآن، فلرسول الله r حين يلقاه جبريل أجود بالخير من الريح المرسلة».

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের চাইতে অধিক দানশীল ছিলেন। রামাদান মাসে যখন তাঁর সাথে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দানশীল হয়ে যেতেন। আর জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম রামাদানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন ও পরস্পর কুরআন পড়তেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যখন জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি প্রবাহমান বায়ুর চাইতেও অধিক দানশীল হয়ে যেতেন”।[11]

৬- সিয়াম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ:

  • দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা। অনুরূপভাবে সকল সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ গ্রহণ করা, যেমন খাদ্যের ইঞ্জেকশন বা মুখের সাহায্যে ঔষধ গ্রহণ। কারণ, তা পানাহারের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তবে অল্প রক্ত বের করা যেমন, পরীক্ষার জন্য বের করা, তা সিয়ামের কোনো ক্ষতি করবে না।
  • রামাদান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করা। কারণ, তা তার সাওমকে নষ্ট করে দিবে। রামাদান মাসের সম্মান নষ্ট করার কারণে তার ওপর আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাওবা করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে। যে দিবসে সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে সে দিবসের সাওম কাযা করবে। তার ওপর কাফ্‌ফরা ফরয হবে। আর তা হলো, একজন দাস আজাদ করা আর এর সামর্থ্য না থাকলে ধারাবাহিক দু’ মাসের সিয়াম পালন করা, এর সামর্থ্য না থাকলে ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো। প্রতি মিসকীনকে গম বা অন্য কিছু যা শহরবাসীর নিকট খাদ্য হিসাবে গণ্য তা থেকে অর্ধ সা‘আ প্রদান করা। কারণ, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে আছে, তিনি বলেন,

«بينما نحن جلوس عند النبي r إذ جاء رجل، فقال: يارسول الله هلكت، قال ما لك؟ قال: وقعت على امرأتي وأنا صائم، فقال رسول الله r هل تجد رقبة تعتقها؟ قال: لا. قال فهل تستطيع أن تصوم شهرين متتابعين ؟ قال: لا. قال : فهل تجد إطعام ستين مسكيناً ؟ قال: لا. قال: فمكث النبي r فبينما نحن على ذلك أتي النبي r بفرق فيه تمر – والفرق المكتل، وقال أين السائل؟ فقال: أنا قال : خذ هذا فتصدق به, فقال الرجل : على أفقر مني يا رسول الله، فوالله ما بين لابتيها – يريد الحرتين أهل بيت أفقر من أهل بيتي، فضحك النبي r حتى بدت أنيابه، ثم قال: أطعمه أهلك».

“একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। হঠাৎ এক লোক আগমণ করলো, অতঃপর বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কী হয়েছে? সে বললো আমি সাওম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি একটি দাস আযাদ করতে পারবে? সে বললো, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি দু’মাস পর্যায়ক্রমে সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বললো, না। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি ষাট মিসকীনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে বললো, না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। আমরা এ অবস্থাতেই ছিলাম, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি ‘ফারাক্ব’ বা বস্তা নিয়ে আসা হলো যাতে খেজুর ছিল। বস্তুতঃ ‘ফারাক্ব’ হচ্ছে নির্ধারিত পরিমাণের বস্তা। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রশ্নকারী কোথায়? তারপর সে উত্তর দিল যে, আমি। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো নিয়ে গিয়ে সাদকা করে দাও। সে ব্যক্তি বললো হে আল্লাহর রাসূল! আমার চেয়েও অধিক গরীবের ওপর, (সে বললো) আল্লাহর শপথ মদিনার এ দু’ ‘হাররা’ তথা ‘কালো পাথুরে ভুমি’র মাঝে আমার পরিবারের চেয়ে দরিদ্র পরিবার আর নেই। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। এমনকি তার ছেদন দাঁত প্রকাশ হয়ে গেল। তারপর বললেন, (যাও) তা তোমার পরিবারকে খাওয়াও”।[12]

  • চুমু, সহবাস বা হস্ত মৈথুনের মাধ্যমে বীর্য বের করা। সিয়াম পালনকারী যদি উল্লেখিত কারণসমূহের যে কোনো একটি কারণ দ্বারা বীর্য বের করে তবে তার সাওম বাতিল হয়ে যাবে, তা কাযা করা অপরিহার্য হয়ে যাবে, দিনের বাকী অংশ পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে। তার ওপর কাফফারা ধার্য হবে না। আর সে তাওবা করবে, লজ্জিত হবে, ক্ষমা চাইবে, কামভাব উত্তেজিত করে এমন সকল অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে। যদি সিয়াম পালন অবস্থায় ঘুমের ঘরে স্বপ্নদোষ হয়ে বীর্যপাত হয়, তবে তার সিয়াম পালনের ওপর সেটার কোনো প্রভাব পড়বে না ও তার ওপর কোনো কিছু ধার্য হবে না। তবে তার ওপর গোসল করা অপরিহার্য হবে।
  • পাকস্থলীতে বিদ্যমান বস্তু মুখ দিয়ে বের করে ইচ্ছাকৃত বমি করা। কিন্তু বিনা ইচ্ছায় যদি কিছু বের হয়ে যায় তবে তা তার সিয়ামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«من ذرعه القيء فليس عليه قضاء، ومن استقاء عمداً فليقض».

“যার বমি হয়ে যাবে তার ওপর কাযা নেই। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করলো সে কাযা করবে”।[13]

  • হায়েয ও নিফাস দেখা দিলে। আর তা দিনের প্রথম অংশে হোক বা শেষাংশে সূর্য ডুবার পূর্ব মূহুর্তে হোক।
  • সিয়াম পালনকারীর জন্য সিঙ্গা লাগানো ছেড়ে দেওয়া উত্তম। যাতে তা তার সিয়াম নষ্টের কারণ না হয়। রক্ত দানের জন্য রক্ত বের না করা উত্তম। তবে অসুস্থ ও অনুরূপ ব্যক্তির সহযোগিতার তাগিদে রক্ত দান করলে অসুবিধা নেই। আর যদি নাক দিয়ে বা কাশির সাথে বা জখম হওয়ার কারণে বা দাঁত উঠানোর কারণে ও অনুরূপ কারণে রক্ত বের হয়, তবে তা তার সিয়ামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

৭- সিয়ামের বা সাওমের সাধারণ বিধানসমূহ:

চাঁদ দেখার মাধ্যমে রামাদান মাসের সিয়াম পালন করা ফরয প্রমাণিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ ١٨٥﴾ [البقرة: ١٨٥]

“সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]

চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার জন্য একজন ন্যায় পরায়ণ মুসলিম ব্যক্তির সাক্ষীই যথেষ্ট। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,

«تراىء النّاس الهلال فأخبرت رسول الله r أني رأيته فصام وأمر النّاس بصيامه».

“মানুষ একে অপরে চাঁদ দেখছিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলাম যে আমি চাঁদ দেখেছি। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম পালন করলেন ও মানুষদেরকে সিয়াম পালনের আদেশ দিলেন”।[14]

প্রত্যেক দেশে-দেশের রাজার হুকুম সিয়াম পালন শুরুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সে যদি সিয়াম পালনের আদেশ করে অথবা সিয়াম পালন করতে নিষেধ করে, তার আনুগত্য করা ফরয হবে। আর যদি দেশের রাজা কাফির হয়, তবে দেশে ইসলামী ঐক্য ঠিক রাখার জন্য ইসলামী সেন্টার বা অনুরূপ বোর্ডের বিধান কার্যকর হবে।

চাঁদ দেখার ব্যাপারে দূরদর্শন যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া জায়েয আছে। রামাদান শুরু বা শেষ সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে কক্ষ পথের হিসাবের ও তারকা দেখার ওপর ভরসা করা ঠিক নয়। কেবল চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করা হবে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ ١٨٥﴾ [البقرة: ١٨٥]

“সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যে ব্যক্তি রামাদান মাসকে পাবে তার ওপর সে মাসের দিনগুলো তা ছোট হউক বা বড় হউক সিয়াম পালন করা ফরয হবে।

প্রত্যেক দেশে রামাদান মাসের সিয়াম পালন শুরু হওয়ার ব্যাপারে মানদণ্ড হলো তার চাঁদ উদিত হওয়ার স্থানে চাঁদ দেখা। আর তা ফকীহগণের অধিক গ্রহণযোগ্য মত। কারণ, চাঁদ উদিত হওয়ার স্থানসমূহ ভিন্ন, এর ওপর আলিমগণের ঐকমত্য রয়েছে। আর এটাই প্রমাণিত হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী দ্বারা, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«صوموا لرؤيته وافطروا لرؤيته فإن غمّ عليكم فأكملوا شعبان ثلاثين يوماً».

“তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন শুরু কর। আবার চাঁদ দেখেই সিয়াম পালন ছেড়ে দাও। আর তোমরা যদি চাঁদ দেখতে না পাও তবে শা‘বান মাসকে ত্রিশ দিন পুর্ণ কর”।[15]

সিয়াম পালনকারীর রাতেই সিয়ামের নিয়াত করা আবশ্যক। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إنما الأعمال بالنيّات، وإنما لكل امرئ ما نوى».

“কর্মের শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা নিয়াতের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়াত করবে তাই তার জন্য অর্জিত হবে”।[16]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,

«من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له».

“যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে সিয়াম পালনের নিয়াত করবে না তার সিয়াম পালন শুদ্ধ হবে না”।[17]

ওযরযুক্ত ব্যক্তি যেমন অসুস্থ বা মুসাফির ব্যক্তি বা হায়েয বা নিফাসরত মহিলা বা গর্ভধারিণী বা বাচ্চাকে দুধ প্রদানকারিনী মহিলা ছাড়া কারো জন্য রামাদান মাসের সিয়াম পালন ছেড়ে দেওয়া বৈধ নয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ ١٨٤﴾ [البقرة: ١٨٤]

“তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিবে”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪]

অতঃপর অসুস্থ ব্যক্তি যার ওপর সিয়াম পালন কষ্টকর হবে, সিয়াম ভঙ্গকারী কারণসমূহ থেকে বিরত থাকা কঠিন হবে ও তার দ্বারা সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার জন্য রামাদান মাসের সিয়াম ছেড়ে দেওয়া বৈধ হবে। রামাদান মাসে যে কয় দিনের সিয়াম ছেড়ে দিয়েছিল রামাদানের পর সে কয় দিনের সিয়াম কাযা আদায় করবে।

অনুরূপভাবে যদি গর্ভধারিণী ও সন্তানকে দুগ্ধ প্রদানকারিনী শুধু নিজেদের কষ্টের আশংকা করে তবে সিয়াম ছেড়ে দিবে ও তাদের ওপর কাযা করা আবশ্যক হবে, এর ওপর আলিমগণের ইজমা রয়েছে। কারণ, তারা দু’জন প্রাণ নাশের আশংকা করে এমন অসুস্থ ব্যক্তির সমপর্যায়ে। আর যদি নিজেদের ও সন্তানের কষ্টের আশংকা করে বা শুধু সন্তানের কষ্টের আশংকা করে তবে তারা সিয়াম পালন ছেড়ে দিবে, তাদের ওপর কাযা আবশ্যক হবে। কারণ, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মারফু‘ হাদীস বর্ণনা করেছেন,

«إن الله وضع عن المسافر نصف الصلاة والصوم، وعن الحبلى والمرضع».

“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মুসাফিরের অর্ধেক সালাত, আর গর্ভধারিণী ও সন্তানকে দুগ্ধ প্রদানকারিনীর সিয়াম মাফ করে দিয়েছেন”।[18]

তবে অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও মহিলা তাদের জন্য সিয়াম ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি আছে। যদি সিয়াম পালন তাদের পক্ষে খুব কষ্টকর হয়। তাদের ওপর প্রতিদিন একজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো আবশ্যক হবে।

কারণ ইমাম বুখারী রহ. আতা রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে নিম্নের আয়াত পাঠ করতে শুনেছেন,

﴿وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ١٨٤﴾ [البقرة: ١٨٤]

“আর যারা ওতে (সিয়াম পালনে) অক্ষম তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে বা খাওয়াবে”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪]

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন,

«ليست منسوخة هي للشيخ الكبير والمرأة الكبيرة لا يستطيعان أن يصوما فيطعمان مكان كل يوم مسكيناً».

“এ আয়াতটি রহিত নয়। বরং তা অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও মহিলা যাদের সিয়াম পালনের সামর্থ্য নেই তাদের ব্যাপারে। তারা প্রত্যেক দিনের বিনিময়ে একজন মিসকীনকে খানা খাওয়াবে”।

আর সফর বা ভ্রমণ হলো সিয়াম পালন ছেড়ে দেওয়ার গ্রহণযোগ্য কারণসমূহের একটি কারণ। কারণ, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«كنا نسافر مع النبي r، فلم يعب الصائم على المفطر ولا المفطر على الصائم».

“আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফর করতাম। সিয়াম পালনকারীরা সিয়াম ত্যাগকারীদের আর সিয়াম ত্যাগকারীরা সিয়াম পালনকারীদের দোষারোপ করতো না”।[19]

[1] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

[2] সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

[3] বুখারী ও মুসলিম, শব্দগুলো ইমাম মুসলিমের।

[4] ইবন মাজাহ, এর সনদ দুর্বল। [সম্পাদক]

[5] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[6] আহমদ।

[7] সহীহ বুখারী।

[8] আহমদ।

[9] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[10] আবূ দাউদ।

[11] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[12] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[13] আবূ দাউদ ও তিরমিযী।

[14] আবু দাউদ, দারেমী ও অন্যান্যরা এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

[15] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[16] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[17] এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদীস থেকে।

[18] নাসাঈ ও ইবন খুযাইমা হাদীসটি হাসান হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

[19] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন